বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২

কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য

ক্রাইম রিপোর্ট লেখার নিয়ম

মুন্নি আহমেদ
মুন্নি আহমেদ - সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রকাশিত: রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫, ১:১৭ এএম | 1093 বার পড়া হয়েছে
ক্রাইম রিপোর্ট লেখার নিয়ম

ক্রাইম রিপোর্ট হলো সাংবাদিকতার এমন একটি ধরন যেখানে রিপোর্টার কোন একটি বিষয়ে গভীরভাবে তদন্ত করে রিপোর্ট তৈরি করেন। বিভিন্ন বিষয়ে ক্রাইম রিপোর্ট হতে পারে। যেমন – দুর্নীতি, অপরাধ, খুন, কর্পোরেট বিভিন্ন ভুল-ভ্রান্তি, অনিয়ম প্রভৃতি।

ক্রাইমে রিপোর্ট লেখার নিয়মসমূহ নিম্নে তুলে ধরা হলো—

১. ক্রাইমে রিপোর্ট উল্টো পিরামিড কাঠামো তে লিখতে হবে। অর্থাৎ, প্রথমে মূল তথ্য সংবাদ সূচনায় দিতে হবে। এরপর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিখতে হবে।

২. রিপোর্ট হতে হবে সুষ্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত এবং সুনির্দিষ্ট। এমনও হতে পারে সংবাদ সংগ্রহ ও তৈরি করতে সময় লেগেছে অনেক কিন্তু সে তথ্য বর্ণনা করতে হয়েছে মাত্র এক কলামে।

৩. ক্রাইম রিপোর্ট Straight Jacket পদ্ধতিতে লিখতে হবে। এখানে লেখাকে অতিরঞ্জিত করা যাবে না। লেখার স্টাইল হবে সোজাসুজি।

৪. রিপোর্টে রিপোর্টারের ব্যক্তিগত মতামত দেয়া যাবে না। রিপোর্টার সরাসরি কাউকে দোষারোপও করতে পারবেন না। রিপোর্টার শুধু মানুষের সৃষ্ট অনিয়ম ও ভুলত্রুটিগুলো তুলে ধরবেন।

৫. সংবাদ গল্পে এমন কিছু লেখা যাবে না যাতে করে রিপোর্টারকে মানহানির মামলার সম্মুখীন হতে হয়। করো ভুলভ্রান্তি তুলে ধরতে গিয়ে যাতে অপলেখ বা Libel না হয় রিপোর্টারকে সে জন্য সংবাদ লেখার সময় অধিক যত্নবান হতে হবে।

৬. রিপোর্টে পরিসংখ্যানে প্রাপ্ত তথ্য উল্লেখ করতে হলে অবশ্যই সঠিক তথ্যটিই উল্লেখ করতে হবে। কোন ভাবে ভুল অথবা আংশিক সত্য তথ্য দেওয়া যাবে না।

৭. রিপোর্ট যদি ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয় । অর্থ্যাৎ, যদি রিপোর্টটি বিভিন্ন পর্বে ভাগ হয়ে থাকে, তবে পর্বগুলো এমনভাবে সাজানো উচিত যাতে করে পাঠক একটি পর্ব পড়ে বাকি পর্বগুলোও পড়তে আগ্রহী হয়।

৮. ক্রাইম রিপোর্ট হলো যুক্তিনির্ভর সংবাদ। তাই এখানে আবেগ দিয়ে কোন কাজ হবে না। রিপোর্টার যুক্তির মাধ্যমে তার মতামত প্রতিষ্ঠা করবেন।

বিশেষ প্রতিনিধি

পাবনায় দুই বাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪ জনে

বিশেষ প্রতিনিধি, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:১৯ এএম
পাবনায় দুই বাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪ জনে
পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের শোলাবাড়িয়া এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। এর আগে ঘটনার পর মারা যায় দুইজন। পরে হাসপাতালে মারা যায় আরো দুইজন।
মাধপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজার রহমান মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া সাতটার দিকে সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার শোলাবাড়িয়া ব্রিজের কাছে এ দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, পাবনা সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের আব্দুল প্রামানিকের ছেলে কামাল হোসেন (৪২), পাবনা পৌর সদরের শিবরামপুর মহল্লার চমন মোল্লার ছেলে হেলপার মেহেদি হাসান জিহাদ (২৮), আটঘরিয়ার উপজেলার নরজান গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৬) ও পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মাজন আলীর ছেলে আলেফ উদ্দিন (৩৫)।
নিহতদের মধ্যে কামাল হোসেন শাহজাদপুর ট্রাভেলসের চালক ও জিহাদ মাছরাঙার এক্সপ্রেসের হেলপার ছিলেন। বাকি দু’জন মাছরাঙার এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন।
মাধপুর হাইওয়ে থানার ওসি মুস্তাফিজার রহমান জানান, সকালে যাত্রীবাহী শাহজাদপুর ট্রাভেলস নামের বাসটি পাবনা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল। পথিমধ্যে শোলাবাড়িয়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী মাছরাঙা এক্সপ্রেসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান মাছরাঙার এক্সপ্রেসের হেলপার জিহাদ।
খবর পেয়ে মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে। সেইসাথে দূর্ঘটনা কবলিত বাস দুটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দূর্ঘটনার পর বাস দুটি দুমচে মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় দুই বাসের অন্তত অর্ধ শতাধিক যাত্রী।
আহতদের উদ্ধার করে সাঁথিয়া ও পাবনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহজাদপুর ট্রাভেলস এর চালক কামাল হোসেন, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর আলমগীর হোসেন এবং পাবনা থেকে রাজশাহী নেবার পথে আলেফ উদ্দিন মারা যায়।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) জাহিদুল ইসলাম জানান, দূর্ঘটনায় আহত ৩২ জনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৬ জনকে রাজশাহী মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ওসি মুস্তাফিজার আরো জানান, নিহতদের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাস দুটি জব্দ করে পুলিশী হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবারের কেউ অভিযোগ দিলে মামলা হবে। আর তাদের কেউ অভিযোগ না দিলে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করবে।

রাব্বুল আলামিন মানুষের উত্তম আমল গ্রহন করেন

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৮ এএম
রাব্বুল আলামিন মানুষের উত্তম আমল গ্রহন করেন

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের উত্তম আ’মল-কে গ্রহন করেন আর সেটার উপহারও দান করে থাকেন আর বদ আ’মল কে গ্রহন করেন আর সেটার শাস্তি দান করে থাকেন, কিন্তু কিছু কিছু আ’মল এমন হয়ে থাকে যা আল্লাহর সাথে সর্ম্পকে ছিন্ন করে দেয়, আয়াতে ও হাদিসে এই বিষয়ে আলোচনা করা হলো, যেমন শিরক, আম্বিয়া মুরসালিনদেরকে হত্যা করা, আম্বিয়া মুরসালিনদের নবুয়তকে অস্বিকার করা, আয়েম্মা মাসুমিনদের কষ্ট দেওয়া, উনাদেরকে হত্যা করা ইত্যাদি। আয়েম্মা মাসুমিন (আঃ)-দের থেকে দূরত্ব উনাদের বেলায়তকে অমান্য করা ও অস্বীকার করা মানুষের নেক আ’মল কে বদ আমলে পরিনত করে দেয়, তাদের আ’মল কে বাতিল করে দেয়, নবী এ কারিম (সাঃ)-এর এরশাদ, হে মানব জাতি আল্লাহর কসম আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দ্বীন কে ইমামত দ্বারা সন্মানিত ও পরিপূর্নতা দান করেছেন। যারা ইমামদের আদেশের সামনে মাথা নত করে আহলে বাইত (আঃ)-এর অনুগত্য করে তারাই সাফল্য লাভ করে, আর যারা আহলে বাইত (আঃ)-দের অনুগত্য করেনা তাদের আ’মল কে “হাবত” করে দেওয়া হবে অর্থাৎ নেক আ’মল কে বদ আ’মলে পরিবর্তন করে দেওয়া হবে। ইমামতের ধারায় মাওলা আলী (আঃ) এর পর মাওলা আলী ও হযরত মা ফাতিমা যাহরা (আঃ)-এর বংশধারা থেকে ইমাম মাহদী (আ ফা) এর মাধ্যমে কিয়ামত পযর্ন্ত চলবে। যারা ইমামদের আদেশের সামনে মাথা নত করে আহলে বাইত (আঃ)-দের অনুগত্য করে তারাই সাফল্য লাভ করে, আর যারা আহলে বাইত (আঃ)-দের অনুগত্য করেনা তাদের আ’মল কে “হাবত” করে দেওয়া হবে আর জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুন তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তাদের আর কোন সুযোগ দেওয়া হবে না।
(এহতেজাজে তাবারসি ১খন্ড ৬১পৃ)
অতএব যে ইবাদত আল্লাহ,রাসুল (সাঃ) ও আহলে বাইত (আঃ) বেলায়তের অধিকারী উনাদের অনুগত্য ছাড়া আ’মলের কোন মূল্য নেই, আখেরাতও উত্তম হতে পারেনা।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিহাস

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৬ এএম
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিহাস

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিহাস হলো যাঁরা মহানবী (সাঃ) এর জানাজা ফেলে ক্ষমতার ভাগবাঁটোয়ারায় মত্ত ছিল, আজ তারাই অনেকের কাছে ‘মডেল’। কিন্তু সত্যের আয়না বড় নির্মম। মা ফাতেমার (সাঃ আঃ) এর জীবনের সেই শেষ দিনগুলোর দিকে তাকালে তথাকথিত বীরত্ব আর নেতৃত্বের মুখোশ চুরমার হয়ে যায়।
যে ঘরের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে জিবরাঈল (আঃ) অনুমতি প্রার্থনা করতেন, ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে সেই পবিত্র ঘরেই যারা আগুন দেওয়ার ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল, তারা কি কোনোদিন মোমিন হতে পারে? দরজার আঘাতে যখন নবীনন্দিনীর পাজরের হাড় ভেঙেছিল, তখন কোথায় ছিল তাদের সেই কথিত ‘বীরত্ব’?
বাবার বিচ্ছেদে মা ফাতেমা (সাঃ আঃ) যেখানে বসে একটু ডুকরে কাঁদতেন, সেই ‘বায়তুল হুজন’ (শোকের ঘর) কেন গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো? এমনকি যে গাছের ছায়ায় বসে তিনি অশ্রু বিসর্জন দিতেন, সেই গাছটি পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়েছিল কোন আক্রোশে? নবীর কন্যা কি তবে একটু কাঁদার অধিকারও হারিয়েছিলেন?
যারা নিজেদের ইসলামের রক্ষক দাবি করত, তাদের সেই প্রতাপ কি কেবল মহানবী (সাঃ) এর এতিম কন্যার ওপরেই সীমাবদ্ধ ছিল? যারা তাঁর হক কেড়ে নিল, যারা তাঁকে ঘরহীন করল, তারাই আজ আপনাদের আদর্শ?
অবশেষে পৃথিবীর সব অবিচার যখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল, মা ফাতেমা (সাঃ আঃ) তাঁর বাবার রওজায় গিয়ে যে আর্তনাদ করেছিলেন, তা আজও আরশ কাঁপিয়ে দেয়। তিনি বলেছিলেন
​বাবা! তুমি আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও, আমাকে মৃত্যু দাও; তোমার উম্মত আমাকে এত ‘সুখ’ দিয়েছে যে আমি আর সইতে পারছি না। মায়ের এই একটি বাক্যই যথেষ্ট সেই বিশ্বাসঘাতকদের আমলনামা স্পষ্ট করার জন্য। যারা মা ফাতেমার ঘর জ্বালিয়েছিল, তারা কোনোদিন ইসলামের আলো হতে পারে না। এই ইতিহাস কেবল শোকের নয়, এটি সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য চিনে নেওয়ার এক কঠিন মানদণ্ড। যারা আজ সাকিফাহর নায়কদের বন্দনা করে, তারা কি হাশরের ময়দানে মা ফাতেমার চোখের পানির মুখোমুখি হতে পারবে? নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন।