পছন্দ না হলে আসবেন না, কিন্তু ভাঙচুর করবেন কেন?
ভিন্নমত মানেই কি ধ্বংসযজ্ঞ?
পছন্দ না হলে আসবেন না, কিন্তু ভাঙচুর করবেন কেন?”—প্রেস সচিবের এই প্রশ্নটি আজ প্রতিটি সচেতন নাগরিকের।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার এবং ধর্মীয় স্থাপনায় যে পরিকল্পিত হামলা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে, তা কেবল নিন্দনীয়ই নয় বরং আমাদের সামাজিক সহনশীলতার মূলে কুঠারাঘাত। প্রেস সচিবের সেই ক্ষোভটি অত্যন্ত যৌক্তিক— “পছন্দ না হলে আসবেন না, কিন্তু ভাঙচুর করবেন কেন?”
ধর্মীয় স্বাধীনতা: বাংলাদেশের সংবিধানে প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্বাস ও আচার পালনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। মাজারে যাওয়া বা না যাওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য: অনেক মাজার আমাদের শত বছরের ইতিহাস এবং লোকজ সংস্কৃতির অংশ। এগুলো ধ্বংস করা মানে নিজের শেকড়কেই আঘাত করা।
আইন হাতে তুলে নেওয়া: কোনো স্থান বা রীতিনীতি পছন্দ না হওয়ার অর্থ এই নয় যে, সেখানে গিয়ে ভাঙচুর করার লাইসেন্স পেয়ে গেছেন কেউ।
এটি সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ।
আমাদের দাবি ও আহ্বান: আমরা এই হীন কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে বা ক্ষোভের অজুহাতে জাতীয় সম্পদ ও মানুষের আস্থার জায়গায় হামলা চালাচ্ছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। ভিন্নমতের উত্তর দিতে হয় যুক্তি দিয়ে, হাতুড়ি বা লাঠি দিয়ে নয়। সমাজকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার দিকে ঠেলে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা রুখে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
কারো বিশ্বাস বা মাজার সংস্কৃতি আপনার পছন্দ না হতেই পারে, সেটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু দলবেঁধে গিয়ে প্রাচীন স্থাপনা বা মানুষের ইবাদতগাহে হামলা চালানো স্রেফ অপরাধ। যারা আজ মাজারে হাত দিচ্ছে, তারা কাল আপনার ঘরেও ঢুকবে। এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।🕊️ 🤝 🇧🇩 ✨ 🙏
দেশটা আমাদের সবার। আসুন, ধ্বংস নয় বরং গড়ার শপথ নেই। মাজার ভাঙচুরের এই অপরাজনীতি রুখে দেই। ✊🇧🇩
পছন্দ না হলে এড়িয়ে যান, কিন্তু পবিত্রতাকে রক্তাক্ত করবেন না।”
মাজার কোনো সাধারণ স্থাপনা নয়; এটি কোনো এক বিরহী আত্মার ক্রন্দন, কোনো এক সাধকের ধ্যান আর হাজারো আর্তের আশ্রয়ের নাম। আপনি যদি সেই পথে হাঁটতে না চান, তবে আপনার পথ ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু যে হাত ধ্বংসের জন্য উদ্যত হয়, সে হাত কি কখনো স্রষ্টার করুণা স্পর্শ করতে পারে?
আধ্যাত্মিকতার প্রথম পাঠ হলো—’মানুষের হৃদয়ে আঘাত না করা’। কোনো স্থান আপনার পছন্দ না হলে আপনি সেখানে যাবেন না, এটাই স্বাভাবিক বোধ। কিন্তু পাথর ভাঙার এই উন্মাদনা আসলে আপনার শক্তির পরিচয় দেয় না, বরং আপনার ভেতরের আধ্যাত্মিক শূন্যতাকে প্রকাশ করে।
মহাত্মারা বলে গেছেন—
“ঘর ভাঙা যায় হাতুড়ি দিয়ে, কিন্তু মানুষের বিশ্বাস কিংবা ভালোবাসা ভাঙার সাধ্য কারোর নেই।”
মাজারের ইট-পাথর ভেঙে ফেলা সহজ, কিন্তু সেখানে মিশে থাকা ভক্তি আর নিভৃত প্রার্থনাকে আপনি মুছবেন কীভাবে? ঘৃণা দিয়ে কখনো স্রষ্টাকে পাওয়া যায় না। আপনি যদি মনে করেন ধ্বংসের মাধ্যমে আপনি সত্য প্রতিষ্ঠা করছেন, তবে জেনে রাখুন—প্রেমহীন কোনো পথই স্রষ্টার আরশ পর্যন্ত পৌঁছায় না।আসুন, ভাঙার আগে আমরা গড়ার সংস্কৃতি শিখি। অন্যের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটাই হলো প্রকৃত আভিজাত্য। মাজার ভাঙার চেয়ে নিজের ভেতরের ঘৃণা আর অহংকারটুকু ভাঙা কি অধিক শ্রেয় নয়?”

















