প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, ব্যুরো চীফ নোয়াখালী
“XMG ইমেজিং” নামে শত কোটি টাকার এস্কেম: পাবনায় অফিস
বাংলাদেশে অনলাইন প্রতারণার ভয়াবহতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ওটিপি (OTP) ব্যবহার করে টাকা উধাও—এমন অভিযোগে সম্প্রতি একাধিক চক্র প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লেও, “XMG ইমেজিং কোম্পানি” নামে আরেকটি বড় প্রতারক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে উঠেছে বিস্ফোরক অভিযোগ। দাবি করা হচ্ছে, এই চক্র কলেজ ছাত্রছাত্রী, যুবক-যুবতী এবং প্রবাসীদের টার্গেট করে শত কোটি টাকার প্রতারণা চালিয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রতারকরা বিদেশি ও বাংলাদেশি সিম ব্যবহার করে WhatsApp ও Telegram-এ গ্রুপ খুলে “ঘরে বসে মোটা অংকের আয়”–এর লোভনীয় অফার ছড়াত।
প্রথমে ছোট অংকের ডিপোজিট নিয়ে কিছুদিন “লাভ” দেখানো হতো। এরপর বড় অংকের টাকা জমা করালে হঠাৎ ওয়েবসাইট ও অফিস বন্ধ করে উধাও হয়ে যেত চক্রটি।
ওটিপি সংগ্রহ ও ডিভাইস হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অনেকের বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পাবনায় অফিস, ছিল না কোনো নিবন্ধন!
অভিযোগ রয়েছে, পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় কোম্পানির সাইনবোর্ড টানিয়ে অফিস পরিচালনা করা হলেও কোনো রাষ্ট্রীয় নিবন্ধন বা আইনগত কাগজপত্র ছিল না। কিছু আইটি দক্ষ ব্যক্তির সহায়তায় ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার পরিচালিত হতো বলে জানা গেছে।
সূত্রমতে, এই সফটওয়্যারভিত্তিক প্রতারণা ব্যবসার সঙ্গে তিন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, মো. আব্দুল্লাহ সরকার (পিতা: ফজলু মিয়া), ইউনিয়ন: নিচাইচড়া, গ্রাম: মাছগ্রাম, থানা: চাটমোহর, জেলা: পাবনা।হাসিনুর (প্রবাসী) (পিতা: মোহাম্মদ ইসমাইল), গ্রাম: বোয়ালমারী, থানা: ভাঙ্গুড়া, জেলা: পাবনা।রিয়াজুল, গ্রাম: বোয়ালমারী, থানা: ভাঙ্গুড়া, জেলা: পাবনা।
অভিযোগ আছে, এরা দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক “ওয়েব এস্কেম” চালিয়ে আসছে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার ৮নং বিজবাগ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রমজান আলী, মোহাম্মদ জয়, বিবি মরিয়মসহ অনেকেই এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আমানত হারিয়ে তারা এখন আর্থিক ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্তদের একটাই দাবি-অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন-কতদিন এভাবে অনলাইন এস্কেম চক্র যুব সমাজকে ধ্বংস করবে?
কখনোই অপরিচিত কারও সঙ্গে OTP শেয়ার করবেন না। “নিশ্চিত লাভ” বা “ঘরে বসে আয়”–এর প্রলোভনে টাকা বিনিয়োগের আগে সরকারি নিবন্ধন যাচাই করুন।
সন্দেহজনক লেনদেন হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ জানান।
এই বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।

















