সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

হাকিকুল ইসলাম খোকন

জনগণের মেয়র’ বনাম ‘অভিজ্ঞ প্রশাসক’ কাকে বেছে নেবে সিটিবাসী

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:৩২ এএম | 101 বার পড়া হয়েছে
জনগণের মেয়র’ বনাম ‘অভিজ্ঞ প্রশাসক’ কাকে বেছে নেবে সিটিবাসী

নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসছে, ততোই স্পষ্ট হচ্ছে এক পুরনো সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজন। অর্থাৎ জন্মসূত্রে নিউইয়র্কার বনাম নতুন প্রজন্মের অভিবাসী ভোটারদের দ্বন্দ্ব। শহরের চরিত্র, শ্রেণি, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির এই ফাঁকফোকর এখন পুরো নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে। উগান্ডায় জন্ম নেয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম জোহরান মামদানি বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত মুখ। তাঁর উত্থান শুধু স্থানীয় রাজনীতিতে নয়, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় দিকনির্দেশনা নিয়েও নতুন বিতর্ক ছড়িয়েছে।
জুন মাসের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমোকে ৭ পয়েন্টে হারিয়ে স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান জোহরান মামদানি চমক দেখান।
তরুণ ও নবাগত ভোটারদের মধ্যে তিনি বিশাল সমর্থন পান- বিশেষত ব্রুকলিনের বুশউইক, উইলিয়ামসবার্গ ও বেডফোর্ড-স্টাইভেসান্টের মতো গেন্ট্রিফায়েড এলাকায়।
এই এলাকাগুলোতে বসবাসরত বহু তরুণ পেশাজীবী, শিল্পী ও প্রযুক্তি-খাতের কর্মী মামদানির প্রগতিশীল নীতিকে নতুন প্রজন্মের কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, ক্যুমো শক্ত সমর্থন পেয়েছেন বহির্বোরোর (কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস ও স্টাটেন আইল্যান্ড) কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে। যেখানে গেন্ট্রিফিকেশন তুলনামূলক কম হয়েছে।
তাছাড়া ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইড ও আপার ওয়েস্ট সাইডের মতো ঐতিহ্যবাহী, উচ্চবিত্ত এলাকাতেও ক্যুমো এগিয়ে আছেন।
এই অঞ্চলগুলোর ভোটাররা তুলনামূলকভাবে বয়স্ক, শহরের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থিতিশীল নেতৃত্বের পক্ষে।
সিবিএস নিউজের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যারা গত ১০ বছরের মধ্যে নিউইয়র্কে এসেছেন, তাদের মধ্যে মামদানি ক্যুমোর চেয়ে ৫১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। আর যারা ১০ বছরের বেশি সময় ধরে শহরে আছেন, তাদের মধ্যে এই ব্যবধান কমে ১৯ পয়েন্টে রয়েছে।
জন্মসূত্রে নিউইয়র্কারদের মধ্যে ব্যবধান আরো কম, যা শহরের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিভাজন কেবল প্রজন্ম বা পাড়া পরিবর্তনের নয়- এটি শহরের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনেরও প্রতিফলন।
নতুন প্রজন্ম যেখানে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহন ভর্তুকি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো ইস্যুতে সরব, সেখানে পুরনো বাসিন্দারা নিরাপত্তা, ট্যাক্স ও গৃহহীনতা কমানোয় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এক বিশ্লেষকের ভাষায়, এই নির্বাচন কেবল একজন মেয়র নয়, বরং নিউইয়র্কের আত্মা কে ধারণ করবে- সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছে।
জোহরান মামদানি তাঁর প্রচারে নিজেকে ‘জনগণের মেয়র’ হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে ক্যুমো নিজেকে ‘অভিজ্ঞ প্রশাসক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। আসছে নভেম্বরের মেয়র নির্বাচন এখন নিউইয়র্ক সিটির দুই ভিন্ন বাস্তবতার সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে- একদিকে দ্রুত পরিবর্তিত তরুণ ও প্রগতিশীল শহর, অন্যদিকে পুরনো, অভিজ্ঞ ও ঐতিহ্যনির্ভর শহর। যে প্রার্থী এই দুই দুনিয়াকে এক সেতুবন্ধনে আনতে পারবেন, তিনিই নির্ধারণ করবেন নিউইয়র্কের আগামী অধ্যায়।

মামদানি জিতলে নিউইয়র্ক দখল করবেন
ট্রাম্প, বিস্ফোরক মন্তব্য ক্যুমোর
মামদানির প্রচার শিবির দ্রুত ক্যুমোর বক্তব্যের জবাব দিয়ে জানায়, আসলে ‘ট্রাম্প ও তাঁর ধনী দাতারা ক্যুমোকেই তাঁদের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।’
এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ট্রাম্প যখন লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড পাঠিয়েছিলেন, ক্যুমো তখন নিউইয়র্কবাসীকে আতঙ্কিত না হতে বলেছিলেন। ট্রাম্প যখন অভিবাসী প্রতিবেশীদের দেশছাড়া করছিলেন, তখন ক্যুমো তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক পরামর্শে ব্যস্ত ছিলেন।
তাদের বক্তব্য, নিউইয়র্কবাসী জানেন- অ্যান্ড্রু ক্যুমো ট্রাম্পের জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে দেবেন, আর মামদানি হবেন সেই মেয়র, যিনি ট্রাম্পের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়বেন এবং নাগরিকদের জন্য আরো সাশ্রয়ী শহর গড়বেন।
ক্যুমো এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থী নন এবং নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনও মিথ্যা। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে নির্বাচনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ক্যুমোর মতে, এখন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে এক ধরণের গৃহযুদ্ধ চলছে- একদিকে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টরা, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী ডেমোক্র্যাটরা।
তিনি বলেন, ‘মামদানি ও তাঁর গ্রুপের লক্ষ্য- পার্টিকে চরম বামপন্থায় ঠেলে দেয়া, যা মূল ডেমোক্র্যাটিক আদর্শ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।’
মেয়র এরিক অ্যাডামস নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত তিনজন- ক্যুমো, মামদানি ও রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়ার মধ্যে।
ক্যুমো বলেন, অ্যাডামস সরে দাঁড়িয়ে মহানুভবতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু এখন নিউইয়র্কবাসীর উচিত মামদানির জয়ের আশঙ্কা নিয়ে চিন্তিত হওয়া, কারণ এর ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে।
গভর্নর পদ ছেড়ে দেয়ার পর থেকে ক্যুমো নানা বিতর্কে জর্জরিত। ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ১১ নারীর ওপর যৌন হয়রানির অভিযোগে তদন্ত হয়, যদিও তিনি কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত হননি।
‘দ্য ভিউ’ অনুষ্ঠানে ক্যুমো বলেন, ‘ওই সময় আমাকে কঠিন শিক্ষা নিতে হয়েছে। এখন আমি অনেক বেশি সতর্ক- কোনো রসিকতা বা মন্তব্য করার আগে শতবার ভাবি।’
অন্যদিকে, মামদানি ইতিমধ্যেই গভর্নর ক্যাথি হোকুলসহ বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির সমর্থন পেয়েছেন। জরিপে দেখা যাচ্ছে, এখনও তিনি এগিয়ে আছেন।
নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন ঘিরে এখন এক জটিল ও তীব্র রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে। একদিকে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমোর ‘ট্রাম্প আতঙ্কের’ বক্তব্য, অন্যদিকে মামদানির শিবিরের ‘প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি’- এই দ্বন্দ্বই আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

মামদানিকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটশিবিরে অস্থিরতা
মামদানিকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেও তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পার্টির শীর্ষ নেতাদের একাংশ প্রকাশ্যে তাঁর পক্ষে অবস্থান না নেয়ায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভক্তি আরো স্পষ্ট হচ্ছে।
অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কের অনেক ডেমোক্র্যাটিক নেতা অভিযোগ করেছেন, পার্টির নেতৃত্ব- বিশেষত ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির (ডিএনসি) চেয়ারম্যান কেন মার্টিন- মামদানির প্রচারে যথেষ্ট সহায়তা করছেন না।
তাঁদের দাবি, মার্টিন ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা অতিরিক্ত সতর্ক এবং মামদানির প্রগতিশীল অবস্থান নিয়ে বিব্রত।
নাম প্রকাশ না করে একজন নেতা বলেন, কেন মার্টিনের টিম কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। তাঁরা খুবই সীমাবদ্ধভাবে কাজ করছেন।
ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেয়া মামদানি নিউইয়র্কের প্রগতিশীল রাজনীতিতে নতুন মুখ। তবে তাঁর কিছু প্রতিশ্রুতি পার্টির ভেতরেই তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছে।

মামদানির কিছু বক্তব্যে অস্বস্তিতে
কতিপয় ডেমোক্র্যাট নেতা
নিউইয়র্কে সফররত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার অঙ্গীকার, সরকারি অর্থে পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর স্থাপন, ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া স্থগিত রাখা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘গিফটেড’ শিক্ষা কর্মসূচি বাতিল, অতীতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে ‘বর্ণবাদী ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলে আখ্যা দেওয়া- এ ধরনের অবস্থান জাতীয় পর্যায়ের অনেক ডেমোক্র্যাটকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশেষ করে যারা মনে করেন, তাঁর বক্তব্য ইসরায়েল-বিরোধী বা অতিবাম ঘরানার ইমেজ তৈরি করছে। প্রাইমারিতে জয়ী হওয়ার পর ডিএনসি চেয়ারম্যান কেন মার্টিন মামদানিকে অভিনন্দন জানালেও পরে তাঁর প্রচারে সরাসরি আর অংশ নেননি। এমনকি অভিনন্দন বার্তা প্রকাশের ক্ষেত্রেও ডিএনসি নির্বাহী পরিচালক রজার লাও-এর চাপের পরই তা প্রকাশিত হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। রজার লাও বলেন, ডিএনসি সবসময় প্রাইমারি ভোটারদের সিদ্ধান্তের পাশে থাকে। ভোটাররা যখন মামদানিকেই বেছে নিয়েছেন, তখনই আমরা তাঁকে সমর্থন জানিয়েছি।
নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান জে জ্যাকবস গত সেপ্টেম্বর মাসে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, তিনি মামদানিকে সমর্থন করবেন না। তাঁর ভাষায়, ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টদের প্ল্যাটফর্ম ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নীতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তার এই অবস্থান দলেই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তবে নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সাবেক স্পিকার ক্রিস্টিন কুইন প্রকাশ্যে মামদানির পক্ষে অবস্থান নেন এবং বলেন, জ্যাকবসের অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়।
মামদানির সাফল্য কংগ্রেসনাল ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্বকেও বিভক্ত করেছে।
নিউইয়র্কের দুই শীর্ষ নেতা- হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিজ ও সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমার এখন পর্যন্ত মামদানিকে সমর্থন করেননি।
অন্যদিকে, সিনেটর ক্রিস্টিন গিলিব্র্যান্ডও নীরব। তবে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল আনুষ্ঠানিকভাবে মামদানির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
একদিকে প্রগতিশীল ভোটারদের উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে দলীয় নেতৃত্বের অস্বস্তি- এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে মামদানির প্রচার এখন পুরো ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য এক ধরনের পরীক্ষা ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্যুমোকে ভোট দেবেন রিপাবলিকান মুকেসি
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে এক চমকপ্রদ অবস্থান নিয়েছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্রবীণ রিপাবলিকান নেতা মাইকেল বি. মুকেসি।
তিনি ঘোষণা করেছেন, দলীয় প্রার্থীর পরিবর্তে তিনি ভোট দেবেন অ্যান্ড্রু ক্যুমোকে। ক্যুমো ডেমোক্র্যাট হলেও এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মুকেসি বলেন, এবারের নির্বাচন দলীয় আনুগত্যের নয়, শহর রক্ষার লড়াই। মাইকেল মুকেসি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি রোনাল্ড রিগান প্রশাসনে ফেডারেল জাজ এবং পরে জর্জ ডব্লিউ বুশ সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ইহুদি ভোটারদের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা মামদানির
ইসরায়েল নিয়ে মামদানির অবস্থানের কারণে যে সংশয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রশমিত করতেই তিনি ইহুদি নেতৃবৃন্দ ও কমিউনিটির সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে যাচ্ছেন।
আগস্টের মাঝামাঝি ব্রুকলিনে এক ইহুদি চলচ্চিত্র পরিচালকের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় সীমিত-পরিসরের এক সভা। এই সভায় অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। যাঁদের অর্ধেকের বেশি ছিলেন মডার্ন অর্থডক্স ধারার ইহুদি। তাদের অনেকেই মামদানির প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতি সংশয় প্রকাশ করেন।
একপর্যায়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, তাঁর প্রশাসনে কি পুলিশকে সিনাগগ পাহারার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হবে? জবাবে মামদানি বলেন, ‘না, সিনাগগগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। প্রয়োজনে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।’ একজন অতিথি জানান, তিনি এক ইহুদি নারীর হয়রানির ঘটনার কথা তুললে মামদানি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ইসরায়েল বা ফিলিস্তিনের সমর্থকরা নিজেদের শহরেই নিরাপদে চলাচল করতে না পারলে তাদের কেউই লাভবান হয় না ।
তিনি ইসরায়েলবিরোধী বয়কট আন্দোলনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেও শহরের ইসরায়েল ডে প্যারেডে পুলিশি নিরাপত্তা বহাল রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
মামদানি একদিকে প্রগতিশীল ইহুদি রাজনীতিকদের সঙ্গে কাজ করছেন, অন্যদিকে রক্ষণশীল ও হ্যাসিডিক নেতাদের সঙ্গেও দেখা করছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি উইলিয়ামসবার্গের সাটমার কমিউনিটির দুই বিশিষ্ট রাব্বির সঙ্গে বৈঠক করেন।
রোশ হাশানায় তিনি ব্রুকলিনের প্রগতিশীল সিনাগগ কোলট খায়েনুতে উপস্থিত ছিলেন, আর ইয়োম কিপুর উপলক্ষে ল্যাব শুল-এর প্রার্থনায় যোগ দেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেসম্যান জেরি ন্যাডলার এবং সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার। তারা দুজনেই ইহুদি এবং মামদানির প্রকাশ্য সমর্থক। নিউইয়র্ক জ্যুইস অ্যাজেন্ডার নির্বাহী পরিচালক ফিলিসা উইজডম বলেন, ইহুদি সমাজের মধ্যে মামদানিকে নিয়ে একক কোনো অনুভূতি নেই। কেউ কেউ তাঁকে আশাবাদীভাবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে প্রার্থী হিসেবে তিনি যে বৈচিত্র্যময় কমিউনিটির সঙ্গে সংলাপে আগ্রহী, সেটা ইতিবাচক। তবু বাস্তবতা হলো- বামঘেঁষা ভোটারদের মধ্যেও মামদানিকে ঘিরে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে। বিশেষত ইসরায়েলবিরোধী মন্তব্যের কারণে। চাপের মুখে মামদানি ইতোমধ্যেই হামাসের নৃশংসতার নিন্দা করেছেন এবং ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা’ স্লোগান ব্যবহার না করতে সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছেন।এখন সবার নজর আগামী ৪ নভেম্বরের দিকে। সেদিনই নির্ধারিত হবে- কে পরবেন বিজয়মাল্য- জোহরান মামদানি, নাকি অ্যান্ডু ক্যুমো।

অঞ্জনা চৌধুরী, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ

কাজিপুর পৌরসভার রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন

অঞ্জনা চৌধুরী, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
কাজিপুর পৌরসভার রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে পৌরসভার আলমপুর এনএম উচ্চ বিদ্যালয় হতে কবিহার পর্যন্ত এক কিলোমিটার আরসিসি রাস্তার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান। ১ কোটি ২২ লক্ষ ৫৯ হাজার ২২ টাকা ব্যয় বরাদ্দে কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স জিন্না এন্টার প্রাইজ।
উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম লিটন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে পক্ষে সাইফুল ইসলাম।
ইউএনও বলেন, “ গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (বেড-এ-২) এর আওতায় এই রাস্তাটি নির্মিত হলে কয়েক হাজার পৌরবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ লাঘব হবে। কাজটি ড্রইং, ডিজাইন ও এস্টিমেট অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।” (ছবি আছে)

 

সৈয়দ আব্দুল মান্নান

বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

সৈয়দ আব্দুল মান্নান প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:০০ পিএম
বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার আয়োজনে ও সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার সহযোগিতায় জালনোট প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমুলক এক ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩০ মার্চ সকাল ১১ টায় উপজেলা সভাকক্ষে এ ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার ম্যানেজার মোঃ ইব্রাহিম খলিল এর সভাপতিত্বে ওয়ার্কসপে প্রধান অতিথি ছিলেন সোনালী ব্যাংক হবিগঞ্জের ডিজিএম মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাহুবল উজ্জ্বল রায়, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার যুগ্ম পরিচালক (ক্যাশ) রান্টু চন্দ্র দাস, উপপরিচালক তানভীর আহমেদ, উপপরিচালক শুভাশীষ পাল, ম্যানেজার জনতা ব্যাংক বাহুবল শাখার ম্যানেজার হোসাইন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধা সংসদ বাহুবল এর আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ মিয়া।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাহুবল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ আবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জালনোটের উপর ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়।

উখিয়ার দলিলুর রহমান শাহীন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা

সিরাজুল কবির বুলবুল, উখিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম
উখিয়ার দলিলুর রহমান শাহীন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা

দলিলুর রহমান শাহীন একজন আপাদমস্তক বিএনপি নেতা।জন্ম ১৯৬৯ সালে সাবেক রুমখা গ্রামের ছায়া সুশীতল এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।বাবা মৃত: রশিদ আহাম্মদ, মাতা:মৃত : মাজেদা বেগম। তিন বোন তিন ভাইয়ের একটি সুন্দর পরিবারে বেড়ে উঠা স্বপ্নবাজ সাবেক ছাত্রনেতার। সাবেক রুমখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার হাতেখড়ি, পালং আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ না করে চলেযান মরিচ্যা উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখানথেকে তিনি মাধ্যমিক সার্টিফিকেট অর্জন করে প্রথমে ভর্তি হন কক্সবাজার সরকারি কলেজে। কলেজে পড়াশোনা পাশাপাশি তিনি রাজনীতি অঙ্গনে যুক্ত হন।পরে কক্সবাজার কলেজ থেকে তিনি চলে যান চট্টগ্রাম এ,জে চৌধুরী কলেজে সেই কলেজ থেকে তিনি এইচ,এস,সি পাশ করেন। পরে তিনি ১৯৯৩ সালে বি,এ, ছালে নুর কলেজ থেকে বি,এ পাশ করেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে মাস্টার্সে অধ্যায়ন করেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তিনি উখিয়ার রাজনীতি আলোচনায় আসেন,১৯৯৮ সালে তিনি উখিয়া উপজেলা (জাসাস)এর আহবায়ক নির্বাচিত হন। এর পর থেকে তিনি আর থেমে থাকেননি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা দলিলুর রহমানকে ধীরে, ধীরে নিয়ে যান মূলদলে, প্রথমে তিনি হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, পরে হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন, একসময় তিনি হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কর্মদক্ষতার ফসল স্বরুপ তিনি প্রথম বারের মতো প্রচার সম্পাদক, অর্থ ও ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন উখিয়া উপজেলা বিএনপির পরে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন,সবশেষে ৫ আগস্টের পর উখিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।বর্তমানে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন।
তৃণমূল থেকে বেড়ে উঠা এই দুর্দান্ত সাহসী নেতা রাজনৈতিক জীবনে অনেক অবদান রেখেছেন, দলের প্রতিটি মিছিল, মিটিংয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন দলকে কি এগিয়ে নিয়ে শক্তিশালী করে কি ভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এই ব্যপারে তিনি দলীয় বিচক্ষণতার পরিচয় দেন এবং সবার নজরে আসেন।২০১৮ সালে স্বৈরাচারীনি হাসিনা সরকারের লেলিয়ে দেওয়া কিছু সন্ত্রাসী তাকে চিরতরে মেরেফেলার জন্য নির্মমভাবে আহত করেন, সেদিন যথা সময়ে তার ছেলে তারেক রহমান যদি ঘটনাস্থলে ছুটে না আসতো হয়তো দলিলুর রহমান আজ বেঁচে থাকতোনা। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি একাধিক মিথ্যা মামলার স্বীকার হন।
তবুও তিনি দলের আদর্শ থেকে এক সেকেন্ডের জন্য বিচ্যুত হননি বরং নিজের দলীয় নেতাকর্মীদে সাথে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে দুর্দান্ত গতিতে সামনের সারিতে এগিয়ে যান।২৪ জুলাই ছাত্রজনতা আন্দোলনে কোর্টবাজার স্টেশনে দলিলুর রহমানের ভূমিকা ছিলো অনন্য। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীর পজিটিভ ভুমিকায় দলিলুর রহমান শাহীন রাজনীতিক ভাবে আরো বেশি তেজস্ক্রিয় হয়ে উঠেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি নিজ এলাকার উন্নয়নে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন
মসজিদ, মাদ্রাসা,কবরস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তিনি আর্থিক ভাবে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেন।
৩ ছেলে ১ মেয়ে সংসার জীবনে তিনি খুবই সন্তুষ্ট। তার তিন ছেলে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত,এক মেয়ে এখনো অধ্যায়নরত আছেন।
দলিলুর রহমান শাহীনের স্বপ্ন শহীদ জিয়ার আর্দশে নতুন বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে অনেক দুর এগিয়ে যাবে। তৃণমূলে ত্যাগীদের মুল্যায়ন হবে, নতুন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দেশে শিক্ষিত,অশিক্ষিত কোন বেকার থাকবেনা বলে তিনি মনে করেন।

error: Content is protected !!