বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

মোঃ রফিকুল ইসলাম সোহাগ ​সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে আওয়ামীপন্থী ২৫ আইনজীবী সহ অজ্ঞাত-৮৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা: গ্রেপ্তার-২

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৫ পিএম | 26 বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জে আওয়ামীপন্থী ২৫ আইনজীবী সহ অজ্ঞাত-৮৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা: গ্রেপ্তার-২

সুনামগঞ্জে মহান স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে মিছিল ও স্লোগানসহ পুষ্পস্তবক অর্পণের ঘটনায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ২৫ জন সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত দুই আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়ছে।

​গ্রেপ্তারকৃত দুই আইনজীবী হলেন
​অ্যাডভোকেট মনীষ কান্তি দে (মিন্টু): বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি। তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন।
​অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান (শামীম): জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য।

​সুনামগঞ্জ কোর্টের উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারুল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে একদল আইনজীবী মিছিল নিয়ে আদালত চত্বরের স্মৃতিসৌধে যান।

সেখানে তাঁরা ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এই কর্মসূচির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আইনি পদক্ষেপ নেয় পুলিশ।
​মামলার এজহারভুক্ত ২৭ জন আসামির সবাই পেশায় আইনজীবী। তাঁদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতাও রয়েছেন।

উল্লেখ যোগ্য আসামিরা হলেন
​অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন (সহসভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগ)
​অ্যাডভোকেট হায়দার চৌধুরী লিটন (যুগ্ম সম্পাদক)
​অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম (সাংগঠনিক সম্পাদক)
​অ্যাডভোকেট নুরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল,​অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন দোলন,
​অ্যাডভোকেট বিমান রায়, শুকুর আলী, হাসান মাহবুব সাদী এবং পঙ্কজ তালুকদার সহ আরও অনেকে।

​সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্ত্রাস বিরোধী আইনে পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও পর্যালোচনার ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পালিত হলো এ. টি. এম আমিনুর রহমান বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৫ পিএম
পালিত হলো এ. টি. এম আমিনুর রহমান বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ.টি. এম আমিনুর রহমান সিদ্দিকী স্মৃতি শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষা২০২৫ গত ২২/১১/২০২৫ইং অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর ফলাফল ঘোষণা করা হয় ফেব্রুয়ারি,২০২৬ এ।পূর্ব ঘোষিত সময় অনুযায়ী ২৫ শে মার্চ ২০২৬ বিকাল তিন ঘটিকা থেকে এ. টি. একাডেমী স্কুল মাঠে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

গত ২৫ শে মার্চ,২৬ রোজ বুধবার বিকাল ৩ ঘটিকায় এ.টি. এম আমিনুর রহমান সিদ্দিকী স্মৃতি শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষায় যে সকল শিক্ষার্থী ট্যালেন্টফুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় মিরসরাই উপজেলার মিঠাছড়া বাজার সংলগ্ন এ. টি. একাডেমী স্কুল মাঠে।

মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষার্থীদের হাতে পুরুষ্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এ. টি. এম আমিনুর রহমান স্মৃতি শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষায় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কামরুল হাসান সিদ্দিকী(এফ সি এ), বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিঠাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ারুল হক, মিঠাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামশেদ আলম, এ. টি. একাডেমীর প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন, মিরসরাই কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও অন উইথ কেজি স্কুলের পরিচালক আনোয়ার জাহেদ, মান্দার বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাফিয়া বেগম এবং উপস্থিত ছিলেন এ. টি. এম আমিনুর রহমান সিদ্দিকী স্মৃতি শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী, সদস্য আবু তারক সিদ্দিকী, রিফাত সিদ্দিকী, আকিব সিদ্দিকী সহ এ. টি. একাডেমীর শিক্ষক শিক্ষিকা মন্ডলী। উপস্থিত ছিলেন এ. টি এম আমিনুর রহমান স্মৃতিশিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষার সম্পাদক মাস্টার আব্দুল আলিম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সদস্য আবু তারেক আকাশ সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় ক্রেস্ট, সনদ ও প্রাইজ বন্ড। শিক্ষার্থীরা তাদের পুরস্কার হাতে পেয়ে খুবই উচ্ছ্বাসিত ও আনন্দিত। এ. টি. এম আমিনুর রহমান স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পেরে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ২য় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী।

সকলের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উত্তর উত্তর জীবনের উন্নতি কামনা করে সভাপতি অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত

শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির, চিফ রিপোর্টার। প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৩ পিএম
শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত

গাজীপুরে শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক আনন্দঘন, তাৎপর্যপূর্ণ ও পেশাগত চেতনায় সমৃদ্ধ ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(৩১’শে মার্চ ২০২৬) মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার সাবাহ্ গার্ডেন রিসোর্টে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আলফাজ উদ্দিন স্বপনের সঞ্চালনায় ও শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাজ্বী আসাদুজ্জামানের সার্বিক পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ঈদের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আলফাজ উদ্দিন স্বপন, শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি সাংবাদিক মোঃ শাহাদত হোসাইন, শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আল আমিন, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ সোহাগ ভান্ডারী, সহ-সভাপতি শামীম আল মামুন, চ্যানেল এস এর সাংবাদিক মিজানুর রহমান, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামাল পাশা, যুগ্ম-সম্পাদক আলমগীর হোসেন সাগর, সাংবাদিক দুর্জয়, সাংবাদিক বিলকিস, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক এনামুল হক প্রমুখ। এ সময় শ্রীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের অন্যান্য সদস্য এবং জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকরা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি সমসাময়িক গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ, পেশাগত দায়বদ্ধতা, সংবাদ পরিবেশনের নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং সত্য উদঘাটন, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং জনমত গঠনের শক্তিশালী হাতিয়ার। বক্তারা আরো বলেন, স্বাধীনতার চেতনা লালন এবং সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করার লক্ষে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

চট্টগ্রামে তীব্র অকটন সংকট সহ জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার,

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫২ পিএম
চট্টগ্রামে তীব্র অকটন সংকট সহ জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার,

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় চট্টগ্রামজুড়ে জ্বালানি তেল নিয়ে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। চট্টগ্রামে হঠাৎ করে অকটেন সংকট দেখা দেওয়ায় নগর ও উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। অনেক পাম্পে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অকটেন পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। কোথাও আবার ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

পাম্প মালিকরা জানান, চাহিদা অনুযায়ী ডিপো থেকে অকটেন সরবরাহ না পাওয়ায় সীমিত আকারে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে অনেক জায়গায় রেশনিং পদ্ধতিতে অকটেন দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে দাবি তাদের।
পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা জানিয়েছেন, ডিজেলের তেমন সংকট না থাকলেও অকটেনের সরবরাহ তুলনামূলক কম হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে জ্বালানির প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তেলবাহী জাহাজ থেকে নিয়মিত জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহে চাপের পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বেপরোয়া মজুদদারির কারণেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। অনেক ভোক্তার অভিযোগ, কিছু পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও ‘সংকট’ দেখিয়ে বিক্রি সীমিত করা হচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, চাহিদার তুলনায় ডিপো থেকে অর্ধেক জ্বালানিও পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে অনেক পাম্পে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। ঈদের ছুটির কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক ডিলার সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি, ফলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলনেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগে পেট্রোল পাম্প রয়েছে ৩৮৩টি। এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর আছেন ৭৯৯ জন এবং প্যাকড পয়েন্ট ডিলার আছেন ২৫৫ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে পেট্রোল পাম্প রয়েছে ৪৬টি। সংকটের কারণে এসব পাম্পের অনেকগুলোতেই স্বাভাবিক বিক্রি ব্যাহত হচ্ছে।
পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রামে ডিজেলের বড় কোনো সংকট নেই। তবে অকটেনের সংকট রয়েছে। বর্তমানে পাম্পগুলো চাহিদা অনুযায়ী অকটেন পাচ্ছে না। তেল নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হওয়ার পর হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেছে, কিন্তু সরবরাহ আগের মতোই রয়েছে।’
এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে মৎস্য খাতেও। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় অনেক ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। ফলে ভরা মৌসুমেও ঘাটে অলস সময় পার করছেন হাজারো জেলে। রেশনিং পদ্ধতিতে যে পরিমাণ ডিজেল দেওয়া হচ্ছে, তাতে মাঝ সাগরে গিয়ে আবার ফিরে আসার মতো পরিস্থিতি থাকছে না বলে জানিয়েছেন ট্রলার মালিকরা।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে কয়েক হাজার ফিশিং ট্রলার থাকলেও নিয়মিত মাছ ধরতে সাগরে যায় কয়েকশ ট্রলার। প্রায় দুই লাখ জেলে এই খাতের সঙ্গে জড়িত। সমুদ্রগামী একটি ট্রলারের ইঞ্জিনের আকার অনুযায়ী এক হাজার থেকে দুই হাজার লিটার পর্যন্ত ডিজেল ধারণক্ষমতা রয়েছে।
জলদাশ নামে এক ট্রলার মালিক জানান, তার সাতটি ট্রলার রয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে চারটি ট্রলার বর্তমানে ঘাটে বসে আছে। অন্য তিনটি এক সপ্তাহ আগে সাগরে গেছে। তবে সেগুলো ফিরে এসে আবার সাগরে যেতে পারবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ৯৮টি অভিযান চালিয়ে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রায় ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানির প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে প্রায় ১০টি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আরও একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সেটি মঙ্গলবার বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে। গত দুই দিনেও আরও দুটি জাহাজ থেকে তেল খালাস হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত মজুদ বা কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী সংস্থাগুলোও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

error: Content is protected !!