বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

অর্থনীতির নতুন দিগন্ত: পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৩২ এএম | 168 বার পড়া হয়েছে
অর্থনীতির নতুন দিগন্ত: পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে

বাংলাদেশ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর এক অপরূপ দেশ। এখানে রয়েছে সমুদ্র, পাহাড়, নদী, হাওর-বাঁওড়, চা-বাগান, মৎস্য ও পাখির অভয়ারণ্য, প্রাচীন স্থাপত্য, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি—সবই মিলেমিশে গড়ে তুলেছে বৈচিত্র্যময় এক পর্যটন সম্ভাবনা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই সম্ভাবনাময় শিল্প এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে পৌঁছাতে পারেনি। সঠিক পরিকল্পনা, উদ্যোগ, অবকাঠামো ও প্রচারণার অভাবে আমাদের পর্যটন খাতটি আজও অগোচরে পড়ে আছে।

কক্সবাজারের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, সেন্ট মার্টিনের প্রবাল দ্বীপ, সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিলেটের চা বাগান, রাঙামাটির পাহাড় ও লেক, মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, ময়নামতি—এসবই বিশ্বকে মুগ্ধ করার মতো অনন্য সৌন্দর্যের প্রতীক। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো যেখানে কেবল একটি পর্যটন আকর্ষণকেন্দ্র দিয়েই অর্থনীতির বড় অংশ গড়ে তুলেছে, সেখানে বাংলাদেশে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান, যা সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রচারের মাধ্যমে অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

পর্যটনশিল্প হচ্ছে এমন একটি খাত, যা একই সঙ্গে বিদেশি মুদ্রা অর্জন বেকারত্ব নিরসনস্থানীয় অর্থনীতি সক্রিয়করণ এবং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠন*—সবক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশই আসে পর্যটন খাত থেকে। অথচ বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটনের অবদান এখনো ৪ শতাংশেরও নিচে। এই ব্যবধানই প্রমাণ করে—আমাদের কতটা সম্ভাবনা অপ্রয়োগ অবস্থায় পড়ে আছে।

দেশের পর্যটন এলাকাগুলোর অধিকাংশ জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল মানসম্মত হোটেল-রিসোর্টের অভাব নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা সমস্যা এবং পর্যাপ্ত তথ্য ও দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে। বিদেশি পর্যটক তো দূরের কথা, দেশীয় পর্যটকরাও অনেক সময় এসব সমস্যার কারণে ভ্রমণে আগ্রহ হারান। অথচ সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন করলে, হাজার হাজার তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

ইকো ট্যুরিজম ও এগ্রো ট্যুরিজম সুন্দরবন, চা-বাগান, হাওর ও গ্রামীণ জীবনভিত্তিক পর্যটন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হতে পারে।রিলিজিয়াস ট্যুরিজম*: হাজীগঞ্জ, মাইজভান্ডার, চাঁদপুর, মাজার কেন্দ্রিক পর্যটন ধর্মীয় ভ্রমণকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে।কালচারাল ট্যুরিজম: বাউল, নাচ, লোকসংস্কৃতি, মেলা, ঐতিহ্যবাহী খাবার—এসব বিদেশিদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।ডিজিটাল প্রমোশন*: সামাজিক মাধ্যম, ওয়েবসাইট ও ইউটিউবে দেশীয় পর্যটনের ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে পারলে প্রচারণায় বিশাল পরিবর্তন আসবে।

সরকার চাইলে এই খাতকে “অগ্রাধিকার শিল্প” হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নীতিগত সহায়তা, কর রেয়াত, বিনিয়োগ প্রণোদনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন করতে পারে। পর্যটন বোর্ডকে আরও কার্যকর ও আধুনিক রূপে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে ট্যুরিজম ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপন ও স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরি করাও জরুরি।

পর্যটনশিল্প কোনো বিলাসী খাত নয়—এটি একটি *উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক খাত*। বিশ্ব আজ টেকসই উন্নয়নের পথে হাঁটছে, যেখানে পর্যটন হবে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। তাই এখনই সময়, বাংলাদেশকে এই শিল্পের প্রকৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে—দূরদর্শী পরিকল্পনা, সৎ নেতৃত্ব, এবং রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের মাধ্যমে।

জয় ই মামুন

মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

জয় ই মামুন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরির অভিযোগে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর ৫(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১) ধারা অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে যেসব ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে সেগুলো হলো- কে এফ সি ব্রিকস (বেরুন্ডি) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স সোহানা ব্রিকস (খোলাপাড়া) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স এ এ বি অ্যান্ড কোং (গাড়াদিয়া) ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স জে বি সি ব্রিকস (গোবিন্দল) ২ লাখ টাকা, মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-১ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা,
মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-২ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স এম আর এম ব্রিকস (রামকান্তপুর) ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অভিযানটি পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক মো. মোজাফফর খান।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাব-৪ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সহায়তা প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে পরিবেশ ধ্বংস রোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা।

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী

জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী পৌর (৪নং ওয়ার্ড) ডাঙ্গপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

নিহত মিমনুর রহমান ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন (আল্লীর) প্রথম পুত্র এবং বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ তিনি ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে ব্যানার হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা মোছা: মনোয়ারা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক মহুবর রহমান, শিক্ষক আব্দুল হাই, মিজানুর রহমান, স্বপন কুমার রায়, ভগীরথ চন্দ্র রায় এবং সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা সুলতানা ও শিলা রানী রায়সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে, নিহতের পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করছে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এমন ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চারতলা ভবন

আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

মেহেদী হাসান রিপন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১১ পিএম
আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

যশোরবাসীর পুলিশি সেবা আরও বেগবান ও আধুনিক করতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগে হাত দিয়েছে সরকার। শহরের জরাজীর্ণ কোতোয়ালি মডেল থানা ভবনটি ভেঙে সেখানে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক চারতলা ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ষাট দশকে নির্মিত বর্তমান থানা ভবনটি দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারের দেশব্যাপী ১০৭টি থানা আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় এই সংস্কার কাজ শুরু হচ্ছে। যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২৬ হাজার স্কয়ার ফিটের এই ভবনের মূল কাঠামো বা ফাউন্ডেশন হবে ছয়তলা পর্যন্ত, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি চারতলা হিসেবে নির্মিত হবে। ঝিনাইদহের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পেয়েছে। আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেবাপ্রার্থী এবং পুলিশ সদস্যদের সুবিধার্থে ভবনের প্রতিটি তলা সুনিপুণভাবে সাজানো হয়েছে:
* প্রথম তলা: অভ্যর্থনা কেন্দ্র এবং দাপ্তরিক অফিস।
* দ্বিতীয় তলা: হাজতখানা ও প্রশাসনিক শাখা।
* তৃতীয় তলা: অফিস এবং নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য ব্যারাক।
* চতুর্থ তলা: পুরুষ পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক ব্যারাক।

অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চলবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে

নির্মাণ কাজ চলাকালীন জনসেবা যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য থানার যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পরিচালিত হবে। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান ভবনটি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে জনবল অনুযায়ী চাঁচড়া ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে কিছুটা আবাসন সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, উন্নত ও আধুনিক পুলিশি সেবার স্বার্থে এই সাময়িক কষ্টটুকু মেনে নিতে হবে। নতুন ভবন নির্মিত হলে যশোরবাসীকে সেবা প্রদানের মান ও পুলিশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

error: Content is protected !!