সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

ঈদের ছুটিতে প্রাণচঞ্চল চট্টগ্রামের পর্যটন স্পটগুলো

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম | 79 বার পড়া হয়েছে
ঈদের ছুটিতে প্রাণচঞ্চল চট্টগ্রামের পর্যটন স্পটগুলো

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি মানেই পরিবার-পরিজনকে নিয়ে একটু স্বস্তির সময়, ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে আনন্দে ডুব দেওয়ার উপলক্ষ। আর সেই আনন্দকে ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম-এর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্পটগুলো।
ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই নগরী ও আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব কিংবা স্বজনদের নিয়ে মানুষ ছুটে যান সমুদ্র, পাহাড় আর সবুজ প্রকৃতির টানে।

পতেঙ্গা সৈকতে জনসমুদ্রঃ

চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত পতেঙ্গা সীবিচ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত। এখানে কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থল হওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশেষভাবে চোখে পড়ে। বিকেলের সূর্যাস্ত, সমুদ্রের ঢেউ এবং সাজানো ওয়াকওয়ে দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয়। পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।
চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত-এ। বিস্তীর্ণ সমুদ্র, দিগন্তজোড়া নীল জলরাশি, আর মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত—সব মিলিয়ে এটি যেন এক অনন্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
ঈদের ছুটিতে এখানে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। কেউ পরিবার নিয়ে বালুচরে বসে গল্পে মেতে উঠেছেন, কেউবা নেমে পড়েছেন লোনা জলে। শিশুরা খেলায় ব্যস্ত, তরুণরা ছবি তুলতে আর আড্ডায় মগ্ন।
পাশেই অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন কর্ণফুলী টানেল-কেও ঘিরে দর্শনার্থীদের আলাদা আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই একসঙ্গে টানেল ভ্রমণ ও সমুদ্রসৈকত উপভোগ করছেন।

ফয়’স লেক ও বিনোদনের রঙিন দুনিয়াঃ

ফয়’স লেক চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়ঘেরা একটি মনোরম বিনোদন কেন্দ্র। প্রাকৃতিক লেকের চারপাশে সবুজ পাহাড়, নৌকা ভ্রমণ এবং বিভিন্ন রাইড দর্শনার্থীদের আনন্দ দেয়। এখানে একটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও রিসোর্টও রয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে শান্ত পরিবেশ উপভোগের জন্য এটি জনপ্রিয় একটি
নগরীর অন্যতম আকর্ষণ ফয়’স লেক ঈদের ছুটিতে পরিণত হয়েছে আনন্দের এক রঙিন দুনিয়ায়। এখানে অবস্থিত অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও সি ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্কে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
লেকের শান্ত জলে নৌকা ভ্রমণ, রোমাঞ্চকর রাইড, সুইমিংপুলে জলকেলি—সব মিলিয়ে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বিনোদনের কেন্দ্রস্থল।
পার্কের বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রম যেমন আর্চারি, ক্লাইম্বিং ও ট্রি-টপ একটিভিটিতেও আগ্রহ দেখা গেছে দর্শনার্থীদের মধ্যে।

চিড়িয়াখানায় শিশুদের উচ্ছ্বাসঃ

ঈদের আনন্দে পিছিয়ে নেই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা-ও। এখানে বাঘ, সিংহ, বানরসহ নানা প্রাণী দেখে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে এক এক করে প্রাণী দেখাচ্ছেন, আর শিশুদের বিস্ময়ভরা চিৎকারে মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। ছোট ছোট রাইড ও বিনোদনের ব্যবস্থা তাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ঃ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কে নেমেছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের দিন থেকে শুরু করে টানা ছুটির সুযোগে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে নগরবাসীর অন্যতম পছন্দের স্থানে পরিণত হয়েছে এই পার্ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই পার্কে ভিড় জমাতে শুরু করেন নানা বয়সী মানুষ। শিশুদের কোলাহল, তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাস আর পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে আসা মানুষের পদচারণায় পুরো পার্কজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিকেলের পর দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, ফলে পার্কের প্রবেশপথে দীর্ঘ লাইনও দেখা যায়।
দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, নগরের ব্যস্ত জীবন থেকে একটু স্বস্তি পেতে ঈদের ছুটিতে এমন খোলামেলা পরিবেশে সময় কাটানো তাদের জন্য ভীষণ আনন্দের। পার্কে দৃষ্ঠিনন্দন চলাচলের পথ, খোলা পরিচ্ছন্ন মাঠ, কৃত্রিম লেক, ঝর্না বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদের ছুটিতে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্ক নগরবাসীর আনন্দ-উৎসবের এক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে এখানে ভিড় করছেন হাজারো মানুষ, যা ঈদের আনন্দকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে

প্রকৃতির টানে শহরের বাইরেঃ

শুধু নগরীতেই নয়, শহরের বাইরে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে ভিড় জমেছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে।

পারকি সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড়ে প্রাণচাঞ্চল্যঃ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত পারকি সমুদ্র সৈকত (Parki Sea Beach) দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে গড়ে ওঠা এই সৈকতটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ বনায়ন এবং শান্ত পরিবেশের জন্য ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকতের এক পাশে বিশাল বঙ্গোপসাগর আর অন্য পাশে সারি সারি ঝাউ গাছ এক অনন্য সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে। এখানকার ঢেউ তুলনামূলক শান্ত হওয়ায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য এটি নিরাপদ ও উপভোগ্য স্থান হিসেবে পরিচিত।
ঈদের ছুটিতে পারকি সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। বিশেষ করে শহর থেকে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় এখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। কেওড়া বনের সৌন্দর্য আর সাগরের মিলিত দৃশ্য উপভোগ করতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। অনেকেই ছবি তোলা, ঘুরে বেড়ানো ও পারিবারিক সময় কাটিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছিল সক্রিয়।

বাঁশখালী ইকো পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ঃ

ঈদের ছুটিকে ঘিরে বাঁশখালী ইকো পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অনেকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে এখানে ছুটে আসেন। সবুজে ঘেরা পাহাড়ি পরিবেশ, খোলা বাতাস ও শান্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। শিশুদের জন্য খেলার স্থান ও বিশ্রামের ব্যবস্থাও থাকায় এটি হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ তৎপর ছিল।

বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে ঈদের আনন্দে মেতে উঠেছে মানুষঃ

নীরব সৌন্দর্যের এক অনন্য ঠিকানা
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত। ঈদের ছুটিতে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো দর্শনার্থী। সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সৈকতে ছিল মানুষের ঢল। অনেকে সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে বসে উপভোগ করেন প্রকৃতির সৌন্দর্য। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জমজমাট বেচাকেনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড়ঃ

প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্যের ঠিকানা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার উপকূলে অবস্থিত গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত দেশের অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী সমুদ্র সৈকত। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মুরাদপুর বিচ’ নামেও পরিচিত। অন্যান্য সমুদ্র সৈকতের মতো এখানে শুধুই বালুকাবেলা নয়—বরং সবুজ ঘাসে মোড়ানো বিস্তীর্ণ প্রান্তর, মাঝখানে জোয়ার-ভাটার পানির খাল এবং দূরে নীল সাগরের মিলন এক ভিন্নরকম দৃশ্য তৈরি করেছে।
সৈকতটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ম্যানগ্রোভ-সদৃশ সবুজ ঘাসের চারণভূমি, যা পর্যটকদের কাছে আলাদা আবেদন সৃষ্টি করে।
গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। সবুজ ঘাসে ঢাকা বিস্তীর্ণ মাঠ ও সমুদ্রের অনন্য সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। অনেকেই এখানে পিকনিক, ফটোসেশন ও অবসর সময় কাটাতে আসেন। তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের নজরদারিও জোরদার ছিল

এছাড়াও শান্ত ও মনোরম পরিবেশের জন্য জনপ্রিয় মহামায়া লেক-এও দেখা গেছে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। বাঁশখালীর বৈলগাঁও চা বাগান ও ফটিকছড়ির চা বাগানসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক স্থানে মানুষ খুঁজে নিচ্ছেন নির্জনতা ও প্রশান্তির স্বাদ।
পর্যটন খাতে আশার আলো
গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটন খাতে কিছুটা স্থবিরতা থাকলেও এবার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা গেছে আশাবাদ।
ঈদকে ঘিরে নগরীর আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে আগাম বুকিং বেড়েছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটন খাতে আশার আলোঃ

গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটন খাতে কিছুটা স্থবিরতা থাকলেও এবার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা গেছে আশাবাদ।
ঈদকে ঘিরে নগরীর আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে আগাম বুকিং বেড়েছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতাঃ

বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই নির্বিঘ্নে সময় উপভোগ করতে পারছেন।

কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়ে গেছেঃ

তবে আনন্দের মাঝেও কিছুটা হতাশার চিত্র দেখা গেছে। আগ্রাবাদের কর্ণফুলী শিশু পার্ক ও চান্দগাঁওয়ের স্বাধীনতা কমপ্লেক্স পার্ক বন্ধ থাকায় অনেক দর্শনার্থী ঘুরে এসে হতাশ হয়েছেন।

উৎসবমুখর চট্টগ্রামঃ

সব মিলিয়ে, ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম যেন এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। শহরের কোলাহল পেরিয়ে মানুষ ছুটে যাচ্ছে খোলা আকাশের নিচে, সমুদ্রের ধারে কিংবা পাহাড়ঘেরা সবুজের মাঝে। পরিবারের হাসি, শিশুদের উচ্ছ্বাস আর তরুণদের আনন্দে মুখর এই নগরী যেন নতুন এক প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আনন্দ, ভালোবাসা আর স্বস্তির খোঁজে—ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম এখন সত্যিই এক জীবন্ত উৎসবের নাম।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও উখিয়ায় একটি শিশুপার্ক গড়ে ওঠেনি

সিরাজুল কবির বুলবুল উখিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪০ পিএম
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও উখিয়ায় একটি শিশুপার্ক গড়ে ওঠেনি

শিশুদের চিত্তবিনোদনের প্রধান আকর্ষণ হলো শিশুবিনোদন কেন্দ্র বা শিশুপার্ক। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য যেমন খেলাধুলা প্রয়োজন তেমনি ছুটির দিনে চিত্তবিনোদনের জন্য একটি সুন্দর শিশুপার্ক প্রয়োজন। এটি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে থাকলেও পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী শহর উখিয়া উপজেলায় নেই। স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও এই বিষয়টি নিয়ে কোন সরকারি কিংবা বেসরকারি দপ্তর এগিয়ে আসেনি। প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি উখিয়া উপজেলা সীমান্তের পূর্ব পাশে মায়ানমার ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর তারই মাঝখানে গড়ে ওঠা তেরোটি পালংয়ের বিনিসুতোয় গাঁথা উখিয়া উপজেলা। শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতিতে কোন দিক দিয়ে পিঁছিয়ে নেই উখিয়া উপজেলা। ১৫ লক্ষ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়ার এই জনপদে নেই কোন বিনোদন নেই কোন আনন্দের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।
শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য ছুটির দিনে সময় কাটানোর জন্য একটি চিত্তবিনোদন কেন্দ্র অর্থাৎ শিশুপার্ক অত্যান্ত প্রয়োজন।
এই বিষয়ে উখিয়া উপজেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ,রাজনীতিবিদ,অধ্যাপক তহিদুল আলমের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান শিশুপার্ক বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উখিয়ার শিশু,কিশোর, বয়োবৃদ্ধ মানুষের জন্য চিত্তবিনোদনের কোন ব্যবস্থা নেই, গত সতেরো বছর উন্নয়নের নামে আওয়ামীলীগ সরকার হরিলুট করেছে। চোখে পড়ার মতো কোন উন্নয়ন করেনি,আমি উখিয়া টেকনাফের মাননীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর মাধ্যমে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করছি উখিয়ায় শিশু কিশোর বয়োবৃদ্ধের আনন্দময় সময় কাটানোর জন্য একটি শিশুপার্ক একান্ত আব্যশক। এবং এটি সময়ের দাবি।
বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমার প্রাণেরদাবি দেশের প্রথম উন্নয়নটি উখিয়া থেকে শুরু হোক। একটি শিশুপার্ক উখিয়াবাসীর গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশার মধ্যে অন্যতম।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৫ পিএম
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আজ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এসব কর্মসূচি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দিশেহারা জাতিকে নতুন পথ দেখিয়েছিল।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন ভোর ৫টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দিন ভোরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়া এর আগের দিন ২৫ মার্চ রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশকে এক স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে। বিগত সময়ে মানুষের সব স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে গুম ও খুনের মাধ্যমে এক ভয়াবহ বন্দিদশা তৈরি করা হয়েছিল। যারা স্বাধীনতাকে দুর্বল করতে চেয়েছিল, তারা আজ পরাজিত।

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য নিজের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন। তাঁর ত্যাগের বিনিময়েই দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এখন মানুষ অন্তত নির্ভয়ে কথা বলতে পারছে। গঠনমূলক সমালোচনা করার পরও কেউ রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হচ্ছে না—এটিই নতুন বাংলাদেশের বড় অর্জন।’

তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের সামনে যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তা পূরণের লক্ষ্যে দেশ ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সবকিছু গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।’

নতুন গণতন্ত্রের এই পথচলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এখনো কুৎসা রটাচ্ছে, তাদের গায়ে ফ্যাসিবাদের তকমা লেগে যাবে।’

মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা

ফুলছড়িঘাটের বেড়িবাধে ঈদের দ্বিতীয় দিন বিনোদনপ্রেমীদের জনসমুদ্র

মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
ফুলছড়িঘাটের বেড়িবাধে ঈদের দ্বিতীয় দিন বিনোদনপ্রেমীদের জনসমুদ্র

পবিত্র ঈদ উপলক্ষে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ফুলছড়ি বেড়িবাঁধ এলাকায় মানুষের ঢল নেমেছে। ঈদের দিন বিকেল থেকে শুরু করে দ্বিতীয় দিন রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো বেড়িবাঁধ এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই বেড়িবাঁধ ও নদীর পাড়ে ভিড় জমায়। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে সেখানে ছবি তোলা, ঘোরাঘুরি আবার কেউ কেউ পরিবার সহ নৌকায় করে চড়ে ঘুরছে এবং কেউ আবারভআড্ডায় মেতে ওঠেন।

ফুলছড়ি বেড়িবাঁধ ও হাজিরহাট শাপলা চত্বরের আশপাশে অস্থায়ী দোকানপাট, ফুচকা, চটপটি ও আইসক্রিম বিক্রেতাদের ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে। এতে করে এলাকাটি এক প্রকার মেলায় পরিণত হয়। শিশুদের আনন্দ উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো।

তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কিছুটা যানজটেরও সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।

একজন দর্শনার্থীরা বলেন, “ঈদের আনন্দটা পরিবারের বাইরে বন্ধুদের সাথে ভাগাভাগি করতেই এখানে আসা। পরিবেশটা খুবই সুন্দর ও ভালো লাগার মতো।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ঈদের সময় এমন জনসমাগমকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

error: Content is protected !!