সম্রাট আলাউদ্দিন, ধামরাই (ঢাকা)
ডাব চুরির বিচার করায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট
ঢাকার ধামরাইয়ে ডাব চুরির ঘটনার বিচার করায় আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে মারাত্মক জখম করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হায়দার মোল্লা নামের বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় ওই বিএনপি কর্মীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আবুল কালাম আজাদ।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান।
ঘটনাটি ঘটেছে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর এলাকায়। আসামীরা হলেন, হায়দার মোল্লা (৪০), ও তার দুই পুত্র মোঃ বিজয় (২২), মোঃ দুর্জয় (২০) ও তাদের সহযোগী ০৪। মোঃ রাজু (২৬)।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবারসুত্রে জানা যায়, হায়দার মোল্লার ছেলে দুর্জয় সহ অজ্ঞাত ১০/১২ জন মিলে রাতে ভুক্তভোগী আবুল কালামের বাড়ির ডাব গাছ থেকে ডাব চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পরে দুর্জয়। দুর্জয়কে পাশের মসজিদে নিয়ে গেলে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা একটি চড় থাপ্পড় দিয়ে বিষয়টা সমাধান করেন। সমাধানের কিছু সময় পরে দুর্জয়ের বাবা কথিত বিএনপি কর্মী হায়দার মোল্লা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাত আনুমানিক ১০:৪৫ দিকে আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এলোপাথারি কিল ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করে। হায়দার আলীর হাতে থাকা ছুড়ি দিয়ে আবুল কালামের চোখের উপরে কপালে আঘাত করে জখম করে। মারধরের পর ঘরে থাকা সাড়ে তিন লাখ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর শাশুড়ি জানায়, ডাব গাছের শব্দ শুনতে পেয়ে মেয়ের জামাই ও পাশের বাড়ির ভাইকে ডেকে আনলে তারা গাছে চুরকে দেখতে পায়। পরে চুর গাছ থেকে নেমে আসলে মসজিদে নিয়ে বিচার করা হয়। এর কিছু সময় পরে একদল লোক এসে আমার মেয়ের জামাইকে মারধর করে। আমি থামাতে গেলে আমাকেও শ্লীলতাহানি করে। হায়দার আর দুর্জয়কে আমি চিনছি বাকি কাউকে চিনি নাই। ওরা যাওয়ার সময় টাকা ও গয়না নিয়া গেছে।
প্রতিবেশী মুজিব আলী জানায়, আপা আমারে ডাক দিলে আমি আইসা দেখি গাছের উপরে চুর। লাঠি দিয়া খোঁচা দেওয়ার পর চুর নামে। তখনও আমি তারে চিনি না। পরে ধইরা মসজিদে নিয়া গেলে সবাই বলে ওতো হায়দারের পোলা দুর্জয়। পরে ওইখানে ডাব চুরির বিষয়টা সমাধান হয়।
বাবর আলী শিকদার জানান, মসজিদে আমি সহ কয়েকজন ছিলাম। দুর্জয়কে নিয়া গেলে ও দোষ স্বীকার করে আমি একটা চড় দিয়া বলি যাও বাড়ি জীবনে আর এমন করবা না। বিষয়টা মীমাংসা হইছে মনে কইরা আমি স্বাভাবিক ছিলাম। কতক্ষণ পর হায়দারসহ কয়েকজন লোক আইসা আমাকে এলোপাথারি কিল ঘুষি মারতে থাকে।
ভুক্তভোগী আবুল কালাম আজাদ বলেন, হায়দারের ছেলেকে গাছ থেকে নামিয়ে হাতে নাতে ধরে মসজিদে নিয়ে যাই। ওখানে এলাকার মুরুব্বিরা মীমাংসা দেয়। পরে হায়দার আইসা আমারে মারধর করে আমার বিদেশ যাওয়ার টাকা ও আমার স্ত্রীর বিদেশ থেকে পাঠানো স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, হায়দার মোল্লা এলাকায় বিএনপি নেতা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয় এবং ত্রাস সৃষ্টি করে চলছে।
এঘটনা সম্পর্কে জানতে হায়দার মোল্লার বাড়ি গেলে তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার বাড়ি থেকে তার মুঠোফোন নাম্বার চাইলে সেটিও দেয়নি তার পরিবার।
এব্যাপারে ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

















