মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩

গোকুল চন্দ্র রায়, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর)

বীরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৮ পিএম | 37 বার পড়া হয়েছে
বীরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে প্রশাসনের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) দিপংকর বর্মনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছিল মনোমুগ্ধকর শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বটতলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পান্তাভাতের আয়োজন। তিন দিনব্যাপী এ উৎসবে বাঙালি সংস্কৃতির নানা দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির উপদেষ্টা, চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ও সম্ভাব্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু, বীরমুক্তিযোদ্ধা করিরুল ইসলাম, বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, তদন্ত কর্মকর্তা শিহাব উদ্দীন, পৌর বিএনপি সভাপতি ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব আমিরুল বাহার, সম্পাদক নমিরুল ইসলাম সেনা চৌধুরী, ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, কৃষকদল সভাপতি ফজলে আলম শাহীন, যুবদল আহ্বায়ক আসাদুল ইসলাম দুলাল মাস্টার, যুবদল সম্পাদক আলহাজ্ব তানভীর আহমেদ চৌধুরী, শাহজাহান সিরাজ শিপনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের অসংখ্য নারী-পুরুষ বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথি এমপি মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

মোঃ মাহফুজুর রহমান বিপ্লব

ফরিদপুরে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ

মোঃ মাহফুজুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ পিএম
ফরিদপুরে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ।

দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাহারী রকমের আয়োজন করা হয়।

বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাতে বের করা হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অম্বিকা ময়দানে এসে শেষ হয়।
বৈশাখী শোভাযাত্রায় রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, মুখোশ, ঢাক-ঢোল, গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক গরুর গাড়ি ও নানা সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

পরে অম্বিকা হলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিল্পীরা।
এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ফরহাদুল ইসলাম: স্টাফ রিপোর্টার

কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

মোঃ ফরহাদুল ইসলাম: স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৮ পিএম
কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

নববর্ষের আনন্দঘন পরিবেশে গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে প্রেসক্লাবের হলরুমে এ উপলক্ষে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের সভাপতি সরকার আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য মাহবুব হাসান মেহেদী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইনুল শিকদার, সহ-সভাপতি ডি এম সামান উদ্দিন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সিকদার।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং সত্য প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সভাপতির বক্তব্যে সরকার আব্দুল আলীম বলেন, “কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের ঐতিহ্য বজায় রেখে আমরা সবসময় নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবো। সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরতে সকল সাংবাদিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

এসময় প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ ভোজনের মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপন সম্পন্ন করা হয়।

‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু: কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন?

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৬ পিএম
‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু: কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন?

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজ মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখ টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ল্যাপটপের সুইচ চেপে দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

টাঙ্গাইলের মূল অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ডিজিটাল পোর্টালে যুক্ত হন। একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৮টি বিভাগের আরও ১০টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এই কার্যক্রমের প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ের সূচনা করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০ হাজারেরও বেশি কৃষকের ডিজিটাল প্রোফাইল সংবলিত এই বহুমুখী কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন গতকাল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো জিডিপিতে কৃষির বিশাল অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং কৃষকদের জন্য একটি স্থায়ী সুরক্ষা বলয় তৈরি করা। এই ডিজিটাল কার্ডটি কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি কৃষকদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতীক।’

তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচির আওতায় শুধু শস্য উৎপাদনকারী কৃষকই নন, বরং মৎস্যজীবী, গবাদিপশু খামারি, দুগ্ধ খামারি এবং উপকূলীয় অঞ্চলের লবণচাষীরাও অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নির্মূল করে সরাসরি সরকারি সুবিধা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল দর্শন।

বাস্তবায়নের তিন ধাপ ও বাজেট বরাদ্দ

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রকল্পটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে:

১. প্রাক পাইলটিং (পরীক্ষামূলক): যা আজ থেকে শুরু হলো। এর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

২. পাইলটিং: আগস্ট পর্যন্ত দেশের ১৫টি উপজেলায় এই কার্যক্রম চালানো হবে।

৩. দেশব্যাপী কার্যক্রম: পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরের মধ্যে সারা দেশের সব কৃষকের তথ্যভান্ডার তৈরি ও কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।

প্রাক পাইলটিং পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষি বা আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও দগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণচাষীও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

প্রাক পাইলটিংয় শেষ হওয়ার পর আগামী আগস্ট পর্যন্ত ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারা দেশে এই কার্ড বিতরণ ও তথ্য ভান্ডার তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কৃষক কার্ডের শ্রেণিবিভাগ ও আর্থিক সহায়তা

প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষকদের পাঁচটি বিশেষ শ্রেণিতে ভাগ করে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে: ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক। এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বিশেষ সংস্থান রাখা হয়েছে। নিবন্ধিত ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক বছরে সরাসরি আড়াই হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা বা উপকরণ ভর্তুকি পাবেন, যা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

প্রাক পাইলটিং পর্যায়ে ওই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণ চাষিকে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮ হাজার ৯৬৭ জন, মাঝারি কৃষক ১ হাজার ৩০৩ এবং বড় কৃষক ৯১ জন।

এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকাও নগদ দেওয়া হবে। ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন।

কৃষকদের জন্য ১০ ধরনের বিশেষ ডিজিটাল সুবিধা

এই স্মার্ট কার্ডটি একটি ‘ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড’ হিসেবেও কাজ করবে। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। কার্ডধারীরা ১০টি প্রধান সুবিধা পাবেন:

১. ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ,

২. ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা,

৩. সহজ শর্তে কৃষিঋণ,

৪. স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি,

৫. সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা,

৬. মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য,

৭. কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ,

৮. ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ,

৯. কৃষি বিমা সুবিধা এবং

১০. ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন কৃষকেরা।

প্রধান সুবিধাগুলোর মধ্যে:

সরাসরি সরকারি ভর্তুকি: কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরকারি টাকা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছাবে।

সরঞ্জামে ছাড়: সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে ‘পয়েন্ট অব সেল’ (POS) মেশিন ব্যবহার করে ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও মৎস্য প্রাণিখাদ্য কিনতে পারবেন।

সহজ শর্তে ঋণ: অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরাসরি ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ গ্রহণের সুবিধা পাওয়া যাবে।

কৃষি বিমা: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমা সুবিধা পাওয়া যাবে।

আধুনিক প্রযুক্তি: সুলভ মূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও সেচ সুবিধা মিলবে।

ডিজিটাল পরামর্শ: মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের রোগবালাই দমনের উপায় এবং বাজারের সর্বশেষ দর জানা যাবে।

কৃষক কার্ড নিবন্ধন ও সংগ্রহের প্রক্রিয়া

সরকার জানিয়েছে, স্মার্ট কৃষি কার্ড পেতে কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর এবং জমির মালিকানা বা বর্গা চাষের প্রমাণপত্র প্রয়োজন হবে। স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO) প্রাথমিক তালিকা তৈরি করবেন। এরপর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি ও কার্ড বিতরণ করা হবে।

নিচে পুরো প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো:

স্মার্ট কৃষি কার্ড পেতে কৃষকদের বেশ কয়েকটি তথ্য প্রয়োজন হবে। সেগুলো হলো—

১. এনআইডির একটি কপি।

২. পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

৩. রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নাম্বার।

৪. জমির দলিল কিংবা ভাগে চাষিদের জন্য প্রমাণপত্র।

৫. ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বর।

কৃষক কার্ড পাওয়ার ধাপসমূহ

সরকার প্রধানত স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এই কার্ডটি পৌঁছে দেবে। আপনার যা করতে হবে :

১. উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ : আপনার ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তিনিই প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেন।

২. নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন : সরকার যখন আপনার এলাকায় ‘পাইলট প্রজেক্ট’ বা মূল প্রকল্প শুরু করবে, তখন আপনাকে একটি ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে এটি অনলাইনেও করা যাবে।

৩. তথ্য যাচাই : আপনার দেওয়া তথ্য (জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন ইত্যাদি) কৃষি অফিস থেকে সরেজমিনে যাচাই করা হবে।

৪. ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি : আপনার এনআইডি এবং মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি হবে।

৫. কার্ড বিতরণ : যাচাই শেষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আপনাকে এই স্মার্ট কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে।

সতর্কবার্তা

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো কৃষককে তার ঘামের ন্যায্যমূল্য দেওয়া। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি খাতের ভর্তুকিতে স্বচ্ছতা আসবে এবং উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, এই নীতিতেই আমরা স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলছি।’

অনুষ্ঠানে আরও সতর্ক করা হয় যে, এই কার্ডটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে। কার্ডের জন্য কোনো প্রকার অর্থ লেনদেনে না জড়াতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

error: Content is protected !!