বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২

মাহরাম ও গায়রে মাহরাম

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০২৪, ১২:১৭ পিএম | 107 বার পড়া হয়েছে
মাহরাম ও গায়রে মাহরাম

যেসব নারীকে যেসব পুরুষের বিয়ে করা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ সেসব নারী ওইসব পুরুষদের মাহরাম। যেসব নারীকে সাময়িকভাবে বিয়ে করা একজন পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ যেমন- নিজের স্ত্রী থাকা অবস্থায় তার বোন, ফুফু ও খালা বিয়ে করা- তারা এই পুরুষের মাহরাম নয়। পুরুষরা যেসব নারীকে বিয়ে করা বৈধ, সেসব নারী পুরুষদের গায়রে মাহরাম। অনুরূপভাবে নারীরা যেসব পুরুষকে বিয়ে করা স্থায়ীভাবে অবৈধ ওইসব পুরুষ নারীদের মাহরাম। আর নারীরা যেসকল পুরুষকে বিয়ে করা বৈধ, ওইসব পুরুষ নারীদের গায়রে মাহরাম।

ইসলামী শরীয়তে গায়রে মাহরাম পুরুষ ও নারীর মধ্যে একে অপরকে পর্দা করা ফরজ। গায়রে মাহরাম অর্থাৎ বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করা পুরুষের জন্য হারাম। তেমনি গায়রে মাহরাম পুরুষের প্রতি দৃষ্টিপাত করা নারীর জন্য উচিত নয়। তবে অনিচ্ছায় হঠাৎ যে দৃষ্টি পড়ে যায়, সেটার কথা ভিন্ন। ইচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টিকে দীর্ঘায়িত করা হলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য ছতর ঢেকে রাখা ফরজ। ছতর পর্দার আওতাধীন। পুরুষের ছতর নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং নারীর ছতর মুখমণ্ডল, হাতের কব্জি এবং পায়ের পাতা ছাড়া বাকি সর্বাঙ্গ। অবশ্য মুখমণ্ডল ছতরের অন্তর্ভুক্ত না হলেও হিজাবের অন্তর্ভুক্ত। তাই নারীরা গায়রে মাহরাম থেকে নিজের মুখমণ্ডল ঢেকে রাখতে হবে। কারও ছতর স্পর্শ করা তো দূরের কথা দূর হতে দেখা এবং দেখানোও হারাম। অবশ্য বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন চিকিৎসার জন্য ছতরের প্রয়োজনীয় অংশ দেখানো যেতে পারে। এছাড়াও মুসলিম নারী বিধর্মী নারীদের সাথেও পর্দা করতে হবে। নারীরা তার মাহরামের সামনে বের হতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু কোনো ফিতনার আশঙ্কা থাকলে বের না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পর্দার কোনো হুকুম নেই। তবে একে অন্যের লজ্জাস্থান দেখা উচিত নয়।

নিম্নবর্ণিত নারীরা পুরুষের মাহরাম
১. মা: এ পর্যায়ে আপন মা, সৎ মা এবং দুধ মা মাহরামভুক্ত। সৎ মা’র সঙ্গে পিতার সহবাস হোক বা নাই হোক। তবে দুধ সম্পর্কিত সৎ মা, দুধ ভাইবোনের আপন মা ও দুধ মা এবং দুধ ছেলেমেয়ের আপন দাদি ও দুধ দাদি মাহরামভুক্ত নয়। এছাড়া অন্য কোনো প্রকারের মা যেমন- ধর্মীয় মা, পালক মা, চাচি ও মামি মাহরাম নয়।

২. খালা: এ পর্যায়ে আপন খালা, সৎ খালা, বৈপিত্রেয় খালা, দুধ খালা অর্থাৎ দুধ মা’র আপন বোন, সৎ বোন, বৈপিত্রেয় বোন এবং দুধ বোন মাহরাম। এমনিভাবে আপন মাতা-পিতার খালা, দাদা-দাদির খালা ও নানা-নানির খালাও মাহরামভুক্ত। উল্লেখ্য যে, বৈপিত্রেয় বলতে বোঝায়, দুইজন লোক চাই পুরুষ হোক কিংবা নারী, যদি তাদের মা এক এবং বাপ ভিন্ন হয়, তাহলে সে দু’জন বৈপিত্রেয় স¤পর্কে ভাইবোন।

৩. ফুফু: এ পর্যায়ে আপন ফুফু, সৎ ফুফু, বৈপিত্রেয় ফুফু ও দুধ ফুফু মাহরাম। এমনি নিজের মাতাপিতার ফুফু, দাদা-দাদির ফুফু ও নানা-নানির ফুফু এভাবে যত উপরে যাক সকলেই মাহরাম। তবে বৈপিত্রেয় ফুফুর ফুফু মাহরাম নয়।

৪. বোন: এ পর্যায়ে আপন বোন, সৎ বোন, বৈপিত্রেয় বোন এবং দুধ মা’র আপন মেয়ে ও সৎ মেয়ে মাহরাম। তবে সৎ ভাইয়ের বৈপিত্রেয় বোন মাহরাম নয়। আপন ছেলেমেয়ের দুধ মা, আপন ভাইবোনের দুধ বোন, দুধ ভাইবোনের আপন বোন ও দুধ বোন মাহরাম নয়। অনুরূপ দুধ মা’র দুধ মেয়ের আপন বোন, সৎ বোন ও দুধ বোন মাহরাম নয়। তেমনি দুধ ছেলেমেয়ের আপন ফুফু ও দুধ ফুফু মাহরাম নয়। এছাড়া চাচাতো, খালাতো, ফুফাতো ও মামাতো বোন মাহরাম নয়।

৫. মেয়ে: এ পর্যায়ে আপন মেয়ে, দুধ মেয়ে ও বৈপিত্রেয় মেয়ে অর্থাৎ নিজের স্ত্রীর প্রাক্তন ঔরসজাত মেয়ে মাহরাম। অবশ্য বৈপিত্রেয় মেয়ে মাহরাম হবে যদি তার মায়ের সঙ্গে সহবাস হয়ে থাকে। আর যদি শুধু বিয়ের আকদ হয়ে থাকে, কিন্তু সহবাস না হয়ে থাকে, তাহলে স্ত্রীর প্রাক্তন মেয়ে মাহরাম নয়। বর্ণিত নারীদের অধঃস্তন নারীরাও মাহরাম। তবে দুধ ছেলেমেয়ের আপন বোন ও দুধ বোন মাহরাম নয়।

৬. পুত্রবধূ: এ পর্যায়ে আপন পুত্রের স্ত্রী, দুধ পুত্রের স্ত্রী মাহরাম। তেমনি আপন পুত্রের পুত্রের স্ত্রী এবং দুধ পুত্রের পুত্রের স্ত্রী এভাবে নিচের দিকে যতই যাক। বৈপিত্রেয় পুত্রের স্ত্রী মাহরামভুক্ত নয়। তেমনি দুধ পুত্রের পুত্রের দুধ মা ও দুধ মেয়ের মেয়ের দুধ মা মাহরাম নয়।

৭. ভাতিজি: এ পর্যায়ে আপন ভাইয়ের মেয়ে, সৎ ভাইয়ের মেয়ে, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে ও দুধ ভাইয়ের মেয়ে মাহরাম। তবে চাচাতো, ফুফাতো, খালাতো ও মামাতো ভাইয়ের মেয়ে মাহরাম নয়।

৮. ভাগিনি: এ পর্যায়ে আপন বোনের মেয়ে, সৎ বোনের মেয়ে, দুধ বোনের মেয়ে, বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে এবং এদের অধঃস্তন সবাই মাহরাম। চাচাতো, ফুফাতো, খালাতো ও মামাতো বোনের মেয়ে মাহরাম নয়।

৯. নাতিন: এ পর্যায়ে আপন ছেলের মেয়ে, দুধ ছেলের মেয়ে, বৈপিত্রেয় ছেলের মেয়ে, আপন মেয়ের মেয়ে, দুধ মেয়ের মেয়ে, বৈপিত্রেয় মেয়ের মেয়ে, আপন ভাইয়ের ছেলের মেয়ে, সৎ ভাইয়ের ছেলের মেয়ে, দুধ ভাইয়ের ছেলের মেয়ে, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের ছেলের মেয়ে, আপন ভাইয়ের মেয়ের মেয়ে, সৎ ভাইয়ের মেয়ের মেয়ে, দুধ ভাইয়ের মেয়ের মেয়ে, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মেয়ের মেয়ে, আপন বোনের ছেলের মেয়ে, সৎ বোনের ছেলের মেয়ে, দুধ বোনের ছেলের মেয়ে, বৈপিত্রেয় বোনের ছেলের মেয়ে, আপন বোনের মেয়ের মেয়ে, সৎ বোনের মেয়ের মেয়ে, দুধ বোনের মেয়ের মেয়ে ও বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ের মেয়ে এবং বোনের অধঃস্তন সকল নারী মাহরামভুক্ত।

বৈপিত্রেয় ছেলের মেয়ে ও বৈপিত্রেয় মেয়ের মেয়ে হলÑ নিজের স্ত্রীর যথাক্রমে প্রাক্তন ছেলের মেয়ে এবং মেয়ের মেয়ে। এক্ষেত্রে নিজ স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস হয়ে থাকলে এরা দু’জন মাহরামভুক্ত হবে অন্যথায় নয়। তবে দুধ ছেলেমেয়ের আপন বোনের মেয়ে ও দুধ ছেলেমেয়ের দুধ বোনের মেয়ে মাহরাম নয়।

১০. দাদি: এ পর্যায়ে আপন দাদি এবং তার মা এভাবে যত উপরে যাক, সৎ দাদি, দুধ দাদি, আপন দাদি ও দুধ দাদির আপন বোন, সৎ বোন, দুধ বোন ও বৈপিত্রেয় বোন মাহরামভুক্ত। তবে দুধ চাচা ও দুধ ফুফুর আপন মা ও দুধ মা মাহরাম নয়।

১১. নানি: এ পর্যায়ে আপন নানি এবং তার মা এভাবে যত উপরে যাক, সৎ নানি, দুধ নানি, আপন নানি ও দুধ নানির আপন বোন, সৎ বোন, দুধ বোন ও বৈপিত্রেয় বোন মাহরামভুক্ত। তবে দুধ মামা-খালার আপন মা ও দুধ মা মাহরাম নয়।

১২. শাশুড়ি: এ পর্যায়ে আপন শাশুড়ি ও দুধ শাশুড়ি যত উপরে যাক মাহরাম। সৎ শাশুড়ি মাহরাম নয়। তেমনি দুধ ছেলেমেয়ের আপন নানি ও দুধ নানি মাহরাম নয়।

১৩. দাদি শাশুড়ি: এ পর্যায়ে আপন দাদি শাশুড়ি ও দুধ দাদি শাশুড়ি যত উপরে যাক মাহরাম। সৎ দাদি শাশুড়ি মাহরাম নয়।

১৪. নানি শাশুড়ি: এ পর্যায়ে আপন নানি শাশুড়ি ও দুধ নানি শাশুড়ি মাহরাম। সৎ নানি শাশুড়ি, মামি শাশুড়ি, চাচি শাশুড়ি, খালা শাশুড়ি ও ফুফু শাশুড়ি মাহরাম নয়।

নিম্নবর্ণিত পুরুষরা নারীদের মাহরাম:
১. পিতা: এ পর্যায়ে আপন পিতা, সৎ পিতা এবং দুধ পিতা মাহরাম। অন্য যেকোনো প্রকারের পিতা যেমন, ধর্মীয় পিতা, পালক পিতা ও উকিল পিতা মাহরাম নয়।

২. দাদা: এ পর্যায়ে আপন দাদা এবং তার আপন ভাই, সৎ ভাই, দুধ ভাই ও বৈপিত্রেয় ভাই মাহরাম। তেমনি দাদার পিতা এভাবে যত উপরে যাক সবাই মাহরাম।

৩. চাচা: এ পর্যায়ে আপন চাচা, সৎ চাচা, বৈপিত্রেয় চাচা ও দুধ চাচা অর্থাৎ আপন পিতার দুধ ভাই, দুধ পিতার আপন ভাই, সৎ ভাই, বৈপিত্রেয় ভাই ও দুধ ভাই মাহরাম। এমনিভাবে পিতা, দাদা ও নানার চাচারাও মাহরাম।

৪. মামা: এ পর্যায়ে আপন মামা, সৎ মামা, বৈপিত্রেয় মামা ও দুধ মামা অর্থাৎ আপন মা’র দুধ ভাই, দুধ মা’র আপন ভাই, সৎ ভাই, বৈপিত্রেয় ভাই ও দুধ ভাই মাহরাম। এমনিভাবে মা, দাদি ও নানির মামারাও মাহরাম। তবে আপন ফুফা ও খালুও মাহরাম নয়।

৫. ভাই: এ পর্যায়ে আপন ভাই, সৎ ভাই, বৈপিত্রেয় ভাই ও দুধ ভাই অর্থাৎ আপন মা’র দুধ ছেলে, দুধ মা’র আপন ছেলে, সৎ ছেলে ও দুধ ছেলে মাহরাম। এ ছাড়া চাচাতো, খালাতো, মামাতো, ফুফাতো ভাই এবং দুলাভাই, দেবর ও ভাসুর মাহরাম নয়।

৬. ছেলে: এ পর্যায়ে আপন ছেলে, সৎ ছেলে ও দুধ ছেলে মাহরাম। পালক ছেলে ও ধর্মীয় ছেলে মাহরাম নয়।

৭. জামাই: এ পর্যায়ে আপন মেয়ের জামাই ও দুধ মেয়ের জামাই মাহরাম। অনুরূপ আপন মেয়ের মেয়ের জামাই এবং দুধ মেয়ের মেয়ের জামাই এভাবে যত নিচের দিকে যাক সবাই মাহরামভুক্ত।

৮. ভাইপো: এ পর্যায়ে আপন ভাইয়ের ছেলে, সৎ ভাইয়ের ছেলে, দুধ ভাইয়ের ছেলে এবং বৈপিত্রেয় ভাইয়ের ছেলে মাহরাম।

৯. ভাগিনা: এ পর্যায়ে আপন বোনের ছেলে, সৎ বোনের ছেলে, দুধ বোনের ছেলে এবং বৈপিত্রেয় বোনের ছেলে মাহরাম।

১০. নাতি: এ পর্যায়ে আপন ছেলের ছেলে, সৎ ছেলের ছেলে, দুধ ছেলের ছেলে, আপন মেয়ের ছেলে, সৎ মেয়ের ছেলে, দুধ মেয়ের ছেলে, আপন ভাইয়ের ছেলের ছেলে, সৎ ভাইয়ের ছেলের ছেলে, দুধ ভাইয়ের ছেলের ছেলে, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের ছেলের ছেলে, আপন ভাইয়ের মেয়ের ছেলে, সৎ ভাইয়ের মেয়ের ছেলে, দুধ ভাইয়ের মেয়ের ছেলে, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মেয়ের ছেলে, আপন বোনের ছেলের ছেলে, সৎ বোনের ছেলের ছেলে, দুধ বোনের ছেলের ছেলে, বৈপিত্রেয় বোনের ছেলের ছেলে, আপন বোনের মেয়ের ছেলে, সৎ বোনের মেয়ের ছেলে, দুধ বোনের মেয়ের ছেলে এবং বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ের ছেলে ও তাদের অধঃস্তন পুরুষরাও মাহরামভুক্ত।

১১. নানা: এ পর্যায়ে আপন নানা এবং তার আপন ভাই, বৈপিত্রেয় ভাই, দুধ ভাই ও সৎ ভাইÑ এভাবে যত উপরে যাক, সবাই মাহরাম।

১২. শ্বশুর: এ পর্যায়ে আপন শ্বশুর ও দুধ শ্বশুর মাহরাম। তবে সৎ শ্বশুর যেমন- শাশুড়ির প্রাক্তন স্বামী মাহরাম নয়।

১৩. দাদা শ্বশুর: এ পর্যায়ে আপন দাদা শ্বশুর ও দুধ দাদা শ্বশুর মাহরাম। সৎ দাদা শ্বশুর মাহরাম নয়।

১৪. নানা শ্বশুর: এ পর্যায়ে আপন নানা শ্বশুর ও দুধ নানা শ্বশুর মাহরাম। সৎ নানা শ্বশুর, মামা শ্বশুর, চাচা শ্বশুর, খালু শ্বশুর ও ফুফা শ্বশুর মাহরাম নয়। এছাড়া মাহরামের উপরে বর্ণিত তালিকা ছাড়া পৃথিবীর সকল পুরুষ নারীদের জন্য এবং সকল নারী পুরুষদের জন্য গায়রে মাহরাম।

লেখক: প্রধান শিক্ষক, কিন্ডারগার্টেন শাখা, শাহবাগ জামিয়া মাদানিয়া কাসিমুল উলুম জকিগঞ্জ, সিলেট ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, জকিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট।

তথ্যসূত্র:
১. সূরা: নিসা, আয়াত- ২২, ২৩ ও ২৪
২. সূরা: নূর, আয়াত- ৩১
৩. ফতওয়ায়ে শামী, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৯৯-১০৮ ও ৪০২-৪১০
৪. ফতওয়ায়ে আলমগিরী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭৩-২৭৭
৫. বাদায়িউস সানায়ে, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৯৬-৪০০

খোকন হাওলাদার, সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি

আশুলিয়ায় গার্মেন্টসকর্মী নারীকে নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল, থানায় অভিযোগ

খোকন হাওলাদার, সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
আশুলিয়ায় গার্মেন্টসকর্মী নারীকে নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল, থানায় অভিযোগ

ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় এক গার্মেন্টসকর্মী নারীকে নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মোছাঃ মিনারা খাতুন (৩৬) অভিযুক্ত মোঃ সাজ্জাদ ঢালী (২৮)-এর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর স্বামী বিদেশে অবস্থান করায় তিনি কন্যাসন্তানকে নিয়ে আশুলিয়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন এবং স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। অভিযুক্ত সাজ্জাদ ঢালীর সঙ্গে তার পরিচয় হয় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। অভিযুক্ত নিজেকে বিশ্বস্ত পরিচিত দাবি করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ৫৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ভুক্তভোগীকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে শুরু করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছবি সংগ্রহ করে অন্য এক নারীর নগ্ন শরীরের সঙ্গে যুক্ত করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করেন। পরে সেই ভিডিও ভুক্তভোগীর স্বামীর কাছে পাঠানোর হুমকি দিয়ে আরও অর্থ আদায় করেন তিনি।

একপর্যায়ে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্ত ইমু অ্যাপের ভিডিও কলে ভুক্তভোগীর নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন এবং তা সরাসরি তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে ভুক্তভোগীর দাম্পত্য জীবনে চরম সংকট সৃষ্টি হয় এবং তার স্বামী তালাকের হুমকি দেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগে বলা হয়, সর্বশেষ গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত পুনরায় নগ্ন ভিডিও পাঠিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরও অভিযুক্ত মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেন। তিনি ভুক্তভোগীর দেশে থাকা ভাইকে আটক করে মারধর ও হত্যার হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগী মিনারা খাতুন বলেন, “আমি এই প্রতারক ও ব্ল্যাকমেইলকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নারী এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধের শিকার না হন।”

অঞ্জনা চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক উজ্জ্বল বাংলাদেশ

কাজিপুরে বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে কাজিপুর উপজেলা প্রশাসন

অঞ্জনা চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
কাজিপুরে বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে কাজিপুর উপজেলা প্রশাসন

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে কাজিপুর উপজেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষ্যে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার পরিদর্শন করেন।

তিনি উপজেলার সিমান্তবাজার, সোনামুখী ও আলমপুর সহ বড় বাজারগুলো ঘুরে দেখেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নিত্যপণ্যের মূল্যতালিকা টানানো হয়েছে কিনা, অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কিনা এবং পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে কিনা তা তদারকি করেন।

এছাড়াও বাজার দখলমুক্ত করতে বাজারে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। বাজার মনিটরিং শেষে ইউএনও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, রমজান মাসে কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মুনাফা আদায় বরদাস্ত করা হবে না। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কেউ অনিয়ম করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়াও বাজারগুলোতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাইমা জাহান সুমাইয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ শরীফুল ইসলাম, প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দিদারুল আহসান সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

স্থানীয় ক্রেতারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত মনিটরিং হলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে রমজানের বাজার করতে পারবে।

জাহিদ হোসেন, দিঘলিয়া প্রতিনিধি

বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজানের চাঁদ গেছে

জাহিদ হোসেন, দিঘলিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজানের চাঁদ গেছে

বাংলাদেশের আকাশে আজ (১৮ই ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ (বুধবার) পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে বলে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ঘোষণা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে সন্ধ্যার পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন চাঁদ দেখা গেছে এবং আগামী (১৯ই ফেব্রুয়ারি) (বৃহস্পতিবার) থেকে বাংলাদেশে রোজা শুরু হবে। চাঁদ দেখা যাওয়ার খবরটি আজ সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের পরে নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ দেশের আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ দেখা গেছে, তাই পবিত্র রমজান মাস আজ শুরুর ঘোষণা করা হয়েছে এবং কাল থেকে রোজা পালন শুরু হবে।