বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২

তথ্য যাচাইয়ের উপায় কী?

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৪, ২:৫৫ এএম | 120 বার পড়া হয়েছে
তথ্য যাচাইয়ের উপায় কী?

হঠাৎ করে গুজব নিয়ে বিভিন্ন মহলে বেশ কথাবার্তা হচ্ছে। কারণ ‘খবর’ বেরিয়েছে, সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল মধ্যরাতে তার পদ ছেড়েছেন।

শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনী নাকি তার বাসভবন ‘যমুনা’ ঘেরাও করে রেখেছিলো। সেনাবাহিনী এবং বিক্ষুব্ধ সেনা সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন।

বিভিন্ন সুপরিচিত মিডিয়া হাউজের আদলে ফটোকার্ড বানিয়ে এই ‘খবর’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাতভর মানুষ সেসব কার্ড ফেসবুকে পোস্ট ও শেয়ার করেছেন।

এই গুজবের ২৪ ঘণ্টা হতে চললো, কিন্তু এখনও এ নিয়ে পোস্ট দেওয়া বন্ধ হয়নি।

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও এ নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন। বুধবার সকালে তিনি তার অফিশিয়াল ফেসবুক প্রোফাইল থেকে লিখেছেন, “শুধু চেয়ারই না, প্রধান উপদেষ্টাসহ দেশ ছাড়লেন বাকি উপদেষ্টারাও। সোর্স: চালাইদেন।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ধরনের গুজবের সূত্র হিসাবে ‘চালাইদেন’ শব্দটি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিলো। তখন আন্দোলনের সমন্বয়কদের অনেকেই নিজেরা মজা করে এই শব্দটা নিজেদের ফেসবুক পোস্টে ব্যবহার করেছিলেন।

আপাতদৃষ্টিতে এসব তথ্য নিয়ে অনেকে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করলেও গণমাধ্যমের জন্য এটি বিব্রতকর। কারণ, ধারাবাহিকভাবে তাদের নাম, লোগো ব্যবহার করে অনেক গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত গুজব
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের বিষয়ে এখন যে গুজবটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান, তার সূত্রপাত মুফাসসিল ইসলাম নামক একজনের একটি ফেসবুক পোস্ট।

তিনি তার পোস্টে দাবি করেছেন যে প্রধান উপদেষ্টা সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে পরিবর্তন করার একটি পরিকল্পনা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সেনাপ্রধান তা জেনে যান।

“এটা নিয়ে সেনাপ্রধান ও ইউনূসের মাঝে ভালোমন্দ অনেক কথাবার্তা হয়েছে…রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ড. ইউনূসকে ঘিরে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রূদ্ধশ্বাস বৈঠক চলছে। বিক্ষুব্ধ আর্মি অফিসাররা ইউনূসকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।”

কিন্তু বাংলাদেশের একটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার এমন দাবির কোনও সত্যতা খুঁজে পায়নি বলে নিশ্চিত করে বলছে বিষয়টি ‘গুজব’।

এদিকে, সম্প্রতি আরেকটি ‘গুজব’ ছড়িয়েছে যে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে নয়, এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে অবস্থান করছেন।

কিন্তু এ জাতীয় সব খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলেছেন ভারতের শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা।

গতকাল দিল্লি থেকে বিবিসি বাংলা’র সংবাদদাতা শুভজ্যোতি ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলেছেন– এবং তারা প্রত্যেকে নিশ্চিত করেছেন ‘শেখ হাসিনা এখানে গত সপ্তাহে যেভাবে ছিলেন, এই সপ্তাহেও ঠিক একইভাবেই আছেন!’

এছাড়া, দূর্গাপূজাকে সামনে রেখে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙা বিষয়ক গুজব প্রতিনিয়ত সামনে আসছে।

সরকার পরিবর্তনের পর থেকে গত দুই মাসে এই ঘটনা আরও বেশি বেশি ঘটছে। গত পাঁচই অগাস্ট থেকে শুরু করে এখন অবধি টুইটার ও ফেসবুকে প্রায় ৭৬টি সাম্প্রদায়িক প্রোপাগান্ডা শনাক্ত করেছে ফেক্টচ্যাক বিষয়ক প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার।

এদিকে, ওইসব গুজবের অধিকাংশেরই উৎপত্তি ভারতে, এমনটাই জানিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের হেড অব অপারেশন সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি আরও বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও রিউমার স্ক্যানার ১৮টি গুজব শনাক্ত করেছে।

২০২৪ সালের প্রথম সাত মাসে প্রতি মাসে গড়ে ২০০টি গুজব এবং সরকার পরিবর্তনের পরবর্তী দুই মাসে (অগাস্ট ও সেপ্টেম্বরে) প্রতিমাসে গড়ে ৩৩০টি গুজব শনাক্ত করেছি আমরা, বলেন মি. চৌধুরী।

এমন পরিস্থিতিতে একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে বুঝবে যে কোনটা সঠিক তথ্য, আর কোনটা ভুল?

আপনার যা করণীয়
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান পয়েন্টার ইনস্টিটিউটের বরাতে ফ্যাক্টচেকার সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেন, ইন্টারনেটে কোনও তথ্য সম্পর্কে সন্দেহ করা কিংবা তথ্যটি শেয়ার করার আগে যাচাই-বাছাই করার জন্য কিছু স্পষ্ট সংকেত রয়েছে, যেগুলোকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বলা হয়।

তিনি জানান, ইন্টারনেটে কোনও তথ্য দেখে যদি বিস্ময় বা বিতৃষ্ণা জাগে, তাহলে তথ্যটি শেয়ার করার আগে যাচাই করতে হবে। কিংবা, ইন্টারনেটে পাওয়া কোনও তথ্যকে যদি আপনার মতামতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মনে হয়, সেক্ষেত্রেও তা শেয়ার করার আগে যাচাই করতে হবে।

বিশেষ করে, কোনও তারিখ বা লেখকের নামহীন তথ্য বা নিবন্ধ মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

যদি কোনও তথ্য এমন একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া হয়, যে অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারীর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না এ সকল অ্যাকাউন্ট কিংবা তথ্য ফেইক হতে পারে। এমনকি কারও প্রোফাইল ভেরিফায়েড থাকার অর্থ এই নয় যে তারা যা পোস্ট করছে সে বিষয়টিই সত্য।

কোনও কোনও ক্ষেত্রে ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য একজন সাধারণ ব্যবহারকারী অনলাইনে রাজনীতিবিদ বা সেলিব্রিটির ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে, বলছিলেন তিনি।

“এখন অনেক মিডিয়া হাউজের নামে ফটোকার্ড ব্যবহার করতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করে খবরটি শেয়ার করা হচ্ছে, সেই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হ্যান্ডেলগুলোতে চোখ রাখলেও সত্য-মিথ্যা বোঝা যায়,” তিনি যোগ করেন।

অনেকসময় কোনও ব্যক্তির বরাতে ফটোকার্ড বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে কোনও ‘খবর’ প্রচার করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে যার বরাতে খবরটি দেওয়া হচ্ছে, তার ফেসবুক পেজও যাচাই করা যেতে পারে। কিংবা, সম্ভব হলে সরাসরি ওই ব্যক্তির সাথেও যোগাযোগ করা যায়।

“তবে ফটোকার্ড বানালেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওরা ফন্ট নকল করতে পারে না। আবার, যে ছবিটা ব্যবহার করছে, সেগুলোর ফ্রেম হুবহু ওই গণমাধ্যমের হচ্ছে না। এগুলো খেয়াল রাখতে হবে।”

এমনকি গণমাধ্যমে প্রচারিত সকল তথ্যকে চট করে বিশ্বাস করতেও নিরুৎসাহিত করেন মি. চৌধুরী।

ইমেজ সার্চ দিয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়
ছবির ক্যাপশান,ইমেজ সার্চ দিয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়
গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যে একমাত্র সূত্র হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উল্লেখ করা হলে কিংবা একটি তথ্য নিয়ে বেশিরভাগ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত না হলে তা বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে বলেন ফ্যাক্টচেকাররা।

“যখন একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন গণমাধ্যম ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রচার করে, দুর্ঘটনাজনিত সংবাদে সহজেই পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এমন ছবি বা ভিডিও প্রচার হলে, দেশের সংবাদ মাধ্যমে ভিনদেশের কোনও ঘটনা নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনে সূত্র হিসেবে সংশ্লিষ্ট ভিনদেশের মূলধারার গণমাধ্যম বাদে অনলাইন নিউজ পোর্টালের কথা উল্লেখ থাকলে সেই

তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি
কোনও তথ্য নিয়ে সন্দেহ হলে কেউ চাইলে রিউমর স্ক্যানার বা ডিসমিসল্যাবের মতো ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, গ্রুপ পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

কেউ চাইলে ঘরে বসে নিজে নিজেও প্রযুক্তির সহায়তায় তথ্য যাচাই করতে পারেন।

মি. চৌধুরী জানিয়েছেন, ছবি যাচাই করার সবচেয়ে সহজ উপায় হছে ইমেজ সার্চ। বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে ইমেজ সার্চের অপশন দেখা যায়। গুগলের ক্ষেত্রে এর নাম গুগল ইমেজ সার্চ।

ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে পাঠককে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। কোনও ওয়েবসাইট নিয়ে যদি সন্দেহ হয়, তাহলে আইসিএএনএন ওয়েবসাইট থেকে তার সত্যতা সহজেই যাচাই করা যাবে।

অনেকসময় স্থান নিয়েও গুজব ছড়ানো হয়। সেক্ষেত্রে গুগল স্ট্রিট ভিউ অপশন ব্যবহার করা যায়।

গুজব বেড়ে যাওয়ার কারণ কী?
শুধু বিভিন্ন ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানই নয়, তথ্য প্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবিরও বিবিসি বাংলাকে জানাচ্ছেন যে গত দু’মাসে বাংলাদেশে গুজবের পরিমাণ বেড়েছে ।

গুজব বৃদ্ধির একটি কারণকে চিহ্নিত করেছেন তিনি। তার মতে, দীর্ঘসময় বাংলাদেশের মানুষ বাকস্বাধীনতা পায়নি এবং গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি।

“তখন সাধারণ মানুষ নিয়মিত গণমাধ্যমের ওপর আস্থা হারিয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তথ্যের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর মানুষের নির্ভরতা বেড়েছে।”

সে কারণেই মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা দেখছে, সেটিকেই বিশ্বাস করতে চাইছে। পাঁচই অগাস্টের আগেও পক্ষে-বিপক্ষে নানান ধরনের গুজব ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে, যে গোষ্ঠী আন্দোলনের বিপক্ষে ছিল, তারা হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা দেশে অস্থিরতা চাচ্ছে, তারা গুজব ছড়াচ্ছে।”

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি মিডিয়া ও সরকারকে সচেতনতা তৈরি করতে আহ্বান জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে যেসব গণমাধ্যমের নামে সবচেয়ে বেশি ফেক নিউজ ছড়ানো হচ্ছে, তাদের মধ্যে অন্যতম যমুনা টেলিভিশন।

প্রতিষ্ঠানটি প্রধান বার্তা সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে চোর চুরি করে তা কোথাও না কোথাও বিক্রি করছে। কিন্তু ক্রেতারা ধরতে পারছে না যে এটা নকল জিনিস।”

সাম্প্রতিক সময়ে তাদের নামে ফটোকার্ড বানিয়ে মিথ্যা খবর প্রচারের প্রবণতা “কল্পনাতীত হারে বেড়েছে” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা কিছু কিছু ঘটনায় থানায় অফিশিয়ালি অভিযোগ করেছি।”

কারণ ওইসব তথ্য তাদের জন্য একদিকে যেমন মানহানিকর, অপরদিকে সেগুলো প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছিলো। সেইসাথে, পাঠক বা দর্শকরাও ঝুঁকির মাঝে পড়ছে।

“এই প্রবণতা বাড়ার একটি কারণ এমন হতে পারে যে আন্দোলনের সময় যমুনা টেলিভিশনের ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছিলো। ওই সুবিধাকে কাজে লাগানোর জন্য বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল এই কাজগুলো করছে।”

সূত্র; বিবিসি বাংলা

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ

অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৫’ সম্মাননা উপলক্ষ্যে বিভাগীয় কমিটির সভা

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:০০ পিএম
অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৫’ সম্মাননা উপলক্ষ্যে বিভাগীয় কমিটির সভা

অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৫ সম্মাননা উপলক্ষ্যে বিভাগীয় কমিটির সভা আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) কাজী জিয়াউল বাসেত।

আগামী ০৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীদের পাঁচটি বিশেষ ক্যাটাগরিতে ময়মনসিংহ বিভাগের সফল নারীদের পুরস্কার প্রদান করা হবে। ক্যাটাগরিগুলো হলো: অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী, শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী, সফল জননী নারী, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবনসংগ্রামে জয়ী নারী এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী। ময়মনসিংহ বিভাগে প্রতিটি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা দুইজন করে নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী সভায় চূড়ান্তভাবে একজন করে বাছাই করে ঢাকায় পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি নারীর নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অবদান ও সংগ্রামের ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং তুলনামূলক অধিকতর যোগ্য নারীকে সর্বসম্মতিক্রমে বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সারাদেশে বাছাইকৃত নারীদের মধ্যে থেকে জাতীয় পর্যায়ে আগামী ০৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হবে।

তাসলিমা রত্না

ময়মনসিংহ নগরীর একজন অভিভাবক বলে কথা

তাসলিমা রত্না প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম
ময়মনসিংহ নগরীর একজন অভিভাবক বলে কথা

ময়মনসিংহ নগরীর একজন অভিভাবক বলে কথা, ময়মনসিংহের সদর – ৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব আবু ওয়াহাব আকন্দ মহোদয়
আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নগরী নিয়ে কিছু কথা ব্যক্ত করতে চাই।
আমার এই লেখাটির যাদের দৃষ্টিগোচর হবে অবশ্য শেয়ার করবেন।
১/ প্রথম কথা হলো বর্তমানে এই নগরীর আপনি একজন এমপি হয়েছেন,সেক্ষেএে আমার প্রশ্ন —
২/ নগরীর যানজট নিরসন করতে হবে অবৈধ লাইসেন্স বাতিল করতে হবে, অবৈধ ফুটপাত পার্ক দখল মুক্ত করতে হবে।
৩/ নগরীকে মাদক মুক্ত করতে হবে– যদিও মাদক মুক্ত হওয়ার পথে না কারন টাকা খেয়ে পুলিশ প্রশাসন আসামী ছেড়ে দেয়, — এটা নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা।
৪/ বেকার যুবকদের কর্মসংস্হানের ব্যবস্হা করতে হবে,, —
৫ /সব শেষে এটাই বলবো কিছু কিছু পয়েন্টে রাস্তার যে বহালদশা সেটা সংস্কার করতে হবে/ শিক্ষানগরীকে কোন পুঁজিবাদ ইভেন ব্যবসায়ী ক্ষেএে নেওয়া যাবেনা, বরং একজন শিক্ষার্থীকে সঠিক শিক্ষা পাঠদানে গড়ে তুলতে হবে – আর বয়স্ক বাবা মা যাদের কেউ নেই, তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থল গড়ে তুলতে হবে।
আর সব চেয়ে বড় কথা হলো বিগত বছরে কি হয়েছে,সব দ্বিধাধন্দ ভূলে আমাদের এই নগরীকে অন্যান্য জেলার তুলনায় আরও ডেভেলপ করতে হবে।
থানায় কোন সাংবাদিক দালালি করতে পারবেনা
আর একটা বিশেষ কথা না বলে পারলাম না সেটা হলো
অহিংসার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে? চুরি, ছিনতাই ও অরাজকতা লুটপাট থেকে পুলিশ প্রশাসন কে অবশ্য সজাক দৃষ্টিভঙি রাখতে হবে, সেক্ষেএে আপনার ভূমিকা বড় ভূমিকা রাখতে হবে।
ইভেন ময়মনসিংহ বাসি আপনার কাছে এইটুকুর দাবিদার
আমি একজন গণমাধ্যম কর্মী হয়ে একজন সাধারণ মানুষ হয়ে এই কথা বলছি।
এই নগরীর মানুষ একজন সত্যি কারের সেবক হিসেবে, আপনার কি করনীয় আছে, সেই টুকো আমরা শত ভাগ আশাবাদী।
জনগণ আপনাকে ভোট দিয়েছে বলে আজ আপনি জন প্রতিনিধি, তাই আমার এই লেখাটা একটু দৃষ্টিগোচর দিবেন মহোদয়।
আমি ছোট মানুষ আমার মনে এই কথা গুলো ছিলো তাই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ করলাম।
বেয়াদবি নিবেননা।
আর একটা বিষয় না বললেই হয়না, এখন আপনার আশেপাশে কিছু অহেতুক সুবিধাবাদী লোক যাতায়াতের মাএা দ্বিগুণ আকারে বৃদ্ধি পাবে, তাদেরকে একটু দুরে সরিয়ে রাখবেন।

বিশেষ প্রতিনিধি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘুষি ও ওসিকে বান্দরবান পাঠানোর হুমকি: বাগাতিপাড়ায় প্রতারণার অভিযোগে যুবক

বিশেষ প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৫ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘুষি ও ওসিকে বান্দরবান পাঠানোর হুমকি: বাগাতিপাড়ায় প্রতারণার অভিযোগে যুবক

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় চাকুরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা কন্ট্রাক্ট হয়।
পরে নগদ ৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শুভ (২২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত শুভ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের ছোট পাঁকা গ্রামের মো. শাহিন আলীর ছেলে। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড় পাঁকা গ্রামের মৃত কানু হাজীর ছেলে সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মোছা: জেমি খাতুন (৩৭)-এর কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পাকাঁ কলেজের সভাপতি আবু আব্দুল্লাহ ওরফে বুলবুলের নাম ভাঙিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা নেন তিনি। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দিতে ব্যর্থ হলে বিষয়টি প্রকাশ পায়।
পরে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে শুভ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করে তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শুভ জেমি খাতুনের বাড়িতে গিয়ে উল্টো আবারও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘুষি মারার হুমকি এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বান্দরবানে বদলি করিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
জেমি খাতুন বলেন, “চাকুরির আশ্বাসে আমরা কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে দিয়েছি।
এখন টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।” জেমি আরও জানান, ঘটনার সময় গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে, যেখানে অভিযুক্তের হুমকিমূলক বক্তব্য রেকর্ড রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের প্রতারণার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়ান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুরুল আলম’র মুঠোফোন বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।