সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

তাড়াশে আওয়ামী লীগ নেতাদের পাঁচ কোটি টাকার শিক্ষা বাণিজ্য

Md.Khalid Hasan
Md.Khalid Hasan - Staff Reporter, TARASH (SIRAJGING) প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৯ পিএম | 79 বার পড়া হয়েছে
তাড়াশে আওয়ামী লীগ নেতাদের পাঁচ কোটি টাকার শিক্ষা বাণিজ্য

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা দুটি প্রতিবন্ধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। একটি স্কুলে ঝুলছে তালা, অন্যটিতে গড়ে তোলা হয়েছে হাঁসের খামার। চাকরির আশায় লাখ লাখ টাকা ডোনেশন দিয়ে নিয়োগ পাওয়া শতাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী এখন বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

‎অভিযোগ রয়েছে, প্রায় পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠাতারা আত্মগোপনে রয়েছেন।

‎ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কৌশলে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও এখন দায় এড়াতে প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠাতাদের কেউ অসুস্থতার ভান করছেন, কেউ আবার প্রভাবশালীদের দিয়ে তদবির চালাচ্ছেন—এমন অভিযোগও করেন শিক্ষকরা।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালে তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হক তার স্ত্রী তাহিরা হকের নামে পৌরসদরের কাউরাইল বাজারে গড়ে তোলেন ‘তাহিরা-হক প্রতিবন্ধী বিদ্যানিকেতন’। সে সময় প্রচারণা চালানো হয়—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল একজন অটিজম বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক হওয়ায় এমপিও পেতে কোনো সমস্যা হবে না।

‎এই প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পদে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে ডোনেশন দিয়ে প্রায় শতাধিক বেকার তরুণ-তরুণী চাকরিতে যোগ দেন। কেউ কেউ চাকরির শর্তে স্কুলের নামে জমিও রেজিস্ট্রি করে দেন। ওই জমিতে টিনশেড ঘর তুলে স্কুল কার্যক্রম শুরু করা হয়।

‎নিয়োগ দেওয়া হয়—১ জন প্রধান শিক্ষক, ১ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক, ২০ জন সহকারী শিক্ষক, ৬০ জন শিক্ষা সহায়কসহ আয়া, পিয়ন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, মালি ও নাইটগার্ডসহ প্রায় ২০ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী।

‎শিক্ষকদের অভিযোগ, এমপিও করানোর নামে নামকাওয়াস্তে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে তাহিরা-হক দম্পতি প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন এবং পুরো প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

‎২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অসুস্থতার অজুহাতে মো. আব্দুল হক ও তাহিরা হক আত্মগোপনে চলে যান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলটির প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই ঘটনার পর আর স্কুলটি খোলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, জমি বিক্রি ও এফডিআর ভেঙে কিছু টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও ‘বাড়াবাড়ি করলে কিছুই পাওয়া যাবে না’—এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, “চাকরির বয়স শেষ, টাকা পাব কি না জানি না—জীবনটাই অন্ধকার।”

‎ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহাদৎ হোসেন মুঠোফোনে জানান, তিনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। বিল হলে স্কুলে ফিরবেন। ডোনেশনের টাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রতিষ্ঠাতারা জানেন। এমপিও ও শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও কিভাবে কার্যক্রম চলছে—এমন প্রশ্নে তিনি ফোন কেটে দেন।

‎প্রতিষ্ঠাতা মো. আব্দুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার স্ত্রী তাহিরা হক জানান, আব্দুল হক অসুস্থ। স্কুল সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান শিক্ষকই সব জানেন বলে তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি।

‎তবে নিয়োগপত্র ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে জানা যায়, সব নিয়োগপত্রে তাহিরা হকের স্বাক্ষর রয়েছে এবং সব আর্থিক লেনদেন তাহিরা-হক দম্পতিই করেছেন। এমনকি খুটিগাছা গ্রামের জীবন সূত্রধরের কাছ থেকে চাকরির শর্তে ৩২ শতাংশ জমিও রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়। জীবন সূত্রধর বলেন, “চাকরিও হলো না, জমিটাও গেল—এখন কীভাবে চলব জানি না।”

‎‘চলনবিল বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়’: স্কুলের জায়গায় হাঁসের খামার

‎তাহিরা-হক বিদ্যানিকেতনের দেখাদেখি ২০১৫ সালে তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের কামারশোন গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘চলনবিল বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়’। সাইনবোর্ডে প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে নাম রয়েছে সগুনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জহুরুল হক শেখের। তিনি নিজেকে নিরক্ষর বলে দাবি করেন এবং জানান, তার পরিবার বিদ্যালয়ের নামে ২০ শতক জমি দান করেছে।

‎শিক্ষকদের অভিযোগ, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নাম ব্যবহার করে এমপিওর আশ্বাস দিয়ে তিনি ২০ জন শিক্ষক, ৬০ জন সহায়কসহ শতাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেন। কোনো কোনো পদে একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। এসব নিয়োগের বিনিময়ে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

‎৫ আগস্টের পর জহুরুল হক শেখ আত্মগোপনে গেলেও পরে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে এলাকায় ফিরে আসেন। বর্তমানে স্কুলটি বন্ধ এবং সেখানে হাঁসের খামার গড়ে তোলা হয়েছে।

‎প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন, “আমি নিজেও টাকা দিয়ে চাকরি নিয়েছিলাম। হঠাৎ স্কুল বন্ধ করে দেওয়ায় এখন বেকার জীবন কাটাচ্ছি।”

‎জহুরুল হক শেখ বলেন, “এটা আমার পারিবারিক জমি। সরকার এমপিও না দিলে আমি কী করব?” কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে, বাকিটা তদবিরে খরচ হয়েছে।

‎প্রশাসনের অজ্ঞতা, নজরদারির ঘাটতি

‎দুটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানতে তাড়াশ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও সমাজসেবা অফিসে খোঁজ নেওয়া হলেও কোনো নথি পাওয়া যায়নি। এমনকি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের তালিকাতেও এসব প্রতিষ্ঠানের নাম নেই।

‎তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‎সিরাজগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান খান বলেন, “আমি জেলায় নতুন। বিষয়টি সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে পারছি না।”

উত্তরা পশ্চিম থানায় কঠোরতা বাড়ছে: “কোনো অপরাধ সহ্য নয়” বললেন ওসি খালিদ মনসুর

সুমন খান: প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম
উত্তরা পশ্চিম থানায় কঠোরতা বাড়ছে: “কোনো অপরাধ সহ্য নয়” বললেন ওসি খালিদ মনসুর

 

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে মোহাম্মদ খালিদ মনসুর এক শক্তিশালী ও মানবিক বার্তা দিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন,আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করা হবে না এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে তার প্রধান অঙ্গীকার।বুধবার (২৫ মার্চ) ২০২৬ ইং আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি এই দায়িত্বকে শুধু একটি পদ হিসেবে দেখি না,এটি আমার কাছে জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার একটি অঙ্গীকার। পুলিশের পোশাক গায়ে তোলার অর্থই হচ্ছে মানুষের পাশে থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। যত চাপই আসুক, যত বাধাই আসুক—আমি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করবো না।তিনি আরও বলেন,উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস,ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং কিংবা যেকোনো অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। অপরাধী যেই হোক, তার কোনো ছাড় নেই। আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনগণই পুলিশের শক্তি,সহযোগিতা চাইলেন ,ওসি খালিদ মনসুর তার বক্তব্যে বিশেষভাবে সাধারণ মানুষের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন,আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়,এটি একটি যৌথ দায়িত্ব। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যদি আমাদের পাশে থাকেন, তাহলে আমরা খুব দ্রুত একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবো। আমিসবার,সহযোগিতা কামনা করছি।অভিজ্ঞতার আলোকে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার,পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করে অর্জিত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,আমি এর আগে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং জায়গায় কাজ করেছি। প্রতিটি জায়গায় একটি বিষয় বুঝেছি সততা, সাহস এবং জনগণের আস্থা থাকলে কোনো অপরাধই দমন করা অসম্ভব নয়। সেই অভিজ্ঞতা দিয়েই আমি উত্তরা পশ্চিম থানায় কাজ করতে চাই।দায়িত্ব গ্রহণের পরই দৃশ্যমান তৎপরতা,নতুন ওসি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে। মাদকবিরোধী অভিযান, সন্দেহভাজন অপরাধীদের ওপর নজরদারি এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।তিনি বলেন আমরা ইতোমধ্যে কিছু কার্যক্রম শুরু করেছি। খুব শিগগিরই আপনারা এর ইতিবাচক ফল দেখতে পাবেন। আমার লক্ষ্য একটাই,মানুষ যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, শান্তিতে বসবাস করতে পারে।কঠোরতা ও মানবিকতার সমন্বয় ওসি খালিদ মনসুর তার বক্তব্যে কঠোরতার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন,পুলিশ শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়, এটি মানুষের আস্থার জায়গা। আমরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হবো, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রতি থাকবো সহানুভূতিশীল। কেউ যদি ন্যায়বিচার পেতে থানায় আসে, তাকে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হতে হয়,সেটা নিশ্চিত করবো।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বদলে যাবে উত্তরা
নবাগত ওসির এমন দৃঢ় ও সুস্পষ্ট বক্তব্যে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যে অপরাধচক্রগুলো এলাকায় সক্রিয় ছিল, সেগুলো দমনে এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,ওসি সাহেব যেভাবে কথা বলেছেন এবং কাজ শুরু করেছেন, তাতে আমরা আশাবাদী উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
মোঃ খালিদ মনসুরের কণ্ঠে যে দৃঢ়তা, কথায় যে প্রতিশ্রুতিতা এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। তবে শুরুতেই তার ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থান ইতোমধ্যেই একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে,আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ছাড় নেই, অপরাধীদের জন্য উত্তরা পশ্চিম থানা আর নিরাপদ নয়।

লালমনিরহাটে জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চয়ন কুমার রায় লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
লালমনিরহাটে জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

লালমনিরহাট জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (রোববার) জেলা পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট জেলার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান। সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
​শাহাদত হোসেন সুমা, বিপিএম (বার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)।
​জিন্নাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্)।
​এ কে এম ফজলুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল)।
​জয়ন্ত কুমার সেন, সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল)।
​সালমান ফারুক, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ)।
​এছাড়াও জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ সভায় অংশ নেন।

সভায় বিগত মাসের অপরাধচিত্র তুলে ধরে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পর্যালোচনার মূল বিষয়গুলো ছিল:
​মাদক ও চোরাচালান রোধ: সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান রোধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

​মামলা তদন্ত: গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, “জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমুক্ত জেলা গড়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অপরাধ দমনে কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না।” তিনি পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন এবং সাধারণ মানুষের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে সেবা প্রদানের আহ্বান জানান।
​পরিশেষে, ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসারদের মাঝে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

নীতিনৈতিকতাহীন অর্থনির্ভর রাজনীতি দেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি: দেশবন্ধু রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদ

আন্তর্জাতিক রিপোর্টার: মো: সেলিম রানা সৌদি আরব - প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০২ পিএম
নীতিনৈতিকতাহীন অর্থনির্ভর রাজনীতি দেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি: দেশবন্ধু রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদ

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদ। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা এবং কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এম এ রউফ (কাতার) এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দেশের রাজনীতি ক্রমেই নীতি-নৈতিকতা থেকে সরে গিয়ে অর্থনির্ভর ও স্বার্থকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে—যা রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও লুটপাট এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক চক্রে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক মনোনয়ন পেতে অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় টাকার প্রভাব এবং ক্ষমতা অর্জনে অর্থের ব্যবহার—এসব কারণে রাজনীতি জনসেবার পথ থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থের হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরি পেতে ঘুষ এবং পদোন্নতির জন্য প্রভাব ও অর্থের ব্যবহার একটি সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে যারা এভাবে অর্থ ব্যয় করে পদ অর্জন করেন, তারা পরে জনগণের কাছ থেকে সেই অর্থ সুদে-আসলে আদায়ের প্রবণতায় লিপ্ত হন। এতে দুর্নীতি একটি চক্রে পরিণত হয়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অর্থলোভী ব্যক্তি কখনোই নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ ধরে রাখতে পারে না। তারা প্রয়োজনে দল ও অবস্থান পরিবর্তন করলেও তাদের মানসিকতা অপরিবর্তিত থাকে। তাই শুধু দল পরিবর্তন করে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়; প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও মানসিকতার মৌলিক পরিবর্তন।
সংগঠনটি আরও জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সৎ ও দেশপ্রেমিক মানুষ ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে, আর অসৎ ও লোভী ব্যক্তিরা সমাজে প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে এবং জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
“দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়—অর্থলোভী ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রতিহত করতে হবে। জনগণকে ব্যক্তি নয়, বরং চরিত্র, সততা ও কাজের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনীতিকে পুনরায় নীতি, সততা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই দেশ প্রকৃত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।

প্রকাশক:
অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক
দেশবন্ধু রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদ
এম এ রউফ (কাতার)
কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব।

error: Content is protected !!