বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২

মাহরাম ও গায়রে মাহরাম

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০২৪, ১২:১৭ পিএম | 110 বার পড়া হয়েছে
মাহরাম ও গায়রে মাহরাম

যেসব নারীকে যেসব পুরুষের বিয়ে করা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ সেসব নারী ওইসব পুরুষদের মাহরাম। যেসব নারীকে সাময়িকভাবে বিয়ে করা একজন পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ যেমন- নিজের স্ত্রী থাকা অবস্থায় তার বোন, ফুফু ও খালা বিয়ে করা- তারা এই পুরুষের মাহরাম নয়। পুরুষরা যেসব নারীকে বিয়ে করা বৈধ, সেসব নারী পুরুষদের গায়রে মাহরাম। অনুরূপভাবে নারীরা যেসব পুরুষকে বিয়ে করা স্থায়ীভাবে অবৈধ ওইসব পুরুষ নারীদের মাহরাম। আর নারীরা যেসকল পুরুষকে বিয়ে করা বৈধ, ওইসব পুরুষ নারীদের গায়রে মাহরাম।

ইসলামী শরীয়তে গায়রে মাহরাম পুরুষ ও নারীর মধ্যে একে অপরকে পর্দা করা ফরজ। গায়রে মাহরাম অর্থাৎ বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করা পুরুষের জন্য হারাম। তেমনি গায়রে মাহরাম পুরুষের প্রতি দৃষ্টিপাত করা নারীর জন্য উচিত নয়। তবে অনিচ্ছায় হঠাৎ যে দৃষ্টি পড়ে যায়, সেটার কথা ভিন্ন। ইচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টিকে দীর্ঘায়িত করা হলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য ছতর ঢেকে রাখা ফরজ। ছতর পর্দার আওতাধীন। পুরুষের ছতর নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং নারীর ছতর মুখমণ্ডল, হাতের কব্জি এবং পায়ের পাতা ছাড়া বাকি সর্বাঙ্গ। অবশ্য মুখমণ্ডল ছতরের অন্তর্ভুক্ত না হলেও হিজাবের অন্তর্ভুক্ত। তাই নারীরা গায়রে মাহরাম থেকে নিজের মুখমণ্ডল ঢেকে রাখতে হবে। কারও ছতর স্পর্শ করা তো দূরের কথা দূর হতে দেখা এবং দেখানোও হারাম। অবশ্য বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন চিকিৎসার জন্য ছতরের প্রয়োজনীয় অংশ দেখানো যেতে পারে। এছাড়াও মুসলিম নারী বিধর্মী নারীদের সাথেও পর্দা করতে হবে। নারীরা তার মাহরামের সামনে বের হতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু কোনো ফিতনার আশঙ্কা থাকলে বের না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পর্দার কোনো হুকুম নেই। তবে একে অন্যের লজ্জাস্থান দেখা উচিত নয়।

নিম্নবর্ণিত নারীরা পুরুষের মাহরাম
১. মা: এ পর্যায়ে আপন মা, সৎ মা এবং দুধ মা মাহরামভুক্ত। সৎ মা’র সঙ্গে পিতার সহবাস হোক বা নাই হোক। তবে দুধ সম্পর্কিত সৎ মা, দুধ ভাইবোনের আপন মা ও দুধ মা এবং দুধ ছেলেমেয়ের আপন দাদি ও দুধ দাদি মাহরামভুক্ত নয়। এছাড়া অন্য কোনো প্রকারের মা যেমন- ধর্মীয় মা, পালক মা, চাচি ও মামি মাহরাম নয়।

২. খালা: এ পর্যায়ে আপন খালা, সৎ খালা, বৈপিত্রেয় খালা, দুধ খালা অর্থাৎ দুধ মা’র আপন বোন, সৎ বোন, বৈপিত্রেয় বোন এবং দুধ বোন মাহরাম। এমনিভাবে আপন মাতা-পিতার খালা, দাদা-দাদির খালা ও নানা-নানির খালাও মাহরামভুক্ত। উল্লেখ্য যে, বৈপিত্রেয় বলতে বোঝায়, দুইজন লোক চাই পুরুষ হোক কিংবা নারী, যদি তাদের মা এক এবং বাপ ভিন্ন হয়, তাহলে সে দু’জন বৈপিত্রেয় স¤পর্কে ভাইবোন।

৩. ফুফু: এ পর্যায়ে আপন ফুফু, সৎ ফুফু, বৈপিত্রেয় ফুফু ও দুধ ফুফু মাহরাম। এমনি নিজের মাতাপিতার ফুফু, দাদা-দাদির ফুফু ও নানা-নানির ফুফু এভাবে যত উপরে যাক সকলেই মাহরাম। তবে বৈপিত্রেয় ফুফুর ফুফু মাহরাম নয়।

৪. বোন: এ পর্যায়ে আপন বোন, সৎ বোন, বৈপিত্রেয় বোন এবং দুধ মা’র আপন মেয়ে ও সৎ মেয়ে মাহরাম। তবে সৎ ভাইয়ের বৈপিত্রেয় বোন মাহরাম নয়। আপন ছেলেমেয়ের দুধ মা, আপন ভাইবোনের দুধ বোন, দুধ ভাইবোনের আপন বোন ও দুধ বোন মাহরাম নয়। অনুরূপ দুধ মা’র দুধ মেয়ের আপন বোন, সৎ বোন ও দুধ বোন মাহরাম নয়। তেমনি দুধ ছেলেমেয়ের আপন ফুফু ও দুধ ফুফু মাহরাম নয়। এছাড়া চাচাতো, খালাতো, ফুফাতো ও মামাতো বোন মাহরাম নয়।

৫. মেয়ে: এ পর্যায়ে আপন মেয়ে, দুধ মেয়ে ও বৈপিত্রেয় মেয়ে অর্থাৎ নিজের স্ত্রীর প্রাক্তন ঔরসজাত মেয়ে মাহরাম। অবশ্য বৈপিত্রেয় মেয়ে মাহরাম হবে যদি তার মায়ের সঙ্গে সহবাস হয়ে থাকে। আর যদি শুধু বিয়ের আকদ হয়ে থাকে, কিন্তু সহবাস না হয়ে থাকে, তাহলে স্ত্রীর প্রাক্তন মেয়ে মাহরাম নয়। বর্ণিত নারীদের অধঃস্তন নারীরাও মাহরাম। তবে দুধ ছেলেমেয়ের আপন বোন ও দুধ বোন মাহরাম নয়।

৬. পুত্রবধূ: এ পর্যায়ে আপন পুত্রের স্ত্রী, দুধ পুত্রের স্ত্রী মাহরাম। তেমনি আপন পুত্রের পুত্রের স্ত্রী এবং দুধ পুত্রের পুত্রের স্ত্রী এভাবে নিচের দিকে যতই যাক। বৈপিত্রেয় পুত্রের স্ত্রী মাহরামভুক্ত নয়। তেমনি দুধ পুত্রের পুত্রের দুধ মা ও দুধ মেয়ের মেয়ের দুধ মা মাহরাম নয়।

৭. ভাতিজি: এ পর্যায়ে আপন ভাইয়ের মেয়ে, সৎ ভাইয়ের মেয়ে, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে ও দুধ ভাইয়ের মেয়ে মাহরাম। তবে চাচাতো, ফুফাতো, খালাতো ও মামাতো ভাইয়ের মেয়ে মাহরাম নয়।

৮. ভাগিনি: এ পর্যায়ে আপন বোনের মেয়ে, সৎ বোনের মেয়ে, দুধ বোনের মেয়ে, বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে এবং এদের অধঃস্তন সবাই মাহরাম। চাচাতো, ফুফাতো, খালাতো ও মামাতো বোনের মেয়ে মাহরাম নয়।

৯. নাতিন: এ পর্যায়ে আপন ছেলের মেয়ে, দুধ ছেলের মেয়ে, বৈপিত্রেয় ছেলের মেয়ে, আপন মেয়ের মেয়ে, দুধ মেয়ের মেয়ে, বৈপিত্রেয় মেয়ের মেয়ে, আপন ভাইয়ের ছেলের মেয়ে, সৎ ভাইয়ের ছেলের মেয়ে, দুধ ভাইয়ের ছেলের মেয়ে, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের ছেলের মেয়ে, আপন ভাইয়ের মেয়ের মেয়ে, সৎ ভাইয়ের মেয়ের মেয়ে, দুধ ভাইয়ের মেয়ের মেয়ে, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মেয়ের মেয়ে, আপন বোনের ছেলের মেয়ে, সৎ বোনের ছেলের মেয়ে, দুধ বোনের ছেলের মেয়ে, বৈপিত্রেয় বোনের ছেলের মেয়ে, আপন বোনের মেয়ের মেয়ে, সৎ বোনের মেয়ের মেয়ে, দুধ বোনের মেয়ের মেয়ে ও বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ের মেয়ে এবং বোনের অধঃস্তন সকল নারী মাহরামভুক্ত।

বৈপিত্রেয় ছেলের মেয়ে ও বৈপিত্রেয় মেয়ের মেয়ে হলÑ নিজের স্ত্রীর যথাক্রমে প্রাক্তন ছেলের মেয়ে এবং মেয়ের মেয়ে। এক্ষেত্রে নিজ স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস হয়ে থাকলে এরা দু’জন মাহরামভুক্ত হবে অন্যথায় নয়। তবে দুধ ছেলেমেয়ের আপন বোনের মেয়ে ও দুধ ছেলেমেয়ের দুধ বোনের মেয়ে মাহরাম নয়।

১০. দাদি: এ পর্যায়ে আপন দাদি এবং তার মা এভাবে যত উপরে যাক, সৎ দাদি, দুধ দাদি, আপন দাদি ও দুধ দাদির আপন বোন, সৎ বোন, দুধ বোন ও বৈপিত্রেয় বোন মাহরামভুক্ত। তবে দুধ চাচা ও দুধ ফুফুর আপন মা ও দুধ মা মাহরাম নয়।

১১. নানি: এ পর্যায়ে আপন নানি এবং তার মা এভাবে যত উপরে যাক, সৎ নানি, দুধ নানি, আপন নানি ও দুধ নানির আপন বোন, সৎ বোন, দুধ বোন ও বৈপিত্রেয় বোন মাহরামভুক্ত। তবে দুধ মামা-খালার আপন মা ও দুধ মা মাহরাম নয়।

১২. শাশুড়ি: এ পর্যায়ে আপন শাশুড়ি ও দুধ শাশুড়ি যত উপরে যাক মাহরাম। সৎ শাশুড়ি মাহরাম নয়। তেমনি দুধ ছেলেমেয়ের আপন নানি ও দুধ নানি মাহরাম নয়।

১৩. দাদি শাশুড়ি: এ পর্যায়ে আপন দাদি শাশুড়ি ও দুধ দাদি শাশুড়ি যত উপরে যাক মাহরাম। সৎ দাদি শাশুড়ি মাহরাম নয়।

১৪. নানি শাশুড়ি: এ পর্যায়ে আপন নানি শাশুড়ি ও দুধ নানি শাশুড়ি মাহরাম। সৎ নানি শাশুড়ি, মামি শাশুড়ি, চাচি শাশুড়ি, খালা শাশুড়ি ও ফুফু শাশুড়ি মাহরাম নয়।

নিম্নবর্ণিত পুরুষরা নারীদের মাহরাম:
১. পিতা: এ পর্যায়ে আপন পিতা, সৎ পিতা এবং দুধ পিতা মাহরাম। অন্য যেকোনো প্রকারের পিতা যেমন, ধর্মীয় পিতা, পালক পিতা ও উকিল পিতা মাহরাম নয়।

২. দাদা: এ পর্যায়ে আপন দাদা এবং তার আপন ভাই, সৎ ভাই, দুধ ভাই ও বৈপিত্রেয় ভাই মাহরাম। তেমনি দাদার পিতা এভাবে যত উপরে যাক সবাই মাহরাম।

৩. চাচা: এ পর্যায়ে আপন চাচা, সৎ চাচা, বৈপিত্রেয় চাচা ও দুধ চাচা অর্থাৎ আপন পিতার দুধ ভাই, দুধ পিতার আপন ভাই, সৎ ভাই, বৈপিত্রেয় ভাই ও দুধ ভাই মাহরাম। এমনিভাবে পিতা, দাদা ও নানার চাচারাও মাহরাম।

৪. মামা: এ পর্যায়ে আপন মামা, সৎ মামা, বৈপিত্রেয় মামা ও দুধ মামা অর্থাৎ আপন মা’র দুধ ভাই, দুধ মা’র আপন ভাই, সৎ ভাই, বৈপিত্রেয় ভাই ও দুধ ভাই মাহরাম। এমনিভাবে মা, দাদি ও নানির মামারাও মাহরাম। তবে আপন ফুফা ও খালুও মাহরাম নয়।

৫. ভাই: এ পর্যায়ে আপন ভাই, সৎ ভাই, বৈপিত্রেয় ভাই ও দুধ ভাই অর্থাৎ আপন মা’র দুধ ছেলে, দুধ মা’র আপন ছেলে, সৎ ছেলে ও দুধ ছেলে মাহরাম। এ ছাড়া চাচাতো, খালাতো, মামাতো, ফুফাতো ভাই এবং দুলাভাই, দেবর ও ভাসুর মাহরাম নয়।

৬. ছেলে: এ পর্যায়ে আপন ছেলে, সৎ ছেলে ও দুধ ছেলে মাহরাম। পালক ছেলে ও ধর্মীয় ছেলে মাহরাম নয়।

৭. জামাই: এ পর্যায়ে আপন মেয়ের জামাই ও দুধ মেয়ের জামাই মাহরাম। অনুরূপ আপন মেয়ের মেয়ের জামাই এবং দুধ মেয়ের মেয়ের জামাই এভাবে যত নিচের দিকে যাক সবাই মাহরামভুক্ত।

৮. ভাইপো: এ পর্যায়ে আপন ভাইয়ের ছেলে, সৎ ভাইয়ের ছেলে, দুধ ভাইয়ের ছেলে এবং বৈপিত্রেয় ভাইয়ের ছেলে মাহরাম।

৯. ভাগিনা: এ পর্যায়ে আপন বোনের ছেলে, সৎ বোনের ছেলে, দুধ বোনের ছেলে এবং বৈপিত্রেয় বোনের ছেলে মাহরাম।

১০. নাতি: এ পর্যায়ে আপন ছেলের ছেলে, সৎ ছেলের ছেলে, দুধ ছেলের ছেলে, আপন মেয়ের ছেলে, সৎ মেয়ের ছেলে, দুধ মেয়ের ছেলে, আপন ভাইয়ের ছেলের ছেলে, সৎ ভাইয়ের ছেলের ছেলে, দুধ ভাইয়ের ছেলের ছেলে, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের ছেলের ছেলে, আপন ভাইয়ের মেয়ের ছেলে, সৎ ভাইয়ের মেয়ের ছেলে, দুধ ভাইয়ের মেয়ের ছেলে, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মেয়ের ছেলে, আপন বোনের ছেলের ছেলে, সৎ বোনের ছেলের ছেলে, দুধ বোনের ছেলের ছেলে, বৈপিত্রেয় বোনের ছেলের ছেলে, আপন বোনের মেয়ের ছেলে, সৎ বোনের মেয়ের ছেলে, দুধ বোনের মেয়ের ছেলে এবং বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ের ছেলে ও তাদের অধঃস্তন পুরুষরাও মাহরামভুক্ত।

১১. নানা: এ পর্যায়ে আপন নানা এবং তার আপন ভাই, বৈপিত্রেয় ভাই, দুধ ভাই ও সৎ ভাইÑ এভাবে যত উপরে যাক, সবাই মাহরাম।

১২. শ্বশুর: এ পর্যায়ে আপন শ্বশুর ও দুধ শ্বশুর মাহরাম। তবে সৎ শ্বশুর যেমন- শাশুড়ির প্রাক্তন স্বামী মাহরাম নয়।

১৩. দাদা শ্বশুর: এ পর্যায়ে আপন দাদা শ্বশুর ও দুধ দাদা শ্বশুর মাহরাম। সৎ দাদা শ্বশুর মাহরাম নয়।

১৪. নানা শ্বশুর: এ পর্যায়ে আপন নানা শ্বশুর ও দুধ নানা শ্বশুর মাহরাম। সৎ নানা শ্বশুর, মামা শ্বশুর, চাচা শ্বশুর, খালু শ্বশুর ও ফুফা শ্বশুর মাহরাম নয়। এছাড়া মাহরামের উপরে বর্ণিত তালিকা ছাড়া পৃথিবীর সকল পুরুষ নারীদের জন্য এবং সকল নারী পুরুষদের জন্য গায়রে মাহরাম।

লেখক: প্রধান শিক্ষক, কিন্ডারগার্টেন শাখা, শাহবাগ জামিয়া মাদানিয়া কাসিমুল উলুম জকিগঞ্জ, সিলেট ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, জকিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট।

তথ্যসূত্র:
১. সূরা: নিসা, আয়াত- ২২, ২৩ ও ২৪
২. সূরা: নূর, আয়াত- ৩১
৩. ফতওয়ায়ে শামী, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৯৯-১০৮ ও ৪০২-৪১০
৪. ফতওয়ায়ে আলমগিরী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭৩-২৭৭
৫. বাদায়িউস সানায়ে, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৯৬-৪০০

শংকর দাস পবন, ঝালকাঠি

ঝালকাঠিতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

শংকর দাস পবন, ঝালকাঠি প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৮ পিএম
ঝালকাঠিতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, ঝালকাঠি শাখার উদ্যোগে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে ঝালকাঠি সরকারি কলেজ রোডস্থ সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের সভাপতি ইমদাদুল হক স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় এবং সাধারণ সম্পাদক রুবেল খানের সঞ্চালনায় কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার ঝালকাঠি প্রতিনিধি রেজাউল করিম, ‘ঢাকার সময়’ ও ‘চ্যানেল এস স্যাভেন’-এর স্টাফ রিপোর্টার শংকর দাস পবন, সাংবাদিক বাবুল মিনা,মাহাবুবুর রহমান, কামরুজ্জামান সুইটসহ সংস্থার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

ইফতারের পূর্বে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে দেশ ও জাতির সার্বিক অগ্রগতি, মানুষের সুখ-শান্তি এবং পেশাজীবী সাংবাদিকদের কল্যাণ কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সার্বিকভাবে অনুষ্ঠানটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

ঈদের ছুটিতে চালু থাকবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম
ঈদের ছুটিতে চালু থাকবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ঈদের ছুটিতেও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মন্ত্রণালয়ের স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ২৪ মার্চ পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৭ দিন চালু থাকবে। ১৬ মার্চ জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী এ ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের সহায়তায় ১০ মার্চ থেকে এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের প্রবাসী কল সেন্টারে এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। এখানে তিন শিফটে মোট ২০ জন কর্মকর্তা ও ২৪ জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন। প্রবাসীরা জরুরি প্রয়োজনে দেশের ভেতর থেকে টোল-ফ্রি ১৬১৩৫ নম্বরে এবং বিদেশ থেকে ‍+৮৮০৯৬১০১০২০৩০ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।

অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় থাকবেন ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া। আর ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রণালয়ের কর্মসংস্থান-১ শাখার উপসচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে বিদেশে শ্রমকল্যাণ উইংগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবেন এবং প্রাপ্ত তথ্য নিয়মিতভাবে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তার কাছে জমা দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ আনতে কাজ করছে সরকার

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ আনতে কাজ করছে সরকার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ ইতিমধ্যেই দেশে আনা হয়েছে। অন্য চারজনের মরদেহও দেশে আনার জন্য কাজ করছে সরকার।’ এ ছাড়া সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের নিরাপত্তায় সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

আজ বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের সালথা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায়দের ঈদ উপহার বিতরণী আয়োজনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করায় তেল, গ্যাস ও খাদ্য সামগ্রী নিয়ে যে সংকটের কথা ছিল, তা কিন্তু নেই। তেল বা খাদ্য সামগ্রীর দাম কিন্তু বাড়েনি। প্রধানমন্ত্রী সব বিষয়ে খোঁজ রাখছেন এবং সকল বিষয়ে সমাধান করছেন। এ ছাড়া সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা যারা কষ্টের মধ্যে রয়েছেন, তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতেও কাজ করছে সরকার। সেই সঙ্গে তারা যাতে সেখানে নিরাপদে থাকতে পারেন, সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে।

ঈদে রাজধানী থেকে মানুষ যাতে ভোগান্তি ছাড়াই ঘরে ফিরতে পারে, তার সকল ব্যবস্থা সরকার নিয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই মানুষ ঘরে ফিরছে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীরা খোঁজ খবর রাখছেন, সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করছেন। আমরা আশা করছি সকলে ভোগান্তি ছাড়াই ঘরে ফিরে তাদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারবে।

এর আগে জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে ঈদুল ফিতরের উপহার হিসেবে সহস্রাধিক অসহায় মানুষের হাতে শাড়ি-কাপড় তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।

error: Content is protected !!