রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে মোহাম্মদ খালিদ মনসুর এক শক্তিশালী ও মানবিক বার্তা দিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন,আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করা হবে না এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে তার প্রধান অঙ্গীকার।বুধবার (২৫ মার্চ) ২০২৬ ইং আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি এই দায়িত্বকে শুধু একটি পদ হিসেবে দেখি না,এটি আমার কাছে জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার একটি অঙ্গীকার। পুলিশের পোশাক গায়ে তোলার অর্থই হচ্ছে মানুষের পাশে থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। যত চাপই আসুক, যত বাধাই আসুক—আমি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করবো না।তিনি আরও বলেন,উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস,ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং কিংবা যেকোনো অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। অপরাধী যেই হোক, তার কোনো ছাড় নেই। আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনগণই পুলিশের শক্তি,সহযোগিতা চাইলেন ,ওসি খালিদ মনসুর তার বক্তব্যে বিশেষভাবে সাধারণ মানুষের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন,আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়,এটি একটি যৌথ দায়িত্ব। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যদি আমাদের পাশে থাকেন, তাহলে আমরা খুব দ্রুত একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবো। আমিসবার,সহযোগিতা কামনা করছি।অভিজ্ঞতার আলোকে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার,পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করে অর্জিত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,আমি এর আগে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং জায়গায় কাজ করেছি। প্রতিটি জায়গায় একটি বিষয় বুঝেছি সততা, সাহস এবং জনগণের আস্থা থাকলে কোনো অপরাধই দমন করা অসম্ভব নয়। সেই অভিজ্ঞতা দিয়েই আমি উত্তরা পশ্চিম থানায় কাজ করতে চাই।দায়িত্ব গ্রহণের পরই দৃশ্যমান তৎপরতা,নতুন ওসি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে। মাদকবিরোধী অভিযান, সন্দেহভাজন অপরাধীদের ওপর নজরদারি এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।তিনি বলেন আমরা ইতোমধ্যে কিছু কার্যক্রম শুরু করেছি। খুব শিগগিরই আপনারা এর ইতিবাচক ফল দেখতে পাবেন। আমার লক্ষ্য একটাই,মানুষ যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, শান্তিতে বসবাস করতে পারে।কঠোরতা ও মানবিকতার সমন্বয় ওসি খালিদ মনসুর তার বক্তব্যে কঠোরতার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন,পুলিশ শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়, এটি মানুষের আস্থার জায়গা। আমরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হবো, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রতি থাকবো সহানুভূতিশীল। কেউ যদি ন্যায়বিচার পেতে থানায় আসে, তাকে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হতে হয়,সেটা নিশ্চিত করবো।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বদলে যাবে উত্তরা
নবাগত ওসির এমন দৃঢ় ও সুস্পষ্ট বক্তব্যে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যে অপরাধচক্রগুলো এলাকায় সক্রিয় ছিল, সেগুলো দমনে এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,ওসি সাহেব যেভাবে কথা বলেছেন এবং কাজ শুরু করেছেন, তাতে আমরা আশাবাদী উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
মোঃ খালিদ মনসুরের কণ্ঠে যে দৃঢ়তা, কথায় যে প্রতিশ্রুতিতা এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। তবে শুরুতেই তার ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থান ইতোমধ্যেই একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে,আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ছাড় নেই, অপরাধীদের জন্য উত্তরা পশ্চিম থানা আর নিরাপদ নয়।
