রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২

কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস?

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম | 21 বার পড়া হয়েছে
কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস?

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস– এ বিষয়ে অনেকেই জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, তিনি কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছেন যমুনায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর তিনি এখনও সেখানেই অবস্থান করছেন।

জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী ড. ইউনূসের আরও তিন মাস যমুনায় বসবাসের সুযোগ থাকলেও তিনি এটি ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে এরইমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এরপরই গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) যমুনা পরিদর্শন করেছে।

অধ্যাপক ইউনূসের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, যমুনায় তিনি পরিবারকে সময় দিচ্ছেন এবং সাজাচ্ছেন ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও। মাস খানেক বা ঈদের পর তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরতে পারেন, তবে এখনও দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি।

ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী জানান, ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে নথিপত্র ও সাংগঠনিক কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে অসুস্থ স্ত্রীকে সময় দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, মূলত ইউনূস সেন্টারে ফেরার কাজ ও নথিপত্র গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন, এছাড়াও কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। তরুণদের জন্য নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়ে ভাবছেন, তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ ভিশন বা শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণের ধারণার ওপর ভিত্তি করেই নতুন উদ্যোগগুলো নেয়া হতে পারে, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ঠিক হয়নি।

বিদেশ থেকেও সফরের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি-এ ব্যাপারে তাকে সহায়তা করছেন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাবেক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। কোথায় তিনি সশরীরে যাবেন আর কোথায় ভার্চুয়ালি বক্তৃতা দেবেন সে ব্যাপারেও কাজ করছেন তিনি।

যমুনায় ড. ইউনূসের আগের মতো ব্যস্ততা না থাকলেও তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে কম্পাউন্ডের ভেতরেই কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন প্রতিদিন। নাশতার পর সকাল ১০টার দিকে কাজ শুরু করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যারা তার সঙ্গে দেখা করতে চান, তাদের যেন সুযোগ দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট আরও একজন বলেন, তিনি আমাদের স্পষ্টভাবে বলেছেন, যারাই দেখা করতে চায়, তাদের যেন সুযোগ দেয়া হয়। আগে রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে অনেকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, এখন তিনি সবার কথা শুনতে চান। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। কেউ অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা শুনতে চান, কেউ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চান, আবার কেউ পেশাগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

আগামী মাসে পাঁচ দিনের সফরে জাপানে যাওয়ার কথা রয়েছে ড. ইউনূসের। সফরের বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তার এক সহযোগী।

সব কিছু শেষে ড. ইউনূসের মনোযোগ এখন পরিবারের দিকে। অফিসের কাজ শেষে তিনি অসুস্থ স্ত্রীর পাশেই থাকছেন এবং বিকেলে ৫টার দিকে তিনি আরেক দফা হাঁটাহাঁটি করেন। সন্ধ্যা কাটছে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে এছাড়া মেয়ের দুই বিড়াল ‘মিনু’ ও ‘কায়রো’র সঙ্গেও সময় কাটে তার।

জানা গেছে এরইমধ্যে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। তিনি তার সরকারের মেয়াদকালেই পাসপোর্টটি ছেড়েছেন। এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন পাসপোর্টটি হস্তান্তর করেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার অনেকে এরইমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন।

স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার মিলিয়ে প্রায় ২০ জন তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা সপ্তাহখানেক আগে পাসপোর্ট ছেড়েছেন। বাকিরাও ভোটের আগে পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রায় দেড় বছর দেশ শাসনের পরে ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন অধ্যাপক ইউনূস।

এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ প্রতিমন্ত্রী দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন।

বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: রক্ত থেকে বিশ্বমঞ্চে

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৪০ এএম
বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: রক্ত থেকে বিশ্বমঞ্চে

বাংলা ভাষা শুধু একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়—এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মত্যাগ ও অহংকারের নাম। বিশ্বের বুকে বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পেছনে রয়েছে এক রক্তঝরা ইতিহাস, যা মানবসভ্যতার ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।

📅 ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২—এই দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে ছাত্ররা রাজপথে নেমেছিল। পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে। তাঁদের রক্তে রঞ্জিত হয় বাংলার মাটি, আর সেই আত্মত্যাগই বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দেয়—ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার দৃষ্টান্ত।
🌐 এই আন্দোলনের তাৎপর্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে দীর্ঘদিন প্রচেষ্টা চালান প্রবাসী বাঙালিরা। তাঁদের নিরলস উদ্যোগে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর, ইউনেস্কো ঘোষণা করে—
👉 ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
এই ঘোষণার মাধ্যমে বাংলা ভাষা পায় বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি, আর বাংলাদেশ পরিচিত হয় ভাষার মর্যাদা রক্ষাকারী এক সাহসী জাতি হিসেবে।
📚 আজ বাংলা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ভাষা—যার রয়েছে বিশাল সাহিত্যভাণ্ডার, কবিতা, গান ও দর্শন। প্রায় ৩০ কোটিরও বেশি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম বেশি ব্যবহৃত ভাষার কাতারে নিয়ে গেছে।
💚 বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাদের শেখায়—
👉 মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করা মানে নিজের শিকড়কে সম্মান করা।
👉 ভাষার অধিকার মানবাধিকারেরই অংশ।
✊ আসুন, আমরা সবাই গর্বের সঙ্গে বাংলাকে ভালোবাসি, চর্চা করি এবং আগামীর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরি আমাদের ভাষা শহীদদের অমর ইতিহাস।
🕊️ আমার ভাষা, আমার অহংকার—বাংলা।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আকাশে বিরল “প্ল্যানেটারি প্যারেড

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৯ এএম
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আকাশে বিরল “প্ল্যানেটারি প্যারেড

সন্ধ্যার আকাশে একই দিগন্ত বরাবর একসাথে দেখা মিলবে ছয়টি গ্রহের— Mercury, Venus, Jupiter, Saturn, Uranus, Neptune। জ্যোতির্বিজ্ঞানে এ ধরনের দৃশ্যকে বলা হয় Planetary Parade— যেখানে গ্রহগুলো আকাশে এক লাইনে সাজানো মনে হয়, যদিও বাস্তবে তারা সূর্যের চারদিকে নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরছে।
🔭 কেন এমন দেখা যায়?
গ্রহগুলোর কক্ষপথ প্রায় একই সমতলে (ecliptic plane) অবস্থিত। পৃথিবী থেকে দেখলে সেই সমতলটাই আকাশে একটি বক্ররেখার মতো ধরা পড়ে। নির্দিষ্ট সময়ে কয়েকটি গ্রহ ওই রেখা বরাবর কাছাকাছি কোণে অবস্থান করলে আমরা তাদের “সারিবদ্ধ” দেখতে পাই।
⏰ বাংলাদেশে দেখার সময়
👉 বাংলাদেশ থেকে সেরা সময়: সন্ধ্যা ৬:৩০টা–৭:৩০টা (সূর্যাস্তের প্রায় ৩০–৬০ মিনিট পর)
পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশের নিচু অংশে নজর দিন
খোলা দিগন্ত ও পরিষ্কার আকাশ হলে দৃশ্যটি বেশি ভালো দেখা যাবে
👀 কোন গ্রহ কেমন দেখা যাবে?
Venus (শুক্র) ও Jupiter (বৃহস্পতি) — সবচেয়ে উজ্জ্বল, খালি চোখে সহজে ধরা পড়বে
Saturn (শনি) ও Mercury (বুধ) — দিগন্তের খুব কাছে, তাই স্বচ্ছ আকাশ দরকার
Uranus (ইউরেনাস) ও Neptune (নেপচুন) — খালি চোখে প্রায় অদৃশ্য; দূরবীন/ছোট টেলিস্কোপ লাগবে
🌠 দেখার টিপস
শহরের আলো থেকে একটু দূরে গেলে কনট্রাস্ট বাড়ে
সূর্যাস্তের ঠিক পরপরই আকাশে নজর দিন— দেরি করলে নিচু গ্রহগুলো অস্ত যেতে পারে
স্টার-চার্ট অ্যাপ ব্যবহার করলে গ্রহ চেনা সহজ হবে
এই বিরল সন্ধ্যায় আকাশ যেন এক মহাজাগতিক প্রদর্শনী— চোখ তুলে দেখলেই মিলবে সৌরজগতের ছয় সদস্যের একসাথে উপস্থিতি।

ডঃ জিয়াউদ্দিন হায়দার

তারেক রহমানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় বার্তা

ডঃ জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:২৯ এএম
তারেক রহমানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় বার্তা

রাজনীতিতে নেতারা কী প্রতিশ্রুতি দেন, তা দিয়ে নাগরিকেরা তাঁদের বিচার করেন না। তাঁরা বিচার করেন নেতারা কীভাবে জীবন যাপন করেন, কীভাবে আচরণ করেন এবং কীভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করেন, তা দিয়ে।

আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে কয়েকটি প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত আচরণগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলো প্রথমে প্রতীকী মনে হতে পারে।

কিন্তু বাস্তবে এগুলো আরও গভীর এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। এটি বহু বছরের ঘুণে ধরা শাসন সংস্কৃতি বদলে দেওয়ার একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টারই ইঙ্গিত ।

দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র ও নাগরিকের দূরত্ব শুধু নীতিগত ব্যর্থতার কারণে বাড়েনি, ক্ষমতার দৃশ্যমান দাম্ভিকতা ও বৈষম্যের কারণেও বেড়েছে।

সাধারণ মানুষ দেখেছে মন্ত্রীরা দীর্ঘ গাড়িবহর নিয়ে চলাচল করছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়ক বন্ধ থাকছে, যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা মিস করছে, শ্রমিকেরা কাজের সময় হারাচ্ছে। সরকারি সেবা দায়িত্বের চেয়ে সুবিধার প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। এই বাস্তবতায় সংস্কার মানে কেবল নতুন নীতিমালা নয়, জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের প্রশ্ন।

তারেক রহমানের নির্দেশনাগুলো সরাসরি এই সংস্কৃতিকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, মন্ত্রীরা আর বিলাসবহুল সরকারি গাড়ি ব্যবহার করবেন না। তাঁরা সাধারণ সাদা টয়োটা গাড়িতে চলবেন এবং নিজেদের ব্যক্তিগত পরিবহনব্যবস্থাই ব্যবহার করবেন।

সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত চালক বা সরকারি জ্বালানি তাঁরা ব্যবহার করবেন না। অর্থাৎ সরকারি পদ ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য নয়, জনসেবার জন্য।

ভিভিআইপি প্রটোকলেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সীমিত থাকবে মাত্র চারটি গাড়িতে, যেখানে আগে ১২ থেকে ১৪টি গাড়ির বহর চলত। ভিভিআইপি চলাচলের সময় পুলিশ আর সড়ক বন্ধ করবে না।

কোটি মানুষের কাছে এটি কোনো ছোট প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়। এটি নাগরিক মর্যাদার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। রাষ্ট্র নাগরিকের জীবন থামানোর জন্য নয়, তাদের জীবন সহজ করার জন্য।

সবচেয়ে প্রতীকী সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিষয়ে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর গাড়িতে কেবল রাষ্ট্রীয় অতিথি বা বিদেশি প্রধানদের সফরের সময় জাতীয় পতাকা ব্যবহার করবেন। নিয়মিত চলাচলে পতাকা থাকবে না। বার্তাটি স্পষ্ট। জাতীয় পতাকা ব্যক্তির নয়, জাতির।

প্রশাসনিক সংস্কারের দিকটিও লক্ষণীয়। অধিকাংশ মন্ত্রিসভা বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নয়, সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এটি প্রশাসনকে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিকে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত।

একই সঙ্গে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শনিবারও কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। দীর্ঘসূত্রতা ও ফাইলজটের অভিযোগে ক্লান্ত প্রশাসনে এটি গতি আনার প্রতিশ্রুতি।

সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্তগুলো নেতৃত্বের একটি নতুন সংজ্ঞা তুলে ধরে।

বাংলাদেশের মানুষ বহুদিন ধরে শুধু আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগই করেনি, ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

ব্যক্তিগত আরামের জন্য সরকারি সম্পদ ব্যবহার, মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার, এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রদর্শনী ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে।

তারা দেখেছে রাষ্ট্র তাদের কাছ থেকে ত্যাগ চায়, কিন্তু ক্ষমতাধরদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করে।

তারেক রহমানের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো একটি মৌলিক সত্যকে স্বীকার করে। দুর্নীতি শুধু অর্থ আত্মসাৎ নয়, ক্ষমতার অপব্যবহারও দুর্নীতি।

মোটরকেড কমানো, অযথা আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা, বিলাসী সুবিধা বর্জন, এবং নাগরিক জীবনে বিঘ্ন কমানোর মাধ্যমে আসন্ন সরকার একটি বার্তা দিচ্ছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাশত করা হবে না।

রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের দিক থেকে এগুলোর আর্থিক মূল্য হয়তো সীমিত, কিন্তু নৈতিক মূল্য অত্যন্ত বড়। কারণ, এগুলো একটি মানদণ্ড স্থাপন করে। নেতাদের নাগরিকদের মতোই জীবন যাপন করতে হবে।

এই পদক্ষেপগুলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের তরুণ আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকেও প্রতিফলিত করে। তরুণেরা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন চায়নি। তারা চেয়েছিল ন্যায়, মর্যাদা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র। তারা একটি আধুনিক রাষ্ট্র চায়, সামন্ততান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়। এমন একটি সরকার, যা তাদের সময়, চলাচল এবং ভবিষ্যৎকে সম্মান করে।

একবিংশ শতাব্দীতে রাজনৈতিক বৈধতা শুধু নির্বাচনে জয়ের ওপর নির্ভর করে না। তা নির্ভর করে ক্ষমতায় থাকাকালীন আচরণের ওপর। নাগরিকেরা এখন নেতৃত্বকে বিচার করে তাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে; রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল ও সেবাপ্রাপ্তির বাস্তবতার মাধ্যমে।

যখন একজন নেতার গাড়িবহর কোনো শ্রমিককে কারখানায় পৌঁছাতে বাধা দেয় না, বা কোনো অ্যাম্বুলেন্সকে আটকে রাখে না, তখন শাসনব্যবস্থা বাস্তব হয়ে ওঠে।

যদি এই সংস্কার ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং আমলাতন্ত্রে বিস্তৃত করা যায়, তাহলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের পথ খুলবে।

অবশেষে একটি জাতি শুধু বড় প্রকল্পে গড়ে ওঠে না, দৈনন্দিন চর্চায় গড়ে ওঠে। ছোট গাড়িবহর, খোলা রাস্তা, সাধারণ গাড়ি এবং কর্মমুখী সপ্তাহান্তের মতো সিদ্ধান্তই বড় বার্তা দেয়। নেতৃত্ব জনগণের মতোই নিয়মের অধীন। এই দৃষ্টান্ত বজায় থাকলে বাংলাদেশ শুধু প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে না, প্রতিষ্ঠানগতভাবে শক্তিশালী হবে। আর সেটিই তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি আধুনিক, অগ্রসর ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রকৃত ভিত্তি।
সংযমী মন্ত্রী, নিয়মমাফিক প্রশাসন, এবং নাগরিকের মতোই কষ্ট ভাগ করা নেতৃত্বই আধুনিক শাসনের ভিত্তি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ দরকার, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার জন্য দরকার উদাহরণ।

অবশ্যই প্রতীকী পদক্ষেপ দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

তবে ইতিহাস বলে, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রায়ই শুরু হয় নেতৃত্বের আচরণগত পরিবর্তন দিয়ে। শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের আচরণ বদলালে পুরো ব্যবস্থার ওপর শৃঙ্খলা দাবি করা সহজ হয়।

তারেক রহমানের প্রাথমিক সিদ্ধান্তগুলোর তাৎপর্য এখানেই। সরকারি পদ মর্যাদার নয়, সেবার।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও এগোতে পারে। দেশীয় নাগরিক, বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন সবখানেই এটি একটি বার্তা দেবে যে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা জবাবদিহি ও পূর্বানুমেয়তার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

অবশেষে একটি জাতি শুধু বড় প্রকল্পে গড়ে ওঠে না, দৈনন্দিন চর্চায় গড়ে ওঠে। ছোট গাড়িবহর, খোলা রাস্তা, সাধারণ গাড়ি এবং কর্মমুখী সপ্তাহান্তের মতো সিদ্ধান্তই বড় বার্তা দেয়। নেতৃত্ব জনগণের মতোই নিয়মের অধীন।

এই দৃষ্টান্ত বজায় থাকলে বাংলাদেশ শুধু প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে না, প্রতিষ্ঠানগতভাবে শক্তিশালী হবে। আর সেটিই তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি আধুনিক, অগ্রসর ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রকৃত ভিত্তি।

লেখকঃ
ডঃ জিয়াউদ্দিন হায়দার, বিশ্বব্যাংকের সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।

error: Content is protected !!