রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২
রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

বুলবুল আহমেদ নবীগঞ্জ হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ-১ আসনের এমপি রেজা কিবরিয়া’র স্ত্রীর সাথে দুই উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময়!

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম | 38 বার পড়া হয়েছে
হবিগঞ্জ-১ আসনের এমপি রেজা কিবরিয়া’র স্ত্রীর সাথে দুই উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময়!

সরকারি কোনো পদ বা জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডক্টর রেজা কিবরিয়া’র সহধর্মিণী সিমি কিবরিয়াকে নিয়ে গত দুই দিন নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনের মতবিনিময় সভা ও সরকারি দপ্তর পরিদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের এমন ভূমিকা সরকারি বিধিমালা ও আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা নিয়ে নানাম আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাহুবল উপজেলা পরিষদের হলরুমে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, নবনির্বাচিত এমপির স্ত্রী সিমি কিবরিয়া। সভা চলাকালে তার দুই পাশে বসে ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র দে ও বাহুবল মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এছাড়াও সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর পূর্বে গত বুধবার নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে হবিগঞ্জ-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডক্টর রেজা কিবরিয়া’র সাথে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ডক্টর রেজা কিবরিয়া। এতে, সভা শুরুর কিছুক্ষণ পর তিনি সভাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর ওই সভার প্রধান অতিথির আসনে বসেন তার সহধর্মিণী সিমি কিবরিয়া। তিনি সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। সভা শেষে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম তার সাথে ছিলেন।

ওইদিন সকালে সিমি কিবরিয়া নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেওনযান। সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

অপরদিকে, প্রশাসনিক ও আইন সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এসব কর্মসূচি সরকারি বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। সরকারি কার্যবিধি (Rules of Business, 1996) অনুযায়ী প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সভা, মতবিনিময় বা সরকারি দপ্তর পরিদর্শনে অংশগ্রহণের সুযোগ কেবল দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত জনপ্রতিনিধি অথবা সরকার অনুমোদিত কোনো সংস্থা বা কমিটির প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা সরকার নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি না হওয়ায় তাকে প্রশাসনিক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসাবে বসানো কিংবা সরকারি দপ্তর পরিদর্শনে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা আইনগত বৈধতা রাখে কি না- সে প্রশ্ন বার বার উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মতে, সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীদের আচরণবিধি, ১৯৭৯ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রভাব এড়িয়ে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরকারি দায়িত্বে না থাকা কোনো ব্যক্তিকে প্রশাসনিক মর্যাদা দিয়ে সভা পরিচালনা বা পরিদর্শনে অংশগ্রহণ করানো হলে সেটি আচরণবিধির সাথে বিবেচিত হতে পারে।

আইনজ্ঞদের মতে, এমন কর্মকাণ্ডে যদি জেনে শুনে কোনো ব্যক্তিকে প্রশাসনিক সুবিধা বা প্রভাব প্রদানের বিষয় যুক্ত থাকে, তবে তা দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৬৬ ধারার আলোকে দায়িত্ব পালনে অবৈধতা বা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্নও উত্থাপন করতে পারে। একই সঙ্গে সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জনগণের সেবক হিসেবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের যে নির্দেশনা রয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় তার ব্যত্যয় ঘটেছে কি না- সে বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী সিমি কিবরিয়াকে নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা ও সরকারি বিধিমালার প্রয়োগ নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানান আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র দে’র সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব-এর উদ্যোগে এক হাজার রোজাদারের মাঝে ইফতার বিতরণ

মোঃ মিজানুর সরকার বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৫:০০ এএম
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব-এর উদ্যোগে এক হাজার রোজাদারের মাঝে ইফতার বিতরণ

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব। সংগঠনটির সভাপতি ও জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত-এর সম্পাদক খান সেলিম রহমান এবং মোহাম্মদ রমজান সরকারের উদ্যোগে মাতৃজগত পরিবারের আয়োজনে এক হাজার রোজাদারের মাঝে ইফতার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুর-এ বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি খান সেলিম রহমান। বিকেল থেকেই কার্যালয় প্রাঙ্গণে রোজাদারদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন ও ধর্মীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে খান সেলিম রহমান বলেন,

“রমজান মাস আমাদের সংযম, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। এই মাস কেবল রোজা রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অসহায়, দুঃস্থ ও রোজাদার মানুষের পাশে দাঁড়ানোই রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য। সমাজের সামর্থ্যবানদের উচিত মানবকল্যাণে এগিয়ে আসা। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সমাজ কেবল সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ সেই দায়িত্ববোধেরই বহিঃপ্রকাশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরঙ্গজেব কামাল। তিনি বলেন,

“এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। সাংবাদিকদের সংগঠন যখন মানবিক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা রাখে, তখন তা সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও অনুপ্রাণিত করে। রমজান আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতার বন্ধনে আবদ্ধ করে।”

তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান এবং আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব আবদুর রব মিয়া এবং সাংবাদিক সুরক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন,

“সাংবাদিক সমাজ শুধু কলমের মাধ্যমে নয়, মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারে। আজকের এই আয়োজন তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রমজানের শিক্ষাকে ধারণ করে আমাদের সবাইকে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।”

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহিদুল হাসান সরকার, সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বাবু, দৈনিক জন জাগরণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং মিরপুর প্রেসক্লাব-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন, দৈনিক খবর বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ জাকির মোল্লা, মিরপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস. এম. বদরুজ্জামান, মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন , মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুন্নবী ফরাজী মুক্তার, যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল শিকদার, মোঃ বাবুল, জাহিদুল ইসলাম ও হারুন অর রশিদ জিন্নাহ। সিনিয়র সাংবাদিক লালন।

এছাড়াও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মোঃ মাহবুব উদ্দিন। সাংগঠনিক সম্পাদক ভূইয়া কামরুল হাসান সোহাগ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুর রহমান ও মোঃ সুমন খান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন মুন্না প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার ঢাকা উত্তর শাখার ব্যুরো প্রধান এস. এম. রফিকসহ মোঃ রাকিবুল ইসলাম, মোঃ তন্ময় চৌধুরী, মোঃ রিবণ রায়হান, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম রাজু, মোঃ আতাউর রহমান এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

দোয়া ও মোনাজাত

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়ায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, দেশের স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জনগণের সার্বিক মঙ্গল কামনা করা হয়। উপস্থিত সকলেই আমিন ধ্বনিতে অংশ নেন।

ইফতার বিতরণ শেষে অতিথি ও রোজাদাররা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। খেজুর, ফলমূল, পানি, শরবত ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আয়োজকদের আন্তরিকতা প্রকাশ পায়।

বৃহত্তর মিরপুর এলাকার সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে এক আন্তরিক, ধর্মীয় ও মানবিক আবহে। রমজানের পবিত্রতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

মোঃ ফজলুল কবির গামা ঝিনাইদহ

ধর্ষণের অপরাধীদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়ার সুযোগ থাকবে না

মোঃ ফজলুল কবির গামা ঝিনাইদহ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম
ধর্ষণের অপরাধীদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়ার সুযোগ থাকবে না

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, “ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা তাদের সহযোগী ও আশ্রয়দাতাদের ছাড় দেওয়া হবে না। না। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের দ্রুততম সময়ে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি চারণ করে মন্ত্রী বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন সরকার ও নির্বাচন পেয়েছি। এই শহীদদের আত্মা কষ্ট পায় বা তাদের অমর্যাদা হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড এই সরকার মেনে নেবে না।” তিনি আরও জানান, “গণঅভ্যুত্থানে যারা অপরাধ করেছে, তাদের প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন,অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে জনস্বার্থে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বিল আকারে পেশ করা হবে। এছাড়া চাঞ্চল্যকর নরসিংদীর ধর্ষণ মামলা ও ঝিনাইদহের শিশু তাবাসসুম হত্যা মামলা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিচার করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের একটি পয়সাও কেউ কমিশন হিসেবে নিতে পারবে না।
সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। অনিয়ম করলে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবুবকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালেব, জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এবং পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল সহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতম কর্মকর্তারা।

পরিশেষে তিনি বলেন, “ঝিনাইদহে যারা চাঁদাবাজি, দলাদলি বা সাধারণ মানুষকে হুমকি দেবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর অবস্থান নেবে।”

বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনা; নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে সেফটিক ট্যাংকে বিষক্রিয়া: ২ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা সংবাদদাতা প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৮ পিএম
সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে সেফটিক ট্যাংকে বিষক্রিয়া: ২ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পশ্চিম পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেফটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

দুপুরের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনটির সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে কাজ করার সময় প্রথমে এক শ্রমিক নিচে নামেন।

কিছুক্ষণ পর তার কোনো সাড়া না পেয়ে অপর শ্রমিক তাকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর দুজনেই বিষাক্ত গ্যাসে অচেতন হয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তারা স্থানীয় নির্মাণ শ্রমিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না। কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম—যেমন অক্সিজেন মাস্ক, সেফটি রশি বা গ্যাস পরীক্ষার যন্ত্র—ব্যবহার করা হয়নি।

ফলে ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে তারা আক্রান্ত হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেফটিক ট্যাংক বা নর্দমার ভেতরে কাজ করার সময় মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইডসহ বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকতে পারে, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিক অজ্ঞানতা ও মৃত্যুও ঘটতে পারে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সেফটিক ট্যাংকে কাজ করার সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্যাংকে প্রবেশের আগে গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা উচিত।

এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

error: Content is protected !!