মসজিদুল হারামে বিতর নামাজ পড়বেন যেভাবে
এশার নামাজের পর বিতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। বিতর মূলত আরবি ‘আল-বিতরু’ শব্দ থেকে উদ্ভূত। এর শাব্দিক অর্থ বিজোড়। বিতরের নামাজ যেহেতু বিজোড়, তাই তাকে বিতর বলা হয়। বর্ণনাভেদে বিতরের নামাজ তিন বা এক রাকাত।
হানাফি মাজহাব মোতাবেক বিতরের নামাজ তিন রাকাত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, ‘রাসুল (সা.) বিতরের নামাজ তিন রাকাত আদায় করতেন।’ (সুনানে দারুকুতনি: ১৬৫৯)
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী এক সালামে দুই বৈঠকে তিন রাকাত বিতরের নামাজ পড়া ওয়াজিব। তবে অন্য মাজহাবে এক রাকাত বিতর পড়ারও অবকাশ রয়েছে। হানাফি মাজহাব মেনে চলা ব্যক্তির জন্য তিন রাকাত বিতরের নামাজ পড়তে হবে। যেসব মাজহাবে এক রাকাত বিতর আদায় করা হয়, এমন কোনো মাজহাবের ইমামের পেছনে হানাফি মাজহাব মেনে চলা মুক্তাদি ইক্তিদা করলে তাঁর নামাজ হবে কি না?
এ বিষয়ে হানাফি মাজহাবের গ্রহণযোগ্য মতামত হলো, এই মুক্তাদির বিতরের নামাজ সহিহ্ হবে না। (মুসনাদে আবি হানিফা হাদিস: ৭৬, রদ্দুল মুহতার: ৮ / ২, মারাকিল ফালাহ শরহে নুরুল ইজাহ: পৃ: নং ১৩৯)
তবে দুটি শর্ত পাওয়া গেলে হানাফি মাজহাবের মুক্তাদি অন্য মাজহাবের ইমামের ইক্তিদা করলে তাঁর বিতরের নামাজ সহিহ্ হয়ে যাবে। শর্তগুলো হলো—
১. ইমামের সঙ্গে বিতরের নামাজ পড়ার সময় দুই রাকাতের পর বৈঠক করে সালাম ফেরানো যাবে না।
২. ইমাম শুধু বিতরের নিয়ত করবেন, নিয়তের মধ্যে নফল বা সুন্নতের উল্লেখ করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। (মাআরিফুস সুনান শরহে সুনানুত তিরমিজি,৪/১৭৪, ইমদাদুল আহকাম ১/৫৯৭)
তওবার নামাজের নিয়ত করবেন যেভাবেতওবার নামাজের নিয়ত করবেন যেভাবে
আমাদের জানামতে, হারাম শরিফের ইমামেরা বিতরের নামাজে দুই রাকাতের পর উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে নেন। এরপর বিতর হিসেবে এক রাকাত যুক্ত করেন। এ জন্য হানাফি মাজহাবের অনুসারী যে মুসল্লিরা রমজান মাসে ওমরাহ করার জন্য হারাম শরিফে যান, তাঁদের জন্য উচিত হলো মসজিদে বা বাসায় এসে হানাফি পদ্ধতিতে আলাদাভাবে বিতরের নামাজ আদায় করা। (ফাতাওয়ায়ে হাবিবিইয়াহ ৩/৩৮৩, নাজমুল ফাতাওয়া ২/৫৩৮)
তবে প্রয়োজনের কারণে বিশৃঙ্খলা এড়াতে হানাফি মাজহাবের অনুসারী মুক্তাদিদেরও হারাম শরিফের ইমাম বা অন্য মাজহাবের ইমামদের পেছনে ইক্তিদা করার অবকাশ দিয়েছেন কোনো কোনো মুফতি সাহেব। সে ক্ষেত্রে হানাফি মুক্তাদি ওয়াজিব বিতরের নিয়ত করবেন না, বরং শুধু বিতরের নিয়ত করবেন এবং দুই রাকাতের পর ইমামের সঙ্গে সালাম ফেরাবেন না, বরং ইমাম যখন তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন, তখন তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে নামাজ পূর্ণ করবেন এবং দোয়ায়ে কুনুতের সময় তাঁদের সঙ্গে হাত ওঠাবেন না। এই মত অনুযায়ী এই পদ্ধতিতে তাঁর বিতরের নামাজ সহিহ্ হয়ে যাবে।
লেখক: মুফতি মনসুরুল হক, প্রধান মুফতি ও শাইখুল হাদিস, জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া ও জামিআতুল আবরার রাহমানিয়া, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা







