শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪০ পিএম | 72 বার পড়া হয়েছে
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবার সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় পরিণত হয় এক উষ্ণ, আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মুহূর্তে।

টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে ঈদ আনন্দ মেলা: দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

খন্দকার আউয়াল ভাসানী (টাঙ্গাইল)  প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে ঈদ আনন্দ মেলা: দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য ঈদ আনন্দ মেলা, যা উপভোগ করতে ভিড় জমিয়েছেন হাজার হাজার দর্শনার্থী। সকাল থেকেই মেলার মাঠে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ—শিশু, কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মেলায় বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় স্টল, নাগরদোলা, খেলনা, পিঠাপুলি ও মুখরোচক খাবারের দোকান দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে। শিশুদের হাসি-আনন্দ আর বড়দের ব্যস্ত পদচারণায় পুরো মেলাপ্রাঙ্গণ যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

বিশেষ করে বিকেলের পর দর্শনার্থীদের ঢল নামতে শুরু করে, যা সন্ধ্যার দিকে গিয়ে উপচে পড়া ভিড়ে রূপ নেয়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকায় সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে মেলা উপভোগ করতে পারছেন।

স্থানীয়দের মতে, এমন আয়োজন শুধু বিনোদনই নয়, বরং ঈদের আনন্দকে সবার মাঝে ভাগাভাগি করার একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করে। প্রতি বছরের মতো এবারও ভূঞাপুরের এই ঈদ আনন্দ মেলা মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিয়েছে।

১৪ স্বজন হারিয়ে তিন পরিবারে ঈদের দিনেও সুনসান নীরবতা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৭ পিএম
১৪ স্বজন হারিয়ে তিন পরিবারে ঈদের দিনেও সুনসান নীরবতা

বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কে বাস-মাইক্রো বাসের সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জনের প্রাণ হারানোর ঘটনায় তাঁদের পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। দুর্ঘটনার শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি স্বজনহারা পরিবার তিনটি। এখনো শোকের ছায়া ও স্বজনদের শূন্যতায় বিবর্ণ বেঁচে থাকা মানুষগুলো। বিগত ঈদগুলোতে নানা আয়োজন থাকলেও, এবারের ঈদে কোনো আয়োজন নেই এসব পরিবারে। এমনকি প্রতিবেশীদের মাঝেও রয়েছে দীর্ঘদিনের আপনজনকে হারানোর শূন্যতা।

মোংলা উপজেলা পরিষদের কাছে ছত্তার লেনের আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। পুরোনো ইটের মলিন গেট। চারদিকে শোকের আবহ আর স্বজন হারানো হাহাকার। অথচ প্রতিবছর ঈদের সময় শিশু-কিশোর ও আত্মীয়স্বজনদের পদচারণা উৎসব-আনন্দের মুখরিত থাকত বাড়িটি। এবার ঈদে কোনো আনন্দ নেই।

রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোংলার আব্দুর রজ্জাকসহ তাঁর পরিবারের ৯ সদস্য প্রাণ হারান এক সপ্তাহ পার হয়েছে। তবে স্বাভাবিক হতে পারেনি তাঁদের স্বজনেরা। একসঙ্গে এতজন স্বজনের মৃত্যুতে ঈদের কোনো আয়োজনই নেই তাঁদের। এখনো কবর স্থান ও শোকাহত স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে কাটছে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী, তিন সন্তান, বাবাসহ ১৩ স্বজনকে হারানো আশরাফুল ইসলাম জনির।

আশরাফুল ইসলাম জনি বলেন, ‘আমার কি আর ঈদ আছে? এক দুর্ঘটনা আমার সব শেষ করে দিয়েছে। বাবা, ভাই, স্ত্রী, তিন ছেলে-মেয়ে, বোন, বোনের ছেলে, ভাইয়ের নতুন বউ সবই হারিয়েছি। এখন শুধু আমার মা আর দুটো ভাই বেঁচে আছে। আমাদের আর ঈদ নেই। কখনো মাকে সান্ত্বনা, আবার কখনো কবর জিয়ারত–এভাবেই আমার দিন কাটছে।’

শুধু এই পরিবার নয়, আশপাশের মানুষেরও ঈদের আনন্দ মেলান হয়েছে এই শোকে। দীর্ঘদিনের সহযাত্রীদের হারিয়ে শূন্যতা তৈরি হয়েছে প্রতিবেশী ও স্বজনদের মাঝে।

বাগেরহাট দুর্ঘটনা: নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্নবাগেরহাট দুর্ঘটনা: নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন
মো. গনি সরদার নামের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘মামা (আব্দুর রাজ্জাক) প্রতিবছর এলাকার মানুষকে ঈদের আগে খাবার দিতেন, কাপড় দিতেন। গ্রামের অনেক মানুষের জন্য টাকা পাঠাতেন। আর এই সময় পুরো বাড়ি ভরা লোকজন থাকত। আজ কেউ নেই, সব শেষ হয়ে গেছে। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই।’

রুমিচা বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘সেই দুর্ঘটনার পর থেকে এই বাড়ির মানুষের খাওয়া, গোসল কিছুই ঠিক নেই। তাঁরা কিসের ঈদ করবে। আমাদেরই ঈদের কোনো প্রস্তুতি নেই। এতগুলো লোক মারা গেল, আমরা কীভাবে ভালো থাকি বলেন।’

রবিউল নামের এক যুবক বলেন, ‘আব্দুর রাজ্জাক কাকা ও তাঁর ছেলেদের সঙ্গে এক সঙ্গে তারাবি ও ঈদের নামাজ পড়েছি দীর্ঘদিন। আর এবার ঈদ ঠিকই এসেছে, কিন্তু তাঁরা বেঁচে নেই। কেমন জানি একটা শূন্যতা অনুভব হয় মনের মধ্যে।’

এদিকে স্বামীর রুহের মাগফিরাত কামনায় মোংলা উপজেলার কুমারখালি শিকারি মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মাইক্রো বাসচালক নাইমের স্ত্রী কবিতা আক্তার। একমাত্র মেয়ে ও শাশুড়িকে নিয়ে অথই সাগরে পড়েছেন তিনি। সবশেষ বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় নাইম তাঁকে বলেছিলেন, ভাড়া থেকে এসে মেয়ে ও পরিবারের জন্য ঈদের পোশাক কিনবেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানো এই পরিবারেও নেই ঈদ উৎসব।

ইরান যুদ্ধ গুটিয়ে আনার সময়সীমা বললেন ট্রাম্প

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৫ পিএম
ইরান যুদ্ধ গুটিয়ে আনার সময়সীমা বললেন ট্রাম্প

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধ আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে গুটিয়ে আসতে পারে। তবে যুদ্ধের এই সময়সীমা নিয়ে নতুন তথ্য দিলেও স্থলসেনা মোতায়েনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এখনো নীরবতা বজায় রেখেছে হোয়াইট হাউস।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন থেকে ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে ফেরার পথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্ট করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে তিনি দাবি করেন, মার্কিন অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষমতাও পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি।’

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এর মেয়াদ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। কত দিন ধরে লড়াই চলবে, কোন কোন ফ্রন্টে যুদ্ধ হবে কিংবা কোন লক্ষ্য অর্জিত হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে ‘বিজয়ী’ ঘোষণা করবে, তা নিয়ে হোয়াইট হাউস বরাবরই ধোঁয়াশা বজায় রেখেছিল। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের দেওয়া ‘৪ থেকে ৬ সপ্তাহ’ সময়সীমাটিকে প্রশাসনের নতুন অবস্থান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক সাফল্যের খতিয়ান দিলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। ইরান ভূখণ্ডে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন করা হবে কি না, তা নিয়ে সারা বিশ্বে জল্পনা চললেও ট্রাম্পের পোস্টে এ বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থল যুদ্ধ শুরু হলে সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী এবং রক্তক্ষয়ী হতে পারে, যা এড়াতে চাচ্ছে ওয়াশিংটন।

error: Content is protected !!