সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে কেন ব্যর্থ ইসরায়েল?

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:২২ পিএম | 62 বার পড়া হয়েছে
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে কেন ব্যর্থ ইসরায়েল?

ইসরায়েলের বৃহত্তম তেল শোধনাগার হাইফার বাজানে ইরান ও হিজবুল্লাহ আজ সোমবার হামলা চালিয়েছে। হামলার পর বাজান ওয়েল রিফাইনারি বা তেল শোধনাগারে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এর আগে, গতকাল রোববার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা নেওত হোভাভের একটি কারখানায়ও হামলা হয়।

এই শিল্পাঞ্চলটি রাসায়নিক কারখানার জন্য পরিচিত। এই এলাকায় আঘাতের ফলে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানায়, একটি কীটনাশক ট্যাংকে আঘাত লেগেছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সেখানে ভয়াবহ আগুন জ্বলছে এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ওই এলাকায় যেতে নিষেধ করা হয়। পরিস্থিতি মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে এবং জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। উদ্ধারকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর পরবর্তী নির্দেশনার ওপর কড়া নজর রাখতে বলা হয়।

এসব হামলার পর একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আর আগের মতো সফলভাবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ঠেকাতে পারছে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো ইসরায়েলের তথাকথিত দুর্দান্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই বেহাল দশা কেন।

যদিও ইসরায়েল তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৯০ শতাংশ সফলতার দাবি করে, কিন্তু সপ্তাহখানেক আগে ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি এলাকা দিমোনা ও আরাদে পৃথক দুটি আঘাতের পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অজেয় অবস্থায় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কারণ, উভয় ক্ষেত্রেই পরে জানা গেছে, ডেভিড’স স্লিং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি ব্যর্থ হয়েছিল।

তবে ইসরায়েল কেবল ডেভিডস স্লিং নয়, আয়রন ডোম এবং অ্যারো নামে আরও দুই ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা দপ্তর দাবি করে, ইরান ও হিজবুল্লাহর হুমকি মোকাবিলায় তাদের কাছে পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক রয়েছে, তবে অন্যান্য সূত্রের খবর অনুযায়ী ভবিষ্যতে এর ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাধারণত অ্যারো সিস্টেমের প্রতিটি ইন্টারসেপ্টরের খরচ ২০ থেকে ৩০ লাখ শেকেল বা ৭ থেকে ১০ লাখ ডলার এবং ডেভিডস স্লিংয়ের প্রতি ইন্টারসেপ্টরে খরচ হয় ১০ লাখ শেকেল বা ৩ লাখ ডলারের কিছু বেশি। সাধারণত, ডেভিডস স্লিং দিয়ে ৪০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়।

ডেভিডস স্লিং ব্যর্থ হওয়ার বেশ কিছু কারণ আছে বলে মনে করেন, ইসরায়েলের সাবেক এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডার এবং আইডিএফ মুখপাত্র রান কোচাভ। তিনি বলেন, ‘প্রথম কারণটি হলো ইসরায়েলি কমান্ডারদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের নীতি—কোন হুমকির বিপরীতে কোন ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা হবে। এখানে অ্যারো, থাড (THAAD) বা আয়রন ডোমের মধ্যে একটি কৌশলগত পছন্দ বেছে নিতে হয়। এটা করা হয় যাতে একটি সাধারণ রকেটের পেছনে দামি ক্ষেপণাস্ত্র নষ্ট না হয়, কিংবা এমন ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার না হয় যা অন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়েই সহজে সামলানো যেত।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মজুত হিসাব করতে হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’ কোচাভ উল্লেখ করেন, অ্যারোর এক ধাপ নিচে থাকা অর্থাৎ পাল্লা কিছুটা কম থাকা ডেভিডস স্লিং আগেও সফলভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে তিনি এটাও জানান যে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত মাঝে মাঝে ব্যর্থতার দিকেও নিয়ে যেতে পারে।

কোচাভ বলেন, দ্বিতীয় কারণ হলো—রাডার ট্র্যাকিং সিস্টেমে কারিগরি বা ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটি দেখা দিতে পারে, ইন্টারসেপ্টরের নিজস্ব সমস্যা হতে পারে কিংবা বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যকার সংযোগেও গোলমাল হতে পারে। ধারণা করা হয়, ইরান ইসরায়েলের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বেশ ভালোভাবেই আঘাত হানতে পেরেছে। যদিও ইসরায়েলি বা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

তৃতীয় কারণ হিসেবে কোচাভ ‘পরিসংখ্যানের’ বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, ‘এটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক একটি ব্যবস্থা, তবে এটি নিশ্ছিদ্র বা শতভাগ ত্রুটিহীন নয়।’ অন্য কথায়, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও মাঝে মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা বা দুর্ভাগ্যের কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, অ্যারো সিস্টেমেরও লক্ষ্যভেদের হার অনেক বেশি হলেও সেটিও মাঝে মাঝে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে।

এরই মধ্যে খবর পাওয়া গেছে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে ৫০-৭০ শতাংশ ক্লাস্টার মিউনিশনস বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে অনেক ছোট ছোট বোমা থাকে যা অনেক বড় এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, যদিও সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এর ধ্বংসক্ষমতা কিছুটা কম হয়। কিন্তু এই বিষয়টিই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত করে ফেলেছে।

ইসরায়েলিরা যদিও স্বীকার করেনি যে, তাদের ইন্টারসেপ্টরের মজুত ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল যে, ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে আসছে। এমনও গুঞ্জন ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের বরাতে প্রকাশিত হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে ইসরায়েলকে দিচ্ছে। যদিও এই ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কেউই নিশ্চিত করেনি। কিন্তু এমনটা হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।

আরেকটি বিষয় হলো, ইরান ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েই যাচ্ছে। এর মধ্যে আবার কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ক্লাস্টার মিউনিশনস ব্যবহার করছে। কিন্তু একটি ইন্টারসেপ্টর একটি মাত্র টার্গেট ব্যবহার করতে পারে। তাই, যখন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ক্লাস্টার মিউনিশনস ব্যবহার করে তখন ছোটখাটো কমদামি টার্গেটের জন্য কয়েক লাখ ডলার মূল্যের ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হয়।

ইসরায়েলের এখনো আশঙ্কা যে, ইরানের হাতে এখনো ১ হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং আরও কয়েক হাজার ড্রোন রয়ে গেছে। এসব সক্ষমতা ব্যবহার করে যদি ইরান ইসরায়েলে কখনো ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ করার কৌশল নেয়, তখন ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চরম পরীক্ষা দিতে হবে। আর নতুন ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে যেহেতু দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে। তাই ইসরায়েল দ্রুতগতিতে অ্যারো তৈরির চেষ্টা করলেও এই যুদ্ধের সময়ের মধ্যে একবার ঘাটতি পড়ে গেলে তা পূরণ করা সম্ভব হবে না। এটা ইসরায়েলের জন্য এক ধরনের উভয়সংকট।

কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তা ফাঁস করেছেন যে, তাদের পরিকল্পনা ছিল ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারপর ইরানে হামলা চালানো। কিন্তু জানুয়ারিতে ইরানে বিক্ষোভের কারণে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্প প্রশাসনকে এই বিষয়ে অতি আগ্রহী করে তোলে। সহজ কথায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে ইসরায়েল হয়তো কিছুটা অপ্রস্তুত অবস্থাতেই এই যুদ্ধে নেমে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরেকটি বিষয় হলো—ইরানে হামলা চালানোর পর ইসরায়েলি ও মার্কিনিরা বেশ আত্মতুষ্টিতে ভুগছিল। তাদের ধারণা ছিল যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা গেছে ভালোভাবেই। তবে ইরান থেকে অনবরত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং অবকাঠামো ও বেসামরিক জনপদ লক্ষ্য করে প্রতিদিনের হামলা এটাই প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানিক সাফল্যের যে দাবি করা হচ্ছিল তা হয়তো বাস্তবতার চেয়ে বেশি বাড়িয়ে বলা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, জেরুসালেম পোস্ট ও ওয়াইনেট

অঞ্জনা চৌধুরী, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ

কাজিপুর পৌরসভার রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন

অঞ্জনা চৌধুরী, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
কাজিপুর পৌরসভার রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে পৌরসভার আলমপুর এনএম উচ্চ বিদ্যালয় হতে কবিহার পর্যন্ত এক কিলোমিটার আরসিসি রাস্তার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান। ১ কোটি ২২ লক্ষ ৫৯ হাজার ২২ টাকা ব্যয় বরাদ্দে কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স জিন্না এন্টার প্রাইজ।
উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম লিটন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে পক্ষে সাইফুল ইসলাম।
ইউএনও বলেন, “ গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (বেড-এ-২) এর আওতায় এই রাস্তাটি নির্মিত হলে কয়েক হাজার পৌরবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ লাঘব হবে। কাজটি ড্রইং, ডিজাইন ও এস্টিমেট অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।” (ছবি আছে)

 

সৈয়দ আব্দুল মান্নান

বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

সৈয়দ আব্দুল মান্নান প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:০০ পিএম
বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার আয়োজনে ও সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার সহযোগিতায় জালনোট প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমুলক এক ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩০ মার্চ সকাল ১১ টায় উপজেলা সভাকক্ষে এ ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার ম্যানেজার মোঃ ইব্রাহিম খলিল এর সভাপতিত্বে ওয়ার্কসপে প্রধান অতিথি ছিলেন সোনালী ব্যাংক হবিগঞ্জের ডিজিএম মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাহুবল উজ্জ্বল রায়, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার যুগ্ম পরিচালক (ক্যাশ) রান্টু চন্দ্র দাস, উপপরিচালক তানভীর আহমেদ, উপপরিচালক শুভাশীষ পাল, ম্যানেজার জনতা ব্যাংক বাহুবল শাখার ম্যানেজার হোসাইন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধা সংসদ বাহুবল এর আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ মিয়া।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাহুবল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ আবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জালনোটের উপর ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়।

উখিয়ার দলিলুর রহমান শাহীন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা

সিরাজুল কবির বুলবুল, উখিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম
উখিয়ার দলিলুর রহমান শাহীন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা

দলিলুর রহমান শাহীন একজন আপাদমস্তক বিএনপি নেতা।জন্ম ১৯৬৯ সালে সাবেক রুমখা গ্রামের ছায়া সুশীতল এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।বাবা মৃত: রশিদ আহাম্মদ, মাতা:মৃত : মাজেদা বেগম। তিন বোন তিন ভাইয়ের একটি সুন্দর পরিবারে বেড়ে উঠা স্বপ্নবাজ সাবেক ছাত্রনেতার। সাবেক রুমখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার হাতেখড়ি, পালং আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ না করে চলেযান মরিচ্যা উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখানথেকে তিনি মাধ্যমিক সার্টিফিকেট অর্জন করে প্রথমে ভর্তি হন কক্সবাজার সরকারি কলেজে। কলেজে পড়াশোনা পাশাপাশি তিনি রাজনীতি অঙ্গনে যুক্ত হন।পরে কক্সবাজার কলেজ থেকে তিনি চলে যান চট্টগ্রাম এ,জে চৌধুরী কলেজে সেই কলেজ থেকে তিনি এইচ,এস,সি পাশ করেন। পরে তিনি ১৯৯৩ সালে বি,এ, ছালে নুর কলেজ থেকে বি,এ পাশ করেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে মাস্টার্সে অধ্যায়ন করেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তিনি উখিয়ার রাজনীতি আলোচনায় আসেন,১৯৯৮ সালে তিনি উখিয়া উপজেলা (জাসাস)এর আহবায়ক নির্বাচিত হন। এর পর থেকে তিনি আর থেমে থাকেননি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা দলিলুর রহমানকে ধীরে, ধীরে নিয়ে যান মূলদলে, প্রথমে তিনি হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, পরে হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন, একসময় তিনি হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কর্মদক্ষতার ফসল স্বরুপ তিনি প্রথম বারের মতো প্রচার সম্পাদক, অর্থ ও ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন উখিয়া উপজেলা বিএনপির পরে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন,সবশেষে ৫ আগস্টের পর উখিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।বর্তমানে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন।
তৃণমূল থেকে বেড়ে উঠা এই দুর্দান্ত সাহসী নেতা রাজনৈতিক জীবনে অনেক অবদান রেখেছেন, দলের প্রতিটি মিছিল, মিটিংয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন দলকে কি এগিয়ে নিয়ে শক্তিশালী করে কি ভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এই ব্যপারে তিনি দলীয় বিচক্ষণতার পরিচয় দেন এবং সবার নজরে আসেন।২০১৮ সালে স্বৈরাচারীনি হাসিনা সরকারের লেলিয়ে দেওয়া কিছু সন্ত্রাসী তাকে চিরতরে মেরেফেলার জন্য নির্মমভাবে আহত করেন, সেদিন যথা সময়ে তার ছেলে তারেক রহমান যদি ঘটনাস্থলে ছুটে না আসতো হয়তো দলিলুর রহমান আজ বেঁচে থাকতোনা। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি একাধিক মিথ্যা মামলার স্বীকার হন।
তবুও তিনি দলের আদর্শ থেকে এক সেকেন্ডের জন্য বিচ্যুত হননি বরং নিজের দলীয় নেতাকর্মীদে সাথে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে দুর্দান্ত গতিতে সামনের সারিতে এগিয়ে যান।২৪ জুলাই ছাত্রজনতা আন্দোলনে কোর্টবাজার স্টেশনে দলিলুর রহমানের ভূমিকা ছিলো অনন্য। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীর পজিটিভ ভুমিকায় দলিলুর রহমান শাহীন রাজনীতিক ভাবে আরো বেশি তেজস্ক্রিয় হয়ে উঠেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি নিজ এলাকার উন্নয়নে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন
মসজিদ, মাদ্রাসা,কবরস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তিনি আর্থিক ভাবে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেন।
৩ ছেলে ১ মেয়ে সংসার জীবনে তিনি খুবই সন্তুষ্ট। তার তিন ছেলে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত,এক মেয়ে এখনো অধ্যায়নরত আছেন।
দলিলুর রহমান শাহীনের স্বপ্ন শহীদ জিয়ার আর্দশে নতুন বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে অনেক দুর এগিয়ে যাবে। তৃণমূলে ত্যাগীদের মুল্যায়ন হবে, নতুন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দেশে শিক্ষিত,অশিক্ষিত কোন বেকার থাকবেনা বলে তিনি মনে করেন।

error: Content is protected !!