মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ-

পিঠা বিক্রি করেই পেট চলে

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:১৫ এএম | 137 বার পড়া হয়েছে
পিঠা বিক্রি করেই পেট চলে

সাধারণত শীত এলেই সামনে আসে পিঠাপুলির কথা। সকাল সকাল ঘাছ থেকে খেজুর রস নামিয়ে পিঠা বানানোর তোড়জোড়। ভাপ ওঠা চুলার চারদিকে শিশু কিশোরদের অপেক্ষা- কখন নামবে পিঠার হাঁড়ি, কে কতটা পিঠা খাবে তার প্রতিযোগিতা।গ্রাম বাংলার চির চরিত ওিই রীতি এখন আর হয়তো খুব একটা চোখে পড়ে না। তবে শীতের এই অনুষঙ্গ থেকে নেই মোটেও। শীতের শুরুতেই শহর বা গ্রামের অলিগলিতে জমে ওঠে মৌসুমি পিঠার দোকান। সেখানে মেলে হরেক পদের পিঠা।এই পিঠা কারও বাড়তি আয়ের উৎস, কারওবা জীবিকার প্যধান মাধ্যম। নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহেবগজ্ঞ বাজার রোডে এমনই একটি পিঠার দোকান টুকু মিয়ার। মাটির চুলা। চুলার কয়েকটি জ্বালামূখ।তাতে তৈরি হচ্ছে চিতাই,ভাপাসহ নানান পিঠা। এর পাশেই ছোট ছোট বাটিতে থরে থরে সাজানো শষে মরিচ,চেপা শুঁটকিসহ নান স্বাদের ভতা সেখানে ক্রেতাদের ভিড়। কেউ খাচ্ছেন, কেউবা কাগজের ঠোঙ্গায় মুড়িয়ে পিঠা নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে। গত শনিবার রাত আটটার দিকে কথা হয় টুকু মিঞার সঙ্গে।তিনি তখন পিঠা বিক্রিতে ব্যস ্ত । কথায় কথায় জানা গেল, টুকু মিঞার মা অসুস্থ এছাড়া ২ সন্তান ঢাকায় থাকেন তাই তিনি পরিবারের একমাত্র উপাজনক্ষম। শীতের এই সময়ে পিঠা বিক্রি করেন তিনি। বাকি সময় ভ্যান চালান তাতে কোন রকম দিন চলে তার। টুকু মিঞা বলেন,“ ঘরে না খেয়ে থাকলেও দেখার কেউ নাই। তাই বাধ্য হয়েই রাস্তায় দোকান নিয়ে বসেছি।এ ছাড়া শীতের এই সময়ে পিঠার প্রচুর চাহিদা। তাই পিঠা বিক্রি করেই পেট চলে। এছাড়া আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ স্টেশন,আত্রাই হেলিপ্যাড রোড, আহসানগঞ্জ হাট খোলা,শুকটিগাছা বাজার ,ব্রজপুর বাজার, সিংসাড়া বাজার, মদনডাঙ্গা, কুশাতলাবাজার, ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজার, সাহাগোলা রেল স্টেশন বাজার বিভিন্ন এলাকা ঘুড়ে দেখা গেছে ভ্যানেও মৌসুমী পিঠা বিক্রি করছে চিতই পিঠা। সাধারণত দোকানগুলো চালু হয় বিকাল চারটায় আর চলে রাত্রি ৯টা পযন্ত। এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় জমে সন্ধ্যার পর থেকেই। অনেকে পরিবার নিয়ে পিঠা খেতে আসেন আবার কেউ কেঊ পিঠা নিয়ে বাড়ি চলে যান। শনিবার বিকালে আত্রাই উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাজারে একটি পিঠার দোকানের সামনে কথা হয় স্থানীয় বাদিস্দা সাদিক মিঞার সঙ্গে। তিনি একসাথে ৭টি পিঠা কিনছিলেন। তিনি বলেন, মূলত শহরের বাড়িতে পিঠা বানানো ঝামেলা। এ ছাড়া সরঞ্জামও নাই। আর বানালেও দোকানের মতো হয় না।তাই ঝামেলা কমাতে দোকান থেকেই কিনে নিচ্ছ।

নড়াইলে খাল খননের কাজের উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪২ পিএম
নড়াইলে খাল খননের কাজের উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

নড়াইলে খাল খননের কাজের উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: সংস্কৃতি মন্ত্রী

খাল খননকাজ উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচির আওতায় নড়াইল জেলায় খাল খননের কাজের উদ্বোধন করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৩টায় নড়াইল সদর উপজেলার হাতিয়াড়া খাল খননের কাজের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এসময় খাল খননে অংশ নেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম এবং নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু।
মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, খাল খননের মাধ্যমে এলাকার কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। সরকার নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করেছে। কৃষিখাতকে শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
এর আগে বেলা সাড়ে ১২টায় নড়াইল সার্কিট হাউজে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বৈষম্যহীন উন্নয়নে বিশ্বাসী। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সেবা করা সরকারের দায়িত্ব। যে ভোট দেয়নি তার জন্যও যেমন কাজ করতে হবে, যে দিয়েছে তার জন্যও তেমন কাজ করতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হবে রাজনীতির মূল সার্থকতা। এছাড়া মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজীর বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
এসময় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব মোরশেদ জাফল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার রিজভী জর্জ, জেলা যুবদলের সভাপতি মশিয়ার রহমান, সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফরিদ বিশ্বাসসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে

ঈদে দিঘলিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের কর্মসূচি গ্রহণ

জাহিদ হোসেন, দিঘলিয়া প্রতিনিধি-খুলনা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ২:৫০ পিএম
ঈদে দিঘলিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের কর্মসূচি গ্রহণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দিঘলিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদক প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিনসহ আগে ও পরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদকদ্রব্য আমদানি ও কেনাবেচা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন সকল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সূর্যাস্তের সাথে সাথে তা নামিয়ে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ঈদের জামাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটিকালীন সময়ে বিভিন্ন ঘাটে নির্ধারিত টোলের বেশি আদায় করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত টোল আদায়কে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
এদিকে সড়কে খোলা ট্রাক বা পিকআপে মাইক বা সাউন্ড বক্স ব্যবহার করে উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা এবং বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঈদের জামাতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নাশকতা প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। এ লক্ষ্যে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দিঘলিয়া কন্টিনজেন্ট এবং দিঘলিয়া, আড়ংঘাটা ও খানজাহান আলী থানা পুলিশ সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে।

নীল খামের শেষ চিঠি””

কবি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান (হৃদয়) ‎ঠিকানা:গংগাচড়া উপজেলা জেলা রংপুর প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ২:৪৯ পিএম
নীল খামের শেষ চিঠি””

শহরের ধুলোমাখা রাজপথে তখন বিকেলের নরম রোদ লুটোপুটি খাচ্ছে। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক চারটে বেজে ত্রিশ মিনিট। নীল রঙের শার্ট আর কাঁধে ঝোলানো পুরনো একটা ব্যাগ নিয়ে অয়ন দাঁড়িয়ে আছে চেনা সেই গলির মোড়ে। এই দৃশ্যটি গত তিন বছরের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে অয়ন এখানে আসে। কোনো কথা হয় না, কোনো বিনিময় হয় না; শুধু দূর থেকে ওই বারান্দার দিকে এক পলক তাকিয়ে থাকা।
‎​সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতো মনোহরা। মনোহরা—যার চোখের দিকে তাকালে অয়নের মনে হতো মহাবিশ্বের সব কবিতা বুঝি ওই আঁখিপল্লবেই আশ্রয় নিয়েছে। মেঘলার সাথে অয়নের সম্পর্কটা ছিল ঠিক বসন্তের প্রথম বিকেলের মতো—উষ্ণ কিন্তু স্নিগ্ধ। অয়ন পেশায় কবি না হলেও, মনোহরা জন্য সে কবি হয়ে উঠেছিল। ডায়েরির পাতায় পাতায় সে এঁকেছিল মেঘলার হাসির ছন্দ।
‎​অচেনা ঝড়ের আগমন
‎​বিচ্ছেদ যে এভাবে আসবে, তা অয়ন স্বপ্নেও ভাবেনি। কোনো ঝগড়া হয়নি, কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়নি, এমনকি কোনো তৃতীয় ব্যক্তির অনুপ্রবেশও ঘটেনি। অথচ এক বৃহস্পতিবার বিকেলে অয়ন যখন চেনা জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালো, দেখল মনোহরা জানালার পর্দাগুলো শক্ত করে টানা। মোবাইলে কল গেল না, মেসেজের কোনো উত্তর এলো না। তিন দিন পর অয়ন জানতে পারলো, মেঘলারা সপরিবারে শহর ছেড়ে চলে গেছে। শুধু একটা চিরকুট পৌঁছেছিল অয়নের হাতে, যাতে লেখা ছিল— “কিছু বিচ্ছেদ কারণহীন হওয়াই ভালো, অয়ন। আমায় ভুলে যেও।”
‎​কিন্তু কবিরা কি সহজে ভুলতে পারে? অয়নের কাছে মনোহরা কেবল একটা নাম ছিল না, সে ছিল তার সৃষ্টির প্রেরণা।
‎​অপেক্ষার প্রহর
‎​এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। অয়ন এখন আর সেই গলিতে যায় না ঠিকই, কিন্তু প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলটা তার কাছে এখনো মনোহরার সেই এক পলক দেখার মুহূর্ত হয়েই আসে। তার ডায়েরি এখন ভারি হয়েছে বিষাদমাখা কবিতায়। অয়ন জানে, মনোহরা হয়তো অন্য কোনো শহরে, অন্য কারো মনোহরা হয়ে আছে। কিন্তু অয়নের ভালোবাসায় কোনো খাদ ছিল না বলেই তার বিচ্ছেদটা আজও তার কাছে এক অমীমাংসিত রহস্য।
‎​অয়ন ভাবে, ভালোবাসা মানে কি কেবল পাওয়া? নাকি কাউকে মুক্তি দেওয়ার নামই ভালোবাসা? সে তার কবিতায় লিখেছে:
‎​”তুমি নেই বলে পৃথিবীটা থেমে থাকেনি,
‎শুধু আমার কবিতার ছন্দে বিষাদ নেমেছে।
‎তুমি ভালো থেকো অন্য কোনো বসন্তে,
‎আমার বৃহস্পতিবারগুলো আজও তোমাকেই খুঁজেছে।”

‎​
‎​আজও অয়ন যখন ভিড়ের মাঝে কোনো নীল শাড়ি পরা মেয়েকে দেখে, তার বুকটা ধক করে ওঠে। সে জানে মনোহরা ফিরবে না। কারণ ছাড়া যে চলে যায়, সে ফেরার পথটাও মুছে দিয়ে যায়। তবুও অয়ন আজও ভালোবাসে। এই ভালোবাসা এখন আর মেঘলার প্রতি নয়, বরং সেই অনুভূতির প্রতি যা তাকে একসময় কবি বানিয়েছিল। বিচ্ছেদ মানেই কি শেষ? অয়নের কাছে বিচ্ছেদ মানে হলো এক অসমাপ্ত কবিতার শুরু, যা সে লিখে চলেছে তার নিঃসঙ্গ জীবনের পাতায় পাতায়।

error: Content is protected !!