আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে উখিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদের স্মরণ রেখে পুষ্পমাল্য অর্পণ করছেন উখিয়া প্রেসক্লাবের সদস্য বৃন্দ
দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ০১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণ চন্দ্র। তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে শহীদ মিনারের মূল বেদী সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের স্মরণে একে একে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
এসময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মুক্তাগাছা উপজেলা শাখা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তাগাছা থানা, উপজেলা প্রেসক্লাব মুক্তাগাছা, পৌর ও উপজেলা পরিষদ, মুক্তাগাছা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন,
“মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতির গৌরবের দিন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ছিল না, এটি ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় ও স্বাধিকার চেতনার সূচনা। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা আজ স্বাধীনভাবে বাংলায় কথা বলতে পারছি।”
তিনি আরও বলেন,
“আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে একুশের স্বীকৃতি আমাদের জন্য বিশ্বমঞ্চে এক বিশেষ সম্মান। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব মাতৃভাষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানানো।”
ইউএনও মহোদয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“শিশু-কিশোরদের মাঝে ভাষা আন্দোলনের চেতনা জাগ্রত করতে হবে। তাহলেই শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।”
সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কালো ব্যাজ ধারণ ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা পেয়েছি আমাদের প্রাণের বাংলা ভাষা। মহান একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও দেশের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত সকলে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস থেকে শুরু করে পরিবহন শ্রমিক—সব স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে আমরা বসেছি। কোথায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং কেন হচ্ছে, সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব সমস্যার কারণে খরচ বাড়ছে, শিল্প উৎপাদনের দাম বাড়ছে এবং তার প্রভাব পড়ছে দ্রব্যমূল্যের ওপর।”
তিনি বলেন, “অনেক সমস্যার সমাধান ইতোমধ্যে দেওয়া গেছে। কিছু সমস্যার সমাধানে কয়েকদিন সময় লাগবে, কারণ এগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের বিষয়। আশা করছি, শিগগিরই এসব সমস্যার সমাধান হলে বন্দরের কার্যক্রমে বড় ধরনের গতি আসবে। পণ্য দ্রুত খালাস হলে বাড়তি ব্যয় কমবে।”
রোজা উপলক্ষে আমদানি করা পণ্য দ্রুত সরবরাহের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে রোজার জন্য যেসব পণ্য এসেছে, সেগুলোর ডেলিভারি ধীরগতির। আমরা দ্রুত ডেলিভারির ব্যবস্থা করছি। ডেলিভারি কম থাকলে তো পণ্যের দাম বাড়তেই থাকবে।”
দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক জটিলতা। ইনশাল্লাহ আমরা এর সমাধান দেবো। কিছু সমাধান আজই হয়েছে।”
শেয়ারবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “শেয়ারবাজারের ওপর মানুষের যে আস্থা কমে গেছে, তা ফিরিয়ে আনতে হবে। এটি পরিচালিত হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে। স্বচ্ছতার ব্যাপারে কোনো আপস নয়। আগামী দিনে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। তা বাস্তবায়ন হলে শেয়ারবাজারে বড় বিপ্লব ঘটবে।”
তিনি আরও বলেন, “এর ফলে শুধু বিনিয়োগকারীই নয়, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়বে এবং দ্রব্যমূল্যে স্থিতিশীলতা আসবে।”
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গারাংগিয়া ভরিয়ারকুল সড়কের হাতিয়ারকুল বায়তুর রহমান মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত গিয়াস উদ্দিন উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গারাঙ্গিয়া মাদরাসা এলাকার সুপারিন্টেন্ডেন্ট পাড়ার মৃত সাহাব মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি থেকে ভরিয়ারকুল সড়ক হয়ে হাতিয়ারকুল এলাকার দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ শাহ আলম, মিজান ও জোবায়েরের নেতৃত্বে কয়েকজন তার পথরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় শাহ আলম ধারালো অস্ত্র দিয়ে গিয়াস উদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়।
সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোহাম্মদ তারেক হোছাঈন বলেন, ছুরিকাঘাতে আহত গিয়াস উদ্দিন সংগঠনের একজন সক্রিয় কর্মী। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে তিনি দাঁড়িপাল্লার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় তাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।