বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ

শ্যামনগরে তেল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত ও হুমকি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম | 54 বার পড়া হয়েছে
শ্যামনগরে তেল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত ও হুমকি

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালী বাজারে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেওয়া ‘তেল সিন্ডিকেট’-এর সংবাদ প্রকাশ করায় দুই সাংবাদিককে প্রকাশ্য দিবালোকে লাঞ্ছিত ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে। আজ সকালে ভেটখালী বাজারে তেলের ডিলার ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী নাজমুলের নেতৃত্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
লাঞ্ছনার শিকার দুই সংবাদকর্মী হলেন— সাংবাদিক নুরুন্নবী ও মনির হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশে যখন জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে, তখন ভেটখালীর এই সিন্ডিকেট চক্র পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে লিটার প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছে।

সম্প্রতি সাংবাদিক নুরুন্নবী ও মনির হোসেন তাদের নিজস্ব ফেসবুক আইডি ও সংবাদ মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটের অনিয়ম ও জনদুর্ভোগ নিয়ে তথ্যবহুল লেখালেখি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আজ সকালে ব্যবসায়ী নাজমুল ও তার সহযোগীরা বাজারের মধ্যে সাংবাদিকদের পথরোধ করে। এসময় তারা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে লিখলে মিথ্যা মামলা ও শারীরিক হামলার প্রকাশ্য হুমকি প্রদান করে।

বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান, ডিলাররা সিন্ডিকেট করে সাধারণ খুচরা বিক্রেতাদের কাছে উচ্চমূল্যে তেল বিক্রি করতে বাধ্য করছে। ফলে সাধারণ মানুষকে চড়া দামে তেল কিনতে হচ্ছে। একজন ভুক্তভোগী বলেন, “কলম যখন ন্যায়ের পক্ষে কথা বলে, তখন যদি সাংবাদিকদের এভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা এই নাজমুলসহ পুরো সিন্ডিকেট চক্রের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবি করছি।”

এই ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং হুমকি প্রদান মুক্ত সাংবাদিকতার পথে বড় অন্তরায়।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিক সমাজ দাবি জানিয়েছে
অবিলম্বে অভিযুক্ত নাজমুলকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
তেল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
অবৈধ মজুদদারদের ডিলারশিপ বাতিল করে দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা করতে হবে।
শ্যামনগর থানার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কৌশিক চৌধুরী, ​হিলি

হিলিতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

কৌশিক চৌধুরী, ​হিলি প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ পিএম
হিলিতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি সিপি সংলগ্ন একটি চাতালের পাশের গোডাউন থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ওই ব্যক্তিকে একটি হুইলচেয়ারে করে হিলি এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যেত। বুধবার সকালে হিলি সিপি এলাকার একটি গোডাউনের সামনে তাকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে হাকিমপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, হিলির সিপির পাশে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বর্তমানে তার নাম-ঠিকানা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হবে এবং রিপোর্ট পাওয়ার পরেই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে তার মৃত্যু আসলে কীভাবে হয়েছে।

​প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ জানা না গেলেও পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে আশপাশের এলাকায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

‎রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট

‎মোংলা-খুলনা মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন

‎রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম
‎মোংলা-খুলনা মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন

মোংলা-খুলনা মহাসড়কের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন
‎বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ মার্চ) দুপুরে মোংলা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিহতদের স্বজনদের হাতে সহায়তার অর্থ তুলে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

‎অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১ লাখ করে টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোংলার ৯টি পরিবারকে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং রামপালের নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

‎বুধবার মোংলার ৯ জন ও রামপালের ১ জনের পরিবারকে এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আর বৃহস্পতিবার খুলনার কয়রার ৪ জনের পরিবারের কাছে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে হবে।

‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাস, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি, নৌবাহিনীর খুলনা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল একেএম জাকির হোসাইন, মোংলা দিগরাজ নৌঘাঁটির অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ জুবায়ের শাহীন, মোংলা-রামপাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম।

‎উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ মোংলা-খুলনা মহাসড়কের গুনাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় খুলনাগামী নৌবাহিনীর বাস ও মোংলাগামী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়। এর মধ্যে ছিলো মোংলার বিএনপি নেতা আ. রাজ্জাক পরিবারের ৯ জন, তার নতুন পুত্রবধূসহ তাদের পরিবারের ৪ জন এবং মাইক্রোচালক।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

বাঁশখালীতে অবৈধ ট্রলিং বোট জব্দ, জাল-মাছসহ আটক ৪

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম
বাঁশখালীতে অবৈধ ট্রলিং বোট জব্দ, জাল-মাছসহ আটক ৪

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ আর্টিসনাল ট্রলিং বোট, নিষিদ্ধ জাল ও বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছসহ ৪ জেলেকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে কোস্ট গার্ড কন্টিনজেন্ট বাঁশখালী থানাধীন শেখেরখীল মাছঘাট সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে একটি অবৈধ আর্টিসনাল ট্রলিং বোট জব্দ করা হয়। এ সময় বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের দুটি ট্রলিং জাল ও প্রায় ৪০০ কেজি সামুদ্রিক মাছ উদ্ধারসহ চার জেলেকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে সরকার প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সাধারণত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম এবং সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তার রক্ষায় ৬৫ দিনের জন্য (মে-জুলাই) সাগরে সকল ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এছাড়া বছরের বিভিন্ন সময়ে নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ ধরায়ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকে। কিন্তু অসাধু কিছু জেলে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ ট্রলিং ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করে আসছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
পরবর্তীতে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জব্দকৃত বোট থেকে ট্রলিং সরঞ্জামাদি অপসারণ করা হয় এবং অবৈধ জাল বিনষ্ট করা হয়। উদ্ধারকৃত মাছ নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকতি বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে জেলেদের সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারি জরুরি।

error: Content is protected !!