মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

নীল খামের শেষ চিঠি””

কবি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান (হৃদয়) ‎ঠিকানা:গংগাচড়া উপজেলা জেলা রংপুর

শহরের ধুলোমাখা রাজপথে তখন বিকেলের নরম রোদ লুটোপুটি খাচ্ছে। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক চারটে বেজে ত্রিশ মিনিট। নীল রঙের শার্ট আর কাঁধে ঝোলানো পুরনো একটা ব্যাগ নিয়ে অয়ন দাঁড়িয়ে আছে চেনা সেই গলির মোড়ে। এই দৃশ্যটি গত তিন বছরের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে অয়ন এখানে আসে। কোনো কথা হয় না, কোনো বিনিময় হয় না; শুধু দূর থেকে ওই বারান্দার দিকে এক পলক তাকিয়ে থাকা।
‎​সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতো মনোহরা। মনোহরা—যার চোখের দিকে তাকালে অয়নের মনে হতো মহাবিশ্বের সব কবিতা বুঝি ওই আঁখিপল্লবেই আশ্রয় নিয়েছে। মেঘলার সাথে অয়নের সম্পর্কটা ছিল ঠিক বসন্তের প্রথম বিকেলের মতো—উষ্ণ কিন্তু স্নিগ্ধ। অয়ন পেশায় কবি না হলেও, মনোহরা জন্য সে কবি হয়ে উঠেছিল। ডায়েরির পাতায় পাতায় সে এঁকেছিল মেঘলার হাসির ছন্দ।
‎​অচেনা ঝড়ের আগমন
‎​বিচ্ছেদ যে এভাবে আসবে, তা অয়ন স্বপ্নেও ভাবেনি। কোনো ঝগড়া হয়নি, কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়নি, এমনকি কোনো তৃতীয় ব্যক্তির অনুপ্রবেশও ঘটেনি। অথচ এক বৃহস্পতিবার বিকেলে অয়ন যখন চেনা জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালো, দেখল মনোহরা জানালার পর্দাগুলো শক্ত করে টানা। মোবাইলে কল গেল না, মেসেজের কোনো উত্তর এলো না। তিন দিন পর অয়ন জানতে পারলো, মেঘলারা সপরিবারে শহর ছেড়ে চলে গেছে। শুধু একটা চিরকুট পৌঁছেছিল অয়নের হাতে, যাতে লেখা ছিল— “কিছু বিচ্ছেদ কারণহীন হওয়াই ভালো, অয়ন। আমায় ভুলে যেও।”
‎​কিন্তু কবিরা কি সহজে ভুলতে পারে? অয়নের কাছে মনোহরা কেবল একটা নাম ছিল না, সে ছিল তার সৃষ্টির প্রেরণা।
‎​অপেক্ষার প্রহর
‎​এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। অয়ন এখন আর সেই গলিতে যায় না ঠিকই, কিন্তু প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলটা তার কাছে এখনো মনোহরার সেই এক পলক দেখার মুহূর্ত হয়েই আসে। তার ডায়েরি এখন ভারি হয়েছে বিষাদমাখা কবিতায়। অয়ন জানে, মনোহরা হয়তো অন্য কোনো শহরে, অন্য কারো মনোহরা হয়ে আছে। কিন্তু অয়নের ভালোবাসায় কোনো খাদ ছিল না বলেই তার বিচ্ছেদটা আজও তার কাছে এক অমীমাংসিত রহস্য।
‎​অয়ন ভাবে, ভালোবাসা মানে কি কেবল পাওয়া? নাকি কাউকে মুক্তি দেওয়ার নামই ভালোবাসা? সে তার কবিতায় লিখেছে:
‎​”তুমি নেই বলে পৃথিবীটা থেমে থাকেনি,
‎শুধু আমার কবিতার ছন্দে বিষাদ নেমেছে।
‎তুমি ভালো থেকো অন্য কোনো বসন্তে,
‎আমার বৃহস্পতিবারগুলো আজও তোমাকেই খুঁজেছে।”
‎
‎​
‎​আজও অয়ন যখন ভিড়ের মাঝে কোনো নীল শাড়ি পরা মেয়েকে দেখে, তার বুকটা ধক করে ওঠে। সে জানে মনোহরা ফিরবে না। কারণ ছাড়া যে চলে যায়, সে ফেরার পথটাও মুছে দিয়ে যায়। তবুও অয়ন আজও ভালোবাসে। এই ভালোবাসা এখন আর মেঘলার প্রতি নয়, বরং সেই অনুভূতির প্রতি যা তাকে একসময় কবি বানিয়েছিল। বিচ্ছেদ মানেই কি শেষ? অয়নের কাছে বিচ্ছেদ মানে হলো এক অসমাপ্ত কবিতার শুরু, যা সে লিখে চলেছে তার নিঃসঙ্গ জীবনের পাতায় পাতায়।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), সহ-সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন