কাজি শুরাইহ: ইসলামের বিচার বিভাগীয় ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র
ইসলামের সুবিচার ও ন্যায়পরায়ণতার ইতিহাসে যে ক’জন বিচারকের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন Shuraih ibn al-Harith (কাজি শুরাইহ রহ.)। তিনি ছিলেন তাবেঈ যুগের একজন প্রখ্যাত ফকীহ ও ন্যায়পরায়ণ বিচারক, যিনি প্রায় ৬০ বছর ধরে বিচারকের দায়িত্ব পালন করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
🕌 তিনি মূলত ইয়েমেন থেকে আগত হলেও তাঁর বিচারিক জীবন বিকশিত হয় ইরাকের কুফায়। খলিফা Umar ibn al-Khattab (রা.) তাঁর প্রজ্ঞা, সততা ও বিচক্ষণতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে কুফার কাজি (বিচারক) হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর উসমান (রা.), আলী (রা.) ও পরবর্তী উমাইয়া শাসনামলেও তিনি একই মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন।
⚖️ ন্যায়বিচারের এক অনন্য উদাহরণ
একবার খলিফা Ali ibn Abi Talib (রা.)-এর সাথে এক ইহুদির বর্ম নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। মামলা গড়ায় কাজি শুরাইহের আদালতে। তিনি প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেন—খলিফার পক্ষেও প্রমাণ যথেষ্ট নয়। ফলে রায় যায় ইহুদির পক্ষে!
এই নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বোধ দেখে ওই ব্যক্তি এতটাই মুগ্ধ হন যে, তিনি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন। 🌿
📚 তার বিচার দর্শন
🍁প্রমাণ ছাড়া কখনো রায় দিতেন না।
🍁ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের মাঝে কোনো পার্থক্য করতেন না।
🍁আদালতে সমতা ও মর্যাদা বজায় রাখতেন।
🍁ব্যক্তিগত আবেগকে কখনো বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থান দিতেন না।
💎 কাজি শুরাইহ (রহ.) প্রমাণ করেছেন—ন্যায়বিচার শুধু আইন নয়, এটি ঈমানেরও অংশ। তাঁর জীবন আজও আমাদের শিখায়—সত্য ও ন্যায়ের সামনে সবাই সমান।
















