✍️ জাহারুল ইসলাম জীবন এর লেখা ও সম্পাদনায় রচিত নারী ও পুরুষের দেহতত্ত্বের গবেষণা
রতি থেকে জ্যোতি☞পর্ব:-৫
এই বিশ্ব-জগৎতে গভীরতম আধ্যাত্মিক দর্শনের অবতারণা সত্যিই এক অনন্য সাধনার বাস্তব নিদর্শন! এখানে সুফিতত্ত্বের মারেফাত এবং দেহতত্ত্বের সংযোগ সূত্র একত্রে এক দুর্লভ সমন্বয় ঘটিয়েছে, যেখানে ‘আদম তত্ত্ব’ এবং ‘লতিফা’র বিন্যাস কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং এক জীবন্ত সাধনার জ্যোতির্ময় পথ। এই আধ্যাত্মিক দর্শনের সাথে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট্ এবং বিজ্ঞানের কিছু সূক্ষ্ম চিন্তার মিরাক্কেলীয় সমন্বয় সাধনে ঘটেছে রতি থেকে জ্যোতি তত্ত্বের তাত্ত্বিকতায় মূল্যবান গবেষণালব্ধ তথ্য সমূহ:
আধুনিক বিশ্বের মানুষ যখন কেবল দৃশ্যমান বস্তুজগৎ আর যান্ত্রিকতায় নিমগ্ন, তখন আধ্যাত্মিক সাধকগণ দেহের ভেতরে-ই খুঁজে পান এক বিশাল মহাবিশ্বের মানচিত্র। সুফি দর্শনের ‘আদম তত্ত্ব’ এবং লতিফার বিন্যাস আমাদের শেখায় যে, মানুষ কেবল রক্ত-মাংসের স্তূপ নয়, বরং এটি নূরের এক প্রজ্জ্বলিত আঁধার।
**১. আদম তত্ত্ব ও লতিফা সমূহের বিন্যাস আর আধুনিকতার প্রেক্ষাপটে্ ‘ইনসাইড-আউট সাইড’ জীবন ধারা:- সুফি সাধনায় লতিফা বা সূক্ষ্ম শক্তি কেন্দ্রগুলো (কলব, রূহ, সিরর, খফি, আখফা) মূলত মানুষের চেতনার ভিন্ন ভিন্ন স্তর।
* নফসের নিয়ন্ত্রণ ও সাইকোলজি:- বর্তমানে আমরা যাকে ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বলি, দেহতত্ত্বের ভাষায় তাই হলো ‘লতিফায়ে নফ্স’কে পরিশুদ্ধ করা। মাটির টানে নিচে পড়ে থাকা কামকে যখন সাধক ঊর্ধ্বমুখী করেন, তখন তার জৈবিক চাহিদাগুলো সৃজনশীল শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
* নারী-পুরুষের পরিপূরকতা:- আধ্যাত্মিক পরিমন্ডলে নারী ও পুরুষ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। আদমের বাম পাঁজরের তত্ত্বটি মূলত শক্তির ভারসাম্যের কথা বলে। আধুনিক কোয়ান্টাম ফিজিক্সের ভাষায় যেমন প্রতিটি কণার একটি প্রতি-কণা থাকে, তেমনি আধ্যাত্মিক মিলনে এক নূরের সাথে অন্য নূরের একীভূত হওয়া হলো সেই পরম ভারসাম্য লাভ।
**২. ‘মরণ জিতা’ বা ‘জ্যান্ত মরা’: ইগো বা অহং-এর বিনাশ:- রাসুলুল্লাহ (সা:)-এর বাণী “মরার আগে মরো” বর্তমানের মানসিক প্রশান্তি বা ‘Mindfulness’ এর সর্বোচ্চ স্তর।
* ইচ্ছা মৃত্যু বনাম জৈবিক মৃত্যু:- বর্তমান যুগে মানুষ মানসিক চাপে জর্জরিত। ‘মরণ জিতা’ সাধনা শেখায় কীভাবে নিজের ‘আমি’ত্ব বা ‘ইগো’কে বিসর্জন দিয়ে স্রষ্টার ইচ্ছায় সমর্পিত হতে হয়। যখন সাধকের ভেতর থেকে ‘আমি’ মুছে যায়, তখন সেখানে কেবল ‘তিনি’ (স্রষ্টা) বিরাজ করেন।
* রতি থেকে জ্যোতি:- এটি শক্তির রূপান্তর বা Energy Transformation। জৈবিক শক্তি (রতি) যখন সাধনার মাধ্যমে প্রজ্ঞায় (মতি) রূপান্তরিত হয়, তখন তা চেহারায় ও চরিত্রে এক অলৌকিক জ্যোতি বা নূর সৃষ্টি করে। একেই আধুনিক পরিভাষায় ‘Positive Vibration’ বলা যেতে পারে।
**৩. সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে্ আধ্যাত্মিক অমরত্বের গুরুত্ব:- আজকের পৃথিবী যখন ভোগবাদ আর ক্ষণস্থায়ী সুখে মত্ত, তখন ‘আদম তত্ত্ব’ আমাদের এক শাশ্বত পথের দিশা দেয়।
* সম্পর্কের গভীরতা:- মহামায়া বা সঙ্গিনীকে কেবল ভোগের বস্তু না ভেবে যখন তাকে সাধনার সহযাত্রী ভাবা হয়, তখন সামাজিক অবক্ষয় ও বিচ্ছেদ দূর হয়।
* ইনসানে কামেল বা পূর্ণ মানুষ:- আধুনিক সমাজ আজ আদর্শ মানুষের সংকটে ভুগছে। লতিফাগুলোর সঠিক বিন্যাস এবং নূরের পথে পদার্পণই পারে একজন মানুষকে ‘ইনসানে কামেল’ বা পূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে, যিনি সময়ের ঊর্ধ্বে গিয়েও মানবতার সেবা করেন।
>>সর্বপরি সারকথা হলো, ‘মরণ জিতা’ মানে জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়, বরং জীবনের মূলে পৌঁছে মৃত্যুকে জয় করা। রতি, মইথন, মতি এবং জ্যোতির এই চতুর্মুখী যাত্রাই মানুষকে তার খোদায়ী সত্তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
পরবর্তী ধাপে আমি আপনাদের সম্মুখে- ‘ফানা-ফিলাহ’ (নিজেকে নূরে বিলীন করা) এবং ‘বাকা-বিল্লাহ’ (পরম সত্তায় স্থিতি লাভ) এর গূঢ় রহস্য সম্পর্কে ইনশাল্লাহ্ আলোচনা করবো- আমিন।>>চলমাস পাতা।

















