বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

টাঙ্গাইলে শতবর্ষী ঐতিহ্যের বিদ্যাপীঠ: নিকলা দড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:০৬ পিএম | 334 বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইলে শতবর্ষী ঐতিহ্যের বিদ্যাপীঠ: নিকলা দড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

টাঙ্গাইলেন ভূঞাপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দক্ষিণে একটি প্রত্যন্ত গ্রামীণ পরিবেশে অবস্থিত ৪৭নং নিকলা দড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শতবর্ষের ঐতিহ্য বহনকারী এই প্রতিষ্ঠানটি সবুজ-শ্যামল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বিদ্যাপীঠ। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে বিদ্যালয়টি রয়েছে সুসজ্জিত। প্রবেশদ্বারেই রয়েছে সাজানো ফুলের বাগান। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রয়েছে ইসলাম ও নৈতিকতা শিক্ষার বিভিন্ন উপকরণ, ‘সালাতে জান্নাতের চাবি’ ও ‘মানব চক্র’। এছাড়াও রয়েছে একটি সুন্দর পতাকা স্ট্যান্ড ও মঞ্চ। শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করতে সৃষ্টি করা হয়েছে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর’। রয়েছে একটি সুন্দর অভিভাবক ছাউনি। শিশুদের খেলার মাধ্যমেই শেখানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে নামতা শেখা, ভাগের ধারণা ও লসাগু-গসাগু শেখার বিভিন্ন আসর। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার জন্য রয়েছে মহাকাশযান ও সাটেলাইটের মডেল, যা দেখিয়ে বোঝানো হয় যে বিজ্ঞান কেবল বইয়ের পাতায় নয়, এটি আমাদের চারপাশেই বিরাজমান।

বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু সহজে বোধগম্য করার জন্য তৈরি করা হয়েছে নানা বাস্তব উপকরণ। যেমন: উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, পানির উৎস, পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, মাটি দূষণ, শব্দ দূষণ, পরিবেশ দূষণ, খাদ্য শৃঙ্খল, বার্ষিক গতি ও আহ্নিক গতি। এখানে শিক্ষার্থীরা খেলার ছলে ‘বি- ভার্ব’ (Be verb) এর ব্যবহার ও ‘প্রেজেন্ট কন্টিনিউয়াস টেন্স’

(বর্তমান ধারাবাহিক কাল) শিখতে পারে। গণিতের ভীতি দূর করতে তৈরি করা হয়েছে নানান উপকরণ। ১২ ঘন্টা ও ২৪ ঘন্টার সময়সূচীকে সহজভাবে বোঝার জন্য রয়েছে মৌলিক উপকরণ। এছাড়াও তৈরি করা হয়েছে জ্যামিতিক বক্সের সরঞ্জামাদি ও সেগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে প্রদর্শনী। বিদ্যালয়ে রয়েছে একটি সজ্জিত ‘মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’। এখানে প্রদর্শিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দুর্লভ আলোকচিত্র ও যুদ্ধের ধারাবাহিক ইতিহাস। একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে, যাকে কেন্দ্র করে গঠন করা হয়েছে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব’। জাতীয় বিভিন্ন দিবসসমূহ বিদ্যালয়টি যথাযথ মর্যাদার সাথে উদযাপন করে। উপজেলা পর্যায়ে আয়োজিত খেলাধুলা, কাব কার্যক্রম, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়টি অসংখ্যবার প্রথম পুরস্কার অর্জন করেছে। শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন, উপস্থিত বক্তৃতা, কবিতা আবৃত্তি ও গল্প বলা প্রতিযোগিতার। এছাড়াও বিজ্ঞান মেলার আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে পর্যাপ্ত উপকরণ ব্যবহার করে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একটি সুসজ্জিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে শিক্ষকগণ নিয়মিতভাবে ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠদান করেন। নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ করে ঘণ্টা বাজিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু ও শেষ করা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মুক্ত খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা উৎফুল্ল চিত্তে খেলাধুলার মাধ্যমে শিখনফল অর্জন করে।

প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে নিয়মিত স্টাফ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় শিক্ষার্থীদের দুর্বল ও সবল দিকসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়। হোম ভিজিট, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি বিষয়েও শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়। প্রধান শিক্ষক মো: বজলুর রহমান তালুকদার সহ মোট ১০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও একজন দপ্তরি

এই ১১ জন সদস্য দক্ষতার সাথে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করায় তারা ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, স্থানীয় জনতা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রশংসা অর্জন করেছেন। প্রধান শিক্ষক জানান, অভিভাবকদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি বাড়ানোসহ মাসিক সমন্বয় সভার মাধ্যমে উন্নত শিক্ষা কার্যক্রম ও উপস্থিতি বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরই ফসল হিসেবে নিকলা দড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন বিশেষ সুনাম অর্জন করেছে।

‎রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

পুলিশ মহাপরিদর্শকের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি

‎রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৬:১৪ পিএম
পুলিশ মহাপরিদর্শকের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরি হয়েছে।

‎সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে বাগেরহাট শহরের আমলাপাড়া এলাকার তিনতলা বাড়ির বিদ্যুতের সার্ভিস তার চুরি করে নেয় দুর্বৃত্তরা।

‎মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়া হয়। বাহিনী প্রধানের বাড়িতে চুরির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা পুলিশ। চোর শনাক্ত করতে এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বাগেরহাট শহরের একজন ভাঙ্গারি দোকানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, চোরাই তার কোনও ভাঙ্গারি দোকানে বিক্রি করা হতে পারে।

‎পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বাগেরহাটে ঝোড়ো বৃষ্টি শুরু হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চোর চক্র বাড়ির সীমানায় প্রবেশ করে। বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও ক্যামেরার নজর এড়িয়ে দুর্বৃত্তরা বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে মিটার পর্যন্ত প্রায় দুই কয়েল তামার তার কেটে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া এই তারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

‎বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। কারা এই চুরির সঙ্গে জড়িত, তা উদঘাটনের জন্য আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

মহাবারুণী স্নানে পুণ্যার্থীদের ঢল

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম
মহাবারুণী স্নানে পুণ্যার্থীদের ঢল

মানিকগঞ্জের শিবালয় আরিচা ঘাটে যমুনা নদীর তীরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই স্নানে অংশ নেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরের মতো এবারও মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও রাজধানী ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। এ ছাড়া ভারতের কলকাতা থেকেও অনেকে স্নানে অংশ নিতে আসেন।

এদিকে বারুণী স্নানকে ঘিরে আরিচা ঘাট-সংলগ্ন যমুনা নদীর তীরে বসেছে পাঁচ দিনব্যাপী মেলা। সাধারণত এই মেলা তিন দিন স্থায়ী হলেও অনুকূল আবহাওয়া ও পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় তা সাত থেকে ১০ দিন পর্যন্ত গড়ায়। এ বছর ঈদকে সামনে রেখে মেলার সময় আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেলায় নদীর তীরবর্তী চরে বসেছে নানা ধরনের দোকানপাট। হ্যান্ডিক্রাফট, খেলনা, প্রসাধনী, সাজসজ্জাসামগ্রী, বাঁশ ও কাঠের তৈরি পণ্য, বেতের জিনিস, মাটির পাত্র, লোহার সামগ্রীসহ গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মিষ্টি, বিন্নি, খই, বাতাসা ও অন্যান্য মুখরোচক খাবারের সমাহার রয়েছে।

শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, দোলনা, ট্রেন রাইডসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন। এ ছাড়া বেলুন, খেলনা ও নানা আকর্ষণীয় সামগ্রীর দোকান শিশুদের কাছে বাড়তি আনন্দ যোগ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বারুণী স্নানকে কেন্দ্র করে এই মেলা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

জানতে চাইলে তেওতা জমিদারবাড়ির প্রধান পুরোহিত শংকর প্রসাদ চৌধুরী বলেন, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে মহাবারুণী স্নান। প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটেছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্নানের মাধ্যমে যমুনার জলে অবগাহন করলে মানুষের পাপমোচন হয়। গঙ্গা যেমন সবার পাপ বহন করতে সক্ষম, তেমনি গঙ্গার রূপিণী বারুণী মহাদেবীর কৃপায় ভক্তদের পাপ থেকে মুক্তিলাভের বিশ্বাস রয়েছে। এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভ্রাতৃত্ব ও মিলনের এক অনন্য বন্ধনে মানুষকে আবদ্ধ করে। স্নান শেষে ভক্তদের পারস্পরিক আলিঙ্গন ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে এক মিলনমেলার আবহ সৃষ্টি হয়, যা বারুণী স্নানের অন্যতম প্রধান তাৎপর্য বহন করে।

শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম রাজু আহম্মেদ জানান, বারুণী স্নানে আগত পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে বন্দর সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্নান শেষে কাপড় পরিবর্তনের জন্য আলাদা প্যান্ডেল ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতার পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, শিবালয় থানা-পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং আনসার ও গ্রামপুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার জানান, বারুণী স্নানকে ঘিরে আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্নানার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইরান যুদ্ধে সর্বাধিক বেড়েছে যে সম্পদের দাম

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫২ পিএম
ইরান যুদ্ধে সর্বাধিক বেড়েছে যে সম্পদের দাম

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীরা এখন তাঁদের পুঁজি নিরাপদ সম্পদে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত।

সাধারণত সংকটকালীন ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ থাকে সোনা কিংবা মার্কিন ডলার। তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রথাগত এই সম্পদগুলোকে পেছনে ফেলে অন্য একটি সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন বিনিয়োগকারীরা। যার ফলে এর দামও বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। সেটি হলো বিটকয়েন।

ইনভেস্টোপিডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিটকয়েনের (BTC USD) দাম ৭২ হাজার ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। তেল ও শেয়ারবাজারে তীব্র ওঠানামার মধ্যেই বিটকয়েনের এ উত্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

যদিও ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, তবে যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিটকয়েনের এই উত্থান একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কারণ, এতদিন বিটকয়েনে বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেই ধরা হতো এবং এর আগে কোনো সংকটে এটি ‘নিরাপদ সম্পদ’ হিসেবে পারফর্ম করেনি।

এ বিষয়ে ‘আইএনআরগ্রিড স্টেবল’-এর প্রতিষ্ঠাতা অনুজ চৌধুরী বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এটি সোনা ও মার্কিন ডলার—দুটোকেই ছাড়িয়ে গেছে, যা সংকটকালে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। প্রচলিত নিরাপদ সম্পদের মতো বিটকয়েন শুধু ধরে রাখার বিষয় নয়; এটি ব্যাংক বা সরকারি অবকাঠামো ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর করা যায়। যখন পুঁজি নিয়ন্ত্রণ কঠোর হয় এবং অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন এই গতিশীলতাই এর বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।’

ইরান যুদ্ধের উত্তাপ না কমায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে ঝুঁকছেন। তবে বিটকয়েন সোনার মতো নিরাপদ বিনিয়োগ বা ঝুঁকি মোকাবিলার হাতিয়ার হতে পারে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সাম্প্রতিক বিনিয়োগের ধারা বলছে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনে বিনিয়োগ বাড়ছে।

ইনভেস্টোপিডিয়া ও ফারসাইড ইনভেস্টরসের তথ্যমতে, ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে আইশেয়ার্স বিটকয়েন ট্রাস্ট এবং ফিডেলিটি ওয়াইজ অরিজিন বিটকয়েন ফান্ডের মতো বিটকয়েন সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোতে ১.১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ জমা হয়েছে।

অনুজ চৌধুরী আরও যোগ করেন, ‘বিটকয়েনের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (সেলফ-কাস্টডি) আর্থিক নিরাপত্তার ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। সোনা বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে, মুদ্রা জব্দ করা যেতে পারে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে রাখা বিটকয়েন মালিকের কাছেই থেকে যায়, তার অবস্থান বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন। এই সার্বভৌমত্ব, সীমান্তহীন স্থানান্তরযোগ্যতা এবং স্থিতিস্থাপকতাই বিটকয়েনকে বর্তমানের খণ্ডিত বিশ্বে একটি নতুন যুগের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।’

উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত কিংবা কোভিড-১৯ মহামারির মতো বড় সংকটের সময়ও বিটকয়েনের লেনদেন বাড়তে দেখা গেছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী আর্থিক বাজারে বিটকয়েনকে একটি নমনীয় অবস্থানে দেখছেন। এর ভূমিকা মূলত বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

তবে অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, বিটকয়েনকে এখনো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিটকয়েন কেনে না, তাই রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে এর ভূমিকা সীমিত। অন্যদিকে, বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গত কয়েক বছরে তাদের সোনার মজুত বাড়িয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে সংঘাতের সময় সোনার দাম অন্য সব সম্পদকে ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু ইরান যুদ্ধের সময় সোনার দামে তেমন বড় উত্থান দেখা যায়নি। যুদ্ধের এক সপ্তাহ পর সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৩২৭.৪২ ডলারে পৌঁছালেও বর্তমানে তা ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ২০০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।

এর প্রধান কারণ মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। ডলারের মান বাড়লে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার ফলে এর চাহিদা কমে যায়। এ ছাড়া তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়লে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যায়। আর সুদের হার বেশি থাকার পূর্বাভাস থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।

error: Content is protected !!