রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩১ ফাল্গুন ১৪৩২
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩১ ফাল্গুন ১৪৩২

রাহাদুজ্জামান (রাফি), বিশেষ প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ

সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম | 42 বার পড়া হয়েছে
সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানাধীন ৮নং সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে হতদরিদ্র ও দু:স্থ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র চাল সুষ্ঠভাবে বিতরণ করা হয়েছে। আজ রবিবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে চাল তুলে দেন সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আইনিন আফরোজ,প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল কাদের মিলন,ট্যাগ অফিসার সোহেল আরমান,ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মন্টু,মেম্বর শহিদুল ইসলাম শহীদ,শরিফুল ইসলাম,আব্দুল বারিক,আব্দুল খালেক,সুজন,ওয়ার্ড মেম্বর নাজমা,আফরোজা,হাওয়া খাতুন সহ অনেকে।এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল কাদের মিলন জানান,সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় ইউনিয়নের মোট ২৭৬০টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারসহ সকলের উপস্থিতিতে প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়।
তিনি আরও বলেন,প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এ ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে।এতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়।
চাল পেয়ে উপকারভোগীরা সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

বিশ্বের জ্বালানি বাজারের চাবিকাঠি এখন ইরানের হাতে

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
বিশ্বের জ্বালানি বাজারের চাবিকাঠি এখন ইরানের হাতে

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো চলতি সপ্তাহে তাদের ক্রেতাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আগামী এপ্রিল মাসে তেল রপ্তানির জন্য তারা কোন বন্দর ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। আরামকোর এই একটি বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের এক নতুন বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। আর তা হলো—বিশ্ব জ্বালানি বাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার চাবিকাঠি এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নয়, ইরানের হাতে।

বিশ্বজুড়ে সৌদি তেলের ক্রেতাদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, তারা লোহিত সাগর থেকে তেল পেতে পারেন, আবার পারস্য উপসাগর থেকেও পেতে পারেন। এই অনিশ্চয়তা দেখে সৌদির এক নিয়মিত তেল ক্রেতা মন্তব্য করেছেন, ‘এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে আর আমি কবে তেল পাব, তা জানতে এখন আমাকে ইরানে ফোন করলেই বোধ হয় ভালো হবে।’

এই মন্তব্যটি মধ্যপ্রাচ্যের ভেতরে ও বাইরে ক্রমবর্ধমান এক উদ্বেগের প্রতিফলন। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যেকোনো সময় যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দিতে পারে, তবে এই সংঘাতের মেয়াদ আসলে কত দিন হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলবে ইরানই। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এই পরিস্থিতিকে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বলে আসছেন, তারা এই যুদ্ধে জয়ের খুব কাছাকাছি। তবে তাঁর দেওয়া সময়সীমা কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওঠানামা করছে। অন্যদিকে, ইরান তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। এর ফলে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন শোধনাগার, পেট্রোকেমিক্যাল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি-নির্ভর শিল্পগুলোতে।

মধ্যপ্রাচ্যের কোম্পানিগুলোর নির্বাহী এবং পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ এখনই থেমে গেলেও কেবল যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তার আশ্বাসে নৌ-চলাচল এবং উৎপাদন পুনরায় শুরু করা যাবে না। তেহরানের স্বল্পমূল্যের ড্রোন তাদের এমন এক শক্তি দিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘসময় নৌ-চলাচল অচল করে রাখতে পারবে। এমনকি তাদের আক্রমণকারীরা যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দেওয়ার পরও।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সাহায্য করতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পাহারা পাঠাতে পারে এবং মিত্র দেশগুলোকেও যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে বলেছেন। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন জ্যেষ্ঠ জ্বালানি কর্মকর্তা বলেছেন, নৌ-পাহারা দিয়ে খুব একটা কাজ হবে। যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের সঙ্গে এমন কোনো শর্তে একমত হয়, যেখানে ইরান জাহাজগুলোর ওপর হামলা বা হুমকি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেবে। তিনি জানান, ইরান নিরাপদ যাতায়াতের গ্যারান্টি না দেওয়া পর্যন্ত তাদের জাহাজগুলো বন্দরেই থাকবে।

থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক নিল কুইলিয়াম বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমন কোনো শর্তে বিজয়ী হওয়ার ঘোষণা দেয় যা ইরান গ্রহণ করবে না, তবে তেহরান মাইন এবং ড্রোন ব্যবহার করে আরও বড় বিপর্যয় তৈরির চেষ্টা করবে।’

এদিকে, গতকাল শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা তেল লোডিং হাবে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছিল। সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট বলেন, ইরান এই পাল্টা হামলার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, এই যুদ্ধে কোনো ‘নিরাপদ বন্দর’ নেই এবং ওয়াশিংটন এই সংঘাতের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখে না। তিনি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে (লোহিত সাগর) হামলার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছেন, যা সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একমাত্র বিকল্প পথ।

ইরাক সরকারের একজন জ্বালানি উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এই সংকটের ফলে সরবরাহ রুটের ওপর আস্থা পুরোপুরি ভেঙে গেছে এবং এই অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি জানান, অবকাঠামো মেরামত করতে কয়েক মাস সময় লাগবে এবং ঝুঁকির কারণে বিমা খরচ অনেক বেশি ও দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠবে।

এ ছাড়া ইরানি হামলার কারণে সৌদি আরব, আমিরাত, বাহরাইন এবং ইসরায়েলের শোধনাগারগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে তেল ও গ্যাসের দাম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। মর্গান স্ট্যানলির বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের দ্রুত সমাধান হলেও বাজার স্বাভাবিক হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। র‍্যাপিডান এনার্জির বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেল কোম্পানিগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে ফিরে আসতে দেরি করতে পারে, যা তেলক্ষেত্রগুলো পুনরায় চালু করতে বিলম্ব ঘটাবে এবং খনিগুলোর স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

রপ্তানি পথ বন্ধ থাকায় তেল উৎপাদকেরাও উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। আরামকো তাদের দুটি বিশাল অফশোর ক্ষেত্র—সাফানিয়া ও জুলুফ বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে ওপেকের শীর্ষ উৎপাদকের উৎপাদন ২০ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া ইরাকে উৎপাদন কমেছে ৭০ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে তেলের উৎপাদন প্রতিদিন ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল কমেছে, যা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৭-১০ শতাংশ। কাতার তাদের এলএনজি উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্বের মোট সরবরাহের ২০ শতাংশ। কাতার তাদের গ্রাহকদের জানিয়ে দিয়েছে, আগামী মে মাসের আগে তারা সম্ভবত কোনো তেল পাবে না।

জ্বালানি খাতের একজন সূত্র সরাসরি বলেছেন, ‘এই অচলাবস্থার কারণ একটি—নিরাপত্তা। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিতে পারি না।’ ফলে ইরান যদি নিরাপদ যাতায়াতের নিশ্চয়তা না দেয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

নিপাহ-জলাতঙ্কের সমাধান খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
নিপাহ-জলাতঙ্কের সমাধান খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

দিনে দিনে মশার উৎপাত বাড়ছে। বাড়ছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের উপদ্রব। অন্যদিকে এবার বাংলাদেশ ও ভারতে বাদুড়বাহিত নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। সেই প্রকোপ মোকাবিলায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বন্দরে বিধিনিষেধ আরোপ ও স্বাস্থ্যপরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার’ পথ খুঁজছেন। তাঁরা মশা ব্যবহার করে বাদুড় থেকে নিপাহ ভাইরাসসহ প্রাণঘাতী বিভিন্ন ভাইরাস ছড়ানো বন্ধের চেষ্টা করছেন। বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী নেচার-এর অনলাইনে এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। চীনের একদল গবেষক গবেষণাটি করছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে এমন কিছু বিশেষ মশার জন্ম দিয়েছেন, যারা কামড়ে বাদুড়ের শরীরে জলাতঙ্ক ও নিপাহ ভাইরাসের প্রতিষেধক পৌঁছে দেবে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাসগুলোর সংক্রমণ ঠেকানো। তবে বন্য পরিবেশে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয়ও রয়েছে।

বাদুড় প্রাকৃতিকভাবেই অনেক বিপজ্জনক ভাইরাসের বাহক। এশিয়ার দেশগুলোয় নিপাহ ভাইরাস একটি আতঙ্কের নাম। বাদুড় থেকে ছড়ানো এই রোগে আক্রান্তদের প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত মারা যেতে পারে। অন্যদিকে, জলাতঙ্ক বা র‍্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যু প্রায় শতভাগ নিশ্চিত। তাই এই দুই ভাইরাসের উৎস বাদুড়কে রোগমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

মজার ব্যাপার হলো, বাদুড় নিজে এসব ভাইরাসে অসুস্থ হয় না। তবে তাদের শরীর থেকে ভাইরাস অন্য প্রাণী বা মানুষের শরীরে ঢুকলে তা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। বাদুড় যেহেতু ফল ও ফলের রস খায়, কাজেই আপাতত সহজ সমাধান হিসেবে বিশেষজ্ঞরা খেজুরের কাঁচা রস পান না করার পরামর্শ দেন। ফলও ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গবেষকেরা বলছেন, নিপাহ ও জলাতঙ্কের ভাইরাস ঠেকানোর আরেকটি উপায় হতে পারে বাদুড়কে টিকা দেওয়া। কিন্তু বাদুড় গুহাবাসী। থাকেও দলবদ্ধভাবে। লাখ লাখ বাদুড়কে টিকা দেওয়া অসম্ভব। এই সমস্যা সমাধানে মশাকে ব্যবহারের সুযোগ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণার অংশ হিসেবে চীনা গবেষকদল ‘এডিস ইজিপ্টি’ মশাকে এমন রক্ত পান করিয়েছেন, যাতে নিপাহ কিংবা জলাতঙ্ক ভাইরাসের টিকা মেশানো ছিল। রক্তপানের পর মশার লালাগ্রন্থিতে পৌঁছায় সেই টিকা। এরপর মশাগুলো বাদুড়কে কামড়ালে কিংবা বাদুড় সেই মশাকে খেয়ে ফেললে তাদের শরীরে টিকা পৌঁছে যায়। গবেষণাগারে দেখা গেছে, এই ‘টিকাবাহী’ মশার সংস্পর্শে আসা ইঁদুর ও বাদুড়ের শরীরে জলাতঙ্ক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

একইভাবে নিপাহ ভাইরাসের ক্ষেত্রেও ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। বেইজিংয়ের চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ভাইরোলজিস্ট আইহুয়া জেং বলেন, বড় গবেষণাগারে বাদুড়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তারপরও একই পর্যায়ের অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়া বাদুড়েরা নিপাহ ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত ছিল।

কিন্তু গবেষণায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ফলখেকো বাদুড় বা ফ্রুট ব্যাটদের নিয়ে। কারণ, তারা মশা খায় না। তাদের জন্য বিজ্ঞানীরা টিকার মিশ্রণ মেশানো বিশেষ ‘স্যালাইন ড্রিঙ্কিং স্টেশন’ বা পানির পাত্র তৈরি করেছেন। এই পদ্ধতিতে টিকা গ্রহণেও বাদুড়ের শরীরে আশাব্যঞ্জক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দেখা গেছে।

এই অভাবনীয় কৌশল নিয়ে বিজ্ঞানীদের একাংশ বেশ চিন্তিত। ম্যালেরিয়া বিশেষজ্ঞ বার্ট নোলস মনে করেন, পানীয়র মাধ্যমে টিকা দেওয়া নিরাপদ হলেও মশা ব্যবহারের ঝুঁকি অনেক। তাঁর মতে, ‘মশা কাকে কামড়াবে তা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। এমনও হতে পারে যে টিকা নিতে অনিচ্ছুক কোনো মানুষের গায়েও সেই মশা বসে টিকা দিয়ে দিল!’

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট ড্যানিয়েল অ্যান্ডারসন বলেন, বন্য বাদুড়েরা আগে থেকেই নানা ভাইরাসে আক্রান্ত থাকে। গবেষণাগারে সুস্থ বাদুড়ের ওপর টিকা কাজ করলেও প্রাকৃতিকভাবে আক্রান্ত বাদুড়ের শরীরে তা কতটা কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া বাদুড়ের দেড় হাজারের বেশি প্রজাতি রয়েছে। তাই প্রতিটি প্রজাতির জন্য আলাদা কৌশলের প্রয়োজন হতে পারে।

গবেষক আইহুয়া জেং স্বীকার করেছেন, এখনই এই পদ্ধতি বন্য পরিবেশে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে তারা পরীক্ষা করছেন কীভাবে গবাদিপশুর শরীরে বাদুড় থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো যায়। সরকারি অনুমোদন এবং কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষার পরই হয়তো কোনো একদিন মশার মাধ্যমে মহামারি রুখে দেওয়ার স্বপ্ন সত্যি হবে।

আর্জেন্টিনা রাজি না হওয়াতেই বাতিল ফিনালিসিমা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:২০ পিএম
আর্জেন্টিনা রাজি না হওয়াতেই বাতিল ফিনালিসিমা

লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের রোমাঞ্চকর এক লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিলেন বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিই যে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু ম্যাচটি আয়োজন করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিল উয়েফা ও কনমেবল। তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কাছে একের পর এক প্রস্তাব দেওয়া হলেও কোনোটিতে তাদের রাজি করানো যায়নি।

আগের সূচি অনুযায়ী ২৭ মার্চ কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনা-স্পেন ফিনালিসিমা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যে। উয়েফা আজ আর্জেন্টিনা-স্পেন ফিনালিসিমা বাতিলের কথা নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রথম প্রস্তাব ছিল নির্ধারিত দিনে সান্তিয়ানো বার্নাব্যুতে হবে ফিনালিসিমা। দুই দলের সমর্থকদের ৫০:৫০ অনুপাতে ভাগ করা হতো। আর্জেন্টিনা-স্পেন ফিনালিসিমা আয়োজনের জন্য দারুণ এক ভেন্যু ছিল এটা। আর্জেন্টিনা তাতে রাজি হয়নি।’

ইরান যুদ্ধে বাতিল আর্জেন্টিনা-স্পেন ফিনালিসিমাইরান যুদ্ধে বাতিল আর্জেন্টিনা-স্পেন ফিনালিসিমা
সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ও বুয়েনস এইরেসে দুই লেগে ভাগ করে ফিনালিসিমা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি এ মাসের শেষে নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও আর্জেন্টিনা-স্পেন ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা কিছুতেই রাজি হয়নি। উয়েফা বলেছে, ‘দ্বিতীয় প্রস্তাব ছিল ফিনালিসিমা দুই লেগে আয়োজন করা। একটি ম্যাচ ২৭ মার্চ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আয়োজন করা। আরেকটি উয়েফা ইউরো ২০২৮ ও কোপা আমেরিকা ২০২৮-এর মাঝে কোনো এক আন্তর্জাতিক বিরতিতে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। মাদ্রিদের ম্যাচেও সমর্থকদের ৫০:৫০ ভাগ দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। এই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত যদি ইউরোপে কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যু পাওয়া যায়, তাহলে ২৭ মার্চ বা ৩০ মার্চে ম্যাচটি আয়োজন করা যেতে পারে। তবে উয়েফা এমন প্রস্তাব দিলেও রাজি হয়নি আর্জেন্টিনা।’

১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ শেষে ফিনালিসিমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু কোনো তারিখ না মেলাতে পারায় ফিনালিসিমা বাতিলই করতে হয়েছে। উয়েফা বলেছে, ‘আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের পর ম্যাচটি খেলার জন্য একটি পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু স্পেনের কোনো ফাঁকা তারিখ না থাকায় সেই বিকল্পটি বাতিল করতে হয়।’

২০২১ ও ২০২৪ সালে টানা দুবার কোপা আমেরিকা জিতে এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৬ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়ে আর্জেন্টিনা। এই দুবার ইংল্যান্ড ইউরোতে রানার্সআপ হয়েছিল। ২০২১ ও ২০২৪ ইউরো জিতেছিল ইতালি আর স্পেন। সবশেষ ২০২২ ফিনালিসিমায় ওয়েম্বলিতে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা।

error: Content is protected !!