শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২

বাংলা ভাষা: হাজার বছরের ইতিহাস, আত্মপরিচয়ের প্রতীক

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৪০ এএম | 15 বার পড়া হয়েছে
বাংলা ভাষা: হাজার বছরের ইতিহাস, আত্মপরিচয়ের প্রতীক

🌿 বাংলা শুধু একটি ভাষা নয়—এটি একটি সভ্যতা, একটি সংগ্রাম, একটি আত্মার নাম। এই ভাষার শিকড় ছড়িয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাসে।
📜 উৎপত্তি ও বিকাশ
বাংলা ভাষার জন্ম ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত সংস্কৃত ভাষা থেকে। সংস্কৃত → প্রাকৃত → অপভ্রংশ হয়ে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে প্রাচীন বাংলা। ৮ম–১২শ শতাব্দীর মধ্যে পাল ও সেন যুগে বাংলা ভাষার প্রাথমিক রূপ স্পষ্ট হতে শুরু করে।
📖 চর্যাপদ: বাংলার প্রাচীন নিদর্শন
বাংলা ভাষার প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শন হলো চর্যাপদ (১০ম–১২শ শতক)। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত এই পদগুলোই বাংলা সাহিত্যের সূচনাবিন্দু।
🏰 মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য
সুলতানি ও মোগল আমলে বাংলা ভাষা রাজদরবার ও সাহিত্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এই সময়েই মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, পুঁথি সাহিত্য ও অনুবাদ সাহিত্যের ব্যাপক বিকাশ ঘটে।
🖋️ আধুনিক বাংলার উন্মেষ
১৮–১৯ শতকে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের হাত ধরে আধুনিক বাংলা গদ্যের সূচনা হয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষাকে দেন নতুন রূপ ও ব্যাকরণিক শুদ্ধতা।
✊ ভাষা আন্দোলন: রক্তে লেখা ইতিহাস
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি—বাংলা ভাষার ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারদের আত্মত্যাগে বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। এই আন্দোলনই পরবর্তীতে স্বাধীনতার বীজ বপন করে।
🌍 বিশ্বে বাংলা ভাষা
আজ বাংলা বিশ্বের ৫ম সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা। ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস—যা বাংলাভাষীদের জন্য এক অনন্য সম্মান।
💚 বাংলা আমাদের অহংকার
এই ভাষায় আমরা হাসি, কাঁদি, স্বপ্ন দেখি। বাংলা বেঁচে থাকুক আমাদের চর্চায়, আমাদের ভালোবাসায়।

মোঃ আবুল কালাম, জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

মুক্তাগাছায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন

মোঃ আবুল কালাম, জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৮ এএম
মুক্তাগাছায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন

ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় যথাযথ মর্যাদা ও বিনম্র চিত্তে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ০১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণ চন্দ্র। তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে শহীদ মিনারের মূল বেদী সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের স্মরণে একে একে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
এসময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মুক্তাগাছা উপজেলা শাখা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তাগাছা থানা, উপজেলা প্রেসক্লাব মুক্তাগাছা, পৌর ও উপজেলা পরিষদ, মুক্তাগাছা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন,
“মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতির গৌরবের দিন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ছিল না, এটি ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় ও স্বাধিকার চেতনার সূচনা। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা আজ স্বাধীনভাবে বাংলায় কথা বলতে পারছি।”
তিনি আরও বলেন,
“আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে একুশের স্বীকৃতি আমাদের জন্য বিশ্বমঞ্চে এক বিশেষ সম্মান। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব মাতৃভাষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানানো।”
ইউএনও মহোদয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“শিশু-কিশোরদের মাঝে ভাষা আন্দোলনের চেতনা জাগ্রত করতে হবে। তাহলেই শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।”
সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কালো ব্যাজ ধারণ ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা পেয়েছি আমাদের প্রাণের বাংলা ভাষা। মহান একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও দেশের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত সকলে।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম বন্দরের জট খুললেই কমবে দ্রব্যমূল্য : অর্থমন্ত্রী

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৪ এএম
চট্টগ্রাম বন্দরের জট খুললেই কমবে দ্রব্যমূল্য : অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে শিগগিরই গতি বাড়বে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর মেহেদীবাগের নিজ বাসভবনে বন্দর, কাস্টমস এবং বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস থেকে শুরু করে পরিবহন শ্রমিক—সব স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে আমরা বসেছি। কোথায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং কেন হচ্ছে, সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব সমস্যার কারণে খরচ বাড়ছে, শিল্প উৎপাদনের দাম বাড়ছে এবং তার প্রভাব পড়ছে দ্রব্যমূল্যের ওপর।”
তিনি বলেন, “অনেক সমস্যার সমাধান ইতোমধ্যে দেওয়া গেছে। কিছু সমস্যার সমাধানে কয়েকদিন সময় লাগবে, কারণ এগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের বিষয়। আশা করছি, শিগগিরই এসব সমস্যার সমাধান হলে বন্দরের কার্যক্রমে বড় ধরনের গতি আসবে। পণ্য দ্রুত খালাস হলে বাড়তি ব্যয় কমবে।”
রোজা উপলক্ষে আমদানি করা পণ্য দ্রুত সরবরাহের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে রোজার জন্য যেসব পণ্য এসেছে, সেগুলোর ডেলিভারি ধীরগতির। আমরা দ্রুত ডেলিভারির ব্যবস্থা করছি। ডেলিভারি কম থাকলে তো পণ্যের দাম বাড়তেই থাকবে।”
দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক জটিলতা। ইনশাল্লাহ আমরা এর সমাধান দেবো। কিছু সমাধান আজই হয়েছে।”
শেয়ারবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “শেয়ারবাজারের ওপর মানুষের যে আস্থা কমে গেছে, তা ফিরিয়ে আনতে হবে। এটি পরিচালিত হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে। স্বচ্ছতার ব্যাপারে কোনো আপস নয়। আগামী দিনে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। তা বাস্তবায়ন হলে শেয়ারবাজারে বড় বিপ্লব ঘটবে।”
তিনি আরও বলেন, “এর ফলে শুধু বিনিয়োগকারীই নয়, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়বে এবং দ্রব্যমূল্যে স্থিতিশীলতা আসবে।”

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে উখিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদের স্মরণ রেখে পুষ্পমাল্য অর্পণ করছেন উখিয়া প্রেসক্লাবের সদস্য বৃন্দ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৯ এএম
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে উখিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদের স্মরণ রেখে পুষ্পমাল্য অর্পণ করছেন উখিয়া প্রেসক্লাবের সদস্য বৃন্দ