আল-আকসায় ঈদের নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের ওপর ইসরায়েলের হামলা
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা অজুহাতে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্স বন্ধ করে রেখেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) রমজানের শেষ দিনে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে আল-আকসায় নামাজ পড়তে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম রমজান মাস শেষে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে আজ সকালে শত শত মুসল্লি মসজিদের বাইরে নামাজ পড়তে বাধ্য হন। কারণ, ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদের প্রবেশপথগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তথাকথিত ‘নিরাপত্তা শঙ্কার’ দোহাই দিয়ে মসজিদটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসরায়েল যুদ্ধের অজুহাতে আল-আকসা কমপ্লেক্স তথা আল-হারাম আল-শরিফের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। আল-কুদস ইউনিভার্সিটির মিডিয়া ইউনিটের পরিচালক খলিল আসালি এই পরিস্থিতিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সাধারণত ঈদের আগে আল-আকসা মসজিদ ও জেরুজালেমের পুরোনো শহরের আশপাশের অলিগলি থাকে লোকে লোকারণ্য। তবে আজ সেখানে ছিল ভুতুড়ে নিস্তব্ধতা। ফার্মেসি ও জরুরি খাদ্যের দোকান ছাড়া সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। পরবর্তী সময় আল-আকসার খতিব ও সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ইকরিমা সাবরি মুসল্লিদের মসজিদের নিকটতম স্থানে (বাইরে) ঈদের নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান।
আরব লিগ এই পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। ওআইসি, আরব লিগ এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েলের এই ধরনের কর্মকাণ্ড ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থার গুরুতর লঙ্ঘন এবং বিশ্ব মুসলিমের অনুভূতির ওপর চরম উসকানি। এর ফলে সৃষ্ট যেকোনো সহিংসতার দায়ভার দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েলকেই নিতে হবে।’
এদিকে গাজায় মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। অনবরত ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ আর ধ্বংসস্তূপের মাঝেই লাখো মানুষ রমজান শেষ করে ঈদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেইর আল-বালাহতে আশ্রয় নেওয়া সিদ্দিকা ওমর (৩২) জানান, কারও ঘর নেই, কারও পরিবার নেই, তাঁর স্বামীও সীমান্ত বন্ধ থাকায় ফিরতে পারছেন না—ফলে ঈদের আনন্দ এখানে অপূর্ণ।
খান ইউনিসের আলা আল-ফাররা (৪৯) বলেন, ‘আকস্মিক বিমান হামলার ভয়ে আমাদের চলাচল সীমিত, তাই এবারের ঈদ আগের চেয়ে আলাদা কিছু নয়।’
গাজা সিটির খলুদ বাবা (৪২) জানান, যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও গত সপ্তাহেও তাদের এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, ফলে ইফতারের সময় মানুষ সবকিছু ফেলে পালাতে বাধ্য হয়। আজ অনেক মা তাঁদের হারানো সন্তানদের কথা মনে করে নিভৃতে চোখের জল ফেলছেন, যাঁদের কাছে ঈদ এখন কেবলই এক স্মৃতি। তবে এত শোকের মাঝেও কিছু ঐতিহ্য টিকে আছে। ত্রাণ শিবিরের অস্থায়ী চুলায় ‘কায়েক’ ও ‘মামুল’ পেস্ট্রির সুগন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।














