বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনা; নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে সেফটিক ট্যাংকে বিষক্রিয়া: ২ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু
সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পশ্চিম পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেফটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
দুপুরের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনটির সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে কাজ করার সময় প্রথমে এক শ্রমিক নিচে নামেন।
কিছুক্ষণ পর তার কোনো সাড়া না পেয়ে অপর শ্রমিক তাকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর দুজনেই বিষাক্ত গ্যাসে অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তারা স্থানীয় নির্মাণ শ্রমিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না। কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম—যেমন অক্সিজেন মাস্ক, সেফটি রশি বা গ্যাস পরীক্ষার যন্ত্র—ব্যবহার করা হয়নি।
ফলে ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে তারা আক্রান্ত হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেফটিক ট্যাংক বা নর্দমার ভেতরে কাজ করার সময় মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইডসহ বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকতে পারে, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিক অজ্ঞানতা ও মৃত্যুও ঘটতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সেফটিক ট্যাংকে কাজ করার সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্যাংকে প্রবেশের আগে গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা উচিত।
এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।














