দেবিদ্বার উপজেলায় চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
নবাগত এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর হুঁশিয়ারি
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা জুড়ে চাঁদাবাজি, দালাল চক্র ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন নবাগত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— দেবিদ্বার উপজেলায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা দালাল চক্রের স্থান হবে না। ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দালালদের প্রভাব নির্মূল করতে প্রশাসনকে কঠোরভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চাঁদাবাজি ও দালালমুক্ত প্রশাসনের ঘোষণা
এমপি বলেন, “দেবিদ্বার উপজেলায় সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে সরকারি সেবা পায়— এটাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী জনগণের অধিকার নিয়ে খেলতে পারবে না।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্রে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’
উপজেলাজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নতুন গতি এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
প্রশাসনের সূত্র জানায়, দালাল ও মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি
এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেছেন, উন্নয়ন, সুশাসন ও নিরাপদ সমাজ গঠনের মাধ্যমে দেবিদ্বার উপজেলাকে দেশের অন্যতম মডেল উপজেলায় পরিণত করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই দেবিদ্বার শুধু কুমিল্লা নয়, পুরো বাংলাদেশ-এর মধ্যে একটি উদাহরণ হয়ে উঠুক।”
জনগণের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এমপি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। অনেকেই মনে করছেন, তার কঠোর অবস্থানের কারণে অপরাধচক্রের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের অবস্থান
কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, জনপ্রতিনিধির নির্দেশনা অনুযায়ী আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করা হয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দেবিদ্বার উপজেলায় চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা— কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে উপজেলাটি সত্যিই একটি আদর্শ প্রশাসনিক মডেলে পরিণত হতে পারে।











