ছাত্রছাত্রীদের জন্য এল মেধা চিপ
বইয়ের বোঝা আর পরীক্ষার টেনশন এই দুই আতঙ্কে আর ভুগতে হবে না ভারতের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীকে কারণ আজ থেকে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায় যোগ হলো যা কেবল ভারতের নয় সমগ্র বিশ্বের শিক্ষার সংজ্ঞাই বদলে দেবে এতদিন আমরা সায়েন্স ফিকশন সিনেমায় দেখতাম যে মানুষ মেশিনের সাহায্যে নিমেষের মধ্যে জ্ঞান আহরণ করছে আজ সেই কল্পনা বাস্তবে রূপ পেল ভারতের প্রযুক্তি রাজধানী ব্যাঙ্গালুরুতে আজ সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী যৌথভাবে দেশের প্রথম নিউরাল এডুকেশন চিপ বা ব্রেন চিপ মেধা এর উদ্বোধন করলেন
আইআইটি মাদ্রাজ এবং ডিআরডিও এর নিউরোসায়েন্স বিভাগের বিজ্ঞানীরা গত সাত বছর ধরে এই প্রজেক্টের ওপর কাজ করছিলেন তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা যা মানুষের মস্তিষ্কের শেখার ক্ষমতা বা কগনিটিভ এবিলিটি কয়েক হাজার গুণ বাড়িয়ে দেবে মেধা চিপ সেই গবেষণারই ফসল এটি একটি চালের দানার চেয়েও ছোট সিলিকন চিপ যা কানের পেছনে চামড়ার নিচে বসিয়ে দেওয়া হয় এবং এটি সরাসরি মস্তিষ্কের নিউরনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে
কীভাবে কাজ করে মেধা চিপ
মেধা চিপ কাজ করে ব্রেন কম্পিউটার ইন্টারফেস বা বিসিআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এই চিপটি একটি ক্লাউড সার্ভারের সাথে যুক্ত থাকে যখন কোনো ছাত্র কোনো বিষয় শিখতে চায় তখন সে শুধু মনে মনে সেই বিষয়টি ভাবে যেমন ধরা যাক কেউ ইতিহাসের সাল তারিখ বা অঙ্কের জটিল সূত্র শিখতে চাইছে চিপটি সেই নির্দেশ পেয়ে ক্লাউড থেকে তথ্য ডাউনলোড করে এবং তা সরাসরি মস্তিষ্কের মেমোরি সেন্টার বা হিপোক্যাম্পাস এ পাঠিয়ে দেয় এই পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটতে সময় লাগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড অর্থাৎ যে বই পড়তে একজন ছাত্রের এক মাস লাগত তা এখন সে এক মিনিটের মধ্যে আত্মস্থ করতে পারবে
এই চিপ কেবল তথ্য মুখস্ত করায় না বরং এটি বিষয়টিকে বুঝতেও সাহায্য করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন চিপটি মস্তিষ্কের লজিক সেন্টার বা যুক্তি অংশকেও উদ্দীপ্ত করে ফলে ছাত্ররা কেবল তোতাপাখির মতো মুখস্ত করবে না তারা জটিল সমস্যার সমাধান করতে শিখবে ভাষার ব্যবধানও ঘুচে যাবে এই চিপের মাধ্যমে একজন ছাত্র নিমেষের মধ্যে ফ্রেঞ্চ জার্মান বা জাপানি ভাষা শিখে ফেলতে পারবে এবং অনর্গল কথা বলতে পারবে
পরীক্ষা ব্যবস্থার অবলুপ্তি
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেন আজ থেকে আমরা ঘোষণা করছি যে প্রথাগত পরীক্ষা ব্যবস্থার দিন শেষ মেধা চিপ আসার ফলে এখন আর স্মৃতিশক্তির পরীক্ষা নেওয়ার কোনো মানে হয় না কারণ সবার স্মৃতিশক্তি এখন সমান হবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ওপেন বুক এক্সাম বা সৃজনশীলতার পরীক্ষা নেওয়া হবে ছাত্ররা কতটা তথ্য মনে রাখতে পারে তা দেখা হবে না বরং তারা সেই তথ্য ব্যবহার করে নতুন কী তৈরি করতে পারে তা দেখা হবে
বই খাতা এবং ভারী ব্যাগের মুক্তি
ভারতের স্কুল পড়ুয়াদের পিঠের ব্যথা এক জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভারী ব্যাগের বোঝায় শিশুদের মেরুদণ্ড বেঁকে যাচ্ছিল মেধা চিপ সেই সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান করল এখন আর বই খাতা কলম পেন্সিল নিয়ে স্কুলে যাওয়ার দরকার নেই সমস্ত পাঠ্যপুস্তক এনসাইক্লোপিডিয়া এবং গবেষণাপত্র এখন চিপের মাধ্যমে মস্তিষ্কে থাকবে ক্লাসরুমগুলো এখন হবে আলোচনার জায়গা যেখানে ছাত্ররা এবং শিক্ষকরা মিলে নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কথা বলবেন শিক্ষার পরিবেশ হবে অনেক বেশি আনন্দদায়ক
চিকিৎসা বিজ্ঞানে মেধা চিপের অবদান
মেধা চিপ কেবল শিক্ষার জন্য নয় চিকিৎসা বিজ্ঞানেও এক আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে বিশেষ করে ডিসলেক্সিয়া বা শিখন অক্ষমতা এবং অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্য এটি এক নতুন জীবন এনে দেবে যেসব শিশু কথা বলতে পারে না বা শিখতে দেরি করে তাদের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশকে উদ্দীপ্ত করে এই চিপ তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনবে এছাড়াও অ্যালঝাইমার্স বা স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত বয়স্করা এই চিপ ব্যবহার করে তাদের হারানো স্মৃতি ফিরে পেতে পারেন অন্ধরা এই চিপের মাধ্যমে মস্তিষ্কে সরাসরি ছবি দেখতে পাবেন এবং বধিররা শব্দ শুনতে পাবেন
খরচ এবং সাধারণ মানুষের নাগাল
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দাম কত হবে এবং সাধারণ মানুষ তা কিনতে পারবে কি না সরকার জানিয়েছে মেধা চিপ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সমস্ত সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া হবে বেসরকারি স্কুলের ছাত্ররা এটি নামমাত্র মূল্যে কিনতে পারবে এই চিপ তৈরির খরচ কমানোর জন্য সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে এবং এটি সম্পূর্ণ মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় ভারতে তৈরি হচ্ছে টাটা এবং রিলায়েন্স এর মতো বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো এই চিপ উৎপাদনের দায়িত্ব নিয়েছে
সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা
ব্রেন চিপ নিয়ে অনেকের মনেই ভয় ছিল যে এর মাধ্যমে সরকার বা হ্যাকাররা মানুষের মন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বা ব্যক্তিগত চিন্তা চুরি করতে পারে এই ভয়ের উত্তরে ডিআরডিও এর প্রধান বিজ্ঞানী বলেন মেধা চিপে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত এনক্রিপশন বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে এটি কেবল ওয়ান ওয়ে বা একমুখী কাজ করে অর্থাৎ বাইরে থেকে তথ্য ভেতরে ঢোকানো যায় কিন্তু ভেতর থেকে চিন্তা বাইরে বের করা যায় না তাছাড়া এই চিপটি ব্যবহারকারীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে তিনি যখন খুশি এটি বন্ধ বা চালু করতে পারেন

















