বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

মেঘনায় বিলীন হচ্ছে জনপদ

হিজলায় ডিসির ‘নীরব সায়’ ও যোগসাজশে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০২ পিএম | 41 বার পড়া হয়েছে
হিজলায় ডিসির ‘নীরব সায়’ ও যোগসাজশে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন

বরিশালের হিজলা উপজেলার সাউড়া সৈয়দখালী এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে দেদারসে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয় জেলা প্রশাসনের (ডিসি) রহস্যজনক নীরবতা এবং পরোক্ষ যোগসাজশের কারণে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে আজ (মঙ্গলবার) সকালে হিজলা উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

প্রশাসনের মদতে নদী ভাঙন?
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বারবার মৌখিক ও লিখিতভাবে বালু উত্তোলনের ভয়াবহতা জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং ড্রেজার সিন্ডিকেটগুলো প্রশাসনের ‘সবুজ সংকেত’ পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বালু খেকোদের সাথে প্রশাসনের শীর্ষ মহলের অলিখিত আর্থিক লেনদেন বা যোগসাজশ থাকায় কোনো কার্যকর মোবাইল কোর্ট বা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না।
মানচিত্র হারানোর শঙ্কায় হিজলা
বিক্ষোভকারীরা তাদের ব্যানারে স্পষ্ট করে তুলে ধরেন যে, সাউড়া সৈয়দখালী এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার ফলে মেঘনার ভাঙন তীব্রতর হয়েছে। ভাঙনে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। ব্যানারে সরাসরি দাবি জানানো হয়েছে— “রাক্ষুসে মেঘনার ভাঙন থেকে হিজলা উপজেলাকে বাঁচান, হিজলা উপজেলার মানচিত্র রক্ষা করুন।”
বক্তাদের কড়া হুঁশিয়ারি
মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসন আমাদের রক্ষাকর্তা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তারা বালু খেকোদের পাহারাদার। ডিসি অফিস থেকে বালু উত্তোলনের এই মরণঘাতী খেলায় সায় দেওয়া হচ্ছে। যদি অতি দ্রুত এই ড্রেজার বন্ধ না করা হয়, তবে হিজলার সর্বস্তরের জনগণ ডিসি অফিস ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”
জনদুর্ভোগ ও প্রশাসনের ভূমিকা
সরেজমিনে দেখা গেছে, শত শত মানুষ দীর্ঘক্ষণ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশাসনের প্রতি চরম অনাস্থা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়দের মতে, যেখানে সরকারি আইন অনুযায়ী নদী থেকে বালু তোলা নিষিদ্ধ, সেখানে জেলা প্রশাসনের চোখের সামনে ড্রেজার চলছে কীভাবে? এটি স্পষ্টত যোগসাজশেরই প্রমাণ।
প্রতিবেদনটি শেষ করার সময় আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের প্রতি শেষবারের মতো আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, “আমরা রক্ত দিয়ে হলেও আমাদের ভূমি ও নদী রক্ষা করব। ডিসি সাহেবকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কি জনগণের পাশে থাকবেন, নাকি বালু খেকো সিন্ডিকেটের পক্ষে?”

১৬টি ব্যাটারি জব্দ, ৩ জনের কারাদণ্ড

​সিংড়ায় অবৈধ মাটি কাটা ও মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান

​রাজিকুল ইসলাম , সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
​সিংড়ায় অবৈধ মাটি কাটা ও মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান

​নাটোরের সিংড়া উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটা এবং মাদক সেবনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

গত দুই দিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করে ১৬টি এক্সকেভেটরের (ভেকু) ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে এবং তিন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। উভয় অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এবং আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার কলম, ইটালি, সুকাশ, চৌগ্রাম ও রামানন্দখাজুরা ইউনিয়নে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। কৃষি জমি রক্ষা ও সরকারি নির্দেশ অমান্য করে মাটি কাটার অপরাধে অভিযান চলাকালে মোট ১৬টি এক্সকেভেটরের ব্যাটারি জব্দ করা হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

​এদিকে আজ মঙ্গলবার উপজেলার চামারী ইউনিয়নে মাদকবিরোধী এক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মাদক সেবনের অপরাধে তিন ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের তিনজনকে যথাক্রমে ১ মাস, ২ মাস ও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।

​অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, জনস্বার্থে এবং আবাদি জমি রক্ষায় অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়া মাদকের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে তিনি বলেন: ​”মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে আমরা সবাই সমাজকে রক্ষা করব—এই হোক আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

আগামী ২৫ তারিখ শুরু হচ্ছে অমর একুশ্ব বইমেলা

পদ্মবু একটি মেয়ের করুন পরিনতির গল্প

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ পিএম
পদ্মবু একটি মেয়ের করুন পরিনতির গল্প

বিয়ে শব্দটার মাহাত্ম অনেক। আর সেই বিয়েটাকে যদি অহেতুক কাঠ মোল্লারা ফতোয়া জারী করে পুতুল খেলা বানিয়ে দেয় তা হয় নিছক মজা।নিজের বল ক্ষমতাকে যাহির করা।

“পদ্মবু একটি মেয়ের করুন পরিনতির গল্প”।

উপন্যাস— পদ্মবু।
প্রচ্ছদ — ধ্রুব এষ।
প্রকাশনী —অনিন্দ্য প্রকাশ।
প্রকাশকাল–২০১৭ সাল।

ঝিনাইদহে ৪৮ তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নবযোগদানকৃত ডাক্তারদের ওরিয়েন্টেশন

মোঃ ফজলুল কবির গামা বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৫ পিএম
ঝিনাইদহে ৪৮ তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নবযোগদানকৃত ডাক্তারদের ওরিয়েন্টেশন

ঝিনাইদহে ৪৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নবযোগদানকৃত চিকিৎসকদের জন্য জেলায় ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত হয়।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ।

উক্ত প্রোগ্রামে জেলার ছয়টি উপজেলায় নবযোগদানকৃত মোট ৩৯ জন চিকিৎসক অংশ নেন। ওরিয়েন্টেশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন চিকিৎসকদের ঝিনাইদহ জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত করা, প্রশাসনিক কার্যক্রম বোঝানো এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে তাদের দায়িত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সাইফুর রহমান, উপপরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মোঃ কামরুজ্জামান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা।

ডাঃ কামরুজ্জামান নবযোগদানকৃত চিকিৎসকদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আপনাদের দায়িত্ব শুধু রোগীর চিকিৎসা করা নয়, বরং রোগীর সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ বজায় রেখে জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা। আপনাদেরকে অভিভাবকের মতো দায়িত্বশীল হতে হবে।”

জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ তার বক্তব্যে বলেন, “চিকিৎসা পেশা একটি মহান দায়িত্ব। রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা উচিত। জেলা প্রশাসন সর্বদা স্বাস্থ্য বিভাগের পাশে থাকবে। আমরা আশা করি নতুন চিকিৎসকবৃন্দ ঝিনাইদহের জনগণকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবেন।”

উক্ত ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে নবযোগদানকৃত চিকিৎসকদের ঝিনাইদহ জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ পরিচয় ঘটানো হলো, যাতে তারা দক্ষ ও দায়িত্বশীলভাবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে সক্ষম হন।

প্রোগ্রামের শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবযোগদানকৃত চিকিৎসকদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। চিকিৎসকরা জনগণের সেবায় সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন এবং জেলা স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উন্নত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

error: Content is protected !!