শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

বিদেশি বিয়ের আড়ালে ভয়ংকর ফাঁদ সতর্ক হওয়া জরুরি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪৩ পিএম | 74 বার পড়া হয়েছে
বিদেশি বিয়ের আড়ালে ভয়ংকর ফাঁদ সতর্ক হওয়া জরুরি

আপনারা কি জানেন, ২০১৮–২০১৯ সালে পাকিস্তান থেকে প্রায় ৬২৯ জন নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয়েছিল? প্রথমে বিয়ে, কয়েকদিন স্বামীর আদর–আপ্যায়ন, তারপর হঠাৎ করেই স্বামী উধাও। এর পরিণতি ছিল ভয়াবহ—প্রায় ৮০% মেয়ের জীবন নরকসম হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি এমনই এক ঘটনার মতো দৃশ্য দেখা গেছে—এক তরুণী তার চীনা প্রেমিক ‘চুদলিং পং’-কে নিয়ে পাড়ায় মহল্লায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেন ভালোবাসার জয়গান শোনাচ্ছে সবাইকে। কিন্তু এই সম্পর্কের পেছনে অনেকেই দেখছেন ভিন্ন এক বাস্তবতা।

চীনে অনেক ক্ষেত্রে বিয়ে করতে হলে কনের পরিবারকে বড় অঙ্কের ব্রাইড প্রাইস দিতে হয়, যা অনেক পুরুষের পক্ষে বহন করা কঠিন। এছাড়া প্রায় ১৫ বছর আগে চালু হওয়া এক সন্তান নীতির কারণে বহু পরিবার মেয়ে সন্তানের পরিবর্তে ছেলে সন্তানকে বেছে নিয়েছিল। এর ফলে বর্তমানে সেখানে নারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে গেছে।

এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র অন্য দেশে গিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের টার্গেট করছে—বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে। এরপর তাদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—

ওই বিদেশি পুরুষটি বাংলা জানে না, আর মেয়েটিও চীনা ভাষা বোঝে না।

তাহলে তাদের যোগাযোগ হচ্ছে কীভাবে?

কেউ কেউ বলেন, হয়তো গুগল ট্রান্সলেট বা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কি সারাজীবন কোনো অ্যাপের মাধ্যমে চলতে পারে? যখন একে অপরের ভাষা, সংস্কৃতি বা অনুভূতি ঠিকভাবে বোঝাই সম্ভব নয়, তখন সেখানে সত্যিকারের বোঝাপড়া বা ভালোবাসা কতটা সম্ভব?

তাই স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—

এখানে কি শুধুই ভালোবাসা, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো উদ্দেশ্য?

সমাজ ও পরিবারকে তাই সচেতন হতে হবে।

কারণ **ভালোবাসার নামে প্রতারণা ও মানবপাচারের মতো ভয়ংকর ফাঁদ থেকে আমাদের মেয়েদের রক্ষা করা সবার দায়িত্ব

সাইফ উল্লাহ

ধর্মপাশায় পবিত্র কোরআনের ৪৩জন নবীন হাফেজদের কে সংবর্ধনা

সাইফ উল্লাহ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম
ধর্মপাশায় পবিত্র কোরআনের ৪৩জন নবীন হাফেজদের কে সংবর্ধনা

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা সদরের ধর্মপাশা আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা মাঠে এ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নয়টি হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে ২০২৫সালে পবিত্র কোরআনুল কারীমের হিফজ সম্পন্নকারী ৪৩জন নবীন হাফেজকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। তাকরীমুল হুফফাজ ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাফেজ হুজ্জাতুল্লাহ নাঈমের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সম্মিলিত উলামা পরিষদের ধর্মপাশা উপজেলার সাবেক সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম। সংগঠনটির সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান মওদুদ ও হাফেজ নাজিমুল ইসলাম সিয়ামের সঞ্চালনে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তাকরীমুল হুফফাজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ আহমদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী, ধর্মপাশা আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী মাজহারুল হক, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ধর্মপাশা উপজেলার উপ-আঞ্চলিক কার্যালয়ের এজিএম মো. হাফিজুর রহমান, ধর্মপাশা হাসপাতাল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মুখলেছুর রহমান, ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, তাকরীমুল হুফফাজ ফাউন্ডেশনের সদস্য ও শিক্ষা উদ্যোক্তা গোলাম জিলানী, মুফতি মোবারক হোসেন, নলগড়া বাইতুল কোরআন মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হাবিবুর রহমান তাবারী, মানারাতুল আজহার একাডেমির মুহতামিম মাওলানা আনোয়ার হোসেন, মুফতি মোল্লা মাহমুদ, হাফেজের অভিভাবক সেলিম খাঁ, মিছির উদ্দিন, নবীন হাফেজ মাহফুজুর রহমান, আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। এতে পবিত্র কোরআনের নবীন ৪৩জন হাফেজের প্রত্যেককে ক্রেস্ট ও পোশাক উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল মুসলমানদের শান্তুি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। তাকরীমুল হুফফাজ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাফেজ হুজ্জাতুল্লাহ নাঈম বলেন, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যানার্থে এই অনুষ্ঠানটিকে সফল করতে অনেকেই টাকা,শ্রমসহ নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। আমরা তাঁদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। সবার সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরণের অনুষ্ঠান করব। আমরা চাই এ ধরণের অনুষ্ঠান সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।

ফেনীতে গভীর রাতে আনন্দ মেডিসিন সেন্টারে হামলা

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা সংবাদদাতা প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম
ফেনীতে গভীর রাতে আনন্দ মেডিসিন সেন্টারে হামলা

ফেনী শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত ‘আনন্দ মেডিসিন সেন্টার ও ডেন্টাল কেয়ার’-এ গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. ইদ্রিস আলী প্রতিপক্ষ আবু বকর সিদ্দিক প্রকাশ খোকার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শুক্রবার (৬ মার্চ) ফেনী জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন মো. ইদ্রিস আলী, যিনি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. ইদ্রিস আলী প্রায় ২৫ বছর ধরে মালিকানাধীন ১৩৭৮৬ দাগের জমিতে দখলে থেকে আনন্দ মেডিসিন সেন্টার পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি আবু বকর সিদ্দিক প্রকাশ খোকা দাবি করেন যে ওই দাগের জমিতে তারও অংশ রয়েছে।
এই দাবির ভিত্তিতে আবু বকর সিদ্দিক ফেনী সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করেন। তবে তদন্তে ভূমি কর্মকর্তারা অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে জানায়। পরবর্তীতে জমির মালিকানা ও দখলের বিষয়টি মো. ইদ্রিস আলীর পক্ষে নির্ধারণ করা হয়।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আবু বকর সিদ্দিক খোকা ফেনী আদালতে নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু আদালতের কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় এবং কোন সমাধান না হওয়ায়, অভিযোগকারী মো. ইদ্রিস আলীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের মাধ্যমে আনন্দ মেডিসিন সেন্টার ও ডেন্টাল কেয়ারে হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগী মো. ইদ্রিস আলী জানিয়েছেন, ওই রাতে দুর্বৃত্তরা দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাট চালায়। এতে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল নষ্ট হয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আনন্দ মেডিসিন সেন্টার সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এরকম আচরণ আমাদের জন্য উদ্বেগজনক। হঠাৎ এমন হামলার ঘটনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান মালিক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করব। কোনো দুর্বৃত্ত বা প্রভাবশালী ব্যক্তি আমার ব্যবসায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।”
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যায়ভাবে কারও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের সুযোগ দেওয়া হবে না।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামের ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৬:১৬ পিএম
চট্টগ্রামের ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে চালকদের ভিড় বেড়েছে। সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট ও দাম বাড়ার আশঙ্কায় অনেকেই আগেভাগে ট্যাংক পূর্ণ করে তেল নিচ্ছেন। এতে নগরীর বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে।

৭ মার্চ(শনিবার) সকালে নগরীর গণি বেকারি মোড়ের কিউসি ট্রেডিং লিমিটেড ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, পাম্পের ভেতর থেকে সড়ক পর্যন্ত গাড়ির লাইন চলে গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে চান্দগাঁও ফিলিং স্টেশনেও। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে দ্রুত তেল সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে দেখা যায় কর্মচারীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচলাইশ, ষোলশহর, অক্সিজেন ও নতুন ব্রিজসহ নগরের বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বেশিরভাগ চালকই ট্যাংক পূর্ণ করে তেল নিচ্ছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় কিছু পাম্পে মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে।
গত শুক্রবার থেকে নগরের বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে। পাম্প কর্মচারীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন দেড় থেকে দুইগুণ বেশি যানবাহন তেল নিতে আসছে। অনেক চালক সরাসরি ফুল ট্যাংক করতে চাইছেন। এতে প্রতিটি গাড়িতে তেল দিতে বেশি সময় লাগছে এবং লাইনের চাপ বাড়ছে।
বর্তমানে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ডিজেল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চান্দগাঁও ফিলিং স্টেশনের অপারেটর সেলিম উল্লাহ জানান, তাদের কাছে তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং দামও বাড়েনি। তবুও আতঙ্কে মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনছেন।
এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। অযথা বেশি তেল কিনে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করার জন্য তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানান।
যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদ বলেন, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তেলের সংকট হয়েছে বলে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সঠিক নয়।

error: Content is protected !!