মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩

সেচ নিয়ে বিপাকে কৃষক

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২২ পিএম | 57 বার পড়া হয়েছে
সেচ নিয়ে বিপাকে কৃষক

রাজধানী ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফ। কৃষিকাজ করে সংসার চলে তাঁর। এবার গ্রীষ্মকালীন বোরো মৌসুমে ধান চাষ করেছেন। জমির পাশে হাঁটতে হাঁটতে শুকনো মাটিতে ধুঁকতে থাকা সদ্য রোপণ করা ধানের চারাগুলো দেখালেন। বললেন, ‘ধান ফলাতে না পারলে আমরা কী খাব? এই ধানই আমাদের একমাত্র সম্বল। এটি দিয়েই সংসার চলে। জ্বালানি সংকটের কারণে আমরা এখন গভীর বিপদে আছি।’

ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের ঢেউ আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে। বোরো চাষের এই ভরা মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেল জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন হাজার হাজার কৃষক।

বাংলাদেশের পরিশোধিত জ্বালানির প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যুদ্ধের কারণে দামের অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির জোগান সংকুচিত হয়েছে। সরকার জ্বালানি সাশ্রয় ও নতুন উৎস খোঁজার উদ্যোগ নিলেও কৃষকেরা বলছেন, তাঁরা কঠিন পরিস্থিতিতে মুখোমুখি হয়েছেন।

দুই সন্তানের বাবা ইউসুফ জানান, অনিশ্চয়তা এখন তাঁদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তাঁর প্রার্থনা শুধু একটাই, নিজের জমিতে কাজ করা এবং সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া।

১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে প্রধান খাদ্যশস্য ধান। মার্চের শেষে এই সময়টি প্রধান গ্রীষ্মকালীন ধান আবাদ (বোরো) শুরুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ডিজেলের ঘাটতি, রেশনিং এবং পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধানের ফলন ও উৎপাদন কম হওয়া এবং কৃষকদের লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।

ইউসুফ দিনে ডিজেলের জন্য লাইনে দাঁড়ান আর রাতে জমিতে কাজ করেন। জ্বালানি পাম্পগুলোতে প্রায়ই ‘তেল নেই’ লেখা ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘সারাদিন পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি, তারপর অন্ধকারে মাঠে এসে সেচ দেওয়া, লাঙল চালানো আর সার দেওয়ার কাজ করি। গত কয়েক সপ্তাহে দিনে কেউ কাজ করতে পারেনি। সবাই লাইনে আটকে থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি সারা দিন অপেক্ষা করেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়।’

জ্বালানি পাওয়া গেলেও তা দেওয়া হচ্ছে অত্যন্ত সীমিত আকারে। ইউসুফ জানান, জনপ্রতি ৫ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা দুই-তিনজন মিলে গেলে হয়তো কোনোদিন ভাগ্যগুণে ১০-১৫ লিটার পাই। যা দিয়ে মাত্র দুই-তিন দিন সেচ দেওয়া যায়।’

তাঁর চারপাশের খেতগুলো ফেটে চৌচির হয়ে আছে, ধানের চারা হলদেটে হয়ে যাচ্ছে। সেচ পাম্পগুলো শেষ বিন্দু ডিজেল দিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে। ইউসুফ আক্ষেপ করে বলেন, ‘জমির দিকে তাকিয়ে দেখেন, সব শুকিয়ে যাচ্ছে। আমরা ঠিকমতো পানি দিতে পারছি না।’

এদিকে জ্বালানি পাম্পের কর্মীরাও বলছেন, চাহিদা মেটাতে তাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন। স্থানীয় একটি পাম্পের ব্যবস্থাপক আব্দুল সালাম বলেন, ‘এই মৌসুমে কৃষকদের প্রচুর তেলের প্রয়োজন হয়। আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছি, কিন্তু যে পরিমাণ সরবরাহ পাচ্ছি তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম।’

তবে সব কৃষকের অবস্থা এখনই ইউসুফের মতো নয়। ৭৫ বছর বয়সী ওসমান আলী জানান, সংকট তীব্র হওয়ার আগেই তিনি কিছু তেল মজুত করে রেখেছিলেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে জমানো তেল ফুরিয়ে যাবে। তখন সবাইকেই ভুগতে হবে।’

বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে সেচ কাজের জন্য ডিজেল-চালিত পাম্প এখনো অপরিহার্য। চাষের শুরুতে সরবরাহে এমন টান পড়ায় কৃষকদের আশঙ্কা, এই বিঘ্ন উচ্চমূল্যের খাদ্যবাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ইউসুফের ভাষায়, ‘বিশ্বে কী ঘটছে, তাতে আমাদের কোনো হাত নেই। কিন্তু তার মাশুল আমাদেরই দিতে হচ্ছে।’

জ্বালানি সংকটের উৎস বাংলাদেশের সীমানার অনেক দূরে হলেও এর প্রভাব সরাসরি এখানে পড়ছে। ইউসুফ বলেন, ‘ইরানকে কেন্দ্র করে চলা এই যুদ্ধ আমাদের ওপরও আঘাত হেনেছে। আমাদের মতো গরিব মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়। আমরা শুধু চাই এই যুদ্ধ শেষ হোক, যেন আমরা চাষবাস করে শান্তিতে থাকতে পারি।’

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী

লোকজ মেলা ও সংগীতে জমজমাট সেনবাগের পহেলা বৈশাখ

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
লোকজ মেলা ও সংগীতে জমজমাট সেনবাগের পহেলা বৈশাখ

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় সেনবাগ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি সেনবাগ পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রা শেষে সেনবাগ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ বৈশাখী মেলা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় বাংলা গান, নৃত্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুম বৈশাখী মেলায় উপস্থিত সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। এসময় তিনি বৈশাখের ঐতিহ্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন এবং দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী লোকজ বৈশাখী মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা পণ্য, হস্তশিল্প, খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী চলতে থাকে নববর্ষের আনন্দ আয়োজন।

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে সেনবাগে এমন প্রাণবন্ত আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে নতুন বছরের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

সুলেখা আক্তার শান্তা

নব উদ্যম

সুলেখা আক্তার শান্তা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২২ পিএম
নব উদ্যম

ওই ডাকে কে যায় বৈশাখী সকালে,
আলো মেখে বাতাসে নাচে পলাশ-পাতার ঢেউ।
ঘরের কোণে জমে থাকা আবিলতা সরিয়ে,
আজ নতুন বরণে বুক বাঁধি
আনন্দের রঙে আজ রাঙাব সব দিক।
যা ছিলাম গত বছর, সে আমি আছি জাগ্রত,
নেই কোনো আফসোস, নেই পুরোনো ক্ষত।
নতুন পথ দেখায় হাতে ধরা রোদ্দুরের শপথ
কালের চাকা চিনি, তবু সৃষ্টির আহ্বান মিথ্যে নয়।
হে বৈশাখ, তোমারই লাগি সাজাই হৃদয় মাঠ
আশার বীজ ছড়াই চারদিকে ফসল উঠুক।
এবারের গান যেন নিঃশব্দ ব্যথা নয়
বরং সম্ভাবনার ঝলক যেন চোখে লাগে স্পষ্ট।
এসো হে বৈশাখ।

কামরুল ইসলাম

টেকনাফে অস্ত্র ও গুলিসহ মাদক চোরাচালান চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

কামরুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
টেকনাফে অস্ত্র ও গুলিসহ মাদক চোরাচালান চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ মাদক চোরাচালান চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৫।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে র‍্যাব-১৫ (সিপিসি-২) এর হোয়াইক্যং ক্যাম্পের একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর কাঞ্জরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

র‍্যাব সূত্র জানায়, ওই এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান হাতবদলের উদ্দেশ্যে একদল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এসময় র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনজনকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
মোঃ রাশেদ (প্রকাশ রাসেল) (২৫),
মোঃ সোহেল উদ্দিন (প্রকাশ লালু) (২৩) এবং
এহসান উল্লাহ (২৫)।

অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ২টি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক (এলজি), ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি বড় রামদা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক পাচার, দস্যুতা ও অস্ত্র প্রদর্শনের একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে র‍্যাব-১৫ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে জব্দকৃত আলামতসহ টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

error: Content is protected !!