শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

লড়াই করে যাচ্ছেন জুতার কারিগরেরা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩৭ পিএম | 40 বার পড়া হয়েছে
লড়াই করে যাচ্ছেন জুতার কারিগরেরা

নরসিংদী জেলার আরগীনগর মোড়ে গেলেই প্রথমেই নাকে ভেসে আসে একধরনের তীব্র আঠার গন্ধ। চারপাশে তাকালেই দেখা যায়, বিভিন্ন শিল্পকারখানার বাইরে ছোট ছোট কারিগরদের হাতে তৈরি হচ্ছে জুতা। সেই জুতার আঠার ঘ্রাণই যেন জানান দেয়—এখানে এখনো টিকে আছে ঐতিহ্যবাহী হাতে তৈরি জুতার কারখানা।

একসময় এই হাতে তৈরি জুতার বাজার ছিল জমজমাট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন ক্রেতার উপস্থিতি আগের মতো চোখে পড়ে না। শুধু ঈদ মৌসুমে কিছুটা ভিড় দেখা গেলেও তা বড় বড় শোরুমের সঙ্গে তুলনা করলে খুবই নগণ্য। ফলে চিরচেনা এসব দোকান ধীরে ধীরে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ছে।

এখানকার উদ্যোক্তারা নীরবে নিজেদের কাজ করে যাচ্ছেন। কোথাও কয়েকজন শ্রমিক মিলে জুতা তৈরি করছেন, আবার কোথাও একজন কারিগরই একাই ফিতা কাটা, সেলাই থেকে শুরু করে পুরো জুতা তৈরির কাজ সামলাচ্ছেন।

স্থানীয় এক দোকানদার দিলীপ রবি দাস বলেন, বহু দিন ধরেই তিনি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। একসময় একটি বড় কোম্পানিতে চাকরি করলেও পরে তা হারিয়ে নিজেই ছোট পরিসরে দোকান গড়ে তোলেন। তিনি বলেন, ‘ঈদ মৌসুম ছাড়া আমাদের প্রায় ক্রেতাশূন্য থাকতে হয়। দুই ঈদ ছাড়া সারা বছরই কষ্টে দিন কাটে। জুতা বিক্রি করে ঠিকমতো সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় ব্যবসা বড় করা সম্ভব হচ্ছে না। কিস্তির ওপর নির্ভর করেই চলতে হচ্ছে পুরো বছর। নতুন ডিজাইন বা উন্নত মানের জুতা তৈরির ইচ্ছা থাকলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

দিলীপ রবি দাসের মতে, বড় বড় শোরুমের ভিড়ে তাঁদের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্রেতা মূলত নিম্ন আয়ের মানুষ। তাঁরা ৫০০-৬০০ টাকার মধ্যে চামড়ার স্যান্ডেল খোঁজেন। আমরা চাইলে ভালো মানের দামি জুতা তৈরি করতে পারি, কিন্তু তখন ক্রেতারা শোরুমমুখী হয়ে গেছেন।’

পাশের আরেক দোকানদার বিপ্লব কুমার দাস বলেন, প্রায় ২৫-৩০ বছর ধরে তাঁরা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আগে এত ব্র্যান্ডের দোকান ছিল না। তখন গ্রামাঞ্চল থেকেও আমাদের কাছে অর্ডার আসত। আমরা জুতা তৈরি করে সরবরাহ করতাম। এখন সেই অর্ডার নেই বললেই চলে। সবকিছু বড় কোম্পানির দখলে চলে গেছে।’

নরসিংদী বড় বাজারসংলগ্ন আরেক কারিগর আনিস মিয়া কিছুটা আশার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এখন ঈদের সময়, তাই ব্যবসা কিছুটা ভালো যাচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ আসছেন। মাঝে মাঝে কিছু ক্রেতা ভালো মানের জুতা চান, তাঁদের জন্য আমরা উন্নত মানের জুতা তৈরি করি।’

ক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে ভিন্ন বাস্তবতা। অটোচালক রমজান আলী জানান, স্বল্প আয়ের কারণে তিনি শোরুমে গিয়ে জুতা কেনার সামর্থ্য রাখেন না। তিনি বলেন, ‘এখানে কম দামে ভালো জুতা পাওয়া যায়। আমি ৭০০ টাকায় ভালো জুতা কিনেছি। শোরুমে গেলে এত কম দামে পাওয়া সম্ভব না।’

সব মিলিয়ে নরসিংদীর এই হাতে তৈরি জুতাশিল্প এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে বড় ব্র্যান্ডের প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে পুঁজির অভাব ও কমে যাওয়া চাহিদা—সবকিছু মিলিয়ে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষের জন্য টিকে থাকাই যেন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নরসিংদী বাজার কমিটির সভাপতি বাবুল সরকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে বিক্রি কমছে, জুতার বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বাড়ছে—সেই তুলনায় জুতার দাম বাড়ছে না। হাতে তৈরি দোকানদারদের বিক্রিতে মন্দা যাচ্ছে। হয়তো এখন ঈদ উপলক্ষে একটু বেচাকেনা ভালো।’

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪০ পিএম
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবার সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় পরিণত হয় এক উষ্ণ, আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মুহূর্তে।

১৪ স্বজন হারিয়ে তিন পরিবারে ঈদের দিনেও সুনসান নীরবতা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৭ পিএম
১৪ স্বজন হারিয়ে তিন পরিবারে ঈদের দিনেও সুনসান নীরবতা

বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কে বাস-মাইক্রো বাসের সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জনের প্রাণ হারানোর ঘটনায় তাঁদের পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। দুর্ঘটনার শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি স্বজনহারা পরিবার তিনটি। এখনো শোকের ছায়া ও স্বজনদের শূন্যতায় বিবর্ণ বেঁচে থাকা মানুষগুলো। বিগত ঈদগুলোতে নানা আয়োজন থাকলেও, এবারের ঈদে কোনো আয়োজন নেই এসব পরিবারে। এমনকি প্রতিবেশীদের মাঝেও রয়েছে দীর্ঘদিনের আপনজনকে হারানোর শূন্যতা।

মোংলা উপজেলা পরিষদের কাছে ছত্তার লেনের আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। পুরোনো ইটের মলিন গেট। চারদিকে শোকের আবহ আর স্বজন হারানো হাহাকার। অথচ প্রতিবছর ঈদের সময় শিশু-কিশোর ও আত্মীয়স্বজনদের পদচারণা উৎসব-আনন্দের মুখরিত থাকত বাড়িটি। এবার ঈদে কোনো আনন্দ নেই।

রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোংলার আব্দুর রজ্জাকসহ তাঁর পরিবারের ৯ সদস্য প্রাণ হারান এক সপ্তাহ পার হয়েছে। তবে স্বাভাবিক হতে পারেনি তাঁদের স্বজনেরা। একসঙ্গে এতজন স্বজনের মৃত্যুতে ঈদের কোনো আয়োজনই নেই তাঁদের। এখনো কবর স্থান ও শোকাহত স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে কাটছে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী, তিন সন্তান, বাবাসহ ১৩ স্বজনকে হারানো আশরাফুল ইসলাম জনির।

আশরাফুল ইসলাম জনি বলেন, ‘আমার কি আর ঈদ আছে? এক দুর্ঘটনা আমার সব শেষ করে দিয়েছে। বাবা, ভাই, স্ত্রী, তিন ছেলে-মেয়ে, বোন, বোনের ছেলে, ভাইয়ের নতুন বউ সবই হারিয়েছি। এখন শুধু আমার মা আর দুটো ভাই বেঁচে আছে। আমাদের আর ঈদ নেই। কখনো মাকে সান্ত্বনা, আবার কখনো কবর জিয়ারত–এভাবেই আমার দিন কাটছে।’

শুধু এই পরিবার নয়, আশপাশের মানুষেরও ঈদের আনন্দ মেলান হয়েছে এই শোকে। দীর্ঘদিনের সহযাত্রীদের হারিয়ে শূন্যতা তৈরি হয়েছে প্রতিবেশী ও স্বজনদের মাঝে।

বাগেরহাট দুর্ঘটনা: নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্নবাগেরহাট দুর্ঘটনা: নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন
মো. গনি সরদার নামের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘মামা (আব্দুর রাজ্জাক) প্রতিবছর এলাকার মানুষকে ঈদের আগে খাবার দিতেন, কাপড় দিতেন। গ্রামের অনেক মানুষের জন্য টাকা পাঠাতেন। আর এই সময় পুরো বাড়ি ভরা লোকজন থাকত। আজ কেউ নেই, সব শেষ হয়ে গেছে। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই।’

রুমিচা বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘সেই দুর্ঘটনার পর থেকে এই বাড়ির মানুষের খাওয়া, গোসল কিছুই ঠিক নেই। তাঁরা কিসের ঈদ করবে। আমাদেরই ঈদের কোনো প্রস্তুতি নেই। এতগুলো লোক মারা গেল, আমরা কীভাবে ভালো থাকি বলেন।’

রবিউল নামের এক যুবক বলেন, ‘আব্দুর রাজ্জাক কাকা ও তাঁর ছেলেদের সঙ্গে এক সঙ্গে তারাবি ও ঈদের নামাজ পড়েছি দীর্ঘদিন। আর এবার ঈদ ঠিকই এসেছে, কিন্তু তাঁরা বেঁচে নেই। কেমন জানি একটা শূন্যতা অনুভব হয় মনের মধ্যে।’

এদিকে স্বামীর রুহের মাগফিরাত কামনায় মোংলা উপজেলার কুমারখালি শিকারি মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মাইক্রো বাসচালক নাইমের স্ত্রী কবিতা আক্তার। একমাত্র মেয়ে ও শাশুড়িকে নিয়ে অথই সাগরে পড়েছেন তিনি। সবশেষ বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় নাইম তাঁকে বলেছিলেন, ভাড়া থেকে এসে মেয়ে ও পরিবারের জন্য ঈদের পোশাক কিনবেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানো এই পরিবারেও নেই ঈদ উৎসব।

ইরান যুদ্ধ গুটিয়ে আনার সময়সীমা বললেন ট্রাম্প

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৫ পিএম
ইরান যুদ্ধ গুটিয়ে আনার সময়সীমা বললেন ট্রাম্প

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধ আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে গুটিয়ে আসতে পারে। তবে যুদ্ধের এই সময়সীমা নিয়ে নতুন তথ্য দিলেও স্থলসেনা মোতায়েনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এখনো নীরবতা বজায় রেখেছে হোয়াইট হাউস।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন থেকে ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে ফেরার পথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্ট করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে তিনি দাবি করেন, মার্কিন অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষমতাও পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি।’

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এর মেয়াদ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। কত দিন ধরে লড়াই চলবে, কোন কোন ফ্রন্টে যুদ্ধ হবে কিংবা কোন লক্ষ্য অর্জিত হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে ‘বিজয়ী’ ঘোষণা করবে, তা নিয়ে হোয়াইট হাউস বরাবরই ধোঁয়াশা বজায় রেখেছিল। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের দেওয়া ‘৪ থেকে ৬ সপ্তাহ’ সময়সীমাটিকে প্রশাসনের নতুন অবস্থান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক সাফল্যের খতিয়ান দিলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। ইরান ভূখণ্ডে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন করা হবে কি না, তা নিয়ে সারা বিশ্বে জল্পনা চললেও ট্রাম্পের পোস্টে এ বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থল যুদ্ধ শুরু হলে সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী এবং রক্তক্ষয়ী হতে পারে, যা এড়াতে চাচ্ছে ওয়াশিংটন।

error: Content is protected !!