বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

যুদ্ধবিরতিতে পাক-ভারত

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ মে, ২০২৫, ১১:৪০ এএম | 110 বার পড়া হয়েছে
যুদ্ধবিরতিতে পাক-ভারত

ট্রাম্প কার্ডে স্বস্তি ফিরেছে। অতিদ্রুততম সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্য়কর করেছে ভারত ও পাকিস্তান। যুদ্ধের চরম উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও ভারত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে। ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা পৃথক পৃথক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির কথা জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের পর পরই পাকিস্তানের আকাশসীমা সকল দেশের বিমানের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধ করতে পাকিস্তান ও ভারতকে রাজি করাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ ও সফলতার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়া হয়েছে।

গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেন, ‘অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়ে গিয়েছে ভারত এবং পাকিস্তান।’

নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমেরিকার মধ্যস্থতায় রাতভর (যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবে) আলোচনার পর, আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, যে ভারত এবং পাকিস্তান অবিলম্বে পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।’

এর পরেই ভারত এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, বাস্তবজ্ঞান এবং অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার সদ্ব্যবহার করার জন্য দুই দেশকে অভিনন্দন। এই বিষয়ে (যুদ্ধবিরতি) মনোযোগ দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ! পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসাক দারও যুদ্ধবিরতি নিয়ে নয়াদিল্লি-ইসলামাবাদ ঐকমত্যের কথা জানিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল যুদ্ধবিরতি কথা জানিয়ে এক্স পোস্টে লিখেছেন, ভ্যান্স (মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট) এবং আমি গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং শাহবাজ শরিফ, ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং অসিম মালিক (আইএসআই প্রধান)-সহ ঊর্ধ্বতন ভারতীয় ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারই পরিণতিতে সংঘর্ষবিরতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও দুরদৃষ্টির জন্য দুই দেশকেই শুভেচ্ছা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! সাম্প্রতিক সময়ে কাশ্মীর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাকিস্তানের লাগাতার ড্রোন হামলা, ভারতের পাল্টা প্রতিক্রিয়া, আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মতো ঘটনাগুলো দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কাকে ভয়াবহভাবে বাড়িয়ে তুলেছিল। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অন্তত ২৬টি এলাকায় হামলার চেষ্টা চালানো হয়, যার বেশিরভাগ ভারত ব্যর্থ করে দেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের সূচনা হতে পারে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি ঠেকাতে কূটনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউস ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের সূত্র বলছে, পাকিস্তান প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চেয়ে যোগাযোগ করে। এরপরেই মার্কিন প্রশাসন সক্রিয়ভাবে দুদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে আলোচনা চালায়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, তিনি এই সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আসিম মালিক সবাইয়ের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন। রুবিও বলেন, আমরা দুই দেশের নেতৃত্বের দূরদর্শিতা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতাকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।

যুদ্ধবিরতির কথা নিশ্চিত করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসাক দার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জানান, আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছি এবং তা গতকাল বিকেল ৫টা থেকে কার্যকর হয়েছে। কিছুক্ষণ পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ও জানায়, পাকিস্তানের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এবং আন্তর্জাতিক শান্তির স্বার্থে ভারত এই সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিক্রম মিসরি বলেন, গতকাল বিকাল ৩টা ৩৫ মিনিটে পাকিস্তানের ডিজিএমও ভারতের ডিজিএমওকে ফোন করেন। ওই আলোচনার মাধ্যমেই দুই দেশের মধ্যে আকাশ, স্থল ও জলপথে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি হয়। এরপর বিকেল ৫টা থেকে তা কার্যকর হয়।

তিনি আরও জানান, ১২ মে দুই দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা সরাসরি বৈঠকে বসবেন, যেখানে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কাঠামো এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের রূপরেখা তৈরি হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাই ছিল মুখ্য। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃঢ় অবস্থান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের চাপ এবং রুবিওর দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা এই সমঝোতার পথ সুগম করে দেয়। এমনকি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও একাধিকবার কথা বলেন রুবিও।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন প্রশ্ন উঠছে, এই যুদ্ধবিরতি কি সত্যিই একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথে অগ্রগতি, নাকি সাময়িক একটি কৌশলগত বিরতি? দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বলছে, এ অঞ্চলে সংঘাত প্রায়শই রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তবে এবার আন্তর্জাতিক চাপ এবং যুদ্ধের বিপুল সম্ভাব্য খরচ উভয় দেশকেই হয়তো বাস্তববাদী পথে হাঁটার জন্য বাধ্য করেছে। এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা যাবে না। দুই দেশকেই কৌশলগতভাবে সংযম দেখাতে হবে এবং একে অপরের ওপর আস্থা তৈরি করতে হবে।

বিশেষ করে সীমান্তে টহল, আকাশপথ ব্যবস্থাপনা এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সহযোগিতার দিকগুলোতে উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সেই শান্তি কতটা টিকবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী কয়েকদিনের ওপর কূটনৈতিক অঙ্গনে যেভাবে আলোচনার ধারা বজায় রাখা যায় এবং উসকানিমূলক ঘটনা কীভাবে এড়িয়ে চলা যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ।

জয় ই মামুন

মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

জয় ই মামুন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরির অভিযোগে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর ৫(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১) ধারা অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে যেসব ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে সেগুলো হলো- কে এফ সি ব্রিকস (বেরুন্ডি) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স সোহানা ব্রিকস (খোলাপাড়া) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স এ এ বি অ্যান্ড কোং (গাড়াদিয়া) ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স জে বি সি ব্রিকস (গোবিন্দল) ২ লাখ টাকা, মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-১ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা,
মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-২ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স এম আর এম ব্রিকস (রামকান্তপুর) ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অভিযানটি পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক মো. মোজাফফর খান।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাব-৪ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সহায়তা প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে পরিবেশ ধ্বংস রোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা।

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী

জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী পৌর (৪নং ওয়ার্ড) ডাঙ্গপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

নিহত মিমনুর রহমান ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন (আল্লীর) প্রথম পুত্র এবং বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ তিনি ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে ব্যানার হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা মোছা: মনোয়ারা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক মহুবর রহমান, শিক্ষক আব্দুল হাই, মিজানুর রহমান, স্বপন কুমার রায়, ভগীরথ চন্দ্র রায় এবং সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা সুলতানা ও শিলা রানী রায়সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে, নিহতের পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করছে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এমন ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চারতলা ভবন

আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

মেহেদী হাসান রিপন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১১ পিএম
আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

যশোরবাসীর পুলিশি সেবা আরও বেগবান ও আধুনিক করতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগে হাত দিয়েছে সরকার। শহরের জরাজীর্ণ কোতোয়ালি মডেল থানা ভবনটি ভেঙে সেখানে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক চারতলা ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ষাট দশকে নির্মিত বর্তমান থানা ভবনটি দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারের দেশব্যাপী ১০৭টি থানা আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় এই সংস্কার কাজ শুরু হচ্ছে। যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২৬ হাজার স্কয়ার ফিটের এই ভবনের মূল কাঠামো বা ফাউন্ডেশন হবে ছয়তলা পর্যন্ত, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি চারতলা হিসেবে নির্মিত হবে। ঝিনাইদহের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পেয়েছে। আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেবাপ্রার্থী এবং পুলিশ সদস্যদের সুবিধার্থে ভবনের প্রতিটি তলা সুনিপুণভাবে সাজানো হয়েছে:
* প্রথম তলা: অভ্যর্থনা কেন্দ্র এবং দাপ্তরিক অফিস।
* দ্বিতীয় তলা: হাজতখানা ও প্রশাসনিক শাখা।
* তৃতীয় তলা: অফিস এবং নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য ব্যারাক।
* চতুর্থ তলা: পুরুষ পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক ব্যারাক।

অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চলবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে

নির্মাণ কাজ চলাকালীন জনসেবা যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য থানার যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পরিচালিত হবে। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান ভবনটি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে জনবল অনুযায়ী চাঁচড়া ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে কিছুটা আবাসন সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, উন্নত ও আধুনিক পুলিশি সেবার স্বার্থে এই সাময়িক কষ্টটুকু মেনে নিতে হবে। নতুন ভবন নির্মিত হলে যশোরবাসীকে সেবা প্রদানের মান ও পুলিশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

error: Content is protected !!