শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

৭৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট: প্রান্তিক কৃষকের দুশ্চিন্তা বাড়ছে

ডিমলায় ভয়াবহ ঝড় ও শিলাবৃষ্টি: ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৯ পিএম | 67 বার পড়া হয়েছে
ডিমলায় ভয়াবহ ঝড় ও শিলাবৃষ্টি: ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় আকস্মিক দমকা ঝড় ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ১২টার পর শুরু হওয়া এই দুর্যোগে কৃষি খাতের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি বসতভিটা ও গাছপালারও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।

উপজেলা সদরসহ গয়াবাড়ি, বালাপাড়া, পশ্চিম ও পূর্ব ছাতনাই, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানি, নাউতারা, টেপাখরিবাড়ি এবং খগাখরিবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ দমকা হাওয়া শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যে তা তীব্র ঝড়ে রূপ নেয় এবং সঙ্গে শুরু হয় বড় আকারের শিলাবৃষ্টি। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিটি শিলার ওজন ছিল প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অত্যন্ত বিরল ও ভয়াবহ।

এই শিলাবৃষ্টির আঘাতে আম ও লিচুর মুকুল ব্যাপকভাবে ঝরে পড়ে। পাশাপাশি গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচামরিচ ও বিভিন্ন শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই জমির ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে ভুট্টা ও মরিচের খেতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, প্রায় ৭৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভুট্টা ৫০ হেক্টর, গম ১০ হেক্টর, মরিচ ১২ হেক্টর এবং শাকসবজি ৩ হেক্টর জমি রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি এলাকার কৃষক আবুল কাশেম বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যার বেশিরভাগই ঋণ। এক রাতের ঝড়েই সব শেষ হয়ে গেল। এখন ঋণ শোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

নাউতারা ইউনিয়নের সালহাটি এলাকার কৃষক আমিনুর রহমান ও সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ জানান, তারা ঋণ নিয়ে ফসল আবাদ করেছিলেন। হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে তাদের অধিকাংশ ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

উপজেলা সদরের হাবিবা নার্সারির পরিচালক শাহজাহান ইসলাম জানান, তার নার্সারির চারা গাছ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা খুব কঠিন। সরকারি সহায়তা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।”

স্থানীয়দের মতে, গত ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে এত বড় আকারের শিলাবৃষ্টি এই এলাকায় দেখা যায়নি। অনেকের বসতঘরের টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গাছপালা ভেঙে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, বীজ ও সার সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা দ্রুত পুনরায় চাষাবাদ শুরু করতে পারেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, “ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষির পাশাপাশি অনেক পরিবারের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর সহায়তা না পেলে কৃষক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পীরগঞ্জে দুই মাদক ব্যবহারকারী কারাদন্ড

মো. আরফান আলী : প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৪ পিএম
পীরগঞ্জে দুই মাদক ব্যবহারকারী কারাদন্ড

ঠাকূরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জগথা গ্রামের হঠাৎ পাড়া রেললাইন সংলগ্ন দুই মাদক ব্যবহারকারীকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার( ভূমি) এন এম ইশফাকুল কবীর ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দোষী সাবস্ত করে। দোষী ব্যক্তিগণ হলো ক. দুখু মিয়া( ২৯), পিতা- এন্তাজুল ইসলাম, খ. পয়গাম (৩৩) পিতা- মমির উদ্দীন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার ( ভূমি) এর কার্যালয়ে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। উভয়কে দুই মাস কারাদণ্ড ও একশত টাকা করে অর্থ জরিমানা করা হয়েছে।

ঝালকাঠিতে গাবখান নদীতে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫২ পিএম
ঝালকাঠিতে গাবখান নদীতে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

ঝালকাঠির কিফাইতনগর এলাকায় গাবখান নদীতে গোসল করতে নেমে আলিফ (১৫) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার দুপুরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ আলিফ ঢাকার উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকার বাসিন্দা সেলিম হাওলাদারের ছেলে।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে প্রায় পাঁচ দিন আগে আলিফ তার নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে। শনিবার দুপুরে সে তার ছোট ভাই আলফিন ও খালাতো ভাই টুকটুককে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশের গাবখান নদীতে গোসল করতে নামে। তবে আলিফ সাঁতার না জানায় একপর্যায়ে নদীর স্রোতে পড়ে ডুবে যেতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় দোকানদার ইনুচ জানান, আলিফকে ডুবে যেতে দেখে তিনি দ্রুত পানিতে ঝাঁপ দেন এবং খোঁজার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। পরে স্থানীয় লোকজনও বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালিয়েও কোনো সন্ধান পাননি।

খবর পেয়ে ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরবর্তীতে বরিশাল থেকে একটি ডুবুরি দল এসে অভিযানে যোগ দেয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ কিশোরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ মাহবুব হোসেন জানান, “নিখোঁজের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছি। বরিশাল থেকে ডুবুরি দল এসে আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা অবস্থান করছেন এবং নিখোঁজ আলিফকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মো. নাঈম হাসান ঈমন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
মোবাইল ০১৭৪৭-৯৮৬৩৫৮ /০১৭৫৬-৫৫৫৩২১
তারিখ: ২৮ মার্চ ২০২৬।

রাজাপুরে ঢাকা-চট্টগ্রামগামী বাসে বাড়তি ভাড়া, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
রাজাপুরে ঢাকা-চট্টগ্রামগামী বাসে বাড়তি ভাড়া, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ছে। তবে এই সুযোগে কিছু পরিবহন সংস্থার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঝালকাঠির রাজাপুরে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার সকাল থেকে ঝালকাঠির রাজাপুর বাইপাস এলাকার বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারে দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপকে পুঁজি করে একাধিক পরিবহন সংস্থা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা জানান, যমুনা লাইন, ইসলাম পরিবহন, জে.বি পরিবহন, বরিশাল এক্সপ্রেস, বলেশ্বর ও ইমাদসহ বেশ কিছু পরিবহনের কাউন্টার থেকে টিকিট কিনতে গিয়ে তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় প্রতি টিকিটে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।

যাত্রীদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রতিবছরই ঈদকে কেন্দ্র করে এই ধরনের অনিয়ম বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বাসের সুপারভাইজার বলছেন, ঢাকা থেকে গাড়ি খালি নিয়ে আসতে হয় এতে জ্বালানি তেল খরচ বিভিন্ন সেতুর টোল ভাড়া দিতে হয় যার কারণে কিছুটা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে।

মো. নাঈম হাসান ঈমন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
মোবাইল ০১৭৪৭-৯৮৬৩৫৮ /০১৭৫৬-৫৫৫৩২১
তারিখ: ২৮ মার্চ ২০২৬।

error: Content is protected !!