নদীভাঙন, মামলা ও উন্নয়ন বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফের আবেগঘন খোলা চিঠি
ফেনীর কান্না কি শুনবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান?
ফেনীর উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রতি এক আবেগঘন খোলা চিঠি দিয়েছেন ফেনী সদর উপজেলার ৯নং লেমুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা, লেমুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফ।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দলীয় আদর্শ ও সাধারণ মানুষের পক্ষে লেখালেখি করে আসা এই সাংবাদিক দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি একাধিকবার হামলা ও মামলার সম্মুখীন হয়েছেন। তার ভাষায়, “সত্য ও মানুষের অধিকারের কথা বলাই ছিল আমার অপরাধ।”
অগ্নিসংযোগ ও স্বপ্নভঙ্গের বেদনা
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরদিন তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। তার গরুর খামার পুড়িয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
এই ঘটনায় তার জীবনের বহু স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় মুহূর্তেই ছাই হয়ে যাওয়ার স্মৃতি এখনো তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
১। নদীভাঙনে বিলীন বসতভিটা, আতঙ্কে হাজারো পরিবার
খোলা চিঠির প্রথম দাবিতে তিনি লেমুয়া বাজার সংলগ্ন কালিদাস পাহাড়িয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনের চিত্র তুলে ধরেন।
তার দাবি, নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতঘর, ফসলি জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন গৃহহীন হচ্ছে অসংখ্য পরিবার।
তিনি জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানান। তার সতর্কবার্তা, “এভাবে চলতে থাকলে লেমুয়া বাজারের অস্তিত্বই একদিন হারিয়ে যাবে।”
২। খাসজমি দখলমুক্ত করে জনকল্যাণে ব্যবহারের আহ্বান
দ্বিতীয় দাবিতে তিনি অভিযোগ করেন, লেমুয়া বাজারের সরকারি খাসজমি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। এসব জমি উদ্ধার করে সেখানে স্কুল, হাসপাতাল, খেলার মাঠ কিংবা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক স্থাপনা নির্মাণের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে স্থানীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
৩। ঝুঁকিপূর্ণ মা ও শিশু হাসপাতাল
লেমুয়া বাজার সংলগ্ন মা ও শিশু হাসপাতালের জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হানিফ।
ভবনটি এতটাই নাজুক যে চিকিৎসক ও রোগীরা আতঙ্কের মধ্যে সেবা নিচ্ছেন বলে দাবি তার। তিনি দ্রুত সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, “একটি দুর্ঘটনা পুরো এলাকার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।”
৪। ৩০ বছর ধরে অচল ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র
চতুর্থ দাবিতে তিনি উল্লেখ করেন, বৃটিশ আমলে নির্মিত একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রায় ৩০ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। লেমুয়া ও আশেপাশের প্রায় এক লাখ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে আশ্রয়কেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়নের দাবি জানান তিনি। দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় কার্যকর আশ্রয়কেন্দ্র না থাকা বড় ঝুঁকি বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
৫। ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি
পঞ্চম দাবিতে তিনি ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পূর্ব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তোলেন, যাতে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা নিজ জেলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। তার মতে, উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে উঠলে ফেনীর সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
৬। লালপোল বাইপাসে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি
ষষ্ঠ দাবিতে তিনি ফেনী শহর থেকে চট্টগ্রাম-সোনাগাজী গামী লালপোল বাইপাস সড়কে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি জানান। তার বক্তব্য, এ সড়কে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।
“একটি ফ্লাইওভার হাজারো মায়ের কান্না থামাতে পারে”— এমন আবেগঘন ভাষায় তিনি দ্রুত প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান।
৭। বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহারের দাবি
চিঠির শেষ অংশে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে লেমুয়া ইউনিয়নে বিএনপির প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীর নামে অসংখ্য মামলা দায়ের হয়েছে, যা এখনো চলমান। তিনি এসব মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানি আখ্যা দিয়ে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
তার দাবি, আইনের সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
“আমি ক্ষুদ্র কর্মী, কিন্তু মানুষের দাবি বড়”
চিঠির উপসংহারে মোহাম্মদ হানিফ বলেন,
“আমি একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে আমার নেতা ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এলাকার মানুষের ন্যায্য দাবি তুলে ধরলাম।
আশা করি, তিনি ফেনীর উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
নিজের নাম মোহাম্মদ হানিফ নও মোবাইল নম্বর ০১৮৯০১৫৩৩৪৭ সংযুক্ত করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এখন প্রশ্ন একটাই—ফেনীর সাধারণ মানুষের এই আর্তনাদ কি প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে পৌঁছাবে? নদীভাঙন, অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ঘাটতি ও রাজনৈতিক হয়রানির অবসান কি এবার সত্যিই ঘটবে?
ফেনীবাসীর দৃষ্টি এখন সরকারের পদক্ষেপের দিকে।













