বিশেষ সাক্ষাৎকার
“রুটি, তন্ত্র আর সাম্রাজ্যের স্বপ্ন”
স্থান: বরফঢাকা রাজধানীর সুরক্ষিত কক্ষ
সময়: যখন মানচিত্রের রেখাগুলো কাঁপছে
কুদ্দুস জ্বীন: মিস্টার ভালোদিয়া, প্রথমেই কৃতজ্ঞতা। আপনার মতো ব্যস্ত মানুষ সময় দিলেন— এটা আমাদের জন্য সম্মানের।
বিশ্বনেতা (হালকা হাসি): সময় সবসময় ব্যস্তদের হাতেই থাকে। প্রশ্ন করুন।
কুদ্দুস: রাশিয়ায় কি সত্যিই গণতন্ত্র আছে?
বিশ্বনেতা: আপনার দেশে রুটি কেমন?
কুদ্দুস: গোল। নরম। সাদা। গরম থাকলে খুবই জনপ্রিয়।
বিশ্বনেতা: আমাদের রুটি কালো। শক্ত। চারকোনা।
খেতে কষ্ট, কিন্তু পেট ভরে।
গণতন্ত্রও তাই।
আপনারা নরম গণতন্ত্র পছন্দ করেন— দেখতে সুন্দর, ধরতে আরামদায়ক।
আমরা শক্ত গণতন্ত্র পছন্দ করি— দাঁতে লাগে, কিন্তু টিকে থাকে।
বিশ্ব মানচিত্রে একেক দেশের গণতন্ত্র একেক রঙের রুটি।
আমাদেরটা কালো বলে সেটা গণতন্ত্র না— এমন কোনো নিয়ম নেই।
কুদ্দুস: তাহলে আমাদের দেশে কী আছে?
বিশ্বনেতা (চেয়ারে হেলান দিয়ে): আপনারা গণতন্ত্র আর রাজতন্ত্রকে একসাথে বসিয়ে চা খাইয়েছেন।
তারপর জন্ম হয়েছে— “বাংলা তন্ত্র”।
এটা এমন এক তন্ত্র, যেখানে ভোট বাক্স থাকে,
কিন্তু সিদ্ধান্ত থাকে ড্রয়ারে।
নেতারা বদলায়,
কিন্তু বংশ বদলায় না।
গণতন্ত্রের পোশাক,
রাজতন্ত্রের রক্ত,
আর জনগণের ধৈর্য— সব মিলিয়ে সুন্দর এক নাটক।
দৃশ্য ৩: যুদ্ধের শেষ কোথায়?
কুদ্দুস: যুদ্ধ কি থামবে?
বিশ্বনেতা: যুদ্ধ থামে না।
যুদ্ধ বদলায়।
কখনো বন্দুক হাতে,
কখনো নিষেধাজ্ঞা হাতে,
কখনো সংবাদমাধ্যম হাতে।
আমরা যুদ্ধ করছি আমাদের টাকায়।
আমাদের স্বপ্নে।
আমাদের ইতিহাসের অমরত্বের জন্য।
জয় না এলে যুদ্ধ শেষ হয় না।
আর আমরা জয় ছাড়া কিছু কল্পনাও করি না।
কুদ্দুস: রাশিয়া কি আরও বড় হবে?
বিশ্বনেতা: মানচিত্রে বড় না হলে রাজনীতিতে ছোট হয়ে যেতে হয়।
বড় থাকতে হলে বড় হতে হয়।
এটাই শক্তির জ্যামিতি।
ছোট দেশ টিকে থাকে প্রার্থনায়।
বড় দেশ টিকে থাকে প্রভাব দিয়ে।
আমরা পেছনে ফেরার পথ রাখিনি।
কারণ পেছনে ফেরার মানে— ইতিহাসে হারিয়ে যাওয়া।
কুদ্দুস: আমাদের দেশের জন্য একটি পরামর্শ?
বিশ্বনেতা (অস্বাভাবিক গম্ভীর): পাঁচ বছর।
মাত্র পাঁচ বছর।
দুর্নীতি অর্ধেক করুন।
তারপর দেখুন— উন্নয়ন নিজেই দরজায় কড়া নাড়ে।
আপনাদের সবচেয়ে বড় শত্রু সীমান্তের ওপারে নয়।
শত্রু লুকিয়ে আছে— ফাইলে, সইয়ে, কমিশনে, টেন্ডারে।
বাংলাদেশকে কেউ হারাতে পারবে না—
যদি বাংলাদেশ নিজেকে না হারায়।
















