শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

রিমন হোসেন

মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ জনগণের প্রতি নতুন সতর্কবার্তা দিলো আইআরজিসি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩১ পিএম | 25 বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ জনগণের প্রতি নতুন সতর্কবার্তা দিলো আইআরজিসি

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাধারণ মানুষকে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আশপাশের এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ নিয়ে এক নতুন বিবৃতিতে আইআরজিসি পশ্চিম এশিয়ার জনগণের উদ্দেশে এই সতর্কবার্তা দেয়। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কাপুরুষ মার্কিন ও জায়নবাদী বাহিনী, যারা নিজেদের সামরিক ঘাঁটি রক্ষার সাহস ও সক্ষমতা রাখে না, তারা ইসলামি যোদ্ধাদের হামলার ভয়ে বেসামরিক স্থাপনাকে ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।’

আইআরজিসি আরও বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী বাহিনী ও দখলদার জায়নবাদী শাসন, যারা নির্বিচারে ইরানি বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে হত্যার জন্য লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, তাদের নির্মূল করা আমাদের দায়িত্ব। তাই আমরা যেখানে তাদের খুঁজে পাব, সেখানে আঘাত হানব। এ কারণে আপনাদের প্রতি আহ্বান, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত মার্কিন ঘাঁটির আশপাশের এলাকা ত্যাগ করুন।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই অভিযানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন।

ওইদিন থেকে শুরু হওয়া অভিযান লাগাতারভাবে চলমান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলার শিকার হয়েছে, যার ফলে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার একাধিক ধাপ পরিচালনা করে দখলকৃত অঞ্চল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানগুলোকে পরিণত করেছে লক্ষ্যবস্তুতে।

৭৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট: প্রান্তিক কৃষকের দুশ্চিন্তা বাড়ছে

ডিমলায় ভয়াবহ ঝড় ও শিলাবৃষ্টি: ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

নীলফামারী প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৯ পিএম
ডিমলায় ভয়াবহ ঝড় ও শিলাবৃষ্টি: ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় আকস্মিক দমকা ঝড় ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ১২টার পর শুরু হওয়া এই দুর্যোগে কৃষি খাতের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি বসতভিটা ও গাছপালারও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।

উপজেলা সদরসহ গয়াবাড়ি, বালাপাড়া, পশ্চিম ও পূর্ব ছাতনাই, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানি, নাউতারা, টেপাখরিবাড়ি এবং খগাখরিবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ দমকা হাওয়া শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যে তা তীব্র ঝড়ে রূপ নেয় এবং সঙ্গে শুরু হয় বড় আকারের শিলাবৃষ্টি। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিটি শিলার ওজন ছিল প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অত্যন্ত বিরল ও ভয়াবহ।

এই শিলাবৃষ্টির আঘাতে আম ও লিচুর মুকুল ব্যাপকভাবে ঝরে পড়ে। পাশাপাশি গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচামরিচ ও বিভিন্ন শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই জমির ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে ভুট্টা ও মরিচের খেতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, প্রায় ৭৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভুট্টা ৫০ হেক্টর, গম ১০ হেক্টর, মরিচ ১২ হেক্টর এবং শাকসবজি ৩ হেক্টর জমি রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি এলাকার কৃষক আবুল কাশেম বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যার বেশিরভাগই ঋণ। এক রাতের ঝড়েই সব শেষ হয়ে গেল। এখন ঋণ শোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

নাউতারা ইউনিয়নের সালহাটি এলাকার কৃষক আমিনুর রহমান ও সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ জানান, তারা ঋণ নিয়ে ফসল আবাদ করেছিলেন। হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে তাদের অধিকাংশ ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

উপজেলা সদরের হাবিবা নার্সারির পরিচালক শাহজাহান ইসলাম জানান, তার নার্সারির চারা গাছ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা খুব কঠিন। সরকারি সহায়তা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।”

স্থানীয়দের মতে, গত ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে এত বড় আকারের শিলাবৃষ্টি এই এলাকায় দেখা যায়নি। অনেকের বসতঘরের টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গাছপালা ভেঙে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, বীজ ও সার সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা দ্রুত পুনরায় চাষাবাদ শুরু করতে পারেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, “ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষির পাশাপাশি অনেক পরিবারের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর সহায়তা না পেলে কৃষক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জব্দকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দকৃত পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ

গোলাম মোস্তফা, তাড়াশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দকৃত পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দকৃত পেট্রোল গায়েবের অভিযোগ উঠেছে খোদ জব্দকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই। শুক্রবার বিনসাড়া বাজারে মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান। পরে বিক্রির জন্য খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমবায় ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, দুই ড্রাম পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনে নিয়ে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান। জন প্রতি এক লিটার করে এক ড্রাম বিক্রি করেন। আরেক ড্রাম মান্নাননগর মটর শ্রমিক ফিলিং স্টেশনে বিক্রির কথা বলে নিয়ে যান।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় ও বলতে শোনা যায়, “ বিনসাড়া বাজারে জব্দকৃত এক ড্রাম পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে বিক্রি করা হয়েছে। আরেক ড্রাম ইউএনও স্যার নিয়ে যাচ্ছেন।”

অপরদিকে বিনসাড়া বাজারের মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী শাহ আলম মোল্লা বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করেন ইউএনও। অথচ, শুধু জরিমানা আদায়ের রশিদ দেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত পেট্রোলের কোন কাগজ দেওয়া হয়নি। রাত ১১ দিকে তেলের খালি ড্রাম ফেরত দিয়ে গেছেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান বলেন, অতিরিক্ত দামে বিক্রির অপরাধে ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। একই অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জব্দকৃত দুই ড্রাম তেল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে ১ লিটার করে জন প্রতি বিক্রি করা হয়েছে।

ছবি সংযুক্ত: ইউএনও তাড়াশ।

মোঃ জাহিদুল ইসলাম সানি

সমতল আদিবাসীদের পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

মোঃ জাহিদুল ইসলাম সানি প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:০৩ পিএম
সমতল আদিবাসীদের পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

সমতল অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাঁচ দফা দাবি তুলে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম। এসময় সংগঠনটির রাজশাহী মহানগর শাখার ৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটিও ঘোষণা করা হয়। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় রাজশাহী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রভাত টুডু। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিংগু মুর্মু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম, অ্যাডভোকেট উকিল মুরমু, ইলিয়াস সরেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আদিবাসী নেতারা। অনুষ্ঠানের শেষে আগামী তিন বছরের জন্য সুমী মুরমুকে সভাপতি এবং ইলিয়াস সরেন সাধারণ সম্পাদক করে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের রাজশাহী মহানগর শাখার ৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ভূমিমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপিও পেশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে যে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়, সেগুলো হলো—সমতল আদিবাসীদের মধ্য থেকে একজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ, সংরক্ষিত নারী আসনে উত্তরবঙ্গের একজন আদিবাসী নারীর সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, পৃথক আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সমতল অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছেন। রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাঠামোর বাইরে থেকে যাওয়ায় তাদের অধিকার, ভূমি এবং সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব আজও অনিরাপদ রয়ে গেছে। এই বাস্তবতায় সমতল আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে সমতল অঞ্চলে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক আদিবাসীর বসবাস। উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলায় সাঁওতাল, ওঁরাও, কোল, মুন্ডা, রাজোয়াড়, তুরি, মাহালী, মালো, মাহাতোসহ ৩২টিরও বেশি সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো তাদের জন্য পৃথক কোনো প্রশাসনিক বা আইনি কাঠামো না থাকায় ভূমি অধিকার, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তারা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, সমতল আদিবাসীদের মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগ এবং জাতীয় সংসদে আদিবাসী নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। একইভাবে পৃথক ভূমি কমিশন ও আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হলে দীর্ঘদিনের ভূমি সংকট, উচ্ছেদ, বঞ্চনা ও অধিকারহীনতার সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব হবে। উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে সমতল আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর হবে এবং দেশে একটি অধিকতর ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা পাবে।

error: Content is protected !!