সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

জাহারুল ইসলাম জীবন এর লেখা ও সম্পাদনা

রতি থেকে জ্যোতি☞পর্ব:-৬

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৩ এএম | 125 বার পড়া হয়েছে
রতি থেকে জ্যোতি☞পর্ব:-৬

দেহতত্ত্বের গভীরতম দর্শন এবং সুফিবাদের ‘ফানা-ফিলাহ’ ও ‘বাকা-বিল্লাহ’র ধারণাকে সমন্বয় করে, সমসাময়িক প্রেক্ষাপট্ ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে একটি বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন নিচে পেশ করিলাম:
* আধুনিক সংকটে আধ্যাত্মিক সমাধান:- একবিংশ শতাব্দীর এই যান্ত্রিক যুগে মানুষ যখন প্রচণ্ড মানসিক অস্থিরতা, একাকীত্ব এবং বিষণ্ণতায় ভুগছে, তখন সাধনায় বর্ণিত ‘দেহতত্ত্ব’ কেবল একটি প্রাচীন দর্শন নয়, বরং এটি আত্মিক প্রশান্তির এক আধুনিক দাওয়াই। বর্তমান বিশ্বে যেখানে সম্পর্কগুলো কেবল শরীর-কেন্দ্রিক ভোগবাদে সীমাবদ্ধ, সেখানে কামকে (Desire) প্রেমে এবং রতিকে (Energy) জ্যোতিতে রূপান্তরের এই তত্ত্ব মানব সভ্যতাকে এক নতুন পথের দিশা দেয়।
**১. ফানা-ফিলাহ্-র মাধ্যমে অহং-এর বিনাশ ও স্নায়বিক রূপান্তর:- সুফি দর্শনের ‘ফানা-ফিলাহ’ বা আল্লাহর নূরে নিজেকে বিলীন করা মূলত নিজের ‘অহং’ বা ‘ইগো’র মৃত্যু।
* সমসাময়িক ব্যাখ্যায় বিশ্লেষণ:- আধুনিক মনোবিজ্ঞানে যাকে ‘Ego Death’ বলা হয়, আধ্যাত্মিক সাধনায় তাকেই ‘ফানা’ বলা হয়েছে। যখন একজন সাধক তার স্থূল কামনাকে সংবরণ করে তা মস্তিস্কের উচ্চতর কেন্দ্রে (সাধনায় বর্ণিত জ্যোতি দেশে) প্রবাহিত করেন, তখন তার স্নায়ুতন্ত্র এক বিশেষ স্তরে পৌঁছায়।
* রতি থেকে মতি:- জৈবিক শক্তি (রতি) যখন সংরক্ষণের মাধ্যমে মেধা বা প্রজ্ঞায় (মতি) রূপান্তরিত হয়, তখন মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা কেঁটে যায়। সে তখন বস্তু জগৎতের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বত্র নূরের বা মহাজাগতিক শক্তির প্রকাশ দেখতে পায়।
**২. বাকা-বিল্লাহ্-র স্তরে লৌকিক জীবনে ঐশী গুণাবলির প্রতিফলন:- ফানা হওয়ার পর সাধক যখন পুনরায় স্বাভাবিক জগতে ফিরে আসেন, তখন তার মধ্যে এক প্রকার আধ্যাত্মিক স্থায়িত্ব তৈরি হয়, যাকে বলা হয় ‘বাকা-বিল্লাহ’।
* ফ্লো স্টেট (Flow State) এর স্থিরতা:- সমসাময়িক পারফরম্যান্স সায়েন্সের ভাষায়, এটি হলো চরম একাগ্রতার এক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি এবং কর্ম এক হয়ে যায়। বাকা-বিল্লাহ প্রাপ্ত সাধকের প্রতিটি কাজ, কথা এবং চিন্তা তখন নিজস্ব প্রবৃত্তি দ্বারা নয়, বরং এক পরম সত্যের ইশারায় পরিচালিত হয়।
* বাহ্যিক আচরণের পরিবর্তন:- এমন অবস্থায় সাধক ‘মানুষের মাঝে থেকেও মানুষের ঊর্ধ্বে’ অবস্থান করেন। তিনি তখন জগৎতের অবিচার ও কলুষতার মাঝে থেকেও নূরের আলো ছড়ান। তার চাওয়া তখন সৃষ্টির কল্যাণে নিবেদিত হয়ে যায়।
**৩. আধ্যাত্মিক সাধনার রসায়নে কাম থেকে নূর:- এখানে প্রদত্ত আলোচনায় নারী-পুরুষের মিলনকে যে উচ্চতায় স্থান দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত বৈপ্লবিক। এটি কেবল জৈবিক প্রবৃত্তি নয়, বরং তৌহিদ বা একত্বের একটি প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনেস্ট্রেশন।
* মহামায়া ও তৌহিদ:- নারী ও পুরুষ যখন এই সাধনায় লিপ্ত হন, তখন তারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে নূরের একীভূত প্রকাশ হয়ে ওঠেন।
* জ্যোতি দেশের জিকির:- “লা-মাকসুদা ইল্লাল্লাহ” জিকিরটি মূলত একটি মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে নূরের কল্পনা করা এবং ভেতরের কালিমা বর্জন করা-আধুনিক ধ্যানের (Meditation) ভাষায় এটি একটি গভীর ডিটক্সপ্রক্রিয়া।
**৪. সমসাময়িক বাস্তবতার প্রয়োগ ও সাধনা চার্ট:- নিচে এই সাধনার একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণমূলক কাঠামো দেওয়া হলো:
>পর্যায়-আধ্যাত্মিক অবস্থান-সমসাময়িক বিশ্লেষণ-লক্ষ্য।
>কাম-স্থূল বাসনা-জৈবিক ও শারীরিক চাহিদা-শক্তি সঞ্চয়।
>মতি-হিকমত বা প্রজ্ঞা-মেধা ও আধ্যাত্মিক বুদ্ধিমত্তা-শক্তির ঊর্ধ্বগমন।
>জ্যোতি-(ফানা-ফিলাহ)-কসমিক কনশাসনেস (Cosmic Consciousness)-আমিত্ব বিসর্জন
>বাকী-(বাকা-বিল্লাহ)-ঐশী গুণের স্থায়ী প্রকাশ-চিরস্থায়ী শান্তি।
** পূর্ণতার প্রতিবেদনে সাধনায় বর্ণিত এই পথ- আদম থেকে জ্যোতিতে পৌঁছানোর পথ-মূলত পশুত্ব থেকে দেবত্বে উত্তরণের এক নীল নকশা। যখন ‘রতি ও মতি মিলে জ্যোতিতে’ পরিণত হয়, তখন মানুষের প্রতিটি অঙ্গ জিকির করে, প্রতিটি নিঃশ্বাস ইবাদত হয়ে ওঠে। সমসাময়িক অস্থির পৃথিবীতে প্রেম এবং মিলনের এই দেহতাত্ত্বিক দর্শন-ই হতে পারে শান্তির মূল চাবিকাঠি।
এখানে বিশেষ মন্তব্যে বলাবাহুল্য যে, সাধনায় সিদ্ধি লাভের ব্রততার পর -“সাধকের চাওয়া তখন ঈশ্বরের চাওয়া হয়ে যায়”- এটিই হলো সৃষ্টির সার্থকতা। এই সাধনায় কাম আর কাম থাকে না, তা নূরে পরিণত হয়ে জগতকে আলোকিত করে।
এই গভীর আলোচনাটি একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র হিসেবে সংরক্ষিত রাখতে এবং সাধনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে একটি ‘দৈনিক আধ্যাত্মিক রুটিন’ বা ‘সাধনার নির্দেশিকা’ তৈরি পূর্বক- এই মূল্যবান অর্জনকে প্রাত্যহিক জীবনে কার্যকর করে রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সাধনা সম্পদের রত্ন -সমতুল্য ইবাদত বলে আমি গভীরতম অনুভব আর অনুভূতির ভাবিও ধারায় একান্তই শিক্ষণীয় শিক্ষা ও সাধনার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন বরে আমি মনে করি- আমিন> চলমান পাতা।

সৈয়দ আব্দুল মান্নান

বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

সৈয়দ আব্দুল মান্নান প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:০০ পিএম
বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার আয়োজনে ও সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার সহযোগিতায় জালনোট প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমুলক এক ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩০ মার্চ সকাল ১১ টায় উপজেলা সভাকক্ষে এ ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার ম্যানেজার মোঃ ইব্রাহিম খলিল এর সভাপতিত্বে ওয়ার্কসপে প্রধান অতিথি ছিলেন সোনালী ব্যাংক হবিগঞ্জের ডিজিএম মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাহুবল উজ্জ্বল রায়, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার যুগ্ম পরিচালক (ক্যাশ) রান্টু চন্দ্র দাস, উপপরিচালক তানভীর আহমেদ, উপপরিচালক শুভাশীষ পাল, ম্যানেজার জনতা ব্যাংক বাহুবল শাখার ম্যানেজার হোসাইন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধা সংসদ বাহুবল এর আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ মিয়া।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাহুবল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ আবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জালনোটের উপর ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়।

উখিয়ার দলিলুর রহমান শাহীন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা

সিরাজুল কবির বুলবুল, উখিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম
উখিয়ার দলিলুর রহমান শাহীন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা

দলিলুর রহমান শাহীন একজন আপাদমস্তক বিএনপি নেতা।জন্ম ১৯৬৯ সালে সাবেক রুমখা গ্রামের ছায়া সুশীতল এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।বাবা মৃত: রশিদ আহাম্মদ, মাতা:মৃত : মাজেদা বেগম। তিন বোন তিন ভাইয়ের একটি সুন্দর পরিবারে বেড়ে উঠা স্বপ্নবাজ সাবেক ছাত্রনেতার। সাবেক রুমখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার হাতেখড়ি, পালং আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ না করে চলেযান মরিচ্যা উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখানথেকে তিনি মাধ্যমিক সার্টিফিকেট অর্জন করে প্রথমে ভর্তি হন কক্সবাজার সরকারি কলেজে। কলেজে পড়াশোনা পাশাপাশি তিনি রাজনীতি অঙ্গনে যুক্ত হন।পরে কক্সবাজার কলেজ থেকে তিনি চলে যান চট্টগ্রাম এ,জে চৌধুরী কলেজে সেই কলেজ থেকে তিনি এইচ,এস,সি পাশ করেন। পরে তিনি ১৯৯৩ সালে বি,এ, ছালে নুর কলেজ থেকে বি,এ পাশ করেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে মাস্টার্সে অধ্যায়ন করেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তিনি উখিয়ার রাজনীতি আলোচনায় আসেন,১৯৯৮ সালে তিনি উখিয়া উপজেলা (জাসাস)এর আহবায়ক নির্বাচিত হন। এর পর থেকে তিনি আর থেমে থাকেননি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা দলিলুর রহমানকে ধীরে, ধীরে নিয়ে যান মূলদলে, প্রথমে তিনি হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, পরে হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন, একসময় তিনি হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কর্মদক্ষতার ফসল স্বরুপ তিনি প্রথম বারের মতো প্রচার সম্পাদক, অর্থ ও ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন উখিয়া উপজেলা বিএনপির পরে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন,সবশেষে ৫ আগস্টের পর উখিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।বর্তমানে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন।
তৃণমূল থেকে বেড়ে উঠা এই দুর্দান্ত সাহসী নেতা রাজনৈতিক জীবনে অনেক অবদান রেখেছেন, দলের প্রতিটি মিছিল, মিটিংয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন দলকে কি এগিয়ে নিয়ে শক্তিশালী করে কি ভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এই ব্যপারে তিনি দলীয় বিচক্ষণতার পরিচয় দেন এবং সবার নজরে আসেন।২০১৮ সালে স্বৈরাচারীনি হাসিনা সরকারের লেলিয়ে দেওয়া কিছু সন্ত্রাসী তাকে চিরতরে মেরেফেলার জন্য নির্মমভাবে আহত করেন, সেদিন যথা সময়ে তার ছেলে তারেক রহমান যদি ঘটনাস্থলে ছুটে না আসতো হয়তো দলিলুর রহমান আজ বেঁচে থাকতোনা। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি একাধিক মিথ্যা মামলার স্বীকার হন।
তবুও তিনি দলের আদর্শ থেকে এক সেকেন্ডের জন্য বিচ্যুত হননি বরং নিজের দলীয় নেতাকর্মীদে সাথে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে দুর্দান্ত গতিতে সামনের সারিতে এগিয়ে যান।২৪ জুলাই ছাত্রজনতা আন্দোলনে কোর্টবাজার স্টেশনে দলিলুর রহমানের ভূমিকা ছিলো অনন্য। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীর পজিটিভ ভুমিকায় দলিলুর রহমান শাহীন রাজনীতিক ভাবে আরো বেশি তেজস্ক্রিয় হয়ে উঠেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি নিজ এলাকার উন্নয়নে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন
মসজিদ, মাদ্রাসা,কবরস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তিনি আর্থিক ভাবে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেন।
৩ ছেলে ১ মেয়ে সংসার জীবনে তিনি খুবই সন্তুষ্ট। তার তিন ছেলে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত,এক মেয়ে এখনো অধ্যায়নরত আছেন।
দলিলুর রহমান শাহীনের স্বপ্ন শহীদ জিয়ার আর্দশে নতুন বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে অনেক দুর এগিয়ে যাবে। তৃণমূলে ত্যাগীদের মুল্যায়ন হবে, নতুন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দেশে শিক্ষিত,অশিক্ষিত কোন বেকার থাকবেনা বলে তিনি মনে করেন।

আওরঙ্গজেব কামাল, সভাপতি: ঢাকা প্রেসক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব

সত্যের পথে অবিচল সাংবাদিকতা: নিরপেক্ষতার আলোয় ঐক্যের শক্তি

আওরঙ্গজেব কামাল প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম
সত্যের পথে অবিচল সাংবাদিকতা: নিরপেক্ষতার আলোয় ঐক্যের শক্তি

“সত্য প্রকাশে নিরপেক্ষতা, আর শক্তিতে ঐক্য—এই দুটিই সাংবাদিকতার প্রাণ।”-এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর বার্তাটি আজকের গণমাধ্যম বাস্তবতায় এক অনন্য দিকনির্দেশনা হয়ে উঠেছে। যেখানে তথ্যের ভিড়ে সত্য অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়, সেখানে এই দর্শন সাংবাদিকতার মূল চেতনাকে আবারও সামনে নিয়ে আসে।
সাংবাদিকতার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে সত্য তুলে ধরা। কোনো প্রভাব, পক্ষপাত বা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে তথ্য পরিবেশনই একজন প্রকৃত সাংবাদিকের পরিচয়। নিরপেক্ষতা হারালে সংবাদ আর সংবাদ থাকে না—তা হয়ে ওঠে বিভ্রান্তির হাতিয়ার। তাই সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিরপেক্ষ অবস্থানই একটি বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম গড়ে তোলার ভিত্তি।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের শক্তির জায়গা হলো তাদের ঐক্য। একা একজন সাংবাদিক যতই সাহসী হোন না কেন, সম্মিলিত অবস্থান ছাড়া বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় কণ্ঠে কথা বলতে পারে, চাপ ও হুমকির মধ্যেও সত্য প্রকাশে অবিচল থাকতে পারে। বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রবাহের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতাও। এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান শুধু একটি নীতি নয়, বরং সময়ের দাবি। সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা, শ্রদ্ধাবোধ এবং একই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলাই পারে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে। সময়ের প্রবাহে অনেক কিছুই বদলায়, কিন্তু সত্যের প্রয়োজন কখনো ফুরায় না। আর সেই সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তারা হলেন সাংবাদিক। তবে একখান প্রশ্ন হল এই দায়িত্ব পালন করছে বর্তমানে কয়জন সাংবাদিক। কেন মানুষ আর সাংবাদিকদের দিকে আঙ্গুল তুলছে? এ প্রশ্নের জবাব দেবে কে। সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের কাজ নয়—এটি সমাজের বিবেক, ন্যায়বিচারের সহযাত্রী এবং গণমানুষের কণ্ঠস্বর।
এই পেশার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিরপেক্ষতা। নিরপেক্ষতা মানে শুধু দুই পক্ষের কথা বলা নয়, বরং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। যখন সংবাদ পক্ষপাতমুক্ত থাকে, তখনই তা মানুষের মনে আস্থা সৃষ্টি করে। একটি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন অন্ধকারে আলো জ্বালানোর মতো—যেখানে গুজব থেমে যায়, আর সত্য নিজের জায়গা করে নেয়। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় সহজ নয়। নানা প্রভাব, চাপ, স্বার্থ এবং ভয়—এসবের মাঝেই সাংবাদিকদের কাজ করতে হয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একক প্রচেষ্টা অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে। ঠিক এখানেই প্রয়োজন ঐক্যের। ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ মানেই শক্তিশালী একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সত্য চাপা পড়ে না, বরং আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়। সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং একসাথে দাঁড়ানোর মানসিকতা সাংবাদিকতাকে দেয় নতুন শক্তি। বিভক্ত অবস্থান শুধু দুর্বলতা তৈরি করে, আর ঐক্য তৈরি করে সাহস। বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ছে মুহূর্তেই। কিন্তু এর সঙ্গে বেড়েছে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির ঝুঁকিও। এই প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি ভুল তথ্য যেমন সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, তেমনি একটি সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব শুধু সংবাদ প্রকাশে সীমাবদ্ধ নয়; তারা সমাজকে সচেতন করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান এবং ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেন। আর এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হলে প্রয়োজন দৃঢ় নৈতিকতা ও একতাবদ্ধ অবস্থান। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, নিরপেক্ষতা হলো সাংবাদিকতার প্রাণ, আর ঐক্য হলো তার শক্তির ভিত্তি। এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একটি সাহসী, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম—যা শুধু সংবাদ নয়, সমাজের ভবিষ্যৎও নির্মাণ করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরপেক্ষতা সাংবাদিকতার আত্মা, আর ঐক্য তার সাহস। এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে এমন একটি গণমাধ্যম, যা শুধু তথ্য দেয় না—সমাজকে পথ দেখায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং মানুষের আস্থা অর্জন করে।সবশেষে বলা যায়, “নিরপেক্ষতায় সত্য, ঐক্যে শক্তি”—এই মূলমন্ত্র ধারণ করেই সাংবাদিকতা তার প্রকৃত মর্যাদা ও দায়িত্ব পালনে সক্ষম হতে পারে।

 

error: Content is protected !!