সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের টুইট, ইসরায়েলের সঙ্গে বিবাদ তুঙ্গে

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৬ পিএম | 96 বার পড়া হয়েছে
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের টুইট, ইসরায়েলের সঙ্গে বিবাদ তুঙ্গে

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং গতকাল শনিবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করেছেন। মূলত একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর যে বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট লি জে–মিউংয়ের মন্তব্যের মাধ্যমে তা আরও চরমে পৌঁছেছে।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি লি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওর নিচে মন্তব্য করেন। তাঁর এই মন্তব্যে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছিল, ইসরায়েলি সেনারা এক ফিলিস্তিনি শিশুকে নির্যাতন করছে এবং ছাদ থেকে ফেলে দিচ্ছে।

শুক্রবার এক্সের লি লিখেছিলেন, ‘আমাকে খতিয়ে দেখতে হবে এটি সত্যি কি না—আর যদি সত্যি হয়, তবে এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ বার্তা সংস্থা এএফপি ওই ভিডিওর উৎস শনাক্ত করতে পারেনি, তবে এটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি দুই বছর আগে পশ্চিম তীরে এএফপিটিভির ক্যামেরায় ধরা পড়া একটি ঘটনার ভিন্ন আঙ্গিক। সে সময় সাংবাদিকেরা দেখেছিলেন, একজন ইসরায়েলি সেনা পা দিয়ে এক মৃতপ্রায় প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দেহ ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিচ্ছেন। এরপর, ২০২৪ সালে হোয়াইট হাউস ওই ফুটেজকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করে এবং ১৯৬৭ সাল থেকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান অভিযানের মধ্যে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেছিল।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে শনিবারই এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাটি ইতিমধ্যে ‘তদন্ত এবং নিষ্পত্তি’ করা হয়েছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে বলে, ‘প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং কোনো এক অদ্ভুত কারণে ২০২৪ সালের একটি পুরোনো ঘটনা খুঁড়ে বের করেছেন এবং একটি ভুয়া অ্যাকাউন্টের বরাতে সেটিকে বর্তমানের ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছেন।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ওই অ্যাকাউন্টটি ইসরায়েল-বিরোধী অপপ্রচার এবং মিথ্যে তথ্য ছড়ানোর জন্য কুখ্যাত।’

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, লি-র ওই পোস্টে ইসরায়েলি নির্যাতনের সঙ্গে ইহুদি ও কোরীয়দের ওপর অতীতে হওয়া নৃশংসতার যে তুলনা করা হয়েছে, তা আসলে কোনো নির্দিষ্ট ইস্যুর ওপর মন্তব্য নয়, বরং ‘সর্বজনীন মানবাধিকারের’ প্রতি একটি আহ্বান মাত্র।

তবে শনিবার লি আবারও সংবাদপত্রের একটি নিবন্ধের নিচে তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেন, যেখানে তাঁর বক্তব্যের বিপরীতে ইসরায়েলের ক্ষোভের কথা বিস্তারিত লেখা ছিল। লি লেখেন, ‘এটি অত্যন্ত হতাশাজনক যে, আপনারা একবারের জন্যও বিশ্বের সেই সব মানুষের সমালোচনার দিকে তাকিয়ে নিজেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভাবছেন না, যারা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের কারণে প্রতিনিয়ত কষ্ট পাচ্ছে এবং লড়াই করছে। ” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি যখন ব্যথায় থাকি, অন্যরাও সেই ব্যথা একইভাবে অনুভব করেন।’

ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সমর্থক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়া সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখে এবং কোনো পক্ষকেই সরাসরি সমর্থন দেয় না।

কিশোরগঞ্জে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল

.এস.এম হামিদ হাসান কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি: প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৭ এএম
কিশোরগঞ্জে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল

 

রবিবার (১২এপ্রিল) বিকাল ৫টায় কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদ চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের একটি বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বড়বাজার মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

মিছিলে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এসময় তারা বিভিন্ন দাবিসংবলিত ফেস্টুন ও ব্যানার বহন করেন। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের “গণভোটের রায় অমান্য করা চলবে না”, “জাস্টিস ফর হাদী”, “বিচার বিভাগ স্বাধীন করতে হবে” এবং “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই”সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং ঘোষিত দাবিগুলো দ্রুত পূরণের আহ্বান জানান তারা।

কর্মসূচিতে নেতারা বলেন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত হ্যাঁ ভোটের রায়, সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান । গণভোটের রায় অমান্য করে জনগনের সাথে প্রতারণা করছে বিএনপি সরকার। জনগণের ক্ষমতা ও মর্যাদা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হ‌ওয়ার আহ্বান জানান তারা। নেতৃবৃন্দরা বলেন, গতবারই ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর নির্বাচনে জনগণ একই তফসিলের অধীনে একই সাথে জাতীয় সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের রায় দিয়েছে।

জনরায় এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১১ দলের ৭৭ জন প্রতিনিধি দুটি শপথ নিলেও বিএনপি গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করে সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করে। পরবর্তীতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি জানানো হলেও সরকার তা উপেক্ষা করে গত ১৫ ই মার্চ ২০২৬ সংসদে লোভ দেখানো সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি প্রস্তাব দেয়। আমরা বিশ্বাস করি সংবিধানের কাঠামোগত আমল সংস্কার ছাড়া নিছক সংশোধনীতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পুরন সম্ভব নয়।তাই সরকারের এই গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এর প্রতিবাদে ঐদিন বিরোধীদল থেকে অক আউট করেছে এবং সংসদ ও রাজপথে জনরায় বাস্তবায়নের আপোষহীন লড়াইয়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। পাশাপাশি দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বানও জানান।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছাত্রসমাজ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৫২ থেকে শুরু করে ১৯৬২, ১৯৬৯, ১৯৭১ এবং ১৯৯০ সালের আন্দোলনে ছাত্রদের অবদান বারবার প্রমাণিত হয়েছে।

তারা সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে আমরা আবারো রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।

এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলী, নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, জাগপা সভাপতি মিজবাহ উদ্দিন, খেলাফত মজলিস নায়েবে আমীর মজিবুর রহমান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামসুল আলম সেলিম, , রাজনৈতিক বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক আজিজুল হক, এনসিপি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মোঃ ইকরাম হোসেন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর ক্বারী মাওলানা নজরুল ইসলাম, শহর জামায়াতের আমীর মাওলানা আ.ম.ম আব্দুল হক সহ অন্যান্য নেতাকর্মী।

সমাবেশ থেকে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে সংগীত জগত শোকে মুহ্যমান

লুতুব আলি প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩২ এএম
কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে সংগীত জগত শোকে মুহ্যমান

ভারতের সংগীতের আকাশ থেকে খসে পড়ল এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। কিংবদন্তি প্লেব্যাক গায়িকা আশা ভোঁসলে শনিবার রাতে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ১২ এপ্রিল। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে স্তব্ধ গোটা উপমহাদেশ। আট দশক ধরে যে কন্ঠ কোটি হৃদয়ের স্পন্দন তুলেছে, আজ সেই কন্ঠ চিরতরে থেমে গেল। আশা ভোঁসলের জন্ম ১৯৯৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে। জন্ম নাম আশা মঙ্গেশকর। বাবা ছিলেন প্রখ্যাত নাট্য শিল্পী ও শাস্ত্রীয় সংগীত দিনোনাথ মঙ্গেশকর। মা সেবন্তী মঙ্গেশকর ছিলেন গৃহিণী, কিন্তু সংগীতের আবহেই সংসার গড়েছিলেন। দিনোনাথ মঙ্গেশকর মারাঠি থিয়েটারের কিংবদন্তি এবং গোয়ালিয়র ঘরানার শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই মঙ্গেশকর পরিবারের পাঁচ ভাই বোনের সঙ্গীতে হাতে খড়ি। বাবা দীননাথের অকাল প্রয়াণে মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতৃহারা হন আশা। তারপর থেকেই বড় দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে কাঁধে কানস মিলিয়ে সংসারের হাল ধরে। মঙ্গেশকর পরিবার ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে এক বিরল অধ্যায়। বড়দিদি লতা মঙ্গেশকর ভারতের নাইটেঙ্গেল। ভারতরত্ন সম্মান প্রাপ্ত। ছোট বোন ঊষা মঙ্গেশকর প্লেব্যাক ও ভক্তি গীতির জনপ্রিয় শিল্পী। আর এক বোন মিনা খাদিকর মারাঠি ও হিন্দি গানের জনপ্রিয় শিল্পী। একমাত্র ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর প্রখ্যাত সুরকার ও গায়ক। এই পরিবার থেকে ভারত পেয়েছে শাস্ত্রীয়, ভজন, গজল, ভাব সংগীত থেকে শুরু করে আধুনিক প্লেব্যাক সমস্ত ঘরানার দিকপাল। আশা ভোঁসলে ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে সম্রাজ্ঞী হয়েছেন। ১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবি মাঝা বাল দিয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সে প্লেব্যাক শুরু। হিন্দিতে প্রথম গান ১৯৪৮ সালে চুনারিয়া ছবিতে। পঞ্চাশের দশকে ওপি নায়ারের সুরে মাঙ্গ কে সাথ তুমহারা, আই ইয়ে মেহেরবান, ইয়ে হাই বোম্বে মেরি জান, তাঁকে ক্যাবারে কুইন বানায়। ৭০ থেকে ৮০ দশকে স্বামী রাহুল দেব বর্মনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দম মারো দম, পিয়া তু আব তো আজা, চুরালিয়া হাই তুমনে, মেরা কুছ সামান উপহার দেন। গজল, কাওয়ালী, পপ, ফোক, ডিস্কো সহ কুড়িটিরও বেশি ভাষায় বারো হাজারের বেশি গান রেকর্ড করেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বয় জর্জ, বয়জোন, মাইকেল স্টাইকের সঙ্গেও তিনি কাজ করেছেন। ২০২৩ সালে ৯০ বছর বয়সেও দুবাইয়ে লাইভ কনসার্ট করেছেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান ২০০০ সালে তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হন। ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ পান ২০০৮ সালে। শ্রেষ্ঠ নারী প্লেয়ার গায়িকা হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান দুইবার। সাতবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান। পরে লাইফ টাইম এচিভমেন্ট নিয়ে তিনি প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান। গ্র্যামি মনোনয়ন দুইবার। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য , পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করার জন্য তিনি ২০১১ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেন। আশা ভোঁসলের পুত্র আনন্দ ভোঁসলে মায়ের মৃত্যুর খবর সংবাদ মাধ্যমকে জানান। যদিও এর আগে আশা ভোঁসলের মৃত্যুর ব্যাপারে ভুয়া খবর পরিবেশিত হয়েছিল। আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এক্স হ্যান্ডেল এ লিখেছেন, আশা ভোঁসলে অসাধারণ সংগীত যাত্রা দশকের পর দর্শক আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর কন্ঠে ছিল চিরন্তন দীপ্তি। আত্মা হোক বা প্রাণবন্ত কম্পোজিশন সবেতেই তিনি অতুলনীয় ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, অসংখ্য বাংলা গান গেয়ে আশা ভোঁসলে বাংলাকে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপিত করেছেন। বাংলার সঙ্গে তাঁর নিবিড় টান ছিল। এছাড়াও শোক প্রকাশ করেছেন এ আর রহমান, শ্রেয়া ঘোষাল, সনু নিগম, শংকর মহাদেবন সহ অগণিত শিল্পী। শচীন টেন্ডুলকার ও ব্রেটলিও শোক প্রকাশ করেছেন। ব্রেট লি ২০০৭ সালে তাঁর সঙ্গে ইউ আর দি ওয়ান ফর মি গান করেছিলেন। আশা ভোঁসলে শুধু গায়িকা ছিলেন না, তিনি নিজেই এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন। লতা মঙ্গেশকরের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের আলাদা সাম্রাজ্য গড়া, পুরুষতান্ত্রিক ইন্ডাস্ট্রিতে সাহসী গান গাওয়া, ৯০ বছর বয়সেও মঞ্চ কাপানো সবেতেই তিনি ছিলেন এক অনন্যা। পিয়া তু, দম মারো দম, চুরা লিয়া, দিল চিজ কয়া হাই, এই গানগুলি যতদিন বাজবে, যতদিন কোন নায়িকা পর্দায় ঠোঁট মেলাবে, যতদিন কোন কিশোরী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তার গান গাইবে-আশা ভোঁসলে ততদিন পৃথিবীর বুকে অমর হয়ে থাকবেন, চিরন্তন হয়ে থাকবেন।

লামা রূপসীপাড়া ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি দখলের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বললেন সাবেক মেম্বার বারেক

(বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:- মোঃ নুরুল আলম) প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩১ এএম
লামা রূপসীপাড়া ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি দখলের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বললেন সাবেক মেম্বার বারেক

 

আজ ১২ ই এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি রোজ রবিবার। রূপসীপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি দখলের অভিযোগ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ – বললেন সাবেক মেম্বার বারেক
বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসী পাড়া ইউনিয়নের দরদরী এলাকায় অবস্থিত একটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেম্বার আব্দুল বারেক সরকারি ওই জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা ও নির্মাণ করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির জন্য নির্ধারিত জমির একটি অংশে সম্প্রতি বসতঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়, যা জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবি, সরকারি স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের জমি দখল হলে ভবিষ্যতে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল বারেক বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট”। তিনি দাবি করেন, আমি কোনো সরকারি জমি দখল করিনি। আমি যে জায়গায় ঘর নির্মাণ করেছি, তার অর্ধেক আমার নিজস্ব খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত এবং বাকি অংশ পিংকিনু মার্রমার নামীয় ব্যক্তির মালিকানাধীন।”

error: Content is protected !!