সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২

আজমিরীগঞ্জ  প্রতিনিধি

আজমিরীগঞ্জে টমটম স্ট্যান্ড নিয়ে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী দুই গ্রামের সংঘর্ষ: গুরুতর আহত ১

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৪:৪৬ পিএম | 14 বার পড়া হয়েছে
আজমিরীগঞ্জে টমটম স্ট্যান্ড নিয়ে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী দুই গ্রামের সংঘর্ষ: গুরুতর আহত ১

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর গ্রাম ও পাশের বানিয়াচং উপজেলার আড়িয়ামুগুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে টমটম স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) পাহাড়পুর গ্রামের টমটম চালক দেবু দাস প্রতিদিনের মতো যাত্রী নিয়ে বানিয়াচং যান। সেখান থেকে যাত্রী নামিয়ে ফেরার পথে বানিয়াচং উপজেলার আড়িয়ামুগুর গ্রামের গৌতম দাসের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তার গতিরোধ করে।
‎অভিযোগ রয়েছে, আড়িয়ামুগুর গ্রামের পংকজ দাস, প্রণব দাস, অরবিন্দু দাস, উৎপল চন্দ্র দাস ও পিন্টু চন্দ্র দাসসহ কয়েকজন মিলে দেবু দাসকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন।
‎খবর পেয়ে পাহাড়পুর গ্রামের জুয়েল দাস, সঞ্জয় তালুকদার, আনন্দ দাস ও মহারত্ন দাস ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
‎এ ঘটনায় আজমিরীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
‎এদিকে, স্থানীয়দের আশঙ্কা—দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
‎ইদের ছুটি থাকায় এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ওসির বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
‎প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

ঈদের ছুটিতে প্রাণচঞ্চল চট্টগ্রামের পর্যটন স্পটগুলো

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
ঈদের ছুটিতে প্রাণচঞ্চল চট্টগ্রামের পর্যটন স্পটগুলো

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি মানেই পরিবার-পরিজনকে নিয়ে একটু স্বস্তির সময়, ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে আনন্দে ডুব দেওয়ার উপলক্ষ। আর সেই আনন্দকে ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম-এর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্পটগুলো।
ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই নগরী ও আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব কিংবা স্বজনদের নিয়ে মানুষ ছুটে যান সমুদ্র, পাহাড় আর সবুজ প্রকৃতির টানে।

পতেঙ্গা সৈকতে জনসমুদ্রঃ

চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত পতেঙ্গা সীবিচ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত। এখানে কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থল হওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশেষভাবে চোখে পড়ে। বিকেলের সূর্যাস্ত, সমুদ্রের ঢেউ এবং সাজানো ওয়াকওয়ে দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয়। পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।
চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত-এ। বিস্তীর্ণ সমুদ্র, দিগন্তজোড়া নীল জলরাশি, আর মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত—সব মিলিয়ে এটি যেন এক অনন্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
ঈদের ছুটিতে এখানে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। কেউ পরিবার নিয়ে বালুচরে বসে গল্পে মেতে উঠেছেন, কেউবা নেমে পড়েছেন লোনা জলে। শিশুরা খেলায় ব্যস্ত, তরুণরা ছবি তুলতে আর আড্ডায় মগ্ন।
পাশেই অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন কর্ণফুলী টানেল-কেও ঘিরে দর্শনার্থীদের আলাদা আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই একসঙ্গে টানেল ভ্রমণ ও সমুদ্রসৈকত উপভোগ করছেন।

ফয়’স লেক ও বিনোদনের রঙিন দুনিয়াঃ

ফয়’স লেক চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়ঘেরা একটি মনোরম বিনোদন কেন্দ্র। প্রাকৃতিক লেকের চারপাশে সবুজ পাহাড়, নৌকা ভ্রমণ এবং বিভিন্ন রাইড দর্শনার্থীদের আনন্দ দেয়। এখানে একটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও রিসোর্টও রয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে শান্ত পরিবেশ উপভোগের জন্য এটি জনপ্রিয় একটি
নগরীর অন্যতম আকর্ষণ ফয়’স লেক ঈদের ছুটিতে পরিণত হয়েছে আনন্দের এক রঙিন দুনিয়ায়। এখানে অবস্থিত অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও সি ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্কে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
লেকের শান্ত জলে নৌকা ভ্রমণ, রোমাঞ্চকর রাইড, সুইমিংপুলে জলকেলি—সব মিলিয়ে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বিনোদনের কেন্দ্রস্থল।
পার্কের বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রম যেমন আর্চারি, ক্লাইম্বিং ও ট্রি-টপ একটিভিটিতেও আগ্রহ দেখা গেছে দর্শনার্থীদের মধ্যে।

চিড়িয়াখানায় শিশুদের উচ্ছ্বাসঃ

ঈদের আনন্দে পিছিয়ে নেই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা-ও। এখানে বাঘ, সিংহ, বানরসহ নানা প্রাণী দেখে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে এক এক করে প্রাণী দেখাচ্ছেন, আর শিশুদের বিস্ময়ভরা চিৎকারে মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। ছোট ছোট রাইড ও বিনোদনের ব্যবস্থা তাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ঃ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কে নেমেছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের দিন থেকে শুরু করে টানা ছুটির সুযোগে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে নগরবাসীর অন্যতম পছন্দের স্থানে পরিণত হয়েছে এই পার্ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই পার্কে ভিড় জমাতে শুরু করেন নানা বয়সী মানুষ। শিশুদের কোলাহল, তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাস আর পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে আসা মানুষের পদচারণায় পুরো পার্কজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিকেলের পর দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, ফলে পার্কের প্রবেশপথে দীর্ঘ লাইনও দেখা যায়।
দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, নগরের ব্যস্ত জীবন থেকে একটু স্বস্তি পেতে ঈদের ছুটিতে এমন খোলামেলা পরিবেশে সময় কাটানো তাদের জন্য ভীষণ আনন্দের। পার্কে দৃষ্ঠিনন্দন চলাচলের পথ, খোলা পরিচ্ছন্ন মাঠ, কৃত্রিম লেক, ঝর্না বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদের ছুটিতে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্ক নগরবাসীর আনন্দ-উৎসবের এক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে এখানে ভিড় করছেন হাজারো মানুষ, যা ঈদের আনন্দকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে

প্রকৃতির টানে শহরের বাইরেঃ

শুধু নগরীতেই নয়, শহরের বাইরে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে ভিড় জমেছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে।

পারকি সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড়ে প্রাণচাঞ্চল্যঃ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত পারকি সমুদ্র সৈকত (Parki Sea Beach) দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে গড়ে ওঠা এই সৈকতটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ বনায়ন এবং শান্ত পরিবেশের জন্য ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকতের এক পাশে বিশাল বঙ্গোপসাগর আর অন্য পাশে সারি সারি ঝাউ গাছ এক অনন্য সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে। এখানকার ঢেউ তুলনামূলক শান্ত হওয়ায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য এটি নিরাপদ ও উপভোগ্য স্থান হিসেবে পরিচিত।
ঈদের ছুটিতে পারকি সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। বিশেষ করে শহর থেকে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় এখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। কেওড়া বনের সৌন্দর্য আর সাগরের মিলিত দৃশ্য উপভোগ করতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। অনেকেই ছবি তোলা, ঘুরে বেড়ানো ও পারিবারিক সময় কাটিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছিল সক্রিয়।

বাঁশখালী ইকো পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ঃ

ঈদের ছুটিকে ঘিরে বাঁশখালী ইকো পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অনেকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে এখানে ছুটে আসেন। সবুজে ঘেরা পাহাড়ি পরিবেশ, খোলা বাতাস ও শান্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। শিশুদের জন্য খেলার স্থান ও বিশ্রামের ব্যবস্থাও থাকায় এটি হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ তৎপর ছিল।

বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে ঈদের আনন্দে মেতে উঠেছে মানুষঃ

নীরব সৌন্দর্যের এক অনন্য ঠিকানা
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত। ঈদের ছুটিতে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো দর্শনার্থী। সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সৈকতে ছিল মানুষের ঢল। অনেকে সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে বসে উপভোগ করেন প্রকৃতির সৌন্দর্য। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জমজমাট বেচাকেনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড়ঃ

প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্যের ঠিকানা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার উপকূলে অবস্থিত গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত দেশের অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী সমুদ্র সৈকত। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মুরাদপুর বিচ’ নামেও পরিচিত। অন্যান্য সমুদ্র সৈকতের মতো এখানে শুধুই বালুকাবেলা নয়—বরং সবুজ ঘাসে মোড়ানো বিস্তীর্ণ প্রান্তর, মাঝখানে জোয়ার-ভাটার পানির খাল এবং দূরে নীল সাগরের মিলন এক ভিন্নরকম দৃশ্য তৈরি করেছে।
সৈকতটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ম্যানগ্রোভ-সদৃশ সবুজ ঘাসের চারণভূমি, যা পর্যটকদের কাছে আলাদা আবেদন সৃষ্টি করে।
গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। সবুজ ঘাসে ঢাকা বিস্তীর্ণ মাঠ ও সমুদ্রের অনন্য সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। অনেকেই এখানে পিকনিক, ফটোসেশন ও অবসর সময় কাটাতে আসেন। তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের নজরদারিও জোরদার ছিল

এছাড়াও শান্ত ও মনোরম পরিবেশের জন্য জনপ্রিয় মহামায়া লেক-এও দেখা গেছে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। বাঁশখালীর বৈলগাঁও চা বাগান ও ফটিকছড়ির চা বাগানসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক স্থানে মানুষ খুঁজে নিচ্ছেন নির্জনতা ও প্রশান্তির স্বাদ।
পর্যটন খাতে আশার আলো
গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটন খাতে কিছুটা স্থবিরতা থাকলেও এবার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা গেছে আশাবাদ।
ঈদকে ঘিরে নগরীর আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে আগাম বুকিং বেড়েছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটন খাতে আশার আলোঃ

গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটন খাতে কিছুটা স্থবিরতা থাকলেও এবার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা গেছে আশাবাদ।
ঈদকে ঘিরে নগরীর আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে আগাম বুকিং বেড়েছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতাঃ

বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই নির্বিঘ্নে সময় উপভোগ করতে পারছেন।

কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়ে গেছেঃ

তবে আনন্দের মাঝেও কিছুটা হতাশার চিত্র দেখা গেছে। আগ্রাবাদের কর্ণফুলী শিশু পার্ক ও চান্দগাঁওয়ের স্বাধীনতা কমপ্লেক্স পার্ক বন্ধ থাকায় অনেক দর্শনার্থী ঘুরে এসে হতাশ হয়েছেন।

উৎসবমুখর চট্টগ্রামঃ

সব মিলিয়ে, ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম যেন এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। শহরের কোলাহল পেরিয়ে মানুষ ছুটে যাচ্ছে খোলা আকাশের নিচে, সমুদ্রের ধারে কিংবা পাহাড়ঘেরা সবুজের মাঝে। পরিবারের হাসি, শিশুদের উচ্ছ্বাস আর তরুণদের আনন্দে মুখর এই নগরী যেন নতুন এক প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আনন্দ, ভালোবাসা আর স্বস্তির খোঁজে—ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম এখন সত্যিই এক জীবন্ত উৎসবের নাম।

কাজল ইব্রাহিম

রেকর্ড জটিলতায় শতভাগ জমি নিয়ে বিরোধ: শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে দখল

কাজল ইব্রাহিম প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৯ পিএম
রেকর্ড জটিলতায় শতভাগ জমি নিয়ে বিরোধ: শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে দখল

জামালপুর ব্রিটিশ কাচারীর আওতাধীন মোহনগঞ্জ মহাকুমার অন্তর্গত উমানাথ চক্রবর্তী কাচারির একটি জমি সংক্রান্ত জটিল বিরোধ বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমির সিএস রেকর্ড অনুযায়ী খতিয়ান নং ১৫০, মূল দাগ নং ৪০০ এবং পার্শ্ববর্তী দাগ নং ৩৭২সহ মোট জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন ঘাঠু শেখ ও হাটু শেখ গং। উক্ত জমির মধ্যে দাগ নং ৩৭০, ৩৭১ ও ৩৭২ অনুযায়ী যথাক্রমে ৪৫ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ জমি বিভিন্ন খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং সিএস অনুযায়ী প্রকৃত দখলদার ছিলেন হাটু শেখ ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারগণ। পরবর্তীতে উক্ত মালিকগণ ৯২২৭ নং সাব-রেজিস্ট্রেশন দলিলের মাধ্যমে মো. কান্দু শেখের নিকট জমি বিক্রি করেন। কান্দু শেখের মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র জালাল উদ্দিন মন্ডল এবং চার কন্যা—রহিতন, সহিতন, আফিরন ও তাফিরন—ওয়ারিশ হন এবং পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমির অংশ জালাল উদ্দিনের পুত্র ও ভাতিজা ইদ্রিস আলীর নিকট হস্তান্তর করা হয়।

‎জালাল উদ্দিন মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৬০ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসেন এবং তার মৃত্যুর পর স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাগণ উত্তরাধিকারসূত্রে উক্ত জমি ভোগদখল অব্যাহত রাখেন। কিন্তু ১৫-০৪-২০১৮ তারিখে খারিজের জন্য স্থানীয় ভূমি অফিসে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান যে, কান্দু শেখ ও জালাল উদ্দিনের নামে আরএস (ROR) ও বিএস (BRS) রেকর্ড না থাকায় খারিজ প্রদান সম্ভব নয়। তাহলে কি মূল মালিকানার ধারাবাহিকতা কোথাও বিঘ্নিত হয়েছে? পরবর্তীতে অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয় যে, আরএস রেকর্ডে খতিয়ান নং ৮৫৬ ও ৮৬১ অনুযায়ী দাগ নং ৫৯৬, ৫৯৭, ৫৯৮ ও ৫৯৯ জমি শ্যাম লাল মাল্লা ও সুরেশ চন্দ্র পালের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে, যা মূল মালিকানা ধারাবাহিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক প্রশ্নের উদ্রেক করে।

‎এর মধ্যে শ্যাম লাল মাল্লা ৪৭ শতাংশ জমি রেকর্ড পান এবং উক্ত জমির ৩৩ শতাংশ ১৮-১২-১৯৬৪ তারিখে ২৮৯৬ নং দলিলের মাধ্যমে শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নিকট বিক্রি করেন। পরবর্তীতে শ্যাম লাল মাল্লার মৃত্যুর পর তার পুত্র ইন্দ্র লাল মাল্লা ২৪-১২-১৯৭৯ তারিখে ২০৩৫৫ নং দলিলের মাধ্যমে একই দাগে ১ একর ১.৪৬ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নিকট সাব-কবলা প্রদান করেন, যদিও তার পিতার নিকট অবশিষ্ট জমির পরিমাণ ছিল মাত্র ১৪ শতাংশ। তাহলে অতিরিক্ত প্রায় ১৩২ শতাংশ জমি বিক্রির বৈধতা কোথায়? এটি কি সুস্পষ্ট আইনগত অসংগতি নয়? এই বিষয়টি জালিয়াতির ইঙ্গিত বহন করে কি না—সে প্রশ্নও এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে। অন্যদিকে, সুরেশ চন্দ্র পালের নামে রেকর্ডকৃত ১১ শতাংশ জমি ওয়ারিশবিহীন হওয়ায় সরকারি খাসে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে তা স্থানীয় কানু শেখের নিকট লিজ প্রদান করা হয়; বাকি ২ শতাংশ জমির কোনো সুস্পষ্ট রেকর্ড পাওয়া যায়নি—এটিও কি আরেকটি প্রশাসনিক শূন্যতা নির্দেশ করে?

‎পরবর্তীতে বিএস জরিপে শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে খতিয়ান নং ৫, দাগ নং ৪০৮-এ ৪৩ শতাংশ জমি রেকর্ড হয়; একই সঙ্গে ১২ শতাংশ জমি খতিয়ান নং ৫৮৮ অনুযায়ী আব্দুর রহমানের নামে এবং ৫ শতাংশ জমি খতিয়ান নং ৯০২ অনুযায়ী কানু শেখের ওয়ারিশদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। এদিকে সিএস খতিয়ান নং ১৫০ অনুযায়ী দাগ নং ৪০০-এর ৮১ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক হাটু শেখ ও তার ওয়ারিশগণ—মোহর মন্ডল, যহর মন্ডল ও কান্দু মন্ডল—বর্তমানে এই অংশের উত্তরাধিকারী; অথচ উক্ত ৮১ শতাংশ জমির উপর শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মিত রয়েছে, যেখানে বিদ্যালয়ের কোনো বৈধ দলিল নেই বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। তাহলে বৈধ দলিল ব্যতীত এই দখল কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো? পাশাপাশি দাগ নং ৩৭০, ৩৭১ ও ৩৭২-এর আওতাধীন প্রায় ৬০ শতাংশ খালি জমি, যা মামলা নং ১৬৮/২০১৮ (পরবর্তীতে ৭২৬/২০২১) হিসেবে বিচারাধীন, সেখানে সম্প্রতি স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে জোরপূর্বক দখল ও প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন ইদ্রিস আলী মন্ডল গং; বাধা প্রদান করলে তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে—এটি কি আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন নয়?

‎বাংলাদেশের প্রচলিত ভূমি আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার মালিকানার অতিরিক্ত জমি বিক্রি করতে পারে না এবং বৈধ অধিগ্রহণ ব্যতিরেকে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এই প্রেক্ষাপটে ইদ্রিস আলী মন্ডল গং প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের নিকট সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে, আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনবোধে ৮০ পৃষ্ঠার বিস্তারিত দলিলপত্র উপস্থাপন করা সম্ভব। তাহলে কি এখনই যথাযথ তদন্ত ও দাগ-রেকর্ডের সমন্বিত যাচাই প্রয়োজন নয়? তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃত মালিকানা যাচাই সাপেক্ষে বৈধ ওয়ারিশদের জমি ফেরত প্রদান, জবরদখল ও হুমকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ওপর সংঘটিত মানহানি ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দীর্ঘদিনের এই জটিল ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যথাযথ রেকর্ড যাচাই, দাগ সমন্বয় নিরূপণ এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ই একমাত্র স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে সক্ষম—এটি কি এখন সময়ের অনিবার্য দাবি নয়?

বিটিএস ব্যান্ডের জাংকুকের সঙ্গে অরিজিৎ সিং

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৪ পিএম
বিটিএস ব্যান্ডের জাংকুকের সঙ্গে অরিজিৎ সিং

ব্রিটিশ গায়ক এড শিরানের পর বিটিএস ব্যান্ডের জাংকুকের সঙ্গে গান নিয়ে আসছেন ভারতীয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং; এমন খবরে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া। এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামে অরিজিতের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে সেই গুঞ্জন আরও উসকে দিয়েছেন জাংকুক।

ইনস্টাগ্রামে অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন জাংকুক। প্রথম ছবিতে অরিজিৎ ও জাংকুককে একসঙ্গে খেতে দেখা যাচ্ছে। দ্বিতীয় ছবিতে দেখা যায় গিটার বাজাচ্ছেন জাংকুক এবং মনোযোগ দিয়ে শুনছেন অরিজিৎ। তৃতীয় ছবিটি দেখে মনে হচ্ছে, নতুন কিছুর ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। এতে দুই গায়ককে একটি মিউজিক রুমে বসে থাকতে দেখা যায়।

ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জাংকুক জানান, গানের জন্য সম্প্রতি ভারতে এসেছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তগুলো ক্যামেরায় বন্দী করে ভক্তদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন জাংকুক। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘এটা বেশ কিছুদিন ধরে গোপন রাখতে চেয়েছিলাম…আমি সম্প্রতি কাউকে না জানিয়ে ভারতে এসেছিলাম। কোনো শো-এর জন্য নয়, ক্যামেরার জন্যও নয়…শুধু গানের জন্য। অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে দেখা হলো। আমরা একসঙ্গে বসেছিলাম, কথা বলেছিলাম, পুরোনো স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছিলাম এবং বিশেষ কিছু তৈরি করেছি।’

এদিকে চার বছর বিরতির পর ২০ মার্চ প্রকাশ পেয়েছে বিটিএসের নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’। এটি দলটির পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম। মুক্তির প্রথম দিনেই বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন কপি, যা কে-পপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।

এই অ্যালবামের ‘সুইফম’ গানটি বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছে। ৯০টি দেশে আইটিউনস টপ সংস চার্টের শীর্ষে রয়েছে এটি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স—সব বড় বাজারে এক নম্বর। দক্ষিণ কোরিয়ার চার্টেও দ্রুত শীর্ষ স্থান দখল করেছে গানটি।

 

error: Content is protected !!