শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

পাকিস্তানে বিয়ে ভাঙেনা কেন?

RAZEBUL KARIM ROMEO
RAZEBUL KARIM ROMEO - EDITOR, BANGLADESH প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৭ পিএম | 46 বার পড়া হয়েছে
পাকিস্তানে বিয়ে ভাঙেনা কেন?

এক যুগের বেশী সময় ধরে পাকিস্তান থাকার সুবাদে আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি আজ। যদিও আমি পাকিস্তান নিয়ে পোস্ট করিনা সহজে। সত‍্যি কথা হলো, পাকিস্তানিদের মানবিকতা, অতিথিপরায়ণতা, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ-ভ্রাতৃত্বপ্রেম এবং তাদের ভালো দিকগুলো নিয়ে লেখালেখি করলে আরো এক যুগেও আমি শে’ষ করতে পারবোনা।

বাংলাদেশে আমরা পাঠ‍্যপুস্তক, ইতিহাস ও লোকমুখে পাকিস্তানিদের ব‍্যাপারে যেসব নেতিবাচক কথা পড়ে ও শুনে বড় হয়েছি পাকিস্তান বি’দ্বে’ষ নিয়ে, বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ উল্টো।

সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী নারীদেরকে সম্মান করা দেশের তালিকায় পাকিস্তান শীর্ষেই থাকবে। পোস্ট দীর্ঘ করতে চাইনা বলেই উদাহরণ বাদ দিচ্ছি। শুধু এইটুকুই বলবো, বাসে বা ট্রেনে আপনি যত দূরেই যাবেন, মহিলা উঠলেই খালি সীট না থাকলে মহিলার সম্মানার্থে আপনাকে সীট ছে’ড়ে দিতেই হবে।

এটা পাকিস্তানের কোনো সরকারি আইন করা বিধিবিধান নয়, কিন্তু আপনি সীট ছে’ড়ে দিতে বাধ‍্য। পরিবারে শিশুকালেই পাকিস্তানিরা এই শিক্ষা পায় নিজের মা থেকে।

শুধু তাই নয়, পথেঘাটে কোনো মহিলা বিপদে পড়লে তাকে নিজের বাসায় সহিসালামতে পৌঁছে দেয়ার লোক যে কেউ।পাকিস্তানে সবাই মুসলমান হলেও গোত্র ভাগ আছে অনেক।তাদের মধ‍্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাঁচটি অন্যতমঃ

১| সিন্ধি।
২| পাঞ্জাবী।
৩| বেলুচি।
৪| পাঠান।
৫| হিন্দুস্তানি।

শেষের এই হিন্দুস্থানিদেরকে আবার মহাজীর এবং মেহমানীও বলা হয়।

১৯৪৭ সালে ভারত থেকে স্বাধীন হবার পর কায়েদে আযম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেছিলেন,” পাকিস্তান এখন মুক্ত স্বাধীন দেশ। যারা ভারতীয় তারা ইচ্ছে করলে চলে যেতে পারেন; আপনাদেরকে যাবার সুব‍্যবস্থা করে দেয়া হবে। যদি যেতে না চান তবে আপনাদেরকে পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবে আজ থেকেই সম মর্যাদায় গ্রহণ করা হবে”।

একথা শুনে দুই/একটি উদাহরণ ছাড়া সবাই পাকিস্তানেই থেকে যায়। এমনকি হিন্দুরাও পাকিস্তান থেকে আর ভারত যেতে চায়নি। কারণ? কারণ হলো থাকা, খাওয়া, চলাফেরা, পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা, ফল-ফলারিতে এক উর্বর ভূমির নাম পাকিস্তান; যা ভারত থেকে হাজারগুণ উন্নত ও সমৃদ্ধ ছিলো তখন। তাই অনেকেরই আত্মীয়স্বজন ভারতে থাকলেও তারা পাকিস্তানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে। তাদেরকে হিন্দুস্থানি, মহাজীর বা মেহমানী বলা হয়।

তো বিয়ে কেন ভাঙেনা?
– আমাদের দেশে যেমন ঢাকার লোকটি চট্টগ্রামে গিয়ে কোনো পরিচিতি ছাড়াই সহজেই বিয়ে করতে পারে, পাকিস্তানে কিন্তু সেটা সহজ নয়। সিন্ধি সিন্ধিদের মধ্যে, বেলুচ বেলুচদের মধ্যে, পাঞ্জাবী পাঞ্জাবীদের মধ্যে, পাঠান পাঠানদের মধ্যে এবং হিন্দুস্থানি হিন্দুস্থানিদের মধ্যেই বিবাহ সম্পর্কে সীমাবদ্ধ।

তবে পাঠান বা খাঁন-দের মধ্যে আরো বেশী কড়াকড়ি; খুব ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছাড়া তাদের মধ্যে বিয়ে করার নজীর নেই।খালাতো, মামাতো, ফুপাতো, চাচাতো, জেঠাতো ভাইবোনের মধ্যেই বিয়ে হয় খাঁন বা পাঠানদের।

এইক্ষেত্রে আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের বয়েসী উপযুক্ত মেয়ে না থাকলে ছেলেকে অপেক্ষা করতে হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রেও তাই। ফলে লাখে এক দুইটি ক্ষেত্রে বয়েসের তারতম্য ঘটে যেতে পারে; কিন্তু বিয়ে টেকসই ও স্থায়ী থাকে।

তবে একটি ক্ষেত্রে সিন্ধি, বেলুচ, পাঞ্জাবী, পাঠান সহ সব গোত্রেই সমান নীতি দেখা যায়। সেটা হলো, পাকিস্তানে বিয়ে হয় কমিউনিটি সেন্টারে এবং ছেলেপক্ষ মেয়েপক্ষকে মোটা অংকের টাকা পরিশোধ করতে হয়। কেবল মোহরানার নগদ অর্থ নয়, ছেলের অভিভাবক মেয়ের অভিভাবকদের কাছে নমনীয় আচরণের দৃষ্টান্ত রাখে। বলা যায়, পাকিস্তানে মেয়ে জন্ম দেয়া পিতামাতারা সোনায়সোহাগা। মেয়ে হলেই তারা বেশী খুশী।

এবার ভাবুন, যে মেয়েকে বিয়ে করতে আপনার জীবনের বিশাল একটা টাকার অংক ব‍্যয় করতে হয়েছে, তাকে কি ইচ্ছে করলেই সহজেই ছা’ড়া যায়? ছা’ড়’লে আপনার স্ত্রী আবার সহজেই যে কোনো ছেলেকে বিয়ে করতে পারবে কিন্তু আপনি বিয়ে করতে হলে আবারো লাগবে ৪০/৫০ লাখ টাকা। একেতো স্ত্রী ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, দ্বিতীয়ত বলতে গেলে টাকা দিয়ে কেনা, তো ছাড়াছাড়িটা সহজ কিনা? বিয়ে বিচ্ছেদের সংখ্যা পাকিস্তানে খুব খুবই কম।

(উল্লেখ‍্য, রাজনৈতিক ব‍্যক্তি, নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, ক্রিকেটার তথা সেলিব্রিটিদের ক্ষেত্রে আলাদা চিত্র দেখা যেতেই পারে; এমন লোকদের সংসার পৃথিবীর যে কোনো দেশেই স্থায়িত্বের দৃষ্টান্ত সীমিত।কিন্তু আমার লেখা গোটা পাকিস্তানের সামষ্টিক জনসাধারণের বাস্তবতা নিয়ে)।

ব‍্যবচ্ছেদ টীকাঃ
আমাদের বাংলাদেশে আমরা আদতে লালন করি হিন্দুত্ববাদী সংস্কৃতি। এদেশে নারী প্রধানমন্ত্রী, নারী বিরোধীদলীয় প্রধান, নারী স্পিকার সহ সব উঁচু পর্যায়ে নারীর অবস্থান এবং নারীর অধিকারে আইন পাশ ও নারীদের অধিকারে সবাই সোচ্চার হলেও আদতে মুসলিম বিশ্বের বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশী অধিকারহারা ও অবহেলিত নারীর বিশাল একটা অংশের দেশ বাংলাদেশ।

দুনিয়াতে হিন্দুদের মধ্যে ছা’ড়া কোনো দেশের কোনো ধর্মেই মেয়ে পক্ষ ছেলে পক্ষকে যৌ’তু’ক দিতে হয়না, শুধু আমরা বাংলাদেশীরা মুসলমান হয়েও হিন্দুদের এই অমানবিক সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছি। যেকারণে টেকনাফের ছেলেটিও তেঁতুলিয়া গিয়ে পরিচিতি ছাড়াই সহজেই বিয়ে করতে পারছে, যৌ’তু’ক’ও পাচ্ছে এবং বাচ্চা দুই/তিনটা জন্ম দেয়ার পর সহজেই স্ত্রীকে ছে’ড়ে’ও দিতে পারছে।

অপরদিকে স্ত্রী বেচারীর ঠিকানা পিত্রালয়ে ভোঝা হওয়া বা গার্মেন্টস ইত্যাদি অথবা ধুকে ধুকে বাকি জীবন সন্তানদের নিয়ে কঠিন সংগ্রামে সংগ্রামী হয়ে কা’টা’তে হয়। বাংলাদেশে যতো সংসার ভে’ঙে যাওয়া মেয়ের ভোঝা বহন করতে হচ্ছে পিতামাতাকে, পৃথিবীর অনেক ছোট দেশের মোট জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে সেই সংখ্যাটি। কোথাও প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এই চিত্র দেখা যায়। যে কোনো কিছুই সহজলভ্যতায় কদর কম, গ্রাহ‍্য কম।

পুনশ্চঃ
তাহলে কী বুঝা গেলো?
বুঝা গেলো পাকিস্তানে সংসার ভা’ঙ’লে নারীর লাভ, পুরুষের ক্ষ’তি। কিন্তু বাংলাদেশে সংসার ভা’ঙ’লে পুরুষের লাভ না হলেও নারীর জীবনটাই ধ্বং’স।

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী

পটিয়ার ছনহরায় হজরত চিকন খলিফা ছিদ্দিক আহমদ আলিম মাদরাসার বার্ষিক সভা অনুষ্টিত

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৭ পিএম
পটিয়ার ছনহরায় হজরত চিকন খলিফা ছিদ্দিক আহমদ আলিম মাদরাসার বার্ষিক সভা অনুষ্টিত

চট্টগ্রামের পটিয়া ছনহরা হযরত চিকন খলিফা ছিদ্দিক আহমদ আলিম মাদরাসা, ছায়রা ছিদ্দিক এতিমখানা ও হেফজখানার বার্ষিক সভা ও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) বিকেলে এ সভা অনুষ্টিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসা এতিমখানা ও হেফজখানার প্রতিষ্ঠাতা এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া।বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম নেচার, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর কবির, চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ দৌলতি,সহ অনেকে ।এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন চৌধুরী, হাজী শাহেব মিয়া চম্পা খাতুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ নুরুল হক, বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান, আফরোজা বেগম জলি, আবু জাফর চৌধুরী, জিয়াউর রহমান, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, আমির হোসেন সওদাগর,কাসেম চেয়ারম্যান, নাজিম উদ্দীন, আলমগীর মেম্বার, এম এ রুবেল প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য শাহাদাত হোসেন সুমন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমান সময়ের নানা বিভাজন, হিংসা ও মতপার্থক্য ভুলে ইসলামের মহান আদর্শকে সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার ধর্ম—এই শিক্ষাকে সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে আলেম-ওলামা ও সচেতন মহলকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

শিবগঞ্জে হেরোইন-ইয়াবা উদ্ধার

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৫ পিএম
শিবগঞ্জে হেরোইন-ইয়াবা উদ্ধার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা, শিবগঞ্জ থানাধীন নামোচাকপাড়া গ্রামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক অভিযানে ৭ গ্রাম হেরোইন, ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত Eskuf এবং ১,৬৫,৫০০ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানে মোসা পপিয়ারা বেগম (৩৬) গ্রেফতার হন, তার স্বামী মোঃ শামির উদ্দীন (৩৯) বর্তমানে পলাতক। উভয়ের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবে।

আদিলুর রহমান আদিল ময়মনসিংহ

ফুলবাড়ীয়া-ময়মনসিংহ ও ঢাকা রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত

আদিলুর রহমান আদিল ময়মনসিংহ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৩ পিএম
ফুলবাড়ীয়া-ময়মনসিংহ ও ঢাকা রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত

ময়মনসিংহে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন, ময়মনসিংহ। শনিবার (২৮ মার্চ) ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ফুলবাড়ীয়া-ময়মনসিংহ ও ফুলবাড়ীয়া-ঢাকা সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ তাকী তাজওয়ার। এ সময় সিএনজি চালক ও যাত্রীদের নির্ধারিত ভাড়া মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। চালকদেরও সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

অভিযান চলাকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগে ফুলবাড়ীয়া-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ‘আলম এশিয়া পরিবহন’-কে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় জরিমানা করা হয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

error: Content is protected !!