সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

শূন্য থেকে অনন্তে

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৩:০৮ এএম | 96 বার পড়া হয়েছে
শূন্য থেকে অনন্তে

শূন্য! জীবনের শুরুটাই শূন্য। বাবা মারা গেলেন ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই। মা মারা গেলেন ছয় বছর বয়সে। আশ্রয়দাতা দাদা মারা গেলেন আট বছর বয়সে। চাচার কাছে নতুন করে আশ্রয় পেলেন। কিশোর বয়সেই কাজে নেমে পড়লেন। স্বল্প পারিশ্রমিকে তপ্তমরুতে গবাদি পশু চরানোর কাজ। অক্ষরজ্ঞান অর্জনের আর সুযোগ হলো না।

১২ বছর বয়সে প্রথম বাণিজ্যযাত্রায় অংশ নিলেন চাচার সাথে। চাচার ব্যবসায় থেকে লেনদেনে সততা, আপস-আলোচনায় কুশলতা আর পণ্য কেনাবেচায় দক্ষতা দিয়ে নজর কেড়ে নিলেন ঝানু ব্যবসায়ীদের। বাণিজ্য কাফেলা পরিচালনা শুরু করলেন ২২ বছর বয়সে। সত্যবাদিতা ও ন্যায়নিষ্ঠার জন্যে পরিচিত হলেন আল-আমিন হিসেবে।

বিয়ে করলেন ২৫ বছর বয়সে। স্ত্রী ধনাঢ্য ও বিদূষী। দুবার বিধবা হয়েছেন। আগের ঘরের তিন সন্তান। তারপরও নিজের সবকিছু উজাড় করে দিলেন স্বামীর জন্যে। এক এক করে ঘর আলো করে এলো দুই ছেলে আর চার মেয়ে। সুখের পয়মন্ত সংসার। অর্থবিত্ত, সুনাম ও সম্মানে পরিপূর্ণ জীবন। একজন সংসারী মানুষ যা চায়, সবকিছুই এসেছে কানায় কানায়।

কিন্তু তারপরও অপূর্ণতা। অন্তরে এক অব্যক্ত হাহাকার। চারপাশে জাহেলিয়াতের রাজত্ব। মক্কা তখন রমরমা অর্থনৈতিক কেন্দ্র। বেনিয়া অভিজাতরা মত্ত ভোগবিলাসে। তাদের লালসার আগুনে সাধারণ জীবন শুধুই বঞ্চনার, অসহিষ্ণুতার, হিংসার।

পূর্ণতার সন্ধানে নিজের ভেতরে ডুবে যেতে লাগলেন ঘন ঘন। খুঁজতে লাগলেন বঞ্চিতের মুক্তির পথ। সুযোগ পেলেই চলে যেতেন হেরা গুহায়। সেখান থেকে তাকিয়ে থাকতেন কাবার দিকে। কিন্তু ডুবে যেতেন অন্যলোকে। রমজানে পুরো মাসটাই কাটাতেন ধ্যানে। ৪০ বছর বয়সে তিনি প্রথম ওহী পেলেন। পেলেন লাঞ্ছিত মানবতার মুক্তির মন্ত্র; ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ!’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই আর মুহাম্মদ আল্লাহর রসুল)।

মাত্র একটি বাক্য। শুধু একটি মন্ত্র। জীবন তাঁর বদলে গেল। বাক্যের শব্দমালা সাধারণ। কিন্তু অর্থের গভীরতা মহাসমুদ্রের। ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই’। অর্থাৎ তিনি একক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো অংশী নেই। অর্থাৎ ঐশীবিধানই শুধু মানতে হবে। কোনো প্রাণী বা কল্পিত শক্তি উপাস্য হতে পারে না। এক স্রষ্টা সবাইকে সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ করা যাবে না। সব মানুষ সমান।

আর মুহাম্মদ আল্লাহর রসুল। অর্থাৎ ঐশীবিধান এখন আসবে তাঁর মাধ্যমেই। শাশ্বত ধর্মের বাণী মানুষের কাছে তাঁকেই পৌঁছাতে হবে। বঞ্চিতের পক্ষে তাঁকেই দাঁড়াতে হবে। সত্যের পক্ষে মানুষকে সঙ্ঘবদ্ধ করতে হবে। সমাজকে বদলাতে হবে।

কঠিন কাজ। সরল ও নির্বিরোধ মানুষটি রাতারাতি হয়ে গেলেন প্রাজ্ঞ সমাজবিপ্লবী। বুঝলেন—বিশ্বাসের এই বাণী বেনিয়া-অভিজাত পুরোহিত চক্র মেনে নেবে না। তাই চেতনা বিস্তারের কাজ শুরু করলেন গোপনে। ঘনিষ্ঠ বন্ধু-স্বজন ও বঞ্চিত কিছু মানুষ তাঁর চেতনাকে গ্রহণ করলেন। চেতনা বিস্তারে শুরু করলেন সঙ্ঘবদ্ধ গোপন প্রচার। তিন বছর পর প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন সত্যধর্মের বাণী।

শুরু হল বিরোধিতা। শোষক অভিজাত শ্রেণি সত্যধর্মের মধ্যে দেখল তাদের সর্বনাশ। প্রথমে পাগল, ভণ্ড, জ্বীনে পাওয়া, মৃগী রোগী বলে হাসিঠাট্টা, ব্যঙ্গবিদ্রুপ। এরপর শুরু হলো নির্মম নির্যাতন। অনেককে হত্যা করা হলো। শত্রুর প্রচণ্ড হিংসার বিরুদ্ধে তিনি অবলম্বন করলেন অহিংস নীতি। অনুসারীদের একটি দলকে আবিসিনিয়ায় পাঠিয়ে দিলেন। নিজে অনুসারীদের নিয়ে শিবে আবু তালিবে তিন বছর একঘরে অবরুদ্ধ জীবন কাটাতে বাধ্য হলেন।

সত্যধর্মের প্রচার কিন্তু বন্ধ হলো না। বিরোধী অভিজাতরা তখন তাঁকে হত্যা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল। রাতের অন্ধকারে তিনি জন্মভূমি মক্কা থেকে হিজরত করলেন।

কোরাইশরা মদিনায়ও তাঁকে শান্তিতে থাকতে দিল না। হত্যা করার জন্যে আততায়ী প্রেরণ করল। ঘাতককে বিপুল পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিল। মদিনাবাসীকে দিল চরমপত্র। তিনি বুঝলেন, শান্তির জন্যেও শক্তি দরকার।

মদিনা রক্ষার জন্যে তিনি গঠন করলেন জনযোদ্ধার দল। মূল লক্ষ্য ছিল আত্মরক্ষা। কোরাইশদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ গড়ে তোলা। বাণিজ্যপথে জনযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ মক্কায় এক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করল। কোরাইশরা তাঁকে ধ্বংস করার জন্যে বদর, ওহুদ, খন্দক—তিন তিনটি অভিযান চালাল। কিন্তু তাঁর রণকৌশলের সামনে শত্রুর সকল অভিযান ব্যর্থ হলো।

মদিনায় এসেই তিনি ঘর গোছানোর কাজ শুরু করলেন। একজন শরণার্থী হয়েও প্রজ্ঞা ও কুশলী পদক্ষেপের মাধ্যমে মদিনায় হানাহানি বন্ধ করে গড়ে তুললেন কল্যাণ রাষ্ট্র। প্রতিটি মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করলেন। নিশ্চিত করলেন ইহুদি, খ্রিষ্টান ও পৌত্তলিকদের নিজ নিজ ধর্মপালনের অধিকার। সাহাবীদের তৈরি করলেন স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্যে উৎসর্গীকৃত ত্যাগী যোদ্ধা হিসেবে। হুদায়বিয়ার চুক্তি তাঁকে প্রথমবারের মতো দিল শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মপ্রচারের অধিকার।

সৃষ্টির প্রতি করুণার প্রতীক ছিলেন তিনি। রক্তপাতকে ঘৃণা করতেন। ইতিহাসে তিনি প্রথমবারের মতো প্রয়োগ করলেন অহিংস রণকৌশল। কৌশলের মূলনীতি ছিল শক্তি নিয়ে অকস্মাৎ উপস্থিত হও। শত্রুকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দাও। যুদ্ধ করার মনোবল ভেঙে দাও। তারপর আপস-আলোচনায় তাকে যুদ্ধ না করার সম্মানজনক সুযোগ দাও।

তাঁর অহিংস রণকৌশলের সার্থক উদাহরণ মক্কার মুক্তি (Liberation of Mecca)। জন্মভূমি মক্কাকে তিনি মুক্ত করলেন, পৌত্তলিকতার অবসান ঘটালেন বিনা রক্তপাতে। চরম নির্যাতনকারীদেরও তিনি ক্ষমা করে দিলেন। কট্টর শত্রুদের রূপান্তরিত করলেন তাঁর সমাজ বিপ্লবের সৈনিকে।

বিস্ময়কর ঐতিহাসিক সত্য হলো, হিজরত থেকে মক্কার মুক্তি পর্যন্ত—সবগুলো যুদ্ধ-সংঘাতে উভয়পক্ষে নিহতের সংখ্যা পাঁচশরও কম। আপস-আলোচনার মধ্য দিয়েই তিনি ছাই থেকে পত্তন করেন নতুন এক কল্যাণ রাষ্ট্রের। হাজার বছর ধরে গোত্রীয় কোন্দল ও হানাহানিতে লিপ্ত শত শত গোত্রের মানুষদের সমন্বয়ে গড়ে তোলেন এক উম্মাহ। আর তাঁর সাহাবীরা এই উম্মাহকে নিয়ে রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যের হাজার বছরের শোষণের অবসান ঘটান। গড়ে তোলেন এক আলোকোজ্জ্বল সভ্যতা।

আলোকোজ্জ্বল এই নতুন সভ্যতার ভিত্তি ছিল তাঁর জীবনাচার। তাঁর জীবন ছিল তাঁর বাণীরই মূর্ত প্রতীক। হাদীস নামে পরিচিত তাঁর বাণী শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অনুপ্রাণিত করে এসেছে সত্যানুসন্ধানীদের। যিনিই মুক্তমনে সত্য অনুসন্ধান করেছেন, তিনিই বিস্মিত, মুগ্ধ হয়েছেন এই বাণীর কালজয়ী রূপ দেখে। জীবন বিশ্লেষণের গভীরতা দেখে। মানবিকতার জয়গান দেখে। নির্মল সত্যের প্রকাশ দেখে। মানবকে মহামানবে উন্নীত করার আকুতি দেখে। তাঁর বাণী সেকালের মতো একালেও সমভাবে অনুসরণীয়। তাঁর বাণী শুধু আধুনিকই নয়; বরং উত্তরাধুনিক।

প্রিয় পাঠক! ‘হাদীস শরীফ বাংলা মর্মবাণী’ তাঁর পবিত্র বাণীর শাব্দিক অনুবাদ নয়, তাঁর কিছু বাণীর বাংলা মর্মান্তর। সহজ সাবলীল এই মর্মান্তর আপনার অন্তরে সৃষ্টি করবে এক অভাবিত অনুরণন। ক্ষণে ক্ষণেই আপনি শিহরিত হবেন আপনার জীবনে এ বাণীর প্রাসঙ্গিকতায়। মনে হবে—আপনাকেই যেন কথাগুলো বলছেন তিনি। তাই পড়া শুরু করুন যে-কোনো পাতা থেকে। ডুবে যান বাক্যের গভীরে। আপনি পাবেন পথের দিশা। জীবন বাঁক বদলাবে। আপনার উত্তরণ ঘটবে উচ্চতর মানবে।

গ্রন্থসূত্রঃ হাদীস শরীফ বাংলা মর্মবাণী

ঢাকা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ২:৪৯ এএম
ঢাকা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে ফ্ল্যাশ টিভির অডিটোরিয়ামে ঢাকা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত রোববার (১৫ মার্চ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা রক্ষায় সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখবে।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর সভাপতি ও দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্য মহাজোটের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ও ফেলাস টিভির চেয়ারম্যান হাজী জহিরুল আমিন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সত্যিকার অর্থে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক একুশে বাণী পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদক মো. আশরাফ সরকার, দৈনিক খবরের বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদক মো. জাকির হোসেন মোল্লা, মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুন্নবী ফরাজী মুক্তার, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মাহবুব উদ্দিন, সহ-সভাপতি ড. মাইনুল ইসলাম পলাশ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ভুঁইয়া কামরুল হাসান সোহাগ।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন, ঢাকা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এ. মান্নান, দক্ষিণাঞ্চল সাংবাদিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, দুর্নীতি প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম হিরু, মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি মো. আলতাব হোসেন, জিয়া সাইবার ফোর্সের মো. দেলোয়ার হোসেন, সংবাদ সংস্থা বাসর-এর চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আল মামুন, ড. এ. জেড. মাইনুল ইসলাম, এশিয়ান টেলিভিশনের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সোহেল রানা, ঢাকা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ চিশতী, আনিসুজ্জামান খোকন, চেইন পে-এর চেয়ারম্যান খায়রুল বাসার লাবু, মারুফ হাসান, শাখাওয়াত হোসেন, সহায়তার হাত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাগর মাহমুদ নিরব এবং জাসাসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার হেপী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন ইসলামী ঐক্য মহাজোটের সদস্য সচিব হাজী আমিন এবং ফ্ল্যাশ টিভি চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও TTUET Capital-এর অর্থ পরিচালক আনিস উদ্দিন সেন্টু।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ভূমিহীন ও গৃহহীন হাউজিং লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজহার আলী।

সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক আনিস মাহমুদ লিমন, মো. সুমন, সাংবাদিক আতাউর রহমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথিদের সম্মানে ইফতার পরিবেশন করা হয়।

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ

ঢাকা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ২:২৯ এএম
ঢাকা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে ফ্ল্যাশ টিভির অডিটোরিয়ামে ঢাকা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা রক্ষায় সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখবে।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্য মহাজোটের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ও ফেলাস টিভির চেয়ারম্যান হাজী জহিরুল আমিন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সত্যিকার অর্থে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক একুশে বাণী পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদক মো. আশরাফ সরকার, দৈনিক খবরের বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদক মো. জাকির হোসেন মোল্লা, মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুন্নবী ফরাজী মুক্তার, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মাহবুব উদ্দিন, সহ-সভাপতি ড. মাইনুল ইসলাম পলাশ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ভুইয়া কামরুল হাসান সোহাগ।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন, ঢাকা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এ. মান্নান, দক্ষিণাঞ্চল সাংবাদিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, দুর্নীতি প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম হিরু, মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি মো. আলতাব হোসেন, জিয়া সাইবার ফোর্সের মো. দেলোয়ার হোসেন মীর, জেলার আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সংবাদ সংস্থা বাসর-এর চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আল মামুন, ড. এ. জেড. মাইনুল ইসলাম, এশিয়ান টেলিভিশনের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সোহেল রানা, ঢাকা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ চিশতী, আনিসুজ্জামান খোকন, ঢাকা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক কে এম মোহাম্মদ হোসেন রিজভী, চেইন পে-এর চেয়ারম্যান খায়রুল বাসার লাবু, মারুফ হাসান, শাখাওয়াত হোসেন, সহায়তার হাত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাগর মাহমুদ নিরব এবং জাসাসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার হেপী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ভূমিহীন ও গৃহহীন হাউজিং লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজহার আলী, মো. মোশাররফ হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম রাজু, মো. হেকমত আলী, মো. সুমন, মো. রাকিব ফকির, মোফাজ্জল হোসেন রাজু, মো. সাইদুল ইসলাম, সাংবাদিক আতাউর রহমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন ইসলামী ঐক্য মহাজোটের সদস্য সচিব হাজী আমিন এবং ফ্ল্যাশ টিভি চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও TTUET Capital-এর অর্থ পরিচালক আনিস উদ্দিন সেন্টু। সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এ সময় সংগঠনের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং প্রচার সম্পাদক আনিস মাহমুদ লিমনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথিদের সম্মানে ইফতার পরিবেশন করা হয়।

সাঈদা সুলতানা, নিজস্ব প্রতিবেদক

ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সাঈদা সুলতানা, নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ২:২৬ এএম
ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

পবিত্র রমজান উপলক্ষে এতিম শিশুদের নিয়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারের জলপাই রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে এ ইফতার আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

ইফতারে অংশ নেওয়া এতিম শিশুদের মাঝে জায়নামাজ, টুপি ও আতর বিতরণ করা হয়। আয়োজকেরা জানান, রমজানের সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি, জনস্বাস্থ্য ও ক্যান্সার প্রতিরোধ গবেষক ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা ও মানবিকতার মাস। এই পবিত্র সময়ে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব। তিনি সবাইকে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সারা বছর সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ডা. হালিদা হানুম আখতার, বাংলাদেশ স্কাউটসের নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) শামসুল হক, এপেক্স বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট এম. সায়েম টিপু, বাংলাদেশ স্কাউটস রেল, নৌ ও এয়ার অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মুহাম্মদ আবু সালেক, সাবেক অতিরিক্ত সচিব হাকিম মজুমদার, বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন, বাংলাদেশ স্কাউটসের যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক মো. রুহুল আমিন এবং হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব সেহলী পারভীন প্রমুখ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনাল এর প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব সেহলী পারভীন বলেন, সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ব্যক্তিগত ত্যাগ ও সংযম সাধনার মাস কবে, কীভাবে মুনাফার মাস হয়ে উঠল— সেই বিষয়টি অতি গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদকর্মীরা বিশ্লেষণ করে জাতীয় জীবনে পৌঁছে দেবেন বলে আশা রাখি।

error: Content is protected !!