সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

✍️ জাহারুল ইসলাম জীবন এর লেখা ও সম্পাদনায় রচিত নারী ও পুরুষের দেহতত্ত্বের গবেষণা‌‌

রতি থেকে জ্যোতি☞পর্ব:-৪

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম | 129 বার পড়া হয়েছে
রতি থেকে জ্যোতি☞পর্ব:-৪

আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে যখন শরীরকে কেবল একটি জৈবিক যন্ত্র হিসেবে দেখা হয়, তখন প্রাচীন দেহতাত্ত্বিক দর্শন আমাদের শেখায় যে, এই দেহ-ই হলো এক পবিত্র ‘ব্রহ্মাণ্ড’ বা ‘মসজিদ’। এই সাধনার মূল লক্ষ্য হলো শরীরের ভেতরকার সুপ্ত ঐশী শক্তিকে জাগ্রত করা এবং সৃষ্টির আদি উৎস ‘আদম-হাওয়া’র সেই বিচ্ছেদ ঘুঁচিয়ে এক পরম নূরে মিলিত হওয়া।
**১. সৃষ্টির নিগূঢ়তম রহস্যে আদম-হাওয়া ও দর্পণ তত্ত্ব:- সুফি ও মরমি দর্শনে নারী ও পুরুষ আলাদা কোনো সত্তা নয়। হাওয়া (আ:)-কে আদমের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি মূলত অবিচ্ছেদ্য একত্বের প্রতীক।
* আয়না বা দর্পণতত্ত্ব:- একজন পুরুষ যখন নারীর সান্নিধ্যে আসে, সে মূলত তার নিজের ভেতরের সুপ্ত কোমলতা বা ঐশী সৌন্দর্যকেই প্রত্যক্ষ করে। বর্তমানের যান্ত্রিক জীবনে যেখানে সম্পর্কগুলো কেবল ভোগকেন্দ্রিক, সেখানে এই ‘দর্পণ তত্ত্ব’ কামকে প্রেমে রূপান্তরের প্রধান হাতিয়ার হতে পারে।
**২. পঞ্চরস ও বীর্য সংরক্ষণ-ই জৈব-রাসায়নিক রূপান্তর:- দেহতত্ত্ব অনুযায়ী, শরীরের পঞ্চরস (সোডিয়াম, নাইট্রোজেন, ফসফরাস ইত্যাদি) চঞ্চল হয়ে উঠলেই কামের উদয় হয়। একে নূরে পরিণত করার প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
* সাত্ত্বিক জীবনশৈলী:- অতিরিক্ত উত্তেজক খাবার রক্তে এড্রিনালিন ও চঞ্চলতা বাড়ায়। তাই সাধকগণ প্রাকৃতিক ও শীতল খাবার (দুধ, মধু, ফল) গ্রহণ করেন যা দেহের সোডিয়াম ও ফসফরাসের ভারসাম্য রক্ষা করে।
* দমের নিয়ন্ত্রণ (Respiratory Control):- বিজ্ঞানে যাকে আমরা ‘অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম’ বলি, সাধকগণ তাকে ‘হাবসে দম’ বা প্রাণায়ামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করেন। বায়ুর চাপকে ঊর্ধ্বমুখী করে তারা রতিকে মস্তিষ্কের লতিফায় বা ‘পাইনিয়াল গ্ল্যান্ড’ (Pineal Gland)-এর দিকে প্রবাহিত করেন।
* গ্রন্থি ও হরমোনের প্রভাব:- পবিত্র চিন্তা শরীরের অন্তক্ষরা গ্রন্থিগুলো (Glands) থেকে নির্গত রসকে বিষাক্ত হতে দেয় না, বরং তা জীবনী শক্তি বা ‘ওজঃ শক্তিতে’ রূপান্তরিত হয়।
**৩. চার তরীকা ও চার ইমামের দেহতাত্ত্বিক বিন্যাস:- এই সাধনাকে কেবল আধ্যাত্মিক বললে ভুল হবে, এর সাথে ইসলামী শরীয়ত ও মারফতের এক গভীর যোগসূত্র রয়েছে। চার ইমামের পথকে সাধকগণ দেহের চারটি স্তর হিসেবে দেখেন:
* শরীয়ত (শৃঙ্খলা/আদেশ-নিষেধ):- বাহ্যিক পবিত্রতা ও রতি অপচয় রোধের প্রাথমিক নিয়ম।
* তরীকত (পদ্ধতি/কার্য্য):- কাম-ভাবনাকে শোধন করে মুর্শিদের নির্দেশে প্রেমের স্তরে উন্নীত হওয়া।
* হাকিকত (সত্য/হক):- রতিকে কেবল তরল না ভেবে একে ঘনীভূত ‘নূর’ হিসেবে উপলব্ধি করা।
* মারেফাত (মিলন/অর্জিত শক্তিতে লিন হওয়া):- নিজের আমিত্ব বিসর্জন দিয়ে স্রষ্টার নূরে বিলীন হওয়া।
**৪. মুরাকাবা বা ধ্যানের বিশেষ পদ্ধতি:- আধ্যাত্মিক মিলনের সময়কার ‘মুরাকাবা’ হলো কামকে জয় করার চূড়ান্ত রণকৌশল। এতে চোখের দৃষ্টি (নজর বার কদম) এবং হৃদয়ের স্পন্দন (লতিফায়ে কলব)-এর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়। বর্তমানে ‘মাইন্ডফুলনেস’ বা সচেতন মিলনের যে ধারণা পাশ্চাত্যে জনপ্রিয় হচ্ছে, তার অনেক উন্নত এবং আধ্যাত্মিক রূপ হলো এই প্রাচীন মুরাকাবা। এর মাধ্যমে যৌন শক্তি ক্ষয় না হয়ে বরং মস্তিষ্কের বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক শক্তিকে শাণিত করে।
**৫. নারীর ক্ষমতা ও চালিকাশক্তি:- নারী কেবল সাধনার সঙ্গিনী নয়, বরং সে ‘মহামায়া’ বা ‘সিদ্দিকা’। নারীর অন্তরের ভক্তি ও প্রেমরস যখন জাগ্রত হয়, তখন তার প্রভাবে পুরুষের পাশবিক প্রবৃত্তি দমিত হয় এবং তা ঐশী প্রেমে রূপ নেয়। এটি-ই মূলত সৃষ্টির সেই আদি শক্তি যা জগৎকে পরিচালনা করছে।
সর্বপরি, দেহে-ই ব্রহ্মাণ্ড:- যা আছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে, তা-ই আছে এই মানবদেহে। পঞ্চরস যখন লতিফার সাতটি স্তরে পরিশোধিত হয়, তখন সাধক আর সাধারণ মানুষ থাকেন না, তিনি হয়ে ওঠেন নূরের আধার। এই দর্শনের চূড়ান্ত বিজয় হলো ‘মতির’ (শুদ্ধ বিবেক) সাথে ‘রতির’ মিলন, যা মানুষকে পশুর স্তর থেকে ইনসানে কামেল বা পূর্ণ মানবে পরিণত করে।
পরবর্তী পদক্ষেপে আমরা- এই সাধনার চূড়ান্ত ফলাফল অর্থাৎ ‘মরণ জিতা’ বা আধ্যাত্মিক অমরত্বের ধারণাটি নিয়ে এবং মানুষের দেহের ভেতরের সাতটি লতিফা বা চক্রের সাথে আদম সৃষ্টির যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তাহা নিয়ে ইনশাল্লাহ্ বিস্তারিত আলোচনা করবো -আমিন>চলমান পাতা।

সৈয়দ আব্দুল মান্নান

বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

সৈয়দ আব্দুল মান্নান প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:০০ পিএম
বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার আয়োজনে ও সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার সহযোগিতায় জালনোট প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমুলক এক ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩০ মার্চ সকাল ১১ টায় উপজেলা সভাকক্ষে এ ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার ম্যানেজার মোঃ ইব্রাহিম খলিল এর সভাপতিত্বে ওয়ার্কসপে প্রধান অতিথি ছিলেন সোনালী ব্যাংক হবিগঞ্জের ডিজিএম মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাহুবল উজ্জ্বল রায়, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার যুগ্ম পরিচালক (ক্যাশ) রান্টু চন্দ্র দাস, উপপরিচালক তানভীর আহমেদ, উপপরিচালক শুভাশীষ পাল, ম্যানেজার জনতা ব্যাংক বাহুবল শাখার ম্যানেজার হোসাইন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধা সংসদ বাহুবল এর আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ মিয়া।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাহুবল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ আবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জালনোটের উপর ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়।

উখিয়ার দলিলুর রহমান শাহীন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা

সিরাজুল কবির বুলবুল, উখিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম
উখিয়ার দলিলুর রহমান শাহীন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা

দলিলুর রহমান শাহীন একজন আপাদমস্তক বিএনপি নেতা।জন্ম ১৯৬৯ সালে সাবেক রুমখা গ্রামের ছায়া সুশীতল এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।বাবা মৃত: রশিদ আহাম্মদ, মাতা:মৃত : মাজেদা বেগম। তিন বোন তিন ভাইয়ের একটি সুন্দর পরিবারে বেড়ে উঠা স্বপ্নবাজ সাবেক ছাত্রনেতার। সাবেক রুমখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার হাতেখড়ি, পালং আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ না করে চলেযান মরিচ্যা উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখানথেকে তিনি মাধ্যমিক সার্টিফিকেট অর্জন করে প্রথমে ভর্তি হন কক্সবাজার সরকারি কলেজে। কলেজে পড়াশোনা পাশাপাশি তিনি রাজনীতি অঙ্গনে যুক্ত হন।পরে কক্সবাজার কলেজ থেকে তিনি চলে যান চট্টগ্রাম এ,জে চৌধুরী কলেজে সেই কলেজ থেকে তিনি এইচ,এস,সি পাশ করেন। পরে তিনি ১৯৯৩ সালে বি,এ, ছালে নুর কলেজ থেকে বি,এ পাশ করেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে মাস্টার্সে অধ্যায়ন করেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তিনি উখিয়ার রাজনীতি আলোচনায় আসেন,১৯৯৮ সালে তিনি উখিয়া উপজেলা (জাসাস)এর আহবায়ক নির্বাচিত হন। এর পর থেকে তিনি আর থেমে থাকেননি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা দলিলুর রহমানকে ধীরে, ধীরে নিয়ে যান মূলদলে, প্রথমে তিনি হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, পরে হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন, একসময় তিনি হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কর্মদক্ষতার ফসল স্বরুপ তিনি প্রথম বারের মতো প্রচার সম্পাদক, অর্থ ও ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন উখিয়া উপজেলা বিএনপির পরে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন,সবশেষে ৫ আগস্টের পর উখিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।বর্তমানে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন।
তৃণমূল থেকে বেড়ে উঠা এই দুর্দান্ত সাহসী নেতা রাজনৈতিক জীবনে অনেক অবদান রেখেছেন, দলের প্রতিটি মিছিল, মিটিংয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন দলকে কি এগিয়ে নিয়ে শক্তিশালী করে কি ভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এই ব্যপারে তিনি দলীয় বিচক্ষণতার পরিচয় দেন এবং সবার নজরে আসেন।২০১৮ সালে স্বৈরাচারীনি হাসিনা সরকারের লেলিয়ে দেওয়া কিছু সন্ত্রাসী তাকে চিরতরে মেরেফেলার জন্য নির্মমভাবে আহত করেন, সেদিন যথা সময়ে তার ছেলে তারেক রহমান যদি ঘটনাস্থলে ছুটে না আসতো হয়তো দলিলুর রহমান আজ বেঁচে থাকতোনা। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি একাধিক মিথ্যা মামলার স্বীকার হন।
তবুও তিনি দলের আদর্শ থেকে এক সেকেন্ডের জন্য বিচ্যুত হননি বরং নিজের দলীয় নেতাকর্মীদে সাথে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে দুর্দান্ত গতিতে সামনের সারিতে এগিয়ে যান।২৪ জুলাই ছাত্রজনতা আন্দোলনে কোর্টবাজার স্টেশনে দলিলুর রহমানের ভূমিকা ছিলো অনন্য। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীর পজিটিভ ভুমিকায় দলিলুর রহমান শাহীন রাজনীতিক ভাবে আরো বেশি তেজস্ক্রিয় হয়ে উঠেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি নিজ এলাকার উন্নয়নে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন
মসজিদ, মাদ্রাসা,কবরস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তিনি আর্থিক ভাবে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেন।
৩ ছেলে ১ মেয়ে সংসার জীবনে তিনি খুবই সন্তুষ্ট। তার তিন ছেলে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত,এক মেয়ে এখনো অধ্যায়নরত আছেন।
দলিলুর রহমান শাহীনের স্বপ্ন শহীদ জিয়ার আর্দশে নতুন বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে অনেক দুর এগিয়ে যাবে। তৃণমূলে ত্যাগীদের মুল্যায়ন হবে, নতুন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দেশে শিক্ষিত,অশিক্ষিত কোন বেকার থাকবেনা বলে তিনি মনে করেন।

আওরঙ্গজেব কামাল, সভাপতি: ঢাকা প্রেসক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব

সত্যের পথে অবিচল সাংবাদিকতা: নিরপেক্ষতার আলোয় ঐক্যের শক্তি

আওরঙ্গজেব কামাল প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম
সত্যের পথে অবিচল সাংবাদিকতা: নিরপেক্ষতার আলোয় ঐক্যের শক্তি

“সত্য প্রকাশে নিরপেক্ষতা, আর শক্তিতে ঐক্য—এই দুটিই সাংবাদিকতার প্রাণ।”-এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর বার্তাটি আজকের গণমাধ্যম বাস্তবতায় এক অনন্য দিকনির্দেশনা হয়ে উঠেছে। যেখানে তথ্যের ভিড়ে সত্য অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়, সেখানে এই দর্শন সাংবাদিকতার মূল চেতনাকে আবারও সামনে নিয়ে আসে।
সাংবাদিকতার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে সত্য তুলে ধরা। কোনো প্রভাব, পক্ষপাত বা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে তথ্য পরিবেশনই একজন প্রকৃত সাংবাদিকের পরিচয়। নিরপেক্ষতা হারালে সংবাদ আর সংবাদ থাকে না—তা হয়ে ওঠে বিভ্রান্তির হাতিয়ার। তাই সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিরপেক্ষ অবস্থানই একটি বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম গড়ে তোলার ভিত্তি।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের শক্তির জায়গা হলো তাদের ঐক্য। একা একজন সাংবাদিক যতই সাহসী হোন না কেন, সম্মিলিত অবস্থান ছাড়া বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় কণ্ঠে কথা বলতে পারে, চাপ ও হুমকির মধ্যেও সত্য প্রকাশে অবিচল থাকতে পারে। বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রবাহের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতাও। এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান শুধু একটি নীতি নয়, বরং সময়ের দাবি। সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা, শ্রদ্ধাবোধ এবং একই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলাই পারে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে। সময়ের প্রবাহে অনেক কিছুই বদলায়, কিন্তু সত্যের প্রয়োজন কখনো ফুরায় না। আর সেই সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তারা হলেন সাংবাদিক। তবে একখান প্রশ্ন হল এই দায়িত্ব পালন করছে বর্তমানে কয়জন সাংবাদিক। কেন মানুষ আর সাংবাদিকদের দিকে আঙ্গুল তুলছে? এ প্রশ্নের জবাব দেবে কে। সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের কাজ নয়—এটি সমাজের বিবেক, ন্যায়বিচারের সহযাত্রী এবং গণমানুষের কণ্ঠস্বর।
এই পেশার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিরপেক্ষতা। নিরপেক্ষতা মানে শুধু দুই পক্ষের কথা বলা নয়, বরং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। যখন সংবাদ পক্ষপাতমুক্ত থাকে, তখনই তা মানুষের মনে আস্থা সৃষ্টি করে। একটি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন অন্ধকারে আলো জ্বালানোর মতো—যেখানে গুজব থেমে যায়, আর সত্য নিজের জায়গা করে নেয়। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় সহজ নয়। নানা প্রভাব, চাপ, স্বার্থ এবং ভয়—এসবের মাঝেই সাংবাদিকদের কাজ করতে হয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একক প্রচেষ্টা অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে। ঠিক এখানেই প্রয়োজন ঐক্যের। ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ মানেই শক্তিশালী একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সত্য চাপা পড়ে না, বরং আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়। সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং একসাথে দাঁড়ানোর মানসিকতা সাংবাদিকতাকে দেয় নতুন শক্তি। বিভক্ত অবস্থান শুধু দুর্বলতা তৈরি করে, আর ঐক্য তৈরি করে সাহস। বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ছে মুহূর্তেই। কিন্তু এর সঙ্গে বেড়েছে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির ঝুঁকিও। এই প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি ভুল তথ্য যেমন সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, তেমনি একটি সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব শুধু সংবাদ প্রকাশে সীমাবদ্ধ নয়; তারা সমাজকে সচেতন করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান এবং ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেন। আর এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হলে প্রয়োজন দৃঢ় নৈতিকতা ও একতাবদ্ধ অবস্থান। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, নিরপেক্ষতা হলো সাংবাদিকতার প্রাণ, আর ঐক্য হলো তার শক্তির ভিত্তি। এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একটি সাহসী, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম—যা শুধু সংবাদ নয়, সমাজের ভবিষ্যৎও নির্মাণ করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরপেক্ষতা সাংবাদিকতার আত্মা, আর ঐক্য তার সাহস। এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে এমন একটি গণমাধ্যম, যা শুধু তথ্য দেয় না—সমাজকে পথ দেখায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং মানুষের আস্থা অর্জন করে।সবশেষে বলা যায়, “নিরপেক্ষতায় সত্য, ঐক্যে শক্তি”—এই মূলমন্ত্র ধারণ করেই সাংবাদিকতা তার প্রকৃত মর্যাদা ও দায়িত্ব পালনে সক্ষম হতে পারে।

 

error: Content is protected !!