আপনারা কি জানেন, ২০১৮–২০১৯ সালে পাকিস্তান থেকে প্রায় ৬২৯ জন নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয়েছিল? প্রথমে বিয়ে, কয়েকদিন স্বামীর আদর–আপ্যায়ন, তারপর হঠাৎ করেই স্বামী উধাও। এর পরিণতি ছিল ভয়াবহ—প্রায় ৮০% মেয়ের জীবন নরকসম হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি এমনই এক ঘটনার মতো দৃশ্য দেখা গেছে—এক তরুণী তার চীনা প্রেমিক ‘চুদলিং পং’-কে নিয়ে পাড়ায় মহল্লায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেন ভালোবাসার জয়গান শোনাচ্ছে সবাইকে। কিন্তু এই সম্পর্কের পেছনে অনেকেই দেখছেন ভিন্ন এক বাস্তবতা।
চীনে অনেক ক্ষেত্রে বিয়ে করতে হলে কনের পরিবারকে বড় অঙ্কের ব্রাইড প্রাইস দিতে হয়, যা অনেক পুরুষের পক্ষে বহন করা কঠিন। এছাড়া প্রায় ১৫ বছর আগে চালু হওয়া এক সন্তান নীতির কারণে বহু পরিবার মেয়ে সন্তানের পরিবর্তে ছেলে সন্তানকে বেছে নিয়েছিল। এর ফলে বর্তমানে সেখানে নারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে গেছে।
এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র অন্য দেশে গিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের টার্গেট করছে—বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে। এরপর তাদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—
ওই বিদেশি পুরুষটি বাংলা জানে না, আর মেয়েটিও চীনা ভাষা বোঝে না।
তাহলে তাদের যোগাযোগ হচ্ছে কীভাবে?
কেউ কেউ বলেন, হয়তো গুগল ট্রান্সলেট বা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কি সারাজীবন কোনো অ্যাপের মাধ্যমে চলতে পারে? যখন একে অপরের ভাষা, সংস্কৃতি বা অনুভূতি ঠিকভাবে বোঝাই সম্ভব নয়, তখন সেখানে সত্যিকারের বোঝাপড়া বা ভালোবাসা কতটা সম্ভব?
তাই স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—
এখানে কি শুধুই ভালোবাসা, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো উদ্দেশ্য?
সমাজ ও পরিবারকে তাই সচেতন হতে হবে।
কারণ **ভালোবাসার নামে প্রতারণা ও মানবপাচারের মতো ভয়ংকর ফাঁদ থেকে আমাদের মেয়েদের রক্ষা করা সবার দায়িত্ব

খন্দকার আউয়াল ভাসানী( টাঙ্গাইল) 