সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

পছন্দ না হলে আসবেন না, কিন্তু ভাঙচুর করবেন কেন?

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম | 79 বার পড়া হয়েছে
পছন্দ না হলে আসবেন না, কিন্তু ভাঙচুর করবেন কেন?

ভিন্নমত মানেই কি ধ্বংসযজ্ঞ?
পছন্দ না হলে আসবেন না, কিন্তু ভাঙচুর করবেন কেন?”—প্রেস সচিবের এই প্রশ্নটি আজ প্রতিটি সচেতন নাগরিকের।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার এবং ধর্মীয় স্থাপনায় যে পরিকল্পিত হামলা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে, তা কেবল নিন্দনীয়ই নয় বরং আমাদের সামাজিক সহনশীলতার মূলে কুঠারাঘাত। প্রেস সচিবের সেই ক্ষোভটি অত্যন্ত যৌক্তিক— “পছন্দ না হলে আসবেন না, কিন্তু ভাঙচুর করবেন কেন?”
ধর্মীয় স্বাধীনতা: বাংলাদেশের সংবিধানে প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্বাস ও আচার পালনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। মাজারে যাওয়া বা না যাওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য: অনেক মাজার আমাদের শত বছরের ইতিহাস এবং লোকজ সংস্কৃতির অংশ। এগুলো ধ্বংস করা মানে নিজের শেকড়কেই আঘাত করা।
আইন হাতে তুলে নেওয়া: কোনো স্থান বা রীতিনীতি পছন্দ না হওয়ার অর্থ এই নয় যে, সেখানে গিয়ে ভাঙচুর করার লাইসেন্স পেয়ে গেছেন কেউ।
এটি সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ।
আমাদের দাবি ও আহ্বান: আমরা এই হীন কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে বা ক্ষোভের অজুহাতে জাতীয় সম্পদ ও মানুষের আস্থার জায়গায় হামলা চালাচ্ছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। ভিন্নমতের উত্তর দিতে হয় যুক্তি দিয়ে, হাতুড়ি বা লাঠি দিয়ে নয়। সমাজকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার দিকে ঠেলে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা রুখে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
কারো বিশ্বাস বা মাজার সংস্কৃতি আপনার পছন্দ না হতেই পারে, সেটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু দলবেঁধে গিয়ে প্রাচীন স্থাপনা বা মানুষের ইবাদতগাহে হামলা চালানো স্রেফ অপরাধ। যারা আজ মাজারে হাত দিচ্ছে, তারা কাল আপনার ঘরেও ঢুকবে। এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।🕊️ 🤝 🇧🇩 ✨ 🙏
দেশটা আমাদের সবার। আসুন, ধ্বংস নয় বরং গড়ার শপথ নেই। মাজার ভাঙচুরের এই অপরাজনীতি রুখে দেই। ✊🇧🇩
পছন্দ না হলে এড়িয়ে যান, কিন্তু পবিত্রতাকে রক্তাক্ত করবেন না।”
মাজার কোনো সাধারণ স্থাপনা নয়; এটি কোনো এক বিরহী আত্মার ক্রন্দন, কোনো এক সাধকের ধ্যান আর হাজারো আর্তের আশ্রয়ের নাম। আপনি যদি সেই পথে হাঁটতে না চান, তবে আপনার পথ ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু যে হাত ধ্বংসের জন্য উদ্যত হয়, সে হাত কি কখনো স্রষ্টার করুণা স্পর্শ করতে পারে?
আধ্যাত্মিকতার প্রথম পাঠ হলো—’মানুষের হৃদয়ে আঘাত না করা’। কোনো স্থান আপনার পছন্দ না হলে আপনি সেখানে যাবেন না, এটাই স্বাভাবিক বোধ। কিন্তু পাথর ভাঙার এই উন্মাদনা আসলে আপনার শক্তির পরিচয় দেয় না, বরং আপনার ভেতরের আধ্যাত্মিক শূন্যতাকে প্রকাশ করে।
মহাত্মারা বলে গেছেন—
“ঘর ভাঙা যায় হাতুড়ি দিয়ে, কিন্তু মানুষের বিশ্বাস কিংবা ভালোবাসা ভাঙার সাধ্য কারোর নেই।”
মাজারের ইট-পাথর ভেঙে ফেলা সহজ, কিন্তু সেখানে মিশে থাকা ভক্তি আর নিভৃত প্রার্থনাকে আপনি মুছবেন কীভাবে? ঘৃণা দিয়ে কখনো স্রষ্টাকে পাওয়া যায় না। আপনি যদি মনে করেন ধ্বংসের মাধ্যমে আপনি সত্য প্রতিষ্ঠা করছেন, তবে জেনে রাখুন—প্রেমহীন কোনো পথই স্রষ্টার আরশ পর্যন্ত পৌঁছায় না।আসুন, ভাঙার আগে আমরা গড়ার সংস্কৃতি শিখি। অন্যের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটাই হলো প্রকৃত আভিজাত্য। মাজার ভাঙার চেয়ে নিজের ভেতরের ঘৃণা আর অহংকারটুকু ভাঙা কি অধিক শ্রেয় নয়?”

সৈয়দ আব্দুল মান্নান

বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

সৈয়দ আব্দুল মান্নান প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:০০ পিএম
বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার আয়োজনে ও সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার সহযোগিতায় জালনোট প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমুলক এক ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩০ মার্চ সকাল ১১ টায় উপজেলা সভাকক্ষে এ ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার ম্যানেজার মোঃ ইব্রাহিম খলিল এর সভাপতিত্বে ওয়ার্কসপে প্রধান অতিথি ছিলেন সোনালী ব্যাংক হবিগঞ্জের ডিজিএম মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাহুবল উজ্জ্বল রায়, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার যুগ্ম পরিচালক (ক্যাশ) রান্টু চন্দ্র দাস, উপপরিচালক তানভীর আহমেদ, উপপরিচালক শুভাশীষ পাল, ম্যানেজার জনতা ব্যাংক বাহুবল শাখার ম্যানেজার হোসাইন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধা সংসদ বাহুবল এর আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ মিয়া।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাহুবল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ আবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জালনোটের উপর ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়।

উখিয়ার দলিলুর রহমান শাহীন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা

সিরাজুল কবির বুলবুল, উখিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম
উখিয়ার দলিলুর রহমান শাহীন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা

দলিলুর রহমান শাহীন একজন আপাদমস্তক বিএনপি নেতা।জন্ম ১৯৬৯ সালে সাবেক রুমখা গ্রামের ছায়া সুশীতল এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।বাবা মৃত: রশিদ আহাম্মদ, মাতা:মৃত : মাজেদা বেগম। তিন বোন তিন ভাইয়ের একটি সুন্দর পরিবারে বেড়ে উঠা স্বপ্নবাজ সাবেক ছাত্রনেতার। সাবেক রুমখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার হাতেখড়ি, পালং আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ না করে চলেযান মরিচ্যা উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখানথেকে তিনি মাধ্যমিক সার্টিফিকেট অর্জন করে প্রথমে ভর্তি হন কক্সবাজার সরকারি কলেজে। কলেজে পড়াশোনা পাশাপাশি তিনি রাজনীতি অঙ্গনে যুক্ত হন।পরে কক্সবাজার কলেজ থেকে তিনি চলে যান চট্টগ্রাম এ,জে চৌধুরী কলেজে সেই কলেজ থেকে তিনি এইচ,এস,সি পাশ করেন। পরে তিনি ১৯৯৩ সালে বি,এ, ছালে নুর কলেজ থেকে বি,এ পাশ করেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে মাস্টার্সে অধ্যায়ন করেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তিনি উখিয়ার রাজনীতি আলোচনায় আসেন,১৯৯৮ সালে তিনি উখিয়া উপজেলা (জাসাস)এর আহবায়ক নির্বাচিত হন। এর পর থেকে তিনি আর থেমে থাকেননি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা দলিলুর রহমানকে ধীরে, ধীরে নিয়ে যান মূলদলে, প্রথমে তিনি হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, পরে হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন, একসময় তিনি হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কর্মদক্ষতার ফসল স্বরুপ তিনি প্রথম বারের মতো প্রচার সম্পাদক, অর্থ ও ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন উখিয়া উপজেলা বিএনপির পরে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন,সবশেষে ৫ আগস্টের পর উখিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।বর্তমানে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন।
তৃণমূল থেকে বেড়ে উঠা এই দুর্দান্ত সাহসী নেতা রাজনৈতিক জীবনে অনেক অবদান রেখেছেন, দলের প্রতিটি মিছিল, মিটিংয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন দলকে কি এগিয়ে নিয়ে শক্তিশালী করে কি ভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এই ব্যপারে তিনি দলীয় বিচক্ষণতার পরিচয় দেন এবং সবার নজরে আসেন।২০১৮ সালে স্বৈরাচারীনি হাসিনা সরকারের লেলিয়ে দেওয়া কিছু সন্ত্রাসী তাকে চিরতরে মেরেফেলার জন্য নির্মমভাবে আহত করেন, সেদিন যথা সময়ে তার ছেলে তারেক রহমান যদি ঘটনাস্থলে ছুটে না আসতো হয়তো দলিলুর রহমান আজ বেঁচে থাকতোনা। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি একাধিক মিথ্যা মামলার স্বীকার হন।
তবুও তিনি দলের আদর্শ থেকে এক সেকেন্ডের জন্য বিচ্যুত হননি বরং নিজের দলীয় নেতাকর্মীদে সাথে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে দুর্দান্ত গতিতে সামনের সারিতে এগিয়ে যান।২৪ জুলাই ছাত্রজনতা আন্দোলনে কোর্টবাজার স্টেশনে দলিলুর রহমানের ভূমিকা ছিলো অনন্য। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীর পজিটিভ ভুমিকায় দলিলুর রহমান শাহীন রাজনীতিক ভাবে আরো বেশি তেজস্ক্রিয় হয়ে উঠেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি নিজ এলাকার উন্নয়নে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন
মসজিদ, মাদ্রাসা,কবরস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তিনি আর্থিক ভাবে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেন।
৩ ছেলে ১ মেয়ে সংসার জীবনে তিনি খুবই সন্তুষ্ট। তার তিন ছেলে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত,এক মেয়ে এখনো অধ্যায়নরত আছেন।
দলিলুর রহমান শাহীনের স্বপ্ন শহীদ জিয়ার আর্দশে নতুন বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে অনেক দুর এগিয়ে যাবে। তৃণমূলে ত্যাগীদের মুল্যায়ন হবে, নতুন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দেশে শিক্ষিত,অশিক্ষিত কোন বেকার থাকবেনা বলে তিনি মনে করেন।

আওরঙ্গজেব কামাল, সভাপতি: ঢাকা প্রেসক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব

সত্যের পথে অবিচল সাংবাদিকতা: নিরপেক্ষতার আলোয় ঐক্যের শক্তি

আওরঙ্গজেব কামাল প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম
সত্যের পথে অবিচল সাংবাদিকতা: নিরপেক্ষতার আলোয় ঐক্যের শক্তি

“সত্য প্রকাশে নিরপেক্ষতা, আর শক্তিতে ঐক্য—এই দুটিই সাংবাদিকতার প্রাণ।”-এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর বার্তাটি আজকের গণমাধ্যম বাস্তবতায় এক অনন্য দিকনির্দেশনা হয়ে উঠেছে। যেখানে তথ্যের ভিড়ে সত্য অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়, সেখানে এই দর্শন সাংবাদিকতার মূল চেতনাকে আবারও সামনে নিয়ে আসে।
সাংবাদিকতার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে সত্য তুলে ধরা। কোনো প্রভাব, পক্ষপাত বা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে তথ্য পরিবেশনই একজন প্রকৃত সাংবাদিকের পরিচয়। নিরপেক্ষতা হারালে সংবাদ আর সংবাদ থাকে না—তা হয়ে ওঠে বিভ্রান্তির হাতিয়ার। তাই সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিরপেক্ষ অবস্থানই একটি বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম গড়ে তোলার ভিত্তি।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের শক্তির জায়গা হলো তাদের ঐক্য। একা একজন সাংবাদিক যতই সাহসী হোন না কেন, সম্মিলিত অবস্থান ছাড়া বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় কণ্ঠে কথা বলতে পারে, চাপ ও হুমকির মধ্যেও সত্য প্রকাশে অবিচল থাকতে পারে। বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রবাহের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতাও। এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান শুধু একটি নীতি নয়, বরং সময়ের দাবি। সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা, শ্রদ্ধাবোধ এবং একই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলাই পারে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে। সময়ের প্রবাহে অনেক কিছুই বদলায়, কিন্তু সত্যের প্রয়োজন কখনো ফুরায় না। আর সেই সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তারা হলেন সাংবাদিক। তবে একখান প্রশ্ন হল এই দায়িত্ব পালন করছে বর্তমানে কয়জন সাংবাদিক। কেন মানুষ আর সাংবাদিকদের দিকে আঙ্গুল তুলছে? এ প্রশ্নের জবাব দেবে কে। সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের কাজ নয়—এটি সমাজের বিবেক, ন্যায়বিচারের সহযাত্রী এবং গণমানুষের কণ্ঠস্বর।
এই পেশার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিরপেক্ষতা। নিরপেক্ষতা মানে শুধু দুই পক্ষের কথা বলা নয়, বরং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। যখন সংবাদ পক্ষপাতমুক্ত থাকে, তখনই তা মানুষের মনে আস্থা সৃষ্টি করে। একটি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন অন্ধকারে আলো জ্বালানোর মতো—যেখানে গুজব থেমে যায়, আর সত্য নিজের জায়গা করে নেয়। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় সহজ নয়। নানা প্রভাব, চাপ, স্বার্থ এবং ভয়—এসবের মাঝেই সাংবাদিকদের কাজ করতে হয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একক প্রচেষ্টা অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে। ঠিক এখানেই প্রয়োজন ঐক্যের। ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ মানেই শক্তিশালী একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সত্য চাপা পড়ে না, বরং আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়। সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং একসাথে দাঁড়ানোর মানসিকতা সাংবাদিকতাকে দেয় নতুন শক্তি। বিভক্ত অবস্থান শুধু দুর্বলতা তৈরি করে, আর ঐক্য তৈরি করে সাহস। বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ছে মুহূর্তেই। কিন্তু এর সঙ্গে বেড়েছে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির ঝুঁকিও। এই প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি ভুল তথ্য যেমন সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, তেমনি একটি সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব শুধু সংবাদ প্রকাশে সীমাবদ্ধ নয়; তারা সমাজকে সচেতন করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান এবং ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেন। আর এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হলে প্রয়োজন দৃঢ় নৈতিকতা ও একতাবদ্ধ অবস্থান। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, নিরপেক্ষতা হলো সাংবাদিকতার প্রাণ, আর ঐক্য হলো তার শক্তির ভিত্তি। এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একটি সাহসী, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম—যা শুধু সংবাদ নয়, সমাজের ভবিষ্যৎও নির্মাণ করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরপেক্ষতা সাংবাদিকতার আত্মা, আর ঐক্য তার সাহস। এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে এমন একটি গণমাধ্যম, যা শুধু তথ্য দেয় না—সমাজকে পথ দেখায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং মানুষের আস্থা অর্জন করে।সবশেষে বলা যায়, “নিরপেক্ষতায় সত্য, ঐক্যে শক্তি”—এই মূলমন্ত্র ধারণ করেই সাংবাদিকতা তার প্রকৃত মর্যাদা ও দায়িত্ব পালনে সক্ষম হতে পারে।

 

error: Content is protected !!