শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

মো : সেলিম রানা

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের সাত প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:৫৫ এএম | 155 বার পড়া হয়েছে
ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের সাত প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

ওমানের দুকুম সিদরা এলাকায় ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার একই ইউনিয়নের সাতজন বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে) এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতরা ওমানে একটি নির্মাণ কোম্পানিতে কাজ করতেন। বুধবার বিকেলে তারা কাজ শেষে গাড়িযোগে নিজ কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে দুকুম সিদরা এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের গাড়িটি উল্টে গিয়ে রাস্তার পাশে ধাক্কা খেলে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের সবাই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার একই ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে —
১⃣ মো. জাহাঙ্গীর আলম
২⃣ মো. নাছির উদ্দিন
৩⃣ মো. সেলিম
৪⃣ মো. রফিকুল ইসলাম
৫⃣ মো. হারুনুর রশিদ
(বাকি দু’জনের নাম এখনও নিশ্চিত নয়।)

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের গ্রামের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজন ও এলাকাবাসী আহাজারিতে ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

ওমানের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। ফলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটান।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, নিহতরা সবাই পরিশ্রমী ও সৎ কর্মী ছিলেন। জীবিকার তাগিদে পরিবার-পরিজন রেখে দূর দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেই দেশেই শেষ হলো তাদের জীবনযাত্রা।

🔹 সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার বিষয়ে ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

আল্লাহ তায়ালা নিহতদের জান্নাত দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে এই কঠিন সময় ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। 🤲

এলাকাবাসী সংস্কারের দাবি জানিয়েছে

দিঘলিয়া সেনহাটি ইউনিয়নে ইটের সড়কের ভয়াবহ মরণ ফাঁদ

জাহিদ হোসেন, দিঘলিয়া প্রতিনিধি-খুলনা প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
দিঘলিয়া সেনহাটি ইউনিয়নে ইটের সড়কের ভয়াবহ মরণ ফাঁদ

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের শেখপাড়া এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বর্তমানে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এলাকার আতাই নদীর তীর ঘেঁষে নির্মিত ইটের সলিংয়ের এই সড়কটির অবস্থা এতটাই নাজুক হয়ে পড়েছে যে, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গেছে, বড় ধরনের ফাটল এবং কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
নদীর পানির চাপ ও ভাঙনের কারণে সড়কের পাশের অংশ ধসে পড়ছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বিশেষ করে রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম জানান, সড়কটির বর্তমান অবস্থার কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করা হলে নদীর পানির চাপে এটি পুরোপুরি ভেঙে যেতে পারে।”তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সড়কটি ভেঙে গেলে আশপাশের শত শত বিঘা কৃষিজমি ও মৎস্য ঘের মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। এতে করে এলাকার কৃষক ও ঘের মালিকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হবে।
এলাকাবাসী জানান, এই সড়কটি তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।
শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ সকল শ্রেণির মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে থাকেন। সড়কের এমন দুরবস্থার কারণে যেকোনো সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী করে তোলা হবে।

চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি: (আহমদ রেজা)

হাফেজ মোহাম্মদ হোসাইন (রহ.)-এর স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি: (আহমদ রেজা) প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪১ পিএম
হাফেজ মোহাম্মদ হোসাইন (রহ.)-এর স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উত্তর বন্দর গ্রামে প্রখ্যাত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক হাফেজ মোহাম্মদ হোসাইন (রহ.)-এর স্মরণে দোয়া, মিলাদ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) বিকাল ৪টা থেকে বাদ এশা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, মাওলানা মুফতি নঈম উদ্দিন আল কাদেরী (রহ.)-এর সহযোদ্ধা এবং আনোয়ারা উপজেলায় ইসলামী ছাত্রসেনা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক হাফেজ মোহাম্মদ হোসাইন (রহ.) দীর্ঘ ১৬ বছর মসজিদুল ইকরার খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। গত ২৮ রমজান রাত ৯টার দিকে এতেকাফরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরদিন ২৯ রমজান রাত ৯টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তার আকস্মিক ইন্তেকালে এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে এবং এবারের ঈদকে শোকের আবহে পালন করেন স্থানীয়রা।

স্মরণ সভায় কোরআন খতম, গাউছিয়া খতম, নাতে মোস্তফা (সা.) পরিবেশন, আলোচনা সভা, মিলাদ, কিয়াম ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তর বন্দর এলাকার বিভিন্ন মসজিদের খতিব, পেশ ইমাম, মোয়াজ্জেম, হাফেজ ও ছাত্রবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— মসজিদুল ইকরা মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আলহাজ্ব মোঃ নুরুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোঃ ফারুক, মধ্য বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খালেক, উত্তর বন্দর শাহী জামে মসজিদ কমিটির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বুলু, কাফকো সিবিএ সভাপতি পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ আনিসুর রহমান চৌধুরী, উত্তর বন্দর ব্লাড ডোনেশন গ্রুপের উপদেষ্টা আলহাজ্ব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা (আনোয়ারা পশ্চিম) সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম (আনোয়ারা পশ্চিম) এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আবু সালাম, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট উত্তর বন্দর ২নং ওয়ার্ডের সভাপতি মোঃ আসাদুর রহমানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মোঃ সাদ্দাম হোসেন। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন মোঃ ইরফান আহমেদ মাঈন এবং নাতে মোস্তফা পরিবেশন করেন মোকাদ্দেস হোসেন। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন মঈনীয়া যুব ফোরাম আনোয়ারা উপজেলার সভাপতি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন সওদাগর।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, হাফেজ মোহাম্মদ হোসাইন (রহ.) প্রায় ৬৫ বছরের জীবনে ধর্মীয় শিক্ষা, শিক্ষকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। যশোরে জন্ম হলেও তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় উত্তর বন্দর গ্রামের মানুষের সাথে কাটিয়েছেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, সদালাপী ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। গ্রামের মানুষকে সাথে নিয়ে জশনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) প্রতিষ্ঠায়ও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

বক্তারা আরও বলেন, তিনি কখনো কারো সাথে কঠোর আচরণ করেননি; বরং হাসিমুখে সকলের সাথে মিশে থাকতেন এবং ইসলামের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।

পরিশেষে, মিলাদ, কিয়াম ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা হেলাল উদ্দিন আল কাদেরী ও মাওলানা মাহফুজুর রহমান আল কাদেরী।

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী

পটিয়ার ছনহরায় হজরত চিকন খলিফা ছিদ্দিক আহমদ আলিম মাদরাসার বার্ষিক সভা অনুষ্টিত

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৭ পিএম
পটিয়ার ছনহরায় হজরত চিকন খলিফা ছিদ্দিক আহমদ আলিম মাদরাসার বার্ষিক সভা অনুষ্টিত

চট্টগ্রামের পটিয়া ছনহরা হযরত চিকন খলিফা ছিদ্দিক আহমদ আলিম মাদরাসা, ছায়রা ছিদ্দিক এতিমখানা ও হেফজখানার বার্ষিক সভা ও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) বিকেলে এ সভা অনুষ্টিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসা এতিমখানা ও হেফজখানার প্রতিষ্ঠাতা এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া।বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম নেচার, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর কবির, চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ দৌলতি,সহ অনেকে ।এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন চৌধুরী, হাজী শাহেব মিয়া চম্পা খাতুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ নুরুল হক, বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান, আফরোজা বেগম জলি, আবু জাফর চৌধুরী, জিয়াউর রহমান, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, আমির হোসেন সওদাগর,কাসেম চেয়ারম্যান, নাজিম উদ্দীন, আলমগীর মেম্বার, এম এ রুবেল প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য শাহাদাত হোসেন সুমন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমান সময়ের নানা বিভাজন, হিংসা ও মতপার্থক্য ভুলে ইসলামের মহান আদর্শকে সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার ধর্ম—এই শিক্ষাকে সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে আলেম-ওলামা ও সচেতন মহলকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

error: Content is protected !!