জ্বীনদের রোমাঞ্চকর হিদায়াত
সৃষ্টির শুরু থেকেই জ্বীনদের একটি দল আসমানের ওপরের স্তরে যাতায়াত করত। তারা লুকিয়ে ফেরেশতাদের কথোপকথন শুনত এবং ভবিষ্যতের কিছু গোপন তথ্য নিয়ে আসত। সেই তথ্যগুলো তারা পৃথিবীর গণকদের (জ্যোতিষী) জানাত এবং গণকরা তাদের বাহবা দিত।
১. আসমানের কঠোর নিরাপত্তা
হঠাৎ একদিন জ্বীনরা এক অদ্ভুত বাধার সম্মুখীন হলো। তারা যখনই আগের মতো আসমানের দিকে উঠতে চাইল, তখনই আকাশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে আগুনের গোলা (উল্কাপিন্ড) তাদের দিকে ধেয়ে আসতে লাগল। আসমানের নিরাপত্তা যেন রাতারাতি বহুগুণ বেড়ে গেল! জ্বীনদের বড় বড় নেতারা এক জরুরি বৈঠকে বসল। তারা চিন্তিত হয়ে বলল, “নিশ্চয়ই পৃথিবীতে বড় কোনো ঘটনা ঘটেছে! আসমানের এই কঠোর পাহারার কারণ কী? সম্ভবত সেই শেষ নবীর আগমন ঘটেছে যার কথা কিতাবগুলোতে আছে।”
২. সত্যের সন্ধানে জ্বীনদের তল্লাশি
জ্বীনদের সরদার নির্দেশ দিল, “তোমরা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম এবং উত্তর থেকে দক্ষিণ—সব দিকে ছড়িয়ে পড়ো। খুঁজে বের করো, সেই মহামানব কোথায় এসেছেন যার কারণে আসমানের দরজা আমাদের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে।” জ্বীনদের বিভিন্ন দল পৃথিবীর আনাচে-কানাচে অনুসন্ধান শুরু করল।
৩. ফজরের সেই নূরানি তিলাওয়াত
খুঁজতে খুঁজতে জ্বীনদের একটি দল মক্কার অদূরে ‘নাখলা’ নামক স্থানে পৌঁছাল। তখন ছিল ফজরের সময়। তায়েফের ময়দানে কাফেরদের পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত ও ক্লান্ত হয়ে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ সেখানে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তিনি তিলাওয়াত করছিলেন পবিত্র কুরআনের আয়াত।
জ্বীনরা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। সেই সুমধুর তিলাওয়াত তাদের হৃদয়ে এক অভাবনীয় কম্পন সৃষ্টি করল। তারা একে অপরকে বলতে লাগল, “চুপ করো! মন দিয়ে শোনো!” কুরআনের প্রতিটি আয়াত তাদের অন্ধকার অন্তরে যেন আলোর মশাল জ্বালিয়ে দিচ্ছিল।
৪. স্বজাতির কাছে ইসলামের ঘোষণা
কুরআনের নূর মাথায় নিয়ে জ্বীনদের সেই দলটি দ্রুত তাদের নিজ জাতির কাছে ফিরে গেল। তারা গিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগল:
“হে আমাদের সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি! যা সঠিক ও হিদায়াতের পথ দেখায়। আমরা এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং আমরা আর কখনো আমাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরিক করব না।” (সূরা জ্বীন: ১-২)
সুবহানাল্লাহ! যে তিলাওয়াত শুনে পাথরের মতো শক্ত হৃদয়ের জ্বীনরা ঈমান এনেছিল, সেই কুরআনই আজ আমাদের কাছে হিদায়াতের আলোকবর্তিকা।
গল্পের শিক্ষা:
কুরআনের প্রভাব: কুরআন কেবল মানুষের জন্য নয়, বরং জ্বীন জাতির জন্যও হিদায়াতের মাধ্যম। এর তিলাওয়াত অদেখা জগতকেও মোহিত করে।
আল্লাহর পরিকল্পনা: শেষ নবী ﷺ-এর আগমনের সংবাদ আসমানী নিরাপত্তার মাধ্যমেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।
সত্যের জয়: সত্য যখন সামনে আসে, তখন অন্ধকারের শক্তি (যেমন গণক বা অশুভ জ্বীন) পিছু হটতে বাধ্য হয়।

















